WBLDC Adv 015

না বলতে শিখুন

Share Link:

না বলতে শিখুন

নিজস্ব প্রতিনিধি: Assertiveness, নিজের বক্তব্য শান্ত অথচ দৃঢ়ভাবে বলার দক্ষতা এবং 'না' বলার দক্ষতা। অর্থাৎ প্রয়োজনে কাউকে 'না', এই কথাটা বলতে পারা বা রিফিউজ করতে পারা। আমরা ছোটবেলা থেকে বাচ্চাদের শেখাই, 'আমি যা বলব তোমাকে সেটাই করতে হবে।' 'আমি যা শেখাবো সেটাই শিখতে হবে এবং মানতে হবে।' 'না বলতে পারবে না।' এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, শিক্ষক শিক্ষিকা অনেক সময় বলে থাকেন, 'আমি যা বলবো সেটাই শোনো। সেটাই ঠিক। কখনও অমান্য করবেনা।' ছোটবেলা থেকে বাচ্চারা 'গুরুজনকে অমান্য করতে নেই', এই শিক্ষা পাওয়ার সাথে সাথে যদি এটা ও না শেখে, প্রয়োজনে কিভাবে যুক্তি দিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গিটা দেখানো যায়, বা অসুবিধা হলে কিভাবে 'না' বলা যায়, তাহলে বিভিন্ন অসুবিধায় পরবর্তীকালে পড়তে হতে পারে।

কেন 'না' বলতে পারা প্রয়োজন

১) কর্মক্ষেত্রে যদি আপনার অসুবিধার কথা এবং প্রয়োজনের কথা আপনার বসকে বলতে না পারেন, তাহলে আপনার সমস্যা হতে পারে। হয়তো আপনার বস একাধিক কাজের দায়িত্ব আপনার উপর দিয়ে দিলেন। আপনি 'না' বলতে পারলেন না। বা আপনার কোথায় অসুবিধা সেটা জানাতে পারলেন না। সব ক্ষেত্রে নিজের লিমিটেশন টাও বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন থাকে। না হলে অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে হয়।

২) ঘরেও অনেক সময় অতিরিক্ত কাজের দায়িত্ব আমরা নিয়ে ফেলি, 'না' বলতে পারি না শুধু এই কারণে। নিজেদের অসুবিধা, প্রয়োজন দৃঢ়ভাবে জানাতে না পারার কারণে, দিনের পর দিন অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে করতে অত্যধিক ভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ি, এবং নিজের জন্য সময় বের করতে পারিনা। এইভাবে ধীরে ধীরে মানসিক অসুস্থতা আমরা নিজেরাই ডেকে আনি।

৩) অনেক সময় আমরা বাড়িতে ছোট বাচ্চাদের অতিরিক্ত প্রটেকশন দিয়ে বড় করতে চাই। সব সময় সব কাজে বাঁধা দেই। 'এটা করবে না', 'ওখানে যাবে না', 'এটা ধরবে না,' 'এটা পারবে না', ইত্যাদি। ওদের মধ্যে সব কাজ স্বাধীনভাবে করার একটা তীব্র প্রবণতা থাকে। যেটা ওরা বলতে পারেনা। এই অতিরিক্ত প্রটেকশন এর জন্য ওরা পিছিয়ে যায় এবং ওদের বক্তব্য, প্রয়োজন, ইচ্ছে, ঠিক ভাবে প্রকাশ করতে পারে না। এই ব্যবহার যদি অনেকদিন ধরে স্থায়ী হয়, তাহলে আস্তে আস্তে বাচ্চাটি জেদি হয়ে যেতে পারে এবং 'না' বলতে না পারার জন্য বা নিজের ইচ্ছা প্রকাশ না করতে পারার জন্য, তার ব্যবহারে বিভিন্ন অন্য রকম অসুবিধা দেখা যায়। সে, কথা শুনতে চায়না একগুঁয়ে হয়ে পড়তে পারে এবং পরবর্তীকালে সবেতেই তীব্র প্রতিবাদ করার মত মানসিকতা তৈরি হতে পারে। মা-বাবাকে যদি 'না' বলতে না শেখে, তাহলে মনে মনে কষ্ট পাবে, সব মেনে নেবে, মনে মনে অসুখী হবে এবং পরবর্তীকালে এর থেকে নানান সমস্যা হতে পারে।

