Puja21-Ad02

শিশুদের কিভাবে দায়িত্বশীল করে গড়ে তুলবেন

Share Link:

শিশুদের কিভাবে দায়িত্বশীল করে গড়ে তুলবেন

নিজস্ব প্রতিনিধি: আমরা অনেক সময় ছোটবেলা থেকে শিশুদের মধ্যে কোনো কাজের অভ্যাস গড়ে তুলি না। কিন্তু সে যখন কিশোর-কিশোরী, তখন হঠাৎ করে তাদের কাছ থেকে আমাদের এক্সপেক্টেশন অনেকটা বেড়ে যায়। তারা কেন ঠিক মতো নিজেদের ঘর গুছিয়ে রাখছে না, কেন পরিবারের কিছু কিছু কাজে সাহায্য করছে না, কেন নিজের জিনিসের ঠিক করে খেয়াল রাখছে না, ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু হঠাৎ করে একদিন তার কাছ থেকে এরূপ আশা করলে সে পারবে না। অভ্যাসটা আমাদেরই ছোটবেলা থেকে গড়ে তুলতে হবে।

কিভাবে

১) শিশুদের দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলার পেছনে সবথেকে বড় ভূমিকা হল অংশগ্রহণের। ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন কাজে শিশুকে অংশগ্রহণের সুযোগ দিন। তাহলে ওর দায়িত্ববোধ বাড়বে।

কিভাবে তাকে দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করাবেন...

*ধরুন আপনি বাড়িতে কিছু অতিথি নিমন্ত্রণ করেছেন। আপনার বাচ্চা থেকেও পরামর্শ নিন এবং জানতে চান যে তাদের কি কি খাওয়ানো যেতে পারে।

*ধরুন আপনি তার ঘর গুছাচ্ছেন। তাকে জিজ্ঞেস করুন যে কোনটা কোন জায়গায় রাখলে দেখতে ভালো লাগবে। ঘর গোছানোর বিভিন্ন বিষয় তার কাছ থেকে পরামর্শ নিন।

*ধরুন আপনি তাকে সঙ্গে নিয়ে কোথাও বের হচ্ছেন। সে কি জামা পরবে সেটা তাকে জিজ্ঞেস করুন। আপনি কয়েকটা জামা বেছে তার সামনে ফেলুন। সিদ্ধান্তটা তাকে নিতে দিন। যদি দেখেন যে আপনার পছন্দ হচ্ছেনা, তাহলে আরো কয়েকটা অপশন দিন।

*বাড়ির বাইরে যেমন স্কুলেও এই অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করুন। বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশ গ্রহণ, স্কুলের কোন ফাংশনে অংশগ্রহণ, কোন কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ, শিক্ষক শিক্ষিকা কোন কাজের দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই কাজে অংশগ্রহণ ইত্যাদি।

*দায়িত্ববোধ বাড়া ছাড়াও অংশগ্রহণের ফলে বাচ্চার বিভিন্ন দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। যেমন কথা বলার দক্ষতা, সিদ্ধান্ত নেয়ার দক্ষতা, কোনো কাজের দক্ষতা। বাচ্চাটি নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে শেখে। এর ফলে ওর নিজের সম্পর্কে ধারণা ইতিবাচক থাকে। কোনো কাজে সাফল্যের পর বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়ে। এবং সেটি পরবর্তীকালে কার্যকর ব্যক্তিত্বের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। বাচ্চাটি নিজেকে একটি পরিবারের অংশ হিসেবে ভাবতে শেখে। তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় সেটি ভেবে সে আনন্দ পায়।

২) অংশগ্রহণের সাথে সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনার সন্তানকে ছোটবেলা থেকে পরিবারের বিভিন্ন কাজের মধ্যে যুক্ত করুন।
কাজে যুক্ত করানোর প্রধানত দুটি পদ্ধতি

*প্রথমটি হলো তাকে নির্দেশ দেওয়া যে, 'এটা করো', 'ওটা করো'। ছোট বয়সে বাচ্চারা নির্দেশ দানের মাধ্যমে কাজ করতে আনন্দ পায়। একটা স্বাধীনচেতা ভাব অনুভব করে। কিন্তু একটু বড় হলে তাকে সব সময় নির্দেশনা দেন এই পদ্ধতিটি তার পছন্দ নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমরা দ্বিতীয় পদ্ধতিটি অনুসরণ করতে পারি।

*দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো তাকে কোনো কাজের দায়িত্ব দেওয়া। ছোটবেলা থেকে কাজের দায়িত্ব দিলে তবেই সে বড় হয়ে কোনো দায়িত্ব নিতে শিখবে। তাকে দায়িত্ব দেওয়ার পদ্ধতি হলো, প্রথমে একটি তালিকা তৈরি করুন যে ঘরে কি কি ধরনের কাজের প্রয়োজন হয়। তারপর পরিবারের সকলে একসাথে বসে প্রত্যেকে নিজেদের মধ্যে কাজগুলির দায়িত্ব ভাগ করে নিন। এই কাজের তালিকার মধ্যে কিছু সহজ কাজ রাখবেন। যেমন, জুতো ঠিক করে রাখা, বোতলে জল ভরা, ইত্যাদি ।এরকম কিছু সহজ কাজের দায়িত্ব আপনার সন্তানের ওপরও দিন। এই ভাবে সে যখন দেখবে বাড়ির সবাই কিছু না কিছু কাজের দায়িত্ব নিচ্ছে সেও এগিয়ে এসে দায়িত্ব নিতে শিখবে।

* একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই কাজের দায়িত্বগুলি ঠিকমত পালন করলে তাকে তৎক্ষণাৎ প্রশংসা করুন। এবং সে যেন বুঝতে পারে যে তাকে কেন প্রশংসা করা হচ্ছে। সে যে কাজগুলি ঠিকমতো করছে এবং দায়িত্ব পালন করছে সেটা আপনি ওর সামনে অন্য কারোর কাছে প্রশংসা করে বলুন। এগুলিতে বাচ্চা উৎসাহ ও আগ্রহ পাবে।

* কাজ প্রত্যেকদিন অনেক সময় ঠিকমতো সে নাও করে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে বকাবকি না করে তাকে মনে করিয়ে দিন। এবং সে মনে করানো টা যতটা সম্ভব খেলার ছলে বা নতুন নতুন পদ্ধতিতে করুন। যেমন, 'তোমার আজকে সকালে একটা জিনিস করার কথা ছিল,' বা 'দেখিতো আজকে সবথেকে ভালো করে কে কাজটা করতে পারে', ইত্যাদি।

* আপনারাও আপনাদের কাজের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করার চেষ্টা করুন। বাচ্চাটি যদি দেখে যে ওকে নিজের কাজটা ঠিকমতো করতে হচ্ছে, অথচ বাড়ির সবাই তাদের কাজ ঠিকমতো করছে না। তাহলে ও আর কাজ করতে চাইবে না।

* ধীরে ধীরে কাজের সংখ্যা বাড়ান এবং সহজ কাজ থেকে আরেকটু কঠিনতর কাজের দিকে যান।

এইভাবে ছোটবেলা থেকে অংশগ্রহণ এবং কাজের মধ্য দিয়ে একটি শিশুর মধ্যে দায়িত্ববোধের সঞ্চার করা যেতে পারে। ছোটবেলা থেকে অভ্যস্ত হওয়ার ফলে সে যখন কিশোর কিশোরী স্তরে পৌঁছবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সে নিজের টুকুর এবং পরিবারের অনেক কিছুর দায়িত্ব নিতে শিখে যাবে।

লেখক : পুষ্পিতা মুখার্জি (মনোবিদ ও শিক্ষিকা)

WBLDC Adv 001

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

WBLDC Adv 015

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

WBLDC Adv 009

নিউ ইয়র্কে শুরু হল মেট গালা ২০২১। নিউইয়র্কে এই অনুষ্ঠানে ছিল তারকাদের ভিড়। ফ্যাশন, স্টাইল ও দুর্দান্ত ডিজাউনে সব তারকারা হাজির হয়েছিলেন বিচিত্র সব পোশাক পরে। মেট গালার রেড কার্পেটে হাঁটার জন্য কী পরবেন সেলেবরা, তার প্রস্তুতি চলতে থাকে বছরের পর বছর ধরে। করোনার কারণে গত বছর আসরটি বসেনি। তাই এবার যেন তারার মেলা বসে গিয়েছিল।

নিউ ইয়র্কে শুরু হল মেট গালা ২০২১। নিউইয়র্কে এই অনুষ্ঠানে ছিল তারকাদের ভিড়। ফ্যাশন, স্টাইল ও দুর্দান্ত ডিজাউনে সব তারকারা হাজির হয়েছিলেন বিচিত্র সব পোশাক পরে। মেট গালার রেড কার্পেটে হাঁটার জন্য কী পরবেন সেলেবরা, তার প্রস্তুতি চলতে থাকে বছরের পর বছর ধরে। করোনার কারণে গত বছর আসরটি বসেনি। তাই এবার যেন তারার মেলা বসে গিয়েছিল।

দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন লিল নাসকের রাজকীয় পোশাক। সোনালি সুপারহিরোর পোশাকে হাজির ছিলেন তিনি।

দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন লিল নাসকের রাজকীয় পোশাক। সোনালি সুপারহিরোর পোশাকে হাজির ছিলেন তিনি।

সম্পূর্ণ কালো পোশাক নজর কাড়লেন কিম কারদাশিয়ান।

সম্পূর্ণ কালো পোশাক নজর কাড়লেন কিম কারদাশিয়ান।

রালফ লরেনের তৈরি পশমের পোশাকে ধরা দিয়েছেন জেনিফার লোপেজ। সঙ্গে ছিলেন বেন অ্যাফ্লেক। এ বার সামাজিক অনুষ্ঠানেও দেখা দিলেন যুগলে। মেট গালা ২০২১-এর হোয়াইট কার্পেটে অবশ্য আলাদাই হাঁটলেন জেনিফার ও বেন। ভিতরে গিয়ে মাস্ক পরেই চুম্বনে মগ্ন হলেন দুই তারকা।

রালফ লরেনের তৈরি পশমের পোশাকে ধরা দিয়েছেন জেনিফার লোপেজ। সঙ্গে ছিলেন বেন অ্যাফ্লেক। এ বার সামাজিক অনুষ্ঠানেও দেখা দিলেন যুগলে। মেট গালা ২০২১-এর হোয়াইট কার্পেটে অবশ্য আলাদাই হাঁটলেন জেনিফার ও বেন। ভিতরে গিয়ে মাস্ক পরেই চুম্বনে মগ্ন হলেন দুই তারকা।

সুপার মডেল ইমন চমত্কার পালকযুক্ত স্বর্ণ এবং বেইজ হেডড্রেস এবং স্কার্ট বেছে নিয়েছিল। মাথার পিছনে বসানো সাদা আর সোনালি হেড পিস দেখাল চক্রের মতো।

সুপার মডেল ইমন চমত্কার পালকযুক্ত স্বর্ণ এবং বেইজ হেডড্রেস এবং স্কার্ট বেছে নিয়েছিল। মাথার পিছনে বসানো সাদা আর সোনালি হেড পিস দেখাল চক্রের মতো।

Voting Poll (Ratio)

WBLDC Adv 006
WBLDC Adv 010