Comm Ad 2020-WB Tourism body

​চণ্ডালের দশ দিনের রামনামে খুশি হন 'দশভূজা'

Share Link:

​চণ্ডালের দশ দিনের রামনামে খুশি হন 'দশভূজা'

নিজস্ব প্রতিনিধি: চণ্ডালরা তাঁর সামনে রাম নাম করবেন। তবেই খুশি হন দেবী। এমনই রীতি আমতার দুর্গতিনাশিনী মা মেলাইচণ্ডীর। গত পাঁচশো বছর ধরে এই প্রাচীন নিয়ম মেনে হয়ে আসছে দেবীর পুজো। দ্বিতীয়া থেকে টানা একাদশী পর্যন্ত মন্দিরের চাতালে চলে চণ্ডালদের রামনাম। কেন এই রীতি, তা জানা যায় না। শুধু রীতি মেনে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে পুজো ও চণ্ডালদের রামনামের।    
 
 
হাওড়া জেলার প্রাচীন জনপদগুলির মধ্যে আমতার 'শ্রী শ্রী মেলাইচণ্ডী'র মন্দিরটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। মেলাইচণ্ডী দেবী চণ্ডীর ৫১ রূপের বা ৫১ দেবীপীঠের অন্যতম একটি পীঠ। লোকশ্রুতি অনুসারে এই সেই জয়ন্তী যেখানে দেবী সতীর মালাইচাকি খণ্ডিত হয়ে পড়েছিল, তাই থেকেই দেবীর নাম মেলাই চন্ডী। গেজেটিয়ার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ১০৫৬ বঙ্গাব্দ, অর্থাৎ ইংরেজির ১৬৪৬ সালে এই মন্দির তৈরি হয়। জনশ্রুতি যজ্ঞেশ্বর চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তি রোজ কুমিরের পিঠে চেপে দামোদর পার করে দেবীর নিত্যসেবা করতে যেতেন। বয়সকালে তিনি অক্ষম হলে তাঁর ছেলেকে এই দায়িত্ব দেন কিন্তু সে ভয়ে জর্জরিত হয়ে দীর্ঘদিন দেবীর পূজা করতে না গিয়ে বাবাকে মিথ্যা বলতে থাকে। দেবী যজ্ঞেশ্বরকে স্বপ্নাদেশ দিয়ে বলেন তাঁর পূজার ব্যাঘাত ঘটছে তাই যজ্ঞেশ্বর দেবীকে নদের এই পারে বসবাসের অনুরোধ করেন, তাতে দেবী সন্তুষ্ট হন। যজ্ঞেশ্বর দেবীকে এপারে এনে প্রতিষ্ঠা করেন ও নিত্যপূজা চলতে থাকে। মতান্তরে কথিত আছে জনৈক চণ্ডী সাধক শ্রী জটাধারী চক্রবর্তী কোনও এক গভীর রাত্রে দেবী স্বপ্নাদেশ পান। দেবী তাঁকে স্বপ্নে বলেন আমি আছি জয়ন্তীর গ্রামে। এখানে তুই আমার নিত্য পূজা করে যা। পরের দিন ভোরবেলা তিনি চলে যান আমতার পশ্চিম দিকে দামোদর নদীর অপর পাড়ে অবস্থিত জয়ন্তী গ্রামে। অনেক খোঁজার পর তিনি এক কৃষ্ণবর্ণের প্রস্তরখণ্ড দেখতে পান। এই প্রস্তরখণ্ডকে তিনি দেবী চণ্ডীর রূপে গ্রহণ করেন। তারপর দেবী স্বপ্নাদেশ অনুসারে তিনি নিত্যপূজা করার জন্য জয়ন্তী গ্রামে যেতেন।
 
 
এইভাবে অনেকগুলি বছর অতিক্রান্ত হয়। এক সময় দূর গ্রামে গিয়ে পুজো করতে যাওয়া অসুবিধা হয়ে যায় জটাধারীর। চণ্ডীর উপাসক জটাধারী তখন দেবীকে তার অক্ষমতার কথা জানান। ভক্তের কাতর আবেদন শুনে দেবী স্বপ্নাদেশে তাঁকে বলেন , 'তুই আমাকে তোর বাড়ির কাছে আমতা গ্রামে প্রতিষ্ঠা করে নিত্য সেবা কর।' এরপর জটাধারী জয়ন্তী গ্রাম হতে দেবীর প্রস্তরখণ্ড তার উদ্দেশ্যে নিয়ে রওনা দেন। এরপর নিজের বাড়ির কাছে এক নিমগাছের তলায় চণ্ডীর প্রস্তরখণ্ডটি রেখে দেবীর পুজো করতে থাকেন। তবে দেবীর জন্য একটি স্থায়ী মন্দির প্রয়োজন ছিল। কিন্তু মন্দির নির্মাণ করতে হলে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। সেই অর্থ তাঁর ছিল না। তাই নিরুপায় হয়ে দেবীর কাছেই তার মনোস্কামনার কথা জানান জটাধারী। এরপর নানা ঘটনাচক্রে কলকাতার হাটখোলার বিখ্যাত ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী শ্রী কৃষ্ণচন্দ্র দত্ত মহাশয় মন্দিরটি নির্মাণ করে দেন। তারপর জটাধারীর আন্তরিক বাসনা ছিল তিনি দেবীর এক সুন্দর মূর্তি নির্মাণ করবেন। তারপর তিনি দেবীর মূর্তি নির্মাণ করতে লাগলেন। তবে এক কারণবশত মূর্তি নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি। হাত পা ও অন্যান্য অংশ বাকি থেকে যায়। এটাই দেবীর বর্তমান রূপ। 
 