৪) কিশোর কিশোরীরা নানা রকম শারীরিক এবং মানসিক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যায়। অনেক সময়ই তারা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি, অসুবিধা এবং প্রয়োজন খুলে বলতে পারেনা। মানসিক রাজ্যের এই প্রভূত পরিবর্তন ও তার সাথে 'না' বলতে না পারার জন্য ,তাদেরও অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এই 'না' বলতে না পারার কারণে অনেক সময় তারা বন্ধুদের থেকে সিগারেট, গাঁজা ইত্যাদি নেশায় আসক্ত হয়ে পড়তে পারে। এছাড়া বাবা মায়ের সাথে ও নানান সমস্যা শুরু হতে পারে।

৫) 'না' বলতে না পারার একটি গভীর প্রভাব পড়ে সম্পর্কে। অনেক সময় কী মনে করবে ভেবে, বা অন্যজনের খারাপ লাগবে ভেবে, আমরা ভালো না লাগা সত্ত্বেও, 'না' বলতে পারি না। আর এই না পারাকে আমাদের প্রচ্ছন্ন সমর্থন মনে করে অপরপক্ষ এগিয়ে যায়। এবং পরবর্তীকালে দুইজনকেই বিভ্রান্তির মধ্যে পড়তে হয়। এবং সম্পর্ক টি অতি তিক্ততা অবধি গড়ায়।

৬) শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এটি সমানভাবে প্রযোজ্য। কিশোর কিশোরীরা অনেক সময় বলে থাকেন যে বিভিন্ন যুক্তির মুখে পড়ে, তারা 'না' বলতে পারে না। যেমন 'না' বললে প্রমাণিত হবে যে, 'আমি বিশ্বাস করিনা' অথবা 'হ্যাঁ' বললে তার দিক থেকে ১০০% প্রতিশ্রুতি পাওয়া যাবে ইত্যাদি। এর ফলে পরবর্তীকালে নানান অবাঞ্ছিত সম্পর্কে তারা জড়িয়ে পড়তে থাকে।

কি করবেন

১) নিজের জন্য চিন্তা করা, নিজের স্বার্থের জন্য ভাবা এবং বলা, জীবন নিজের মতন করে উপভোগ করার মধ্যে কোন অসুবিধা নেই। এটি স্বার্থপরতা নয়। এই কথাগুলো মনে রাখতে হবে।

২) ছোটো ছোটো দৈনন্দিন কাজের মধ্যে দিয়ে অভ্যাস শুরু করতে হবে। নিজের অসুবিধা, প্রয়োজন এবং অমত, শান্ত এবং দৃঢ় ভাবে প্রকাশ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, অন্যের ক্ষতি না করে নিজেকে ভালো রাখার সম্পূর্ণ অধিকার আপনার আছে।

৩) আপনি নিজেকে উপেক্ষা করে, নিজের চাহিদা, মতামত, ইচ্ছে কে গুরুত্ব না দিয়ে কখনই অন্যকে ভালো রাখতে পারবেন না। তাই এটা বুঝে নিন যে, অন্যকে ভালো রাখতে গেলে ও আগে নিজেকে ভালো থাকতে হবে। নিজের জন্য সময় বার করুন। কিছু পছন্দসই কাজ করে নিজের জীবনকে অর্থবহ করে তুলুন।

৪) আপনার অনুভূতি গুলো চিনুন এবং বুঝুন। নিজেকে সম্মান করুন। নিজের উপর আত্মবিশ্বাস বজায় রাখুন। ভরসা রাখুন। যোগাযোগ উন্নত করুন। দৃঢ় হতে শিখুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি চুপ থাকেন কেন? কেন বলতে ভয় বা লজ্জা পান? এই বলতে না পারার পেছনে কারণ টা কি?

