WBLDC Adv 013

কিছু মানুষের, নিষ্ঠুরতা অন্যের কষ্ট দেখে আনন্দ পাওয়ার কারণ কী?

Share Link:

কিছু মানুষের, নিষ্ঠুরতা অন্যের কষ্ট দেখে আনন্দ পাওয়ার কারণ কী?

নিজস্ব প্রতিনিধি: একটি জনপ্রিয় তত্ত্ব 'এমপ্যাথি ইরোশন' বলছে, যে সমস্ত মানুষেরা নিষ্ঠুর আচরণ করে থাকে, তাদের মস্তিষ্কে এমপ্যাথি সংক্রান্ত স্নায়ুগুলো ঠিকমতো ক্রিয়া করে না।তাদের এই, অন্য মানুষের প্রতি হিংসাত্মক বা অবমাননাকর আচরণ, অনেক সময়, কিছু সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে হয় অথবা এটা তাদের একটা প্রবণতায় পরিণত হয়। এটি নির্ভর করে তাদের পরিবেশ এবং উদ্দেশ্যের ওপর। এই তত্ত্ব অনুযায়ী যাদের ওপর নিষ্ঠুর আচরণ বা অত্যাচার করা হচ্ছে, তাদের তারা, মানুষ হিসেবে দেখে না। সমানুভূতি এবং সহানুভূতির মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে এটি তাদের সাহায্য করে। আরও বলা হয়, যখন কোনো চাহিদা পূরণ দুষ্প্রাপ্য মনে হয়, তখন আমাদের সেরেটোনিন নামক নিউরোট্রান্সমিটারের মাত্রা কমে যায় এবং সেটি অন্যকে কষ্ট দেওয়া এবং নিষ্ঠুর আচরণ করতে সাহায্য করে এবং এই আচরণ উপভোগ করতে ও সাহায্য করে। এছাড়া বংশগত উপাদানও গবেষণায় দেখা গেছে।

আমাদের প্রত্যেকের একটা চাহিদা থাকে অন্যের ভালবাসা পাওয়ার। আমরা চাই যাতে অন্যরা আমাকে গ্রহণ করে। কিন্তু এই ধরনের মানুষদের 'সোশ্যাল ডিজায়ারেবিলিটি' খুব কম থাকে। তাদের মধ্যে একটা বেপরোয়া ভাব থাকে, এবং কে তাদেরকে নিয়ে কি বলল এতে তাদের কিছু যায় আসে না। তাদের অনুশোচনা বা ভয় পাওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে।

নিষ্ঠুরতার পেছনে দুই ধরনের ব্যক্তিত্ব কাজ করে। তারা স্যাডিস্ট হতে পারে অথবা সাইকোপ্যাথ। স্যাডিস্ট মানুষেরা অন্যের কষ্টকে স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি মাত্রায় উপলব্ধি করে এবং এটি তারা পূর্ণমাত্রায় উপভোগ করে । অন্যকে কষ্ট দেওয়াটা তারা ততক্ষণ অব্দি চালিয়ে যায় যতক্ষণ অব্দি না তাদের খারাপ লাগে। সাইকোপ্যাথরা শুধুমাত্র অন্যের কষ্ট উপভোগ করার জন্য অন্যকে কষ্ট দেয় না। ওরা তার বদলে কিছু চায় এবং সেই পাওয়াটা যদি অন্যকে কষ্ট দিয়ে হয়, তাহলে তারা তাই করে।

অন্যের ওপর অত্যাচারের মূলে থাকে এক প্রকার কর্তৃত্ব প্রয়োগ করতে চাওয়ার প্রবণতা। ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রতি এই আকাঙ্ক্ষার মূলে থাকে নিরাপত্তার অভাব বোধ। যাকে অত্যাচার করা হচ্ছে, কোথাও মনে করা হতে পারে যে তাকে দমিয়ে না রাখলে সে হয়তো আমার থেকে অনেক বেশি প্রভাবশালী বা উন্নত হয়ে পড়বে। নিজের অবস্থান সম্পর্কে নিরাপত্তার অভাব বোধ এক্ষেত্রে কাজ করতে পারে।

শৈশবে স্নেহ ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হওয়ার দুঃখময় অভিজ্ঞতাও ক্রাইম-এর ভুলে থাকতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণা থেকে দেখা গেছে। শৈশব থেকে নিষ্ঠুরতা ও অবহেলার মধ্যে বড় হওয়া এর একটি কারণ হতে পারে।এই অভিজ্ঞতা বাস্তবিক বা কাল্পনিক হতে পারে। সবটাই যে দেখছে এবং বিশ্লেষণ করছে তার দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভর করে।

