Brand Ad - Poll 2021-01

ফিরতে চান সুনীল, নারাজ তৃণমূল! অর্জুন গড়ে বিজেপিতে ধস

Share Link:

ফিরতে চান সুনীল, নারাজ তৃণমূল! অর্জুন গড়ে বিজেপিতে ধস

নিজস্ব প্রতিনিধি: উনিশ আর একুশ। মাঝে ব্যবধান মাত্র দুইয়ের। কিন্তু এই দুইয়ের ব্যবধানেই বদলে গিয়েছে ছবি। উনিশে যারা ভোটে জিতে দাপট দেখিয়েছিল তাঁরাই এবার মুখ থুবড়ে পড়েছে একুশে। আর তার জেরেই গড়ে নেমেছে ধ্বস। নীচুতলার নেতারা তো বটেই, মাঝারি মায়, ওপর তলার নেতারাও পা বাড়িয়ে দিয়েছেন শাসকের শিবিরে ফিরে যেতে। এরা মূলত তাঁরাই যারা উনিশের ভোটের আগে পরে করে ঘাসফুল ছড়ে ভিড়েছিলেন পদ্মফুলে। কেউ এসেছিলেন নিজের উচ্চাভিলাষ পূর্ণ করতে, কেউ দলেরই বিপক্ষ গোষ্ঠীকে টাইট দিতে, আর কেউ কেউ এসেছিলেন প্রাণে বাঁচতে। এবার তাঁরাই ফিরে যেতে চান পুরানো দলেই। কিন্তু সেখানেও বাধা। দলবদলু নেতাদের আর দলে ফেরাতে চান না শাসক দলের নেতারা। তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দলবদলু গদ্দারদের আর নাই দলে কোনও স্থান। তাই ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে এখন শুধুই হা হুতাশ। এমনকি সেই হা হুতাশ শোনা যাচ্ছে খাস প্রাক্তন বিধায়ক সুনীল সিংয়ের গলাতেও।
 
অর্জুন সিং। ভাটপাড়ার বেতাজ বাদশা। বাম জমানাতেও একাই লড়াই করে গিয়েছেন লালপার্টির বিরুদ্ধে। দল তাঁকে পুরপ্রধান করেছে, করেছে বিধায়কও। কিন্তু তাঁর ইচ্ছা ছিল সাংসদ হওয়ার। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে রাজত্ব করার। কিন্তু সে ইচ্ছা ধাক্কা খেয়েছে বারে বারে তৃণমূলেরই শীর্ষ নেতৃত্বের ইচ্ছাতে। সেই মন কষাকষির জেরেই উনিশের ভোটের মুখে দল ছাড়েন অর্জুন। ভিড়ে যান বিজেপিতে। মোদি হাওয়ায় ভর দিয়ে জিতেও যান ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে। আর তারপরেই ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ওপর নেমে এসেছিল নির্মম অত্যাচার। অনেকেই খুন হন, তার চেয়েও বেশি নেতা কর্মী আক্রান্ত হন। অনেকেই বাধ্য হন ঘরবাড়ি ছাড়তে। ভাঙচুর হয়েছিল হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকের বাড়ি ও দোকান। কার্যত গেরুয়া সন্ত্রাসের মোড়কে পুরো গুজরাত হয়ে গিয়েছিল ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল। সঙ্গে চলেছিল একের পর এক পুরসভা এলাকায় দলবদলের ঘটনা। তাতে যোগ দেন শিল্পাঞ্চলের নির্বাচিত তৃণমূল বিধায়কেরাও। এর পরে পরেই শুরু হয়েছিল ভাটপাড়ার গোষ্ঠী সংঘর্ষ। সেই গোষ্ঠী সংঘর্ষ কেড়ে নিয়েছিল অনেকেরই জীবন।
 
এরপর থেকেই ছবিটা বদলাতে শুরু করে। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে যে সব পুরসভা চলে গিয়েছিল বিজেপির দখলে সেখানে একে একে ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন সেখানকার কাউন্সিলররা। পুরসভাগুলোও ফিরে আসে তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণে। তার জেরেই বেশ বোঝা গিয়েছিল যে উনিশের ভোটে যে ফলই হোক না কেন এলাকায় দাপট একচেটিয়া ভাবে ধরে রাখতে পারেনি বিজেপি। তাই গেরুয়া শিবির বড় মুখে যাই দাবি করুক না কেন, একুশের যুদ্ধে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের ৭টি আসনে যে গেরুয়া শিবিরকে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে সেটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। বাস্তবে সেটাই হয়েছে। তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, মমতা ঝড়ে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে পদ্ম শিবির। ৭টি আসনের মধ্যে কেবলমাত্র ভাটপাড়ায় জয়ী হয়েছে অর্জুন পুত্র তথা বিজেপি। বাকি ৬টিতেই উড়েছে তৃণমূলের বিজয় কেতন। এই ফলাফলের পরে পরেই এবার শিল্পাঞ্চলের তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া নেতাকর্মীরা পা বাড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূলে ফিরে আসতে। গেরুয়া শিবিরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে দলবদলুদের অনেকেই এখন আফশোস করছেন। অনেকে ফিরতে চেয়ে তলে তলে দলের সঙ্গে যোগাযোগও করছেন। কিন্তু নীচুতলার কর্মীরা সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন 'গদ্দারদের ছাড়াই জিতেছি। ওদের মানুষ চায় না। ওদের আর ফেরানো উচিত হবে না। ওদের উচিত শিক্ষা দেওয়ার এটাই মোক্ষম সময়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে আমাদের বিশ্বাস আছে। উনি ঠিক সিদ্ধান্তই নেবেন। দলনেত্রী মানুষের ইচ্ছেকেই মর্যাদা দেবেন।'
 
