Brand Ad - Poll 2021-01

মমতাকে চিঠি দিয়ে দিল্লির পথে ধনকর! নজরে কী রাষ্ট্রপতি শাসন, উঠছে প্রশ্ন

Share Link:

মমতাকে চিঠি দিয়ে দিল্লির পথে ধনকর! নজরে কী রাষ্ট্রপতি শাসন, উঠছে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি: মঙ্গল সন্ধ্যায় দিল্লি যাচ্ছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। আর সেটাও ৩দিনের জন্য। তাঁর এই সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পাশাপাশি দেখা করতে পারেন রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও। তবে সেই সাক্ষাতের প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনীতা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন রাজ্যপালের এই দিল্লি যাত্রা আর দেশের ৩ প্রধান কর্তাব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ নেহাত রুটিন ভিজিট নয়। এটা বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারিরই নীল নকশার অঙ্গ। তবে সেই দিল্লি যাত্রার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। সেই চিঠিতেই তিনি লিখলেন নির্বাচন পরবর্তী রাজ্যের বিরোধীদের ওপর ক্রমাগত হিংসা আর আক্রমণের ঘটনা নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রিসভায় আলোচনা করতে।
 
ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়ে রাজ্যকে লাগাতার আক্রমণ করেই চলেছেন ধনকর। গতকালও শুভেন্দু অধিকারীকে পাশে নিয়ে সেই অভিযোগও করেছেন। দেখে শুনে মনে হচ্ছে রাজ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতা ভাষণ দিচ্ছেন রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে। এরপরই এদিন তিন দিনের জন্য দিল্লি যাচ্ছেন ধনখড়। যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়ে গেলেন চিঠি। তাতে আবার রীতিমত হুকুম জারি করে গিয়েছেন, রাজ্য মন্ত্রিসভায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। এই নির্দেশ রাজ্যপাল আদৌ দিতে পারেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তো আছেই, কিন্তু তার থেকেও বড় প্রশ্নঅদিল্লি যাওয়ার আগে রাজ্যপাল এই চিঠি দিয়ে গেলেন কেন? তা কী নিছকই তাঁর উদ্বেগ নাকি এই চিঠি দেওয়া কোনও নীল নকশার অঙ্গ। সেই প্রশ্নটা কিন্তু উঠেছে। আর অভিজ্ঞ বিশারদরা এটাই মনে করছেন এই চিঠি আদতে বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পথে প্রাথমিক ধাপ। কেন না এই চিঠিই বা অবিকল এইরকমই একটি বা একাধিক চিঠি রাজ্যপালের কাছ থেকে জমা পড়বে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও রাষ্ট্রপতি ভবনে। পরে এই চিঠি ও তার বিষয়বস্তুকে হাতিয়ার করেই বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করবে মোদি সরকার।


ভুললে চলবে না রাজ্যপাল রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। তাই তিনি যদি কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে লিখিত ভাবে জানান বাংলায় আইনের শাসন বলে কিছু নেই, জনসাধারনের নিরাপত্তা বলে কিছু নেই, মহিলা ও শিশুদের জীবনের নিরাপত্তা বলে কিছু নেই, তখন তা কেন্দ্র সরকারকেও ভাবতে বাধ্য করবে বা কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে সহায়ক হয়ে উঠবে। মোদি সরকার তো ধনকরকে দিয়ে বাংলায় তাঁর আসা ইস্তক সেটাই করিয়ে চলেছে। তাই দিল্লি যাত্রার আগে মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া ধনকরের চিঠি কার্যত রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির বৃহত্তর ষড়যন্ত্রেরই অংশ। ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে যে, বিজেপি চাইছে বাংলাকে ভেঙে উত্তরবঙ্গকে বিধানসভা যুক্ত পৃথক কেন্দ্রশাসিত এলাকা হিসাবে ঘোষণা করুক কেন্দ্র সরকার। কিন্তু সেই পথের কাঁটা দুটি। প্রথমটির নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দ্বিতীয়টির নাম রাজ্য সরকার। সেই সরকার যা কিনা রাজ্যের জনগণ দ্বারা নির্বাচিত ও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী যুক্তরাষ্ট্রীয় আইন মোতাবেক। সেই সরকারটিকে ক্ষমতায় রেখে বাংলা ভাগের চক্রান্ত কখনই সফল হবে না। তাছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল নবান্ন থেকে যে বার্তা দিয়েছেন বঙ্গভঙ্গ বিরোধী সেখানে সত্যিও আইনে বলা আছে দেশের কোনও রাজ্যকে ভেঙে প্রথক রাজ্য বা কেন্দ্র শাসিত এলাকা করতে হলে সংশ্লীষ্ট রাজ্যের অনুমতি চাই। কিন্তু এই বাধ্যকতা তখনই থাকে যখন রাজ্যে সরকার থাকে। রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি থাকলে কিন্তু এই বাধ্যকতা থাকে না। তখন কেন্দ্র সরকার একক ভাবে ক্ষমতা নিতে সক্ষম। ঠিক যেভাবে জম্মু ও কাশ্মীরের ক্ষেত্রে প্রথমে রাষ্ট্রপতি শাসন ও পরে সেই শাসনকালেই কাশ্মীরকে ভেঙে ২-৩ ভাগে ভাগ করে দেওয়া। বাংলার ক্ষেত্রেও মোদি-শাহরা সেই পরিকল্পনাই নিচ্ছেন। ধাপে ধাপে।