 
পরবর্তীকালে ভূরিশ্রেষ্ঠ বা ভুরসুট রাজ্যের রানি  ভবশঙ্করী দেবী মেলাই চণ্ডীর বড় মন্দির নির্মাণ করেন ও ব্যাপকভাবে পূজার প্রচলন করেন। মন্দিরের সেবায়েত এই চক্রবর্তী বংশই। মূল মন্দিরটির চারদিক বেশ উঁচু এবং মেঝে শ্বেতপাথর দিয়ে বাঁধানো। সিঁড়ি ভেঙে ওঠার ব্যবস্থা আছে। কিছুদিন আগেই সিঁড়ির দু দিকে বসানো হয়েছে রেলিং। মন্দিরের নহবতখানা ও সিংহদরজা এখানকার ঐতিহ্য আরও বাড়িয়ে তোলে। সিংহদরজা ছাড়াও ৪ টি দরজা রয়েছে মন্দিরে। রয়েছে একটি কারুকার্য করা স্থায়ী মঞ্চও। সিংহদরজা দিয়ে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে বড় একটি আটচালা। বর্তমানে এটি শ্বেতপাথর দিয়ে বাঁধানো। পাশেই ধর্মশালা এবং একটি বাঁধানো কূপ। এই কূপের জল অতি পবিত্র বলে মনে করা হয়। দেবীর প্রাত্যহিক স্নান, অঙ্গরাগ ও ভোগ এই কূপের জলেই হয়। কূপের পাশেই দূর্গেশ্বর শিবের একটি ছোট মন্দির আছে। দেবীর মন্দিরে কাল ভৈরব, শীতলা, কালী, ষষ্ঠী, তুলসী, মনসা সহ একাধিক দেব-দেবীর পূজা হয়।

Comm Ad 2020-tantuja-body

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

2020 New Ad HDFC 05

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Comm Ad 006 TBS

খিদিরপুর থেকে শুরু করে বেহালা, হরিদেবপুর,

খিদিরপুর থেকে শুরু করে বেহালা, হরিদেবপুর,

মুদিয়ালী ছুঁয়ে সোধপুর পার্ক

মুদিয়ালী ছুঁয়ে সোধপুর পার্ক

বাবুবাগান হয়ে উদ্বোধনের যাত্রা শেষ হল একডালিয়া,

বাবুবাগান হয়ে উদ্বোধনের যাত্রা শেষ হল একডালিয়া,

হিন্দুস্থান পার্ক, ত্রিধারার চত্বরে এসে।

হিন্দুস্থান পার্ক, ত্রিধারার চত্বরে এসে।

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

এক আধটা নয়, পুরো ১১০টি পুজোর উদ্বোধন একঘন্টার মধ্যেই সেরে ফেলে রেকর্ড গড়ে দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এক আধটা নয়, পুরো ১১০টি পুজোর উদ্বোধন একঘন্টার মধ্যেই সেরে ফেলে রেকর্ড গড়ে দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নবান্ন থেকে ভার্চুয়ালি ভাবে রাজ্যের ১২টি জেলার এই ১১০টি পুজোর উদ্বোধন এদিন করে দিলেন তিনি।

নবান্ন থেকে ভার্চুয়ালি ভাবে রাজ্যের ১২টি জেলার এই ১১০টি পুজোর উদ্বোধন এদিন করে দিলেন তিনি।

কখনও দূর্গাস্তোত্র পড়ে, কখনও শাঁখ বাজিয়ে, কখনও বা কাঁসর বাজিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে এদিন দেখা গেল একের পর এক জেলায় পুজোর উদ্বোধন করতে।

কখনও দূর্গাস্তোত্র পড়ে, কখনও শাঁখ বাজিয়ে, কখনও বা কাঁসর বাজিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে এদিন দেখা গেল একের পর এক জেলায় পুজোর উদ্বোধন করতে।

একই সঙ্গে নাম না করেই মাঝে মধ্যে গেরুয়া শিবিরকে খোঁচা দিয়ে তাঁকে মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করতে দেখা গেল যে মা যেন বাংলাকে দাঙ্গা থেকে বাঁচান

একই সঙ্গে নাম না করেই মাঝে মধ্যে গেরুয়া শিবিরকে খোঁচা দিয়ে তাঁকে মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করতে দেখা গেল যে মা যেন বাংলাকে দাঙ্গা থেকে বাঁচান

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 2020-LDC Egg

Editors Choice

corona 02