দলবদলের এই হাওয়া যে খুব একটা ভুয়ো নন তার সব থেকে বড় প্রমাণ নোয়াপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক তথা অর্জুন সিংয়ের আত্মীয় সুনীল সিং। তিনি জানালেন, 'আমার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গেলেও কারও সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়নি। তবে এখনই তৃণমূলে ফেরার চিন্তা করছি না। তাছাড়া আমি ফিরতে চাইলেই তো হবে না। ওদেরও তো নেওয়ার ইচ্ছে থাকতে হবে।' তৃণমূলের তরফে এবার ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে কার্যত সেনাপতির ভূমিকা পালন করেছেন নৈহাটির বিধায়ক তথা পুরপ্রধান পার্থ ভৌমিক। তিনি স্বীকার করেছেন যে দলবদলু নেতারা তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফের ফিরতে চাইছেন। তবে এই বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে নীচুতলার কর্মীদের দাবিও মাথায় রাখা হবে। তাঁর কথায়, 'অনেকেই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন দলে ফিরতে চেয়ে। দলে এ নিয়ে এখনও কোনও কথা হয়নি। নেত্রীকে কর্মীদের আবেগের কথাও বলব। তার পরে দল যা সিদ্ধান্ত নেবে, তা-ই হবে। কিছু গদ্দার ভোটের আগে দলবদল করে দলকে বিপাকে ফেলবে ভেবেছিল। কিন্তু আমাদের কর্মীরা সকলেই জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই দিয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছেন। সেই কর্মীদের কথাও মাথায় রাখা হবে।' কার্যত এই ছবিটাই বলে দিচ্ছে অর্জুন গড়জুড়ে নেমেছে বড়সড় ধ্বস। চব্বিশের যুদ্ধে অনেকটাই পিছিয়ে পড়লেন অর্জুন।

Brand Ad - Poll 2021-01

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 2020-LDC Momo

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Comm Ad 006 TBS

কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা 
জানালেন ফিরহাদ হাকিম

কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা জানালেন ফিরহাদ হাকিম

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আবক্ষ মূর্তীতে মাল্যদান করে বিশেষ শ্রদ্ধা জানালেন পুরপ্রশাসক ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আবক্ষ মূর্তীতে মাল্যদান করে বিশেষ শ্রদ্ধা জানালেন পুরপ্রশাসক ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম

দায়িত্ব নেওয়ার পরেই আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে নতুন মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব

দায়িত্ব নেওয়ার পরেই আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে নতুন মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব

দায়িত্ব নেওয়ার পরেই আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে নতুন মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব

দায়িত্ব নেওয়ার পরেই আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে নতুন মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব

কোভিড হাসপাতালে পরিণত হল ইসলামিয়া হাসপাতাল, উদ্বোধন করলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম

কোভিড হাসপাতালে পরিণত হল ইসলামিয়া হাসপাতাল, উদ্বোধন করলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম

জামিনে মুক্ত হয়েই শুক্রবার রাত থেকেই কাজে নামেন ববি হাকিম, আজ এক হাসপাতালের উদ্বোধনে হাজির রাজ্যের মন্ত্রী ও পুরপ্রশাসক

জামিনে মুক্ত হয়েই শুক্রবার রাত থেকেই কাজে নামেন ববি হাকিম, আজ এক হাসপাতালের উদ্বোধনে হাজির রাজ্যের মন্ত্রী ও পুরপ্রশাসক

করোনার সময় এই অতিরিক্ত করোনা হাসপাতাল সাধারণ মানুষের উপকারে লাগবে বলে জানিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম

করোনার সময় এই অতিরিক্ত করোনা হাসপাতাল সাধারণ মানুষের উপকারে লাগবে বলে জানিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 008 Myra
Comm Ad 2020-WBSEDCL RC