WBLDC Adv 001

আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসে জেনে নিন কিছু ভালো থাকার রহস্য।

Share Link:

আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসে জেনে নিন কিছু ভালো থাকার রহস্য।

নিজস্ব প্রতিনিধি: মানসিক দ্বন্দ্ব এবং আবেগ মূলক অস্থিরতার জন্য ব্যক্তি বাস্তবের সম্মুখীন হতে ভয় পায়। বাস্তবকে এড়িয়ে যাওয়ার বা বাস্তবের মুখোমুখি না হয়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। এরই চরম রূপ হলো আত্মহত্যা।

আমরা প্রত্যেকেই নিজেরা কিছু চেষ্টা করতে পারি, যাতে বিষন্নতা মুক্ত থাকা যায়। এর প্রধান চাবিকাঠি হলো সুখ এবং শান্তিতে থাকা। কিছু সাধারন পদ্ধতি আছে, যার মাধ্যমে আমরা আমাদের সুখ এবং শান্তি নিজেরা বজায় রাখতে পারি। তার মধ্যে একটি হলো, আমাদের যা কিছু সুখের স্মৃতি সে গুলোকে কাজে লাগানো এবং যা কিছু দুঃখজনক অভিজ্ঞতা সেগুলো অবজ্ঞা করা। কাজটি সহজ নয়। কিন্তু করতে পারলে আমরা আনন্দ নিয়ে বাঁচতে পারি।

কিভাবে সুখের স্মৃতি গুলিকে কাজে লাগাবেন

দুটি পদ্ধতি মূলত আলোচনা করা যেতে পারে

১) প্রথমে একটি আরামদায়ক চেয়ারে বসুন বা আরামদায়ক জায়গায় বালিশ ছাড়া শুয়ে পড়ুন।

চোখ বন্ধ করুন। গভীরভাবে শ্বাস নিন এবং ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস ছাড়তে থাকুন। 25 থেকে 1 অব্দি, ধীরে ধীরে, মনে মনে গুনুন।

এবার আপনার সবচেয়ে প্রিয় সুখের অভিজ্ঞতাটি, মনে করার চেষ্টা করুন। সেটি বিস্তারিতভাবে মনে করুন। কোথায় ছিলেন, কখন ঘটনাটি ঘটেছিল, কার সাথে ছিলেন এবং বিশেষ করে আপনি কি রকম অনুভব করেছিলেন সেটা খুব মন দিয়ে ভাবুন।

বেশ কিছুক্ষণ ধরে ভাবার পর, এই ঘটনাটিকে নিয়ে একটি রঙিন ছবি মনে মনে তৈরি করুন এবং আপনার বাম চোখের ওপরে সেই ছবিটি রেখে দিন।

ঠিক এইরকম ভাবে আরেকটি তৃপ্তিদায়ক অভিজ্ঞতা মনে মনে ভাবুন। তার অনুভূতিগুলো খুব বিস্তারিত ভাবে উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন। ঘটনাটি কোথায়, কখন, কিভাবে ঘটেছিল এবং আপনার সাথে কে ছিল, সেটাও ভাবুন এবং একই রকমভাবে কল্পনায় আরেকটি রঙিন ছবি তৈরি করে, আপনার ডান চোখের উপরে ছবিটি রেখে দিন।

ঠিক একই রকমভাবে তৃতীয় বার আরেকটি সুখের স্মৃতি কে মনে করুন। এক্ষেত্রে রঙিন ছবিটি দুটো ছবির মধ্যে খানে রেখে দিন।

এবার পুনরায় তিনটি অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে, তিনটি ছবির দিকে তাকিয়ে, সেই অনুভূতি গুলো আবার উপভোগ করুন। এবার বালিশটা টেনে নিয়ে ডান দিকে ফিরে আরাম করে শুন এবং মনে মনে এক থেকে পঁচিশ গুনতে থাকুন।
এই পদ্ধতিটি খুবই আরামদায়ক অনুভূতি দেবে।

২) দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো, সুখের যত ঘটনা আপনার জীবনে ঘটেছে, সেগুলি যেরকম ভাবে মনে পড়ছে, সেরকম ভাবেই একের পর এক আপনার ডাইরিতে লিখতে থাকুন। ঘটনা লেখার সাথে সাথে আপনার অনুভূতি কি রকম ছিল, আপনার কতটা ভালো লেগেছিল বা আপনি কতটা উত্তেজিত ছিলেন, সেটা খুব বিস্তারিতভাবে লিখবেন। যখন মনে পড়বে তখনই লিখতে পারেন। এবং মাঝে মাঝেই বিশেষ করে মন খারাপের সময় গুলোতে, এই সুখের স্মৃতি গুলো পাতা উল্টে দেখবেন এবং বারবার পড়বেন।

