Comm Ad 2020-LDC epic

মহালয়ার ভোর মানেই ‘অ্যালার্মের ঘড়ি’

Share Link:

মহালয়ার ভোর মানেই ‘অ্যালার্মের ঘড়ি’

সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়: ভোরবেলা অ্যালার্ম দেওয়া। আর সেই ‘অ্যালার্মের ঘড়ি’-তে চারটে বাজলেই তড়াক করে বিছানা থেকে উঠে পড়া। এখনি তো শুরু হয়ে যাবে ‘আশ্বিনের শারদ প্রাতে’, বেজে উঠবে আলোর বেণু; ‘বাজলো তোমার আলোর বেণু, মাতলো রে ভুবন’। ছেলেটা জানে না আলোর বেণু কিভাবে বেজে ওঠে, জানে না ভুবনই বা কী করে মেতে ওঠে। কিন্তু এটা জানে যে এই গানটা রেডিয়োতে বেজে ওঠা মানেই পুজো শুরু হয়ে গেল’ বুকের মধ্যে পুজোর বাদ্যি – ‘ঢ্যাং কুড় কুড়, ঢ্যাং কুড় কুড়’।

ষষ্ঠীর দিন দেবীর বোধন হয় এমন কথা ছেলেটা শুনেছে। কিন্তু তার পুজোর বোধন তো  মহালয়ার ভোরে, যখন রেডিওতে বেজে উঠবে মহিষাসুরমর্দিনী - দেবী চণ্ডীর আগমনী বার্তা।

পুজো যে আসছে তা কি আর ছেলেটা টের পাচ্ছিল না! রচনা বইয়ের পাতায় পড়া শরতের বর্ণনা - আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ,  মাঠে-ঘাটে কাশবনে দোলা - এইসব যে সত্যিই ‘সত্যি’  হয়ে উঠল চারপাশে। তার সঙ্গে খবরের কাগজের ‘পুজোয় চাই নতুন জুতো’-র পাতাজোড়া বিজ্ঞাপন আর ‘ছোটদের মনের মতো রঙিন পূজাবার্ষিকী’-র আত্মপ্রকাশ জানিয়ে দিত পুজো আসছে। আর তার সঙ্গেই মনে পড়তো মধু-বিধু দুই ভাইয়ের গল্প। ‘আশ্বিনের মাঝামাঝি উঠিল বাজনা বাজি পুজোর সময় এলো কাছে’। পুজোর সময়ের কাছে আসা, পুজো আসছে আসছে ভাব, সবটাই যেন অতীত হয়ে যেত যখন কানে আসতো ‘জাগো দুর্গা, জাগো দশপ্রহরণধারিণী’।
 
পুজো এসে গেল - এই বোধটা নিয়ে আসে মহালয়ার ভোর। মহালয়ার ভোর তর্পণেরও। পূর্বপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা দেখা যায় গঙ্গায় আর বিভিন্ন জলাশয়ে। কিন্তু ছেলেটা তো আর অত-শত জানে না। দুর্গার জেগে ওঠার সঙ্গে তারও জেগে ওঠা মহালয়ার ভোরে - ভোর চারটেয়।
 
ছেলেটা শোনে দেবীর কীসে আগমন। কখনও ঘোড়ায় বা গজে, কখনও দোলায় আবার কখনও-বা নৌকায়। আর, সেসবের ফলও কী সব যেন লেখা যাকে পাঁজির পাতায়। একটা ফল মনে আছে ছেলেটার; 'ছত্রভঙ্গ'। ছেলেটার মনে কেবলই মহালয়ার ভোরের স্মৃতি। সে তো আর হাতি- ঘোড়া-দোলা বা নৌকোতে দেবীকে আসতে দেখেনি। সে দেখেছে, ঠেলাগাড়ি করে প্রতিমার পাড়ার মণ্ডপে আসা। সেটাও ছিল শৈশবের এক মহালয়ার ভোর। এইভাবেই কি বরাবর দেবী আসতেন তাদের প্যান্ডেলে? নাকি একবারই এসেছিলেন? ছেলেটার মনে পড়ে না!
 
একটা গান ছেলেটা ছোটবেলা থেকেই শোনে, ‘এক এক্কে এক, দুই এক্কে দুই। নামতা পড়ে ছেলেরা সব পাঠশালার ঐ ঘরে, নন্দী বাড়ির আটচালাতে কুমোর ঠাকুর গড়ে। মন বসে কি আর? আহা হা! চণ্ডী তলায় বাদ্যি বাজে ঢাক গুরু গুর!’ কিন্তু ছেলেটার পাড়ায় তো আর আটচালা নেই। ঠাকুরও গড়া হয় না তার পাড়ার প্যান্ডেলে। শেষ পর্বের সজ্জা অবশ্য হ’ত। আর তার শুরু প্যান্ডেলে ঠাকুর আসার পর। কবে? সেও তো সেই মহালয়ার ভোর।
 