মনোবিজ্ঞানী অ্যাডলাট বলেন যে, বাস্তব বা কাল্পনিক হীনমন্যতার জন্য অন্যের ওপর ক্ষমতা প্রকাশ করার একটা চাহিদা দেখা যায়। কোথাও সে নিজেকে কম ভাবছে, তাই অন্যের চোখে জোর করে নিজের বেশিটা প্রমাণ করার জন্য উদ্যত হচ্ছে।

নিষ্ঠুরতা নিঃসন্দেহে মানুষের চরম অবমাননা যেখানে বেঁচে থাকাটাই সবথেকে বড় যুদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়। অসহায় বোধ করা পৃথিবীর সবথেকে বড় যন্ত্রণা। তবে মন আশাবাদী থাকুক। যেই আমরা ঘৃণা করি, সেই আমরা ভালোওবাসি। যেই আমরা হাতে ছুরি ধরি সেই আমরা হাত বাড়িয়ে ও দেই।

লেখক : পুষ্পিতা মুখার্জি (মনোবিদ ও শিক্ষিকা)

Puja21-Ad02

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

WBLDC Adv 015

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

WBLDC Adv 008

নিউ ইয়র্কে শুরু হল মেট গালা ২০২১। নিউইয়র্কে এই অনুষ্ঠানে ছিল তারকাদের ভিড়। ফ্যাশন, স্টাইল ও দুর্দান্ত ডিজাউনে সব তারকারা হাজির হয়েছিলেন বিচিত্র সব পোশাক পরে। মেট গালার রেড কার্পেটে হাঁটার জন্য কী পরবেন সেলেবরা, তার প্রস্তুতি চলতে থাকে বছরের পর বছর ধরে। করোনার কারণে গত বছর আসরটি বসেনি। তাই এবার যেন তারার মেলা বসে গিয়েছিল।

নিউ ইয়র্কে শুরু হল মেট গালা ২০২১। নিউইয়র্কে এই অনুষ্ঠানে ছিল তারকাদের ভিড়। ফ্যাশন, স্টাইল ও দুর্দান্ত ডিজাউনে সব তারকারা হাজির হয়েছিলেন বিচিত্র সব পোশাক পরে। মেট গালার রেড কার্পেটে হাঁটার জন্য কী পরবেন সেলেবরা, তার প্রস্তুতি চলতে থাকে বছরের পর বছর ধরে। করোনার কারণে গত বছর আসরটি বসেনি। তাই এবার যেন তারার মেলা বসে গিয়েছিল।

দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন লিল নাসকের রাজকীয় পোশাক। সোনালি সুপারহিরোর পোশাকে হাজির ছিলেন তিনি।

দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন লিল নাসকের রাজকীয় পোশাক। সোনালি সুপারহিরোর পোশাকে হাজির ছিলেন তিনি।

সম্পূর্ণ কালো পোশাক নজর কাড়লেন কিম কারদাশিয়ান।

সম্পূর্ণ কালো পোশাক নজর কাড়লেন কিম কারদাশিয়ান।

রালফ লরেনের তৈরি পশমের পোশাকে ধরা দিয়েছেন জেনিফার লোপেজ। সঙ্গে ছিলেন বেন অ্যাফ্লেক। এ বার সামাজিক অনুষ্ঠানেও দেখা দিলেন যুগলে। মেট গালা ২০২১-এর হোয়াইট কার্পেটে অবশ্য আলাদাই হাঁটলেন জেনিফার ও বেন। ভিতরে গিয়ে মাস্ক পরেই চুম্বনে মগ্ন হলেন দুই তারকা।

রালফ লরেনের তৈরি পশমের পোশাকে ধরা দিয়েছেন জেনিফার লোপেজ। সঙ্গে ছিলেন বেন অ্যাফ্লেক। এ বার সামাজিক অনুষ্ঠানেও দেখা দিলেন যুগলে। মেট গালা ২০২১-এর হোয়াইট কার্পেটে অবশ্য আলাদাই হাঁটলেন জেনিফার ও বেন। ভিতরে গিয়ে মাস্ক পরেই চুম্বনে মগ্ন হলেন দুই তারকা।

সুপার মডেল ইমন চমত্কার পালকযুক্ত স্বর্ণ এবং বেইজ হেডড্রেস এবং স্কার্ট বেছে নিয়েছিল। মাথার পিছনে বসানো সাদা আর সোনালি হেড পিস দেখাল চক্রের মতো।

সুপার মডেল ইমন চমত্কার পালকযুক্ত স্বর্ণ এবং বেইজ হেডড্রেস এবং স্কার্ট বেছে নিয়েছিল। মাথার পিছনে বসানো সাদা আর সোনালি হেড পিস দেখাল চক্রের মতো।

Voting Poll (Ratio)

WBLDC Adv 015
WBLDC Adv 009