এই পদ্ধতিগুলো আমাদের সুখী ও আনন্দময় থাকতে খুব সাহায্য করে থাকে।

দুঃখজনক আবেগ কিভাবে মুছে ফেলবেন

ছোটবেলা থেকে বড় হওয়ার সাথে সাথে আমাদের জীবনে প্রচুর অভিজ্ঞতা জমা হয়। এর মধ্যে কিছু সুখের অভিজ্ঞতা এবং কিছু দুঃখের। দুঃখের অভিজ্ঞতাগুলো ভুলে যেতে পারলে মনে হয় জীবন থেকে অনেকটা ভার নেমে গেছে। আসলে আমাদের কষ্ট দেয় অভিজ্ঞতা গুলির সাথে জুড়ে থাকা আবেগ এবং অনুভূতি। অভিজ্ঞতাগুলো আমরা মুছে দিতে পারবো না। কিন্তু যেটা করতে পারব তা হলো তার সাথে যুক্ত যে আবেগ, যেটা নেতিবাচক, তা কিছুটা হলেও কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।

কি করবেন

একটি খাতা বা ডাইরি নিন।

আপনার সবচেয়ে দুঃখদায়ক অভিজ্ঞতা টি মনে করুন। সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতাটির একটি শিরোনাম দিন।

এবার খাতার প্রথম পাতায় এক নম্বর দিয়ে সেই শিরোনামটি লিখুন।

এবার আরেকটি দুঃখদায়ক অভিজ্ঞতা মনে করুন ।তারও একটি শিরোনাম দিন এবং খাতার পাতায় দু'নম্বর দিয়ে সেই শিরোনামটি ও লিখে ফেলুন।

এইভাবে পর পর আপনার যে দুঃখদায়ক অভিজ্ঞতাগুলো মনে পড়ছে,যেগুলি আপনাকে খুব কষ্ট দিয়েছে, সেগুলির প্রত্যেকটি আস্তে আস্তে মনে করুন এবং প্রত্যেকটির একটি করে শিরোনাম দিয়ে ৩;৪;৫; এইভাবে পরপর শিরোনামগুলি লিখে ফেলুন।

এরপর খাঁচাটি বন্ধ করে রেখে দিন। সেই দিন আর খাতা টি খুলবেন না।

পরেরদিন খাতাটি খুলে প্রথম শিরোনামটি দেখুন এবং সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে পরের পাতায় বিস্তারিত লিখুন। অভিজ্ঞতার সাথে জড়িত আপনার যে কষ্টের অনুভূতি সে গুলি বিস্তারিতভাবে লিখবেন। ঠিক আপনার কেমন মনে হয়েছে, আপনি কি করেছেন ইত্যাদি।

এইভাবে প্রত্যেকদিন একটি করে শিরোনাম অনুযায়ী অভিজ্ঞতাগুলো বিস্তারিত লিখুন। অনুভূতি এবং আবেগ গুলোর ওপর জোর দেবেন এবং সেগুলো খুব বিস্তারিতভাবে লিখবেন।

ধরুন আপনি ১৫ টি দুঃখজনক অভিজ্ঞতা ১৫ দিনে লিখেছেন। এরপর এটি বন্ধ করে এমন একটা জায়গায় রেখে দিন যেটা সকলের হাতের বাইরে। কারণ এর মধ্যে এমন অনেকের কথা থাকতে পারে যাদের হাতে পড়লে অসুবিধা তৈরি হতে পারে।

তিন মাস পরে সে খাতাটি বার করুন। এর মধ্যে কোনো ভাবেই আপনি খাতাটি খুলে দেখবেন না। এবার খাতার পাতাগুলো ছিঁড়ে জ্বালিয়ে ফেলুন। লেখাগুলো কিন্তু কোনোভাবেই আর পড়বেন না।

এই পদ্ধতিটি খুব কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাজ করে। কোনো একটা জিনিস যখন আমাদের মাথার ভেতর ঘুরতে থাকে, তখন সেটার জন্য আমাদের অস্থিরতা বৃদ্ধি পায় । সেটি যখন কোথাও আমরা লিখে ফেলতে পারি, সেটা মাথা থেকে কিছুটা হলেও সরে গিয়ে আমাদের স্বস্তি দেয়। ধরুন, আপনি ঘুমাতে গেছেন, সেই সময় আপনার আগামীকালের একটা কাজের কথা মনে এলো। এবার সেই কাজটি কীভাবে করবেন ইত্যাদি ভাবতে ভাবতে আপনার ঘুমের সমস্যা হতে থাকে। যদি আপনি সেই চিন্তাটা বা পদ্ধতি গুলো উঠে একটা কাগজে লিখে ফেলে, তারপর আবার এসে ঘুমান, তখন শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন। তাই একই ভাবে আমরা যখন আবেগগুলো কোথাও লিখে ফেলি, সেটা ব্রেন আমাদের বার বার বার মনে করায় না। এবং এই তিনমাস সময় ব্রেন এই আবেগগুলো ছাড়াই আস্তে আস্তে বাঁচতে শিখে যায়। কিন্তু একবার লিখে সেটা বারবার পড়লে সেটা স্মৃতিতে থেকে যাবে। তাই আমরা সুখের স্মৃতিগুলো বার বার পড়তে পারি কিন্তু দুঃখের স্মৃতি নয়।