দিল্লির প্রভুদের বড়ই অহংকে লেগেছে একটা মেয়ের কাছে হেরে যাওয়া। ‘আবকে বার ২০০ পার’ শ্লোগান তুলে বাংলার ক্ষমতা দখল করতে আসে গেরুয়া শক্তিকে বাংলার মানুষ ঘাড় ধাক্কা দিয়ে খেদিয়ে দিয়েছে। কিন্তু দিলে কী হবে, এদের লজ্জা, ঘৃণা, ভয় তিন থাকতে নয়। তাই এখন ঘুরপথে বাংলা দখলের ছক কষে চলেছে মোদি বাহিনী। যেন তেন প্রকারণে হোক ক্ষমতা দখল করা চাই ই চাই। সেই ক্ষমতা দখলের দুটি অস্ত্র, একটি রাজ্যপাল অন্যটি রাষ্ট্রপতি শাসন। সেই নীল নকশা অনুযায়ীই সব কিছু হয়ে চলেছে। এরপর বাংলার মানুষ কোনও একদিন ঘুম থেকে উঠেই শুনবে বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়ে গিয়েছে। তারপর আবার শুনবে বাংলা ভেঙে উত্তরবঙ্গকে পৃথক রাজ্য হিসাবে বা বিধানসভা সমেত কেন্দ্রশাসিত এলাকা হিসাবে ঘোষণা করেছে কেন্দ্র সরকার। আর সেখানে ৫৪জন বিধায়কের মধ্যে ৩০জনই যেহেতু বিজেপির বিধায়ক সেই হেতু বিজেপিই সেখানে সরকার গড়ছে। মানে দিল্লির প্রভুর মুখরক্ষ হল আর কী! মনে রাখবেন শুভেন্দু অধিকারী এখন এনাদেরই পদলেহন করে চলেছেন। বাংলা ভাগ হল না ধ্বংস হল তাতে অধিকারীদের আর কিছু দায় আসে না। তাঁদের দরকার শুধু ক্ষমতা। সেই জন্যই শুভেন্দুর সঙ্গেই বৈঠক সেরে রাজ্যপাল দৌড় দিয়েছেন দিল্লির পথে। 

Comm Ad 005 TBS

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

corona 02

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

corona 02

কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা 
জানালেন ফিরহাদ হাকিম

কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা জানালেন ফিরহাদ হাকিম

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আবক্ষ মূর্তীতে মাল্যদান করে বিশেষ শ্রদ্ধা জানালেন পুরপ্রশাসক ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আবক্ষ মূর্তীতে মাল্যদান করে বিশেষ শ্রদ্ধা জানালেন পুরপ্রশাসক ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম

দায়িত্ব নেওয়ার পরেই আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে নতুন মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব

দায়িত্ব নেওয়ার পরেই আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে নতুন মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব

দায়িত্ব নেওয়ার পরেই আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে নতুন মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব

দায়িত্ব নেওয়ার পরেই আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে নতুন মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব

কোভিড হাসপাতালে পরিণত হল ইসলামিয়া হাসপাতাল, উদ্বোধন করলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম

কোভিড হাসপাতালে পরিণত হল ইসলামিয়া হাসপাতাল, উদ্বোধন করলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম

জামিনে মুক্ত হয়েই শুক্রবার রাত থেকেই কাজে নামেন ববি হাকিম, আজ এক হাসপাতালের উদ্বোধনে হাজির রাজ্যের মন্ত্রী ও পুরপ্রশাসক

জামিনে মুক্ত হয়েই শুক্রবার রাত থেকেই কাজে নামেন ববি হাকিম, আজ এক হাসপাতালের উদ্বোধনে হাজির রাজ্যের মন্ত্রী ও পুরপ্রশাসক

করোনার সময় এই অতিরিক্ত করোনা হাসপাতাল সাধারণ মানুষের উপকারে লাগবে বলে জানিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম

করোনার সময় এই অতিরিক্ত করোনা হাসপাতাল সাধারণ মানুষের উপকারে লাগবে বলে জানিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 2020-himalaya RC
Comm Ad 2020-Valentine RC