corona 01

কোভিডের আবহে শোকের মুখোমুখি কিভাবে দাঁড়াবেন

Share Link:

কোভিডের আবহে শোকের মুখোমুখি কিভাবে দাঁড়াবেন

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রিয়জনকে হারানোর মানসিক যন্ত্রণা এখন আমাদের ঘিরে রেখেছে। পরিচিত জনের মৃত্যু সংবাদ প্রায় দৈনন্দিন বার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিডিয়া ইত্যাদির মাধ্যমে পাওয়া শোকের খবর ক্রমাগত উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে। শুধুমাত্র পরিবারের মানুষ নয়, হয়তো যার সাথে আপনি কয়েক মাস আগেই বেশ আড্ডায় মেতে ছিলেন, হঠাৎ শুনলেন যে তিনি আর নেই। অথবা যে সমস্ত ভলান্টিয়ার দৈনন্দিন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, তাদেরও প্রতি দিনে কিছু না কিছু শোকের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। খুব কাছের জনের হারানোর যন্ত্রণা থেকে শুরু করে, কিছু মুহূর্তের আলাপের মানুষের মৃত্যুও আমাদের নাড়া দিয়ে যাচ্ছে।

কিছু ভাবনা মনে রেখে দিলে আপনার সাহায্য হতে পারে

১) আপনার প্রতি মুহূর্তে ভাবার দরকার নেই যে আপনাকে খুব স্ট্রং থাকতে হবে অথবা সবসময় মনটা ভালো রাখার চেষ্টা করতে হবে। প্রথমেই একটা কথা মনে রেখে দিন যে এই পরিস্থিতিতে মন খারাপ হওয়া, উদ্বেগ হওয়া, ভালো না লাগা, খুবই স্বাভাবিক এবং এই উদ্বেগ, মন খারাপ হওয়া মানে আপনি দুর্বল, বা আপনার মানসিক সমস্যা আছে তা নয়।

২) প্রিয়জনের কে হারানোর যন্ত্রণা কাকে কিভাবে ছুঁয়ে যায়, সেটা তার একান্তই নিজস্ব উপলব্ধি। একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখা থাকলেও প্রত্যেকেই একদম সেই সময় সীমার মধ্যেই আবার দৈনন্দিন জীবনে ফিরে আসতে পারবে, তা নাও হতে পারে। সুতরাং কাউকে চট করে মানসিক সমস্যা আছে বলে চিহ্নিত করবেন না। সময় দিন, নিজের সাথে নিজের বোঝাপড়া করার জন্য।

৩) আমরা অনেক সময় শোক প্রকাশ করতে গিয়ে কি বলবো বুঝতে না পেরে, এমন অনেক কথা বলে ফেলি যাতে উল্টোদিকের মানুষের সান্তনার থেকে আঘাতই বেশি হয়। যেমন সান্তনা দিতে গিয়ে আমরা অনেক সময় বলি, 'ভগবান যা করেন মঙ্গলের জন্য।' বা 'ওদের মুখ দেখে তোমাকে আরও শক্ত হতে হবে।' 'এত ভেঙে পড়লে চলবে কেন?' 'তুমি তো অনেক শক্ত মনের মানুষ।' ইত্যাদি, ইত্যাদি। এই কথাগুলো সেই মানুষদেরকে আরও আঘাত এনে দিতে পারে। অনেক সময় তারা ভাবতে থাকে যে তাদের আরো শক্ত হওয়া উচিত, বা 'আমার এত বড় ক্ষতি হয়ে গেল, তাতেও উল্টোদিকের মানুষটা বলছেন ভগবান মঙ্গল করেছেন?'... যদি মনে করেন যে কি বলবেন বুঝতে পারছেন না, তাহলে নিরব থাকুন। শুধু বলুন 'আমি আছি'। বিশ্বাস করুন, আপনার এই দুটো শব্দ তাকে অনেকটা আশ্বস্ত করবে।

৪) অনেক সময় আমরা এও বলে থাকি যে 'তুমি কাঁদো, কাঁদছো না কেন?' একজন কিভাবে শোক প্রকাশ করবেন সেটা তার নিজস্ব ব্যক্তিত্বের ধরণ। তাকে সময় দিন। সে চুপ করে থাকতে পারে। কাছের মানুষদের কাছে কাঁদতে পারে। নিজে একা দরজা বন্ধ করে চিৎকার করতে পারে। সেটা তার নিজস্ব ব্যাপার। আপনি বা আমি কেউই বাইরে থেকে নির্ধারণ করতে যাব না যে সে কিভাবে দুঃখ প্রকাশ করবে। তাকে তার মতন ছেড়ে দিন।

৫) আবার এমনও হয়েছে যে একজন পরিবারের খুব কাছের জন মারা গেলে, অন্য জন যদি খুব শক্ত থাকে, তখন আমরা দ্বিধা, দন্দ্ব প্রকাশ করে ভাবি যে, সে কিভাবে এত শক্ত হয়ে থাকতে পারছে। আসলে অনেক সময় মৃত্যু পরবর্তী ধাপগুলোতে যখন একা নিজেকে সবকিছু সামলাতে হয়, তখন 'আবেগ' নামক বস্তুটি অনেক সময় চাপা পড়ে যায় প্রয়োজনীয়তার তলায়। কে কিভাবে তার জীবন সামলাচ্ছে, আমরা বাইরে থেকে নাইবা তার বিচার করলাম!

৬) শোকের সাথে অনেক সময় অপরাধবোধ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে। যেটি আমাদের শোক কাটিয়ে উঠতে দেয় না। মনে হয়, 'আরও কি কিছু করতে পারতাম?' 'কিছু কি খামতি রয়ে গেল?' ইত্যাদি। বিশ্বাস করুন, আপনি আপনার জীবনে, আপনার জায়গায় দাঁড়িয়ে, যতটা পেরেছেন, ততটাই করেছেন। এই অপরাধবোধ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখুন।

৭) খুব দুঃখ হলে সারাদিন মন খারাপ করে বসে থাকায় কোন সমস্যা নেই, এটাও যেমন সত্যি, তেমনই সাথে সাথে, অল্প অল্প করে হলেও দৈনন্দিন জীবনের কাজে জোর করে নিজেকে যুক্ত করার চেষ্টা করুন। দৈনন্দিন জীবনের কাজ মানে আপনাকে সবসময় প্রডাক্টিভ কিছু করতে হবে, এমনটা নাও হতে পারে। পছন্দের কাউকে ফোন করা বা পছন্দের একটি গান শোনাও হতে পারে।

৮) খুব শোকাহত অবস্থার মধ্যে কোনো এক সময় যদি আপনার একটা গান হঠাৎ করে খুব ভালো লেগে যায়, বা কোন মুহূর্তে আপনি যদি খিলখিল করে হেসে ওঠেন, তাহলে অপরাধবোধে ভুগবেন না। ভাববেন না 'এত সহজে যে আমায় ছেড়ে চলে গেল, তাকে আমি কিভাবে ভুলে যাচ্ছি।' মনে রাখবেন আপনার ভালো থাকাটা আপনার অপরাধ নয়। আপনি তার জন্য যতটা সম্ভব ছিল করেছেন, বা অপারক হয়ে করতে পারেননি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনি আপনার বাকি জীবনের সব সময় শোকাহত হয়ে কাটাবেন। স্মৃতি যেমন আমাদের দুঃখ দেয়, ঠিক তেমনই এই স্মৃতি আমাদের আনন্দ ফিরে পেতেও সাহায্য করে।

সর্বোপরি, অনেক সময় আমরা মনে করি যে আমরা অপরিহার্য। 'আমাকে' ছাড়া 'ওর' চলবে না। বা 'ওকে' ছাড়া আমার চলবে কি করে?' তাই এই কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে মৃত্যু ভয়টা নিজের থেকেও অনেক সময় বেশি অন্যের কারণে হয় যে, 'আমার কিছু হয়ে গেলে ওর কি হবে।' কিন্তু বিশ্বাস করুন, মৃত্যু আমাদের জীবন সম্পর্কে দুটি শিক্ষা দিয়ে যায়। প্রথমতঃ নির্লিপ্ত হওয়া। যেখানে মৃত্যু বোঝায় যে, সবাইকে ছাড়া সবার চলে। আসলে বেঁচে থাকার জন্য কাউকে লাগে না। আর দ্বিতীয়তঃ কভিড পরিস্থিতি ছাড়াও আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ছিল, আছে, এবং থাকবে। যেখানে আমরা সামনে দাঁড়িয়েও মৃত্যু আটকাতে পারিনা। ঘরে অক্সিজেন সিলেন্ডার রেখেও আমরা মৃত্যুকে বলতে পারি না, যে তুমি চৌকাঠের এপারে আসবে না। ভবিষ্যৎ আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সুতরাং মুহূর্তে বাঁচুন।

লেখক : পুষ্পিতা মুখার্জি (মনোবিদ ও শিক্ষিকা)

Comm Ad 018 Kalna

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 008 Myra

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Comm Ad 2020-LDC Egg

দায়িত্ব নেওয়ার পরেই আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে নতুন মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব

দায়িত্ব নেওয়ার পরেই আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে নতুন মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব

দায়িত্ব নেওয়ার পরেই আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে নতুন মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব

দায়িত্ব নেওয়ার পরেই আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে নতুন মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব

কোভিড হাসপাতালে পরিণত হল ইসলামিয়া হাসপাতাল, উদ্বোধন করলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম

কোভিড হাসপাতালে পরিণত হল ইসলামিয়া হাসপাতাল, উদ্বোধন করলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম

জামিনে মুক্ত হয়েই শুক্রবার রাত থেকেই কাজে নামেন ববি হাকিম, আজ এক হাসপাতালের উদ্বোধনে হাজির রাজ্যের মন্ত্রী ও পুরপ্রশাসক

জামিনে মুক্ত হয়েই শুক্রবার রাত থেকেই কাজে নামেন ববি হাকিম, আজ এক হাসপাতালের উদ্বোধনে হাজির রাজ্যের মন্ত্রী ও পুরপ্রশাসক

করোনার সময় এই অতিরিক্ত করোনা হাসপাতাল সাধারণ মানুষের উপকারে লাগবে বলে জানিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম

করোনার সময় এই অতিরিক্ত করোনা হাসপাতাল সাধারণ মানুষের উপকারে লাগবে বলে জানিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম

পূর্বস্থলী ১ নং ব্লকের দক্ষিণ শ্রীরামপুর বাজার স্যানিটাইজেশনে নামলেন বিধায়ক স্বপন দেবনাথ

পূর্বস্থলী ১ নং ব্লকের দক্ষিণ শ্রীরামপুর বাজার স্যানিটাইজেশনে নামলেন বিধায়ক স্বপন দেবনাথ

নির্বাচনের সময় থেকেই করোনা সচেতনতা প্রচারে জোর দিয়েছেন বিদায়ী মন্ত্রী

নির্বাচনের সময় থেকেই করোনা সচেতনতা প্রচারে জোর দিয়েছেন বিদায়ী মন্ত্রী

করোনা নিয়ে নিজের বিধানসভার একাধিক এলাকায় সচেতনতা প্রচার চালিয়েছেন স্বপন দেবনাথ

করোনা নিয়ে নিজের বিধানসভার একাধিক এলাকায় সচেতনতা প্রচার চালিয়েছেন স্বপন দেবনাথ

কোভিড বিধি মেনেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬০ তম জন্মবার্ষিকী পালন করলেন স্বপন দেবনাথ

কোভিড বিধি মেনেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬০ তম জন্মবার্ষিকী পালন করলেন স্বপন দেবনাথ

নিজের এলাকাতেই ২৫ শে বৈশাখ উদযাপন করেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী

নিজের এলাকাতেই ২৫ শে বৈশাখ উদযাপন করেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 006 TBS
Comm Ad 2020-LDC Egg