​একই পরিবারের ৬ জন খুন, ধৃত সিরিয়াল কিলার মহিলা

Sera Juti Ad 001

​একই পরিবারের ৬ জন খুন, ধৃত সিরিয়াল কিলার মহিলা

Share Link:

​একই পরিবারের ৬ জন খুন, ধৃত সিরিয়াল কিলার মহিলা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কোঝিকোড় : যদি প্রশ্ন ওঠে এই মুহূর্তে দেশের অন্যতম ভয়ঙ্কর মহিলা সিরিয়াল কিলার কে? সম্ভবত উত্তরটা হবে জলি জোসেফ। স্বামী-সহ নিজের পরিবারের ছ’জনকে খুনের অভিযোগে জলিকে গ্রেফতার করেছে কেরল