এই মুহূর্তে

তাঁকে নিয়ে উপহাস! শাহরুখের বিরুদ্ধে ১০০ কোটির মামলা ঠুকেছিলেন মনোজ কুমার….

নিজস্ব প্রতিনিধি: বলিউডে ফের নক্ষত্র পতন! চিরঘুমের দেশে পাড়ি দিলেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা মনোজ কুমার। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সকালে কোকিলাবেন হাসপাতালে চিকি‍ৎসাধীন অবস্থায় প্রয়াত হয়েছেন অভিনেতা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। প্রবীণ অভিনেতার প্রয়াণের খবরে বলিউডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিত্বরা। দেশাত্মবোধক চলচ্চিত্রের পাশাপাশি, প্রয়াত অভিনেতা তাঁর অর্থহীন মনোভাবের জন্যেও পরিচিত ছিলেন। ৪ এপ্রিল, শুক্রবার মুম্বাইয়ে প্রবীণ অভিনেতা মনোজ কুমার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, যার ফলে পুরো চলচ্চিত্র জগত শোকাহত হয়ে পড়ে। দেশাত্মবোধক চলচ্চিত্রের পাশাপাশি, প্রয়াত অভিনেতা তার অর্থহীন মনোভাবের জন্যও পরিচিত। কেননা ২০০৮ সালে উপহাস করার অভিযোগ এনে সুপারস্টার শাহরুখ খানের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মামলা দায়ের করেছিলেন তিনি। ঘটনার সূত্রপাত, ২০০৭ সালে ফারাহ খান পরিচালিত এবং শাহরুখ অভিনীত ‘ওম শান্তি ওম’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার পর। যে ছবির মাধ্যমে বলিউডে ডেবিউ করেন দীপিকা পাড়ুকোন।

বলিউডের স্বর্ণালী যুগের প্রেক্ষাপটে গাঁথা হয়েছিল ছবির কাহিনী। ছবির একটি দৃশ্যে মনোজ কুমারকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে অনুকরণ করেছিলেন শাহরুখ খানের চরিত্রটি। এবং তাঁর মতো মুখে হাত দিয়ে হেসেছিলেন তিনি। যেটি মনোজ কুমারের কাছে খুবই অপমানজনক ছিল। সেই কারণে তিনি ২০০৮ সালে শাহরুখ এবং নির্মাতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। এবং দৃশ্যটি ছবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন নির্মাতাদের। এমনকী জাপানে ‘ওম শান্তি ওম’ মুক্তি পাওয়ার পর মনোজ কুমার মেজাজ হারিয়ে ফেলেছিলেন, কারণ দৃশ্যটি না সরিয়েই মুক্তি দিয়েছিলেন নির্মাতারা। সেই কারণেই তিনি শাহরুখ খান এবং নির্মাতাদের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ নিয়ে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন। পরবর্তীতে মনোজ কুমারের আইনজীবী জানিয়ে ছিলেন যে, এই ঘটনার পর শাহরুখ ইমেলের মাধ্যমে প্রবীণ অভিনেতার কাছে লিখিত ক্ষমা চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর আশ্বাস সত্ত্বেও, আপত্তিকর দৃশ্যটি জাপানে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ওম শান্তি ওম’-এর পুনরায় সংস্করণের অংশ ছিল। যাতে কুমার অত্যন্ত বিরক্ত এবং মর্মাহত হয়েছিলেন। তবে, ২০১৩ সালের আগস্টে, কুমার শাহরুখ খানের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করে নেন।

উল্লেখ্য, ১৯৩৭ সালের ২৪ জুলাই পঞ্জাবি ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন মনোজকুমার। পিতৃদত্ত নাম ছিল হরিকৃষ্ণ গোস্বামী। যদিও ১৯৫৭ সালে বলিউডে পা রাখার সময়ে নিজের নাম বদলে নিয়েছিলেন তিনি। হরিকৃষ্ণ গোস্বামী হয়ে উঠেছিলেন মনোজ কুমার। দেশ আর দেশপ্রেম-ই ছিল তাঁর অভিনয়ের বড় পরিচয়। ‘শহিদ’ (১৯৬৫), ‘উপকার’ (১৯৬৭), ‘পূরব অউর পশ্চিম’ (১৯৭০), ‘রোটি কাপড়া আউর মকান’ (১৯৭০), ‘ক্রান্তি’,র মতো ছবি করে তিনি দর্শকদের কাছে পরিচিতি পেয়েছিলেন ‘ভারত কুমার’ হিসাবে। তাঁর কণ্ঠে ‘মেরি দেশ কি ধরতি’ আজও গোটা দেশের মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ করে তোলে। এছাড়াও ‘হরিয়ালি আউর রাস্তা’, ‘ও কোন থি’, ‘’হিমালয় কে গোদ ম্যাঁয়’, ‘দো বদন’, ‘পাত্থর কে সনম’ এবং ‘নীলকমল’ ছবিতে অভিনয়ের সুবাদে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৯২ সালে তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করেছিল ত‍ৎকালীন কেন্দ্রের কুর্সিতে থাকা কংগ্রেস সরকার।  ২০১৫ সালে পান ‘দাদা সাহেব ফালকে’ পুরস্কার। ব্যক্তি জীবনেও তিনি ভীষণ ধর্মভীরু ছিলেন মনোজ কুমার। শিরডি সাইবাবার অন্যতম ভক্ত হিসাবে পরিচিত ছিলেন। এমনকি সাইবাবার লীলা ও চম‍ৎকারিত্ব নিয়ে ছবিও তৈরি করেছিলেন। শিরডিতে সাইবাবার মন্দির সংলগ্ন রাস্তার নাম তাঁর নামেই করেছিল আহমদনগর জেলা প্রশাসন। যদিও গত কয়েক বছর ধরেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। গত ২১ ফেব্রুয়ারি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে কোকিলাবেন ধীরুভাই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ক্রমশই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছিল। চিকি‍ৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। আগামিকাল তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

প্রেমিকার হাতে হাত রেখে ইমরানের কামব্যাক ছবির প্রিমিয়ারে আমির

বিজয়ের ‘জন নয়গন’ নিয়ে সেন্সর বোর্ডের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট

‘গণতান্ত্রিক উৎসবে সকলে সামিল হোন’, BMC নির্বাচনে সপরিবারে ভোট দিলেন অক্ষয়, শচিনরা

রঞ্জিত মল্লিকের বাড়িতে টানা এক ঘন্টা কাটালেন অভিষেক, কী খেলেন সেখানে….

সংক্রান্তির আমেজ শোভন সোহিনীর ঘরে, পিঠে তৈরির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত দম্পতি

‘ভীষণ রাগ হত, কষ্টও পেতাম’, অর্জুনের সঙ্গে ব্রেকআপ নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন মালাইকা

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