৫) 'আমি' শব্দ ব্যবহার করুন। যেমন, 'আপনি খারাপ' এভাবে না বলে বলতে পারেন, 'আমার খারাপ লেগেছে', 'আপনার ভুল হচ্ছে' এ কথা না বলে বলতে পারেন, 'আমার মনে হচ্ছে আপনি আরেকবার ভেবে দেখতে পারেন'।

আমরা অনেক সময় 'লোকে কি ভাববে', 'আমায় নিয়ে কি বলবে', এই ভেবে চুপ থাকি। কিন্তু বিশ্বাস করুন, সবাইকে সন্তুষ্ট করে আপনি বাঁচতে পারবেন না। নিজে নিজের ভরসায় বাঁচুন। নিজের ভালোলাগায় বাঁচুন।

লেখক : পুষ্পিতা মুখার্জি (মনোবিদ ও শিক্ষিকা)

Puja21-Ad02

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 2020-Valentine RC

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

WBLDC Adv 006

নিউ ইয়র্কে শুরু হল মেট গালা ২০২১। নিউইয়র্কে এই অনুষ্ঠানে ছিল তারকাদের ভিড়। ফ্যাশন, স্টাইল ও দুর্দান্ত ডিজাউনে সব তারকারা হাজির হয়েছিলেন বিচিত্র সব পোশাক পরে। মেট গালার রেড কার্পেটে হাঁটার জন্য কী পরবেন সেলেবরা, তার প্রস্তুতি চলতে থাকে বছরের পর বছর ধরে। করোনার কারণে গত বছর আসরটি বসেনি। তাই এবার যেন তারার মেলা বসে গিয়েছিল।

নিউ ইয়র্কে শুরু হল মেট গালা ২০২১। নিউইয়র্কে এই অনুষ্ঠানে ছিল তারকাদের ভিড়। ফ্যাশন, স্টাইল ও দুর্দান্ত ডিজাউনে সব তারকারা হাজির হয়েছিলেন বিচিত্র সব পোশাক পরে। মেট গালার রেড কার্পেটে হাঁটার জন্য কী পরবেন সেলেবরা, তার প্রস্তুতি চলতে থাকে বছরের পর বছর ধরে। করোনার কারণে গত বছর আসরটি বসেনি। তাই এবার যেন তারার মেলা বসে গিয়েছিল।

দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন লিল নাসকের রাজকীয় পোশাক। সোনালি সুপারহিরোর পোশাকে হাজির ছিলেন তিনি।

দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন লিল নাসকের রাজকীয় পোশাক। সোনালি সুপারহিরোর পোশাকে হাজির ছিলেন তিনি।

সম্পূর্ণ কালো পোশাক নজর কাড়লেন কিম কারদাশিয়ান।

সম্পূর্ণ কালো পোশাক নজর কাড়লেন কিম কারদাশিয়ান।

রালফ লরেনের তৈরি পশমের পোশাকে ধরা দিয়েছেন জেনিফার লোপেজ। সঙ্গে ছিলেন বেন অ্যাফ্লেক। এ বার সামাজিক অনুষ্ঠানেও দেখা দিলেন যুগলে। মেট গালা ২০২১-এর হোয়াইট কার্পেটে অবশ্য আলাদাই হাঁটলেন জেনিফার ও বেন। ভিতরে গিয়ে মাস্ক পরেই চুম্বনে মগ্ন হলেন দুই তারকা।

রালফ লরেনের তৈরি পশমের পোশাকে ধরা দিয়েছেন জেনিফার লোপেজ। সঙ্গে ছিলেন বেন অ্যাফ্লেক। এ বার সামাজিক অনুষ্ঠানেও দেখা দিলেন যুগলে। মেট গালা ২০২১-এর হোয়াইট কার্পেটে অবশ্য আলাদাই হাঁটলেন জেনিফার ও বেন। ভিতরে গিয়ে মাস্ক পরেই চুম্বনে মগ্ন হলেন দুই তারকা।

সুপার মডেল ইমন চমত্কার পালকযুক্ত স্বর্ণ এবং বেইজ হেডড্রেস এবং স্কার্ট বেছে নিয়েছিল। মাথার পিছনে বসানো সাদা আর সোনালি হেড পিস দেখাল চক্রের মতো।

সুপার মডেল ইমন চমত্কার পালকযুক্ত স্বর্ণ এবং বেইজ হেডড্রেস এবং স্কার্ট বেছে নিয়েছিল। মাথার পিছনে বসানো সাদা আর সোনালি হেড পিস দেখাল চক্রের মতো।

Voting Poll (Ratio)

WBLDC Adv 015
WBLDC Adv 006