ছেলেটার স্কুলে ছুটি পড়ত মহালয়ার দিন থেকে। স্কুলে ছুটির কাজ তিরিশ পাতা হাতের লেখা। সে কাজের সূচনা হত মহালয়ার ভোরে, রেডিওতে মহিষাসুরমর্দিনী শেষ হওয়ার পর। ফাঁকিবাজ ছেলেটা লিখল 'রাম বনে ফুল পাড়ে'। কিন্তু স্কুল খোলার পর, কই দিদিমণি দেখলেন না তো হাতের লেখা। ছেলেটা ভাবল, পরের বছর ছুটির কাজ হিসেবে এবারের হাতের লেখাটাই দেখিয়ে দিলে কেমন হয়! পরের বছর আর ছুটির কাজে হাতের লেখা দেওয়া হল না। ছেলেটা বড় হয়ে গেল?
 
ছেলেটা অ্যালার্মের আওয়াজ শুনে মহালয়া শুনতে বসে। কখনও মশারি থেকে বেরিয়ে, কখনও বা মশারির মধ্যেই। ‘বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জির..........’ শুনতে শুনতেই ফের কখন যে দু’চোখের পাতা জুড়ে গেছে খেয়ালই নেই। যখন ঘুম ভাঙল তখন হয়তো 'রূপং দেহি, যশং দেহি, ধনং দেহি' হচ্ছে আবার কখনও একটু আগের ‘তব অচিন্ত্য........’র সময় ঘুম ভাঙে। 'রূপং দেহি' হয়ে গেল, তার মানে এবারও পুরো শোনা হল না। মন খারাপ। পরবর্তীকালে মহিষাসুরমর্দিনীর ক্যাসেট, আরও পরে সিডি সহজলভ্য হয়েছে। ইচ্ছে করলে যখন তখন শোনা যায়। পাড়ার মাইকেও বেজে ওঠে। তা-ও রেডিয়োর মহালয়া একটু মিস হয়ে যাওয়ায়  মন ভিজে যায়। গলার কাছে কী একটা  যেন দলা পাকিয়ে ওঠে। ছেলেটা প্রতিজ্ঞা করে, পরের বার আর কক্ষনো হবে না। পুরোটা শুনবেই শুনবে। আবার অপেক্ষায় থাকে আর এক মহালয়ার ভোরের! 

corona 01

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 2020-WB Tourism RC

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

corona 02

খিদিরপুর থেকে শুরু করে বেহালা, হরিদেবপুর,

খিদিরপুর থেকে শুরু করে বেহালা, হরিদেবপুর,

মুদিয়ালী ছুঁয়ে সোধপুর পার্ক

মুদিয়ালী ছুঁয়ে সোধপুর পার্ক

বাবুবাগান হয়ে উদ্বোধনের যাত্রা শেষ হল একডালিয়া,

বাবুবাগান হয়ে উদ্বোধনের যাত্রা শেষ হল একডালিয়া,

হিন্দুস্থান পার্ক, ত্রিধারার চত্বরে এসে।

হিন্দুস্থান পার্ক, ত্রিধারার চত্বরে এসে।

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

এক আধটা নয়, পুরো ১১০টি পুজোর উদ্বোধন একঘন্টার মধ্যেই সেরে ফেলে রেকর্ড গড়ে দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এক আধটা নয়, পুরো ১১০টি পুজোর উদ্বোধন একঘন্টার মধ্যেই সেরে ফেলে রেকর্ড গড়ে দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নবান্ন থেকে ভার্চুয়ালি ভাবে রাজ্যের ১২টি জেলার এই ১১০টি পুজোর উদ্বোধন এদিন করে দিলেন তিনি।

নবান্ন থেকে ভার্চুয়ালি ভাবে রাজ্যের ১২টি জেলার এই ১১০টি পুজোর উদ্বোধন এদিন করে দিলেন তিনি।

কখনও দূর্গাস্তোত্র পড়ে, কখনও শাঁখ বাজিয়ে, কখনও বা কাঁসর বাজিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে এদিন দেখা গেল একের পর এক জেলায় পুজোর উদ্বোধন করতে।

কখনও দূর্গাস্তোত্র পড়ে, কখনও শাঁখ বাজিয়ে, কখনও বা কাঁসর বাজিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে এদিন দেখা গেল একের পর এক জেলায় পুজোর উদ্বোধন করতে।

একই সঙ্গে নাম না করেই মাঝে মধ্যে গেরুয়া শিবিরকে খোঁচা দিয়ে তাঁকে মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করতে দেখা গেল যে মা যেন বাংলাকে দাঙ্গা থেকে বাঁচান

একই সঙ্গে নাম না করেই মাঝে মধ্যে গেরুয়া শিবিরকে খোঁচা দিয়ে তাঁকে মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করতে দেখা গেল যে মা যেন বাংলাকে দাঙ্গা থেকে বাঁচান

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 2020-WBSEDCL RC

Editors Choice

Comm Ad 008 Myra