এই মুহূর্তে

পুলিশই ছাত্রকে অপহরণ করে মিথ্যে মাদকের মামলা দিল!‌ হাইকোর্টে প্রমাণ হতেই সাসপেন্ড ৬ পুলিশকর্মী

নিজস্ব প্রতিনিধি: পুলিশই যদি অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেই। শুনতে অবাক লাগলেও এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে মধ্যপ্রদেশে। এই রাজ্যেই মালহারগড় পুলিশ স্টেশন সম্প্রতি দেশের সেরা পুলিশ স্টেশনগুলির মধ্যে নবম স্থান অধিকার করেছিল। এবার এই পুলিশের বিরুদ্ধেই উঠল মারাত্মক অভিযোগ। যা নিয়ে এখন আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। খোদ হাইকোর্ট এমন তথ্য সামনে নিয়ে এসেছে প্রমাণ সমেত। আর তাতেই পুলিশের মুখ পুড়েছে।

ঠিক কী ঘটেছে মধ্যপ্রদেশে?‌ মধ্যপ্রদেশের হাইকোর্টে তথ্যপ্রমাণ–সহ এই ঘটনা জমা পড়ে। সেখান থেকেই সামনে আসে পুলিশ একজন ছাত্রকে স্কুল বাস থেকে অপহরণ করে ভুয়ো মাদক পাচারের কেস দিয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে পুলিশ অবশ্য আগে দাবি করেছিল, বড় নারকোটিক্স অ্যারেস্ট করা হয়েছে। পরে আদালতে সামনে আসে যে, পুলিশ ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই অভিযোগ সাজিয়েছে। আদালতে মামলা দায়ের হলে মন্দসৌরের পুলিশ সুপার হাইকোর্টে দাঁড়িয়ে স্বীকার করেন, এই মামলা সাজানো। সুতরাং পুলিশের কাজ প্রশ্নের মুখে পড়ে যায়। আর তাতে এখন যথেষ্ট বিড়ম্বনায় পড়েছে পুলিশ।

ঘটনা সম্পর্কে কী জানা যাচ্ছে?‌ ছাত্রটি দ্বাদশ শ্রেণির। বয়স ১৮। নাম সোহান। এই ছাত্রটি মালহারগড় এলাকার বাসিন্দা। তাকে জোর করে স্কুল বাস থেকে নামিয়ে অপহরণ করার অভিযোগ উঠেছে। ওই ছাত্রটিকে পুলিশ গায়ের জোরে স্কুল বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে যায় ২৯ অগাস্ট। আর পুলিশের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়, ২.‌৭ কেজি মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। তার সঙ্গে অপরাধীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তারপরই তড়িঘড়ি আদালতে পেশ করা হয়। আর সেখান থেকে নিরাপরাধ ছাত্রটিকে জেলে যেতে হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করছিল না। সেখানে বিপরীত দৃশ্য দেখা যাচ্ছিল। কিছু পুলিশকর্মী জোর করে ছাত্রটিকে বাস থেকে নামিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ওই ছাত্রের কাছ থেকে কোনও মাদক মেলেনি।

আর কী জানা যাচ্ছে?‌ এই ঘটনা পরিবারের কানে আসতেই মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। আর ডিসেম্বর মাসের ৫ তারিখ শুনানির সময় পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি বেআইনি অপহরণ। পুলিশ মিথ্যে কেস দিয়ে গ্রেফতার করেছে এবং তথ্যের বিকৃতি ঘটানো হয়েছে। তখন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট মন্দসৌরের পুলিশ সুপারকে তলব করেন। আদালতে হাজির হয়ে পুলিশ সুপার বিনোদ কুমার মিনা স্বীকার করেন, ছাত্রটিকে স্কুল বাস থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু এফআইআরের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজের কোনও মিল নেই। এই গোটা অপারেশন করেছিল মালহারগড়ের হেড কনস্টেবল। এই ঘটনা সামনে আসতেই মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ৬ জন পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ড করেছে। আদালতে এই ঘটনা নিয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী হিমাংশু ঠাকুর।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

উইকেন্ডে ঘোরার দারুণ সুযোগ করে দিল ভারতীয় রেল! যাত্রা শুরু শিয়ালদহ-বারাণসী অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের

ভিআইপি ট্রেনে ‘অখাদ্য’ খাবার, বন্দে ভারতের পরিষেবা নিয়ে যাত্রীদের হুলুস্থূল কাণ্ড, ভাইরাল ভিডিও

বাজারে দাঁড়িয়েই গুলিবিদ্ধ! কানাডায় খুন ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবক

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত প্রখ্যাত ওড়িয়া সুরকার অভিজিৎ মজুমদার

হিন্দু নিধন যজ্ঞের হোতাদের জামাই আপ্যায়ন ঢাকার ভারতীয় দূতের, ক্ষোভে ফুঁসছেন মুক্তিযোদ্ধারা

লোকাল ট্রেনে অধ্যাপককে কুপিয়ে খুন,গ্রেফতার যুবক

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