শেষ দিনে ছুটল ইডি, ১০ দিনে করলটা কী?

Published by:
https://www.eimuhurte.com/wp-content/uploads/2022/05/em-final.png

Nisarga Niryas Mahato

2nd August 2022 6:45 pm | Last Update 2nd August 2022 6:50 pm

নিজস্ব প্রতিনিধি: পার্থ চট্টোপাধ্যায় (PARTHA CHATTERJEE) ও অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের (ARPITA MUKHERJEE) ১০ দিনের ইডি (ED) হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সেই মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আগামিকাল পার্থ ও অর্পিতাকে হাজির করতে হবে আদালতে। তার আগে পর্যন্ত ইডির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জেরা করে তেমন কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। তিনি বলেছেন, ‘হয় জানি না’ বা ‘টাকা আমার নয়’। কখনও বা থেকেছেন চুপ। এদিকে সংবাদমাধ্যমের সামনে বারবার সরব হয়েছেন পার্থ। তাহলে তদন্ত কতদূর? সারদা- নারদার মতই কি ‘পলিটিক্যাল ইস্যু’ হয়ে র‍য়ে যাবে দীর্ঘ বছর?!

এই তদন্তের মূল কেন্দ্রে পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তদন্তে সহযোগিতা করেছেন অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে তেমন কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। পার্থ বলেছেন, ‘টাকা আমার নয়’। অর্পিতা বলেছেন, ‘টাকা আমার নয়’। তবে টাকা কার?

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ১৭ বছরে ৫ হাজার ৪২২ টি কেসের তদন্ত করেছে ইডি। আর তাতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে মাত্র ২৩ জন! অর্থমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরীর দেওয়া রিপোর্টেই উঠে এসেছে এই তথ্য। আর ইডি’র সাফল্যের এই হারকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না কংগ্রেস সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি। ইডির বিরুদ্ধে কংগ্রেস, শিণ্ডে শিবির, তৃণমূলের দাবি ‘ইডি কেন্দ্রের নামে বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এজেন্সি’। বিরোধীদের দাবি, মোদী জমানায় ২০১৯ সালের লোকসভার ভোটের পর থেকেই বেড়েছে ইডির নেওয়া কেসের পরিমাণ। আগে যা ছিল ১০০- ২০০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। গত ২০১৯- ২০ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৫৬২। তারপর সেই সংখ্যা গত ২০২০-২১ সালে আরও বেড়ে হয়েছে ৯৮১। আর ২০২১-২২ সালে কেসের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১, ১৮০।

নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে ইডি। অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে প্রথম ২১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হওয়ার পর থেকে দ্বিতীয় ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ও ৬ কেজি সোনা। পার্থ ও অর্পিতার ফ্রিজড অ্যাকাউন্ট থেকে খোঁজ মিলেছে ৮ কোটি টাকার। নামে- বেনামে প্রচুর ফ্ল্যাট ও বাড়ি- জমির সন্ধান পেয়েছে ইডি। তবে উৎস ও কবে রহস্যের কেন্দ্র পাওয়া যাবে তা নিয়ে চুপ ইডি। ইডির দাবি, ১২০ কোটি টাকা রয়েছে। তবে বাকি টাকা কোথায়? না কি ‘মালিকানা হীন টাকা’!, এই প্রশ্নেই ঝুলবে মামলা? বিরোধীদের প্রশ্ন, তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে কী বলবে ইডি? জেরা করে কী জানা গেল? সমাধানের আর কত দিন? শেষ দিন তাই কি রাজ্যের রাজধানীর ৬ জায়গায় তল্লাশি চালানো জোরকদমে? ‘এই ৯ দিনে তবে একটু হলেও ঢিলেমি’, কটাক্ষ বিরোধীদের।

এই ন’দিনে অবশ্য ইডি হেফাজতে পার্থ একদিন ভাত ছাড়া কিছু খেতে চাননি। অভিভাবক সুলভ ভঙ্গিতে ‘শাসন’ করেছেন অর্পিতা। তারপরেও ভাত খেলেও অল্প খেয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। তারপরে সাধারণ খাবারের বাইরে পাঁঠার মাংস খেতে চেয়েছিলেন পার্থ, খেয়েছেন মুরগির মাংস। পার্থ- অর্পিতা খেয়েছেন গ্রিন-টি, ব্রাউন ব্রেড, মুসুম্বি। মুখরোচক গল্প হয়ে গিয়েছে ‘সেক্স টয়’ উদ্ধার।  

প্রথম দিকের লেখায় উদ্ধারের যে তালিকা দেওয়া হয়েছে তা বাদেও উদ্ধার হয়েছে  ১ টি কালো ডায়েরি সহ আরও ২ টি ডায়েরি, ১৮ টি মোবাইল, ১২ ভুয়ো সংস্থার হদিশ। যার মধ্যে ৬ টিতে অর্পিতার ঘনিষ্ঠ জন, ৩ টির মালিক অর্পিতা নিজেই। আবার এইসব কোম্পানির মালিক একাধিক জন। তবে ‘ভুয়ো’। বিভিন্ন কোম্পানির ঠিকানাও ‘ভুয়ো’। উদ্ধার হয়েছে ফ্ল্যাট সহ জমির একাধিক নথি। এবাদেও যাতায়াত ছিল একাধিক আবাসনে, যা তাঁদের নয়। এই তালিকায় আছে হাজার ডলার ও শিক্ষা দফতরের খাম বন্দি ৫ লক্ষ টাকা, হার্ড ডিস্ক। প্রকাশ্যে এসেছে এবং বিভিন্ন জনগণের দাবি অনুসারে তাঁদের রয়েছে, একাধিক বাগানবাড়ি ও বাড়ি। ইডির দাবি যোগ রয়েছে, রিয়েল এস্টেট, চলচ্চিত্র জগতের। মিলেছে মেইল আইডি। আবার, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এসএসসি টেটের সংশোধিত তালিকা উদ্ধার করা হয়েছে। সেই তালিকা ২০১২ সালের। দাবি, মিলেছে অর্পিতার বাড়ির ৭ টি সম্পত্তির দলিল ও ৩০৪ পাতার নথি। শেষ দিনে অর্পিতার নেল আর্ট পার্লার থেকে উদ্ধার হয়েছে আরও একটি হার্ড ডিস্ক। অন্যদিকে, বিভিন্ন ফ্ল্যাট- বাড়ি- পার্লার থেকে নেওয়া হয়েছে সিসিটিভি ফুটেজ। তবে ইডির তদন্তের মাঝেই উধাও অর্পিতার ৪ টি গাড়ি। যার দাম প্রায় দেড় কোটি। এর মধ্যে ২ টি গাড়ি অর্পিতার নামে। আবার, পার্থ না অর্পিতার, না কি তাঁদের যৌথ সম্পত্তি ‘বিশ্রাম’ বাগানবাড়ি তা নিয়ে জল্পনা আছে। সেই বাড়িতে হানা দিয়েছে চোর! ইডির দাবি, অর্পিতার ডায়েরি থেকে পাওয়া গিয়েছে টাকা লেনদেনের তথ্য। কিন্তু ‘টাকা কার?’ ইডির দাবি, কার টাকা তা নিয়ে পার্থ ও অর্পিতার উত্তর, ‘আমার নয়’। টাকা তবে কার? পার্থ চুপ। অর্পিতার দাবি, তাঁর অজান্তে ও অনুপস্থিতিতে টাকা রাখা হত। এই টাকায় তাঁর অধিকার ছিল না। প্রশ্ন, ‘বিপুল টাকা তবে কার’? আদালতে কী বলবে ইডি? কবে হবে রহস্যের কিনারা? 

More News:

indian-oil

Leave a Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এক ঝলকে

জেলা ভিত্তিক সংবাদ

Alipurduar Bankura PurbaBardhaman PaschimBardhaman Birbhum Dakshin Dinajpur Darjiling Howrah Hooghly Jalpaiguri Kalimpong Cooch Behar Kolkata Maldah Murshidabad Nadia North 24 PGS Jhargram PaschimMednipur Purba Mednipur Purulia South 24 PGS Uttar Dinajpur

Subscribe to our Newsletter

338
মিশন দিল্লি, পিকের চাণক্যনীতি কতটা কাজ দিল মমতার?