🎉 Happy Birthday Ei Muhurte 🎉

এই মুহূর্তে

জেলের গেটে প্রথমবার মৃত ছেলেকে কোলে নিয়ে স্ত্রীর মরদেহ ছুঁয়ে কাঁদলেন হাসিনার দলের ছাত্র নেতা

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: ছেলে ৯ মাস বয়সে মারা গিয়েছে। স্ত্রীও আত্মহত্যা করেছে। পরিবার উজাড় হয়ে যাওয়ার পরেও প্যারোলে মুক্তি মেলেনি। বাবার কোলে আর খেলাই হল না ছহেলের , তা্র আগেই পৃথিবী ছাড়ল ছেলে। জেলের গেটে দাঁড়িয়ে মৃত ছেলেকে কোলে নিয়ে স্ত্রীর মরদেহ ছুঁয়ে হাউহাউ করে কাঁদলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল ‘আওয়ামি লিগ’-এর ছাত্র সংগঠন ‘ছাত্রলিগ’-এর নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম। বাংলাদেশে হাসিনা সরকার পতনের পরে গত বছরের এপ্রিল মাসে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। এর পর থেকে জেলবন্দি। গত ২৩ জানুয়ারি দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের নিজের বাড়িতে তাঁর ৯ মাসের শিশুসন্তানকে হত্যা করে তাঁর স্ত্রী আত্মহত্যা করেন। এই মর্মান্তিক খবর পেয়েও মুক্তি মেলেনি সাদ্দামের। অবশেষে শনিবার বিকেলে তাঁর স্ত্রী ও ৯ মাসের ওই শিশুর দেহ নিয়ে যাওয়া হয় যশোহর কেন্দ্রীয় জেলে। যা দেখে হাউহাউ করে ভেঙে পড়েন সাদ্দাম। স্ত্রী ও ছেলের শরীর ছুঁয়ে কান্না জুড়ে দেন। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছাড়িয়ে এই ছবি নাড়া দিল মনকে।

কারা সূত্রের খবর, তাঁদের কবর দেওয়ার আগে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও তাঁর ৯ মাসের শিশুপুত্রের মরদেহ। ছাত্রনেতাকে শেষবার তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে দেখার সুযোগ করে দেন কারা কর্তৃপক্ষ। যা দেখে স্বাভাবিকভাবেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সাদ্দাম। মোল্লা ইউনূস সরকারের অধীনে কারাগারে বন্দি হওয়ার কারণে স্ত্রী ও ছেলেকে শেষ দেখাও দেখতে পারলেন না তিনি। ছেলেকে কোলেও নিতে পারলেন না বাবা। কারা সূত্রের খবর, সব নিয়ম মেনে মরদেহ দুটিকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ সময় পর স্ত্রীকে দেখতে পেয়ে তাঁর মরদেহ ছুঁয়েই হাউহাউ করে কান্না জুড়ে দেন সাদ্দাম। পাশাপাশি সন্তানকেও প্রথমবার দেখলেন তিনি। তাও মৃত। এর মতো শোকের বোধহয় আর কিছু হয় না। নিজের মৃত সন্তানকে কোলে তুলে আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন সাদ্দাম।

এই দৃশ্য দেখে কারারক্ষী ও স্বজনদের মধ্যে এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জানা গিয়েছে, গতবছর থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী সাদ্দাম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি থাকায় তাঁর স্ত্রী স্বর্ণালী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। স্বামীর মুক্তির কোনও পথ না পেয়ে চরম হতাশা থেকে তিনি তাঁর ৯ মাসের শিশুপুত্রকে বালতির জলে চুবিয়ে হত্যা করেন। পরে নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তবে কারাবন্দি সাদ্দাম মাঝেমধ্যে তাঁর স্ত্রীকে চিরকুট পাঠিয়ে ধৈর্য ধরতে বলতেন। কিন্তু এসব বার্তা স্বর্ণালীর মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলত বলে দাবি সাদ্দামের স্বজনদের। শেষমেষ মানসিক হতাশাগ্রস্ত হয়ে ছেলেকে খুন করে আত্মঘাতী হন সাদ্দামের স্ত্রী। এই বিষয়ে জেলার আবিদ আহম্মেদ জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মানবিক কারণে সাদ্দামকে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের দেখা হয়ে গেলে সাদ্দামকে আবারও কারাগারের গেট থেকে জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কেন প্যারোল দেওয়া হল না ছাত্রলিগ নেতাকে? তা নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। রবিবার স্বর্ণালী এবং তাঁর শিশুর দেহ পাশাপাশি কবর দেওইয়া হয়েছে বাগেরহাটে পারিবারিক কবরস্থানে। হাসিনা সরকারের পতনের পরেই আওয়ামি লিগের একাধিক কর্মীকে বিভিন্ন অভিযোগে জেলবন্দি করে ইউনূস সরকার। ২০২৪ সালের ৫ অগস্টের পরে সাদ্দাম আত্মগোপন করলেও তাঁকে গতবছর ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশ পুলিশ। এর পর থেকেই তিনি জেলবন্দি। রাজনৈতিক ধরপাকড় শুরুর আগেই সুবর্ণার সঙ্গে সংসার পেতেছিলেন তিনি। কিন্তু আত্মগোপন, গ্রেফতারির কারণে স্ত্রীর সঙ্গেও দীর্ঘদিন দেখা হয়নি তাঁর, সংসারও হয়নি ঠিকমতো। এমনকি জেলে থাকার কারণ ছেলের জন্মের খবর পেলেও তাঁর মুখ দেখা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ছেলের মৃতদেহ তাঁকে দেখতে হবে কল্পনাও করতে পারেননি।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বাংলাদেশ সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল, জানাল নির্বাচন কমিশন

ভোট নিয়ে কথা বললেই গুলি, বিদেশ থেকে প্রাণনাশের হুমকি পেলেন পরীমণি

ছুটি না মেলায় সন্তানকে বাঁচাতে পারেননি, ইউনূস সরকারকে বিঁধলেন পুলিশ কর্মী

‘‌দ্রুত পাওনা মিটিয়ে দিন’‌, ইউনূস সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে চিঠি আদানি গোষ্ঠীর

বিদেশি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে কর্মীরা, অচল চট্টগ্রাম বন্দর

জেলে নির্যাতনে মারা যাওয়া হাসিনার হিন্দু মন্ত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন বিএনপির মহাসচিব

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