কলকাতায় সব আসনে টিকিট দিতে পারছে না বিজেপি

Published by:
https://www.eimuhurte.com/wp-content/uploads/2021/09/em-logo-globe.png

Koushik Dey Sarkar

27th November 2021 5:08 pm

নিজস্ব প্রতিনিধি: অনুমানই শেষ পর্যন্ত সত্যি হতে চলেছে। কলকাতা পুরনির্বাচনে ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪০টি ওয়ার্ডেও প্রার্থী দিতে পারছে না বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজেপি খুব জোর ১৫ থেকে ১৬টি ওয়ার্ডে প্রার্থী দিতে পারে যেখানে তাঁরা লড়াই করার মতো জায়গায় আছেন। ২০১৫ সালের পুরনির্বাচনে বিজেপি জয়ের মুখ দেখেছিল কলকাতা পুরনিগমের ৭, ২২, ২৩, ৪২, ৭০ ৮৬, এবং ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডে। এবারেও বিজেপি ওইসব ওয়ার্ডে প্রার্থী দেবে। তার সঙ্গে আরও গোটা ১০ ওয়ার্ডে তাঁরা হয়তো প্রার্থী দিতে পারে। তবে কলকাতা পুরনিগমের নির্বাচনকে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব যে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে না কার্যত ‘লড়তে হয় তাই লড়া‍’ গোছের মনোভাব নিয়ে এগোচ্ছে তা দলের কর্মীদের কাছেও পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। আর তার জেরে বিজেপির কর্মী থেকে সমর্থকদের মনোবল তলানিতে এসে ঠেকেছে। নেতারাও কার্যত ছত্রভঙ্গ। যে দুই হেভিওয়েট নেতার হাতে বিজেপি কলকাতা পুরনির্বাচনের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিল সেই অর্জুন সিং আর রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার পুরনির্বাচন নিয়ে এদিনের দলের বৈঠকেই গরহাজির থেকে কার্যত বুঝিয়ে দিলেন তাঁরা আর এই নির্বাচন নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না।

গত বৃহস্পতিবার ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সেদিন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে মনোনয়ন দাখিলের পালা। ভোট আগামী ১৯ ডিসেম্বর। আগামী ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে। ৪ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহার করার শেষ দিন। শুক্রবারই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বাম ও তৃণমূল। আগামিকাল প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে কংগ্রেস। কিন্তু বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব এখনও প্রার্থীর ঘোষণা করা তো দূরের কথা, কোন ওয়ার্ডে কে প্রার্থী হবেন সেটাই ঠিক করে উঠতে পারেননি। শনিবার কলকাতার পুরনির্বাচন নিয়ে হেস্টিংসে বিজেপির কার্যালয়ে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে এই পুরনির্বাচনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ১১৬জন নেতা, বিধায়ক ও সাংসদের মধ্যে বেশির ভাগই আসেননি। ফলে প্রার্থী তালিকা নিয়ে সেভাবে কোনও সিদ্ধান্তই হয়নি। খালি মীনাদেবী পুরোহিত, সুনিতা ঝাওয়ার, বিজয় ওঝা ও রিঙ্কু নস্করের লড়াই করার বিষয়টিতে শিলমোহর দেওয়া হয়েছে।

বঙ্গ বিজেপি নেতাকর্মীদের এখন সব থেকে বড় অভিযোগ, তাঁদের দল ও দলের মাথারা মাঠে নেমে লড়াই ও আন্দোলন করার পরিবর্তে কথায় কথায় আদালতে গিয়ে মামলা ঠুকছেন। এতে আমজনতার কাছে যেমন দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে তেমনি দল রাজ্য রাজনীতিতে তার গুরুত্ব হারাচ্ছে। পায়ের নীচের জমি ক্রমশ সরে যাচ্ছে। তা না বুঝে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব এখনও পুরনির্বাচন নিয়ে আদালতমুখী হয়ে বসে আছে। তাঁরা এই নির্বাচনের ওপর আদালতের স্থগিতাদেশ চান, যা কার্যত অসম্ভব। নির্বাচন যতই রাতারাতি ঘোষণা করে দেঅ্য্যা হোক না কেন নিজেদের সাংগঠনিক দক্ষতে থাকলে প্রার্থী দাঁড় করাতে কোনও অসুবিধা থাকার কথা নয়। বামেরা একুশের বিধানসভা নির্বাচনে কোনও আসন না জিতলেও তাঁরা ইতিমধ্যেই ১২৭টি ওয়ার্ডে তাঁদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণ করে দিয়েছে। অথচ সেখানে বিজেপি রাজ্যের বিরোধী দল হয়েও ২৭টা ওয়ার্ডেও প্রার্থী দিতে পারছে না। এ নিয়ে দলের কারোর কোনও হেলদোলও নেই। দল এভাবে হাতগুটিয়ে বসে থাকলে বাংলার রাজনীতির মঞ্চ থেকে যা তাঁরা বিলুপ্ত হয়ে যাবেন সেটা দলের নেতাকর্মীরা বুঝতে পারলেও দলের মাথারা বুঝতে চাইছেন না।

বঙ্গ বিজেপির নেতৃত্ব যে কলকাতা পুরনির্বাচনকে সেভাবে গুরুত্বও দিতে চাইছে না তা এদিন ধরা পড়েছে বঙ্গ বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের কথাতেই। তিনি জানিয়েছেন, ‘আচমকা ভোট ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় আমরা এখনও সব চূড়ান্ত করে উঠতে পারিনি। আমরা গোটা রাজ্যে একসঙ্গে পুর নির্বাচন চেয়েছিলাম। কিন্তু শুধু কলকাতার জন্য যে ভাবে একতরফা নির্বাচন ঘোষণা হয়েছে, তাতে তো শাসকের উদ্দেশ্য স্পষ্ট। রবিবার আমি কলকাতায় যাব। তবে প্রার্থী তালিকা রবিবারেই চূড়ান্ত করা যাবে কি না, বোঝা যাচ্ছে না। সোমবার প্রকাশ করার চেষ্টা করা হবে।’ অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজ্য বিজেপির এক নেতার দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের পরে এখন যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তাতে কলকাতায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই কঠিন। কর্মীদের মনোবলও তলানিতে। তাই পুরভোটে শক্তির অপচয় করে কোনও লাভ হবে না বুঝেই খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। যে সব ওয়ার্ডে শক্তি রয়েছে, সেখানেই লড়াইয়ের কথা ভাবছে দল। সর্বত্র মিছিমিছি লড়াই করার কোনও মানেই হয় না।

More News:

Leave a Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

নজরকাড়া খবর

জেলা ভিত্তিক সংবাদ

Subscribe to our Newsletter

134
মিশন দিল্লি, পিকের চাণক্যনীতি কতটা কাজ দিল মমতার?

You Might Also Like