এই এক্সারসাইজ গুলো দৈনন্দিন জীবনে অভ্যাস করলে, অনেকটাই শান্তিপূর্ণভাবে থাকা যায় ও বিষণ্নতা থেকে আমরা মুক্ত হতে পারি।

লেখক : পুষ্পিতা মুখার্জি (মনোবিদ ও শিক্ষিকা)

WBLDC Adv 004

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

WBLDC Adv 014

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

2020 New Ad HDFC 05

নিউ ইয়র্কে শুরু হল মেট গালা ২০২১। নিউইয়র্কে এই অনুষ্ঠানে ছিল তারকাদের ভিড়। ফ্যাশন, স্টাইল ও দুর্দান্ত ডিজাউনে সব তারকারা হাজির হয়েছিলেন বিচিত্র সব পোশাক পরে। মেট গালার রেড কার্পেটে হাঁটার জন্য কী পরবেন সেলেবরা, তার প্রস্তুতি চলতে থাকে বছরের পর বছর ধরে। করোনার কারণে গত বছর আসরটি বসেনি। তাই এবার যেন তারার মেলা বসে গিয়েছিল।

নিউ ইয়র্কে শুরু হল মেট গালা ২০২১। নিউইয়র্কে এই অনুষ্ঠানে ছিল তারকাদের ভিড়। ফ্যাশন, স্টাইল ও দুর্দান্ত ডিজাউনে সব তারকারা হাজির হয়েছিলেন বিচিত্র সব পোশাক পরে। মেট গালার রেড কার্পেটে হাঁটার জন্য কী পরবেন সেলেবরা, তার প্রস্তুতি চলতে থাকে বছরের পর বছর ধরে। করোনার কারণে গত বছর আসরটি বসেনি। তাই এবার যেন তারার মেলা বসে গিয়েছিল।

দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন লিল নাসকের রাজকীয় পোশাক। সোনালি সুপারহিরোর পোশাকে হাজির ছিলেন তিনি।

দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন লিল নাসকের রাজকীয় পোশাক। সোনালি সুপারহিরোর পোশাকে হাজির ছিলেন তিনি।

সম্পূর্ণ কালো পোশাক নজর কাড়লেন কিম কারদাশিয়ান।

সম্পূর্ণ কালো পোশাক নজর কাড়লেন কিম কারদাশিয়ান।

রালফ লরেনের তৈরি পশমের পোশাকে ধরা দিয়েছেন জেনিফার লোপেজ। সঙ্গে ছিলেন বেন অ্যাফ্লেক। এ বার সামাজিক অনুষ্ঠানেও দেখা দিলেন যুগলে। মেট গালা ২০২১-এর হোয়াইট কার্পেটে অবশ্য আলাদাই হাঁটলেন জেনিফার ও বেন। ভিতরে গিয়ে মাস্ক পরেই চুম্বনে মগ্ন হলেন দুই তারকা।

রালফ লরেনের তৈরি পশমের পোশাকে ধরা দিয়েছেন জেনিফার লোপেজ। সঙ্গে ছিলেন বেন অ্যাফ্লেক। এ বার সামাজিক অনুষ্ঠানেও দেখা দিলেন যুগলে। মেট গালা ২০২১-এর হোয়াইট কার্পেটে অবশ্য আলাদাই হাঁটলেন জেনিফার ও বেন। ভিতরে গিয়ে মাস্ক পরেই চুম্বনে মগ্ন হলেন দুই তারকা।

সুপার মডেল ইমন চমত্কার পালকযুক্ত স্বর্ণ এবং বেইজ হেডড্রেস এবং স্কার্ট বেছে নিয়েছিল। মাথার পিছনে বসানো সাদা আর সোনালি হেড পিস দেখাল চক্রের মতো।

সুপার মডেল ইমন চমত্কার পালকযুক্ত স্বর্ণ এবং বেইজ হেডড্রেস এবং স্কার্ট বেছে নিয়েছিল। মাথার পিছনে বসানো সাদা আর সোনালি হেড পিস দেখাল চক্রের মতো।

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 2020-Valentine RC
WBLDC Adv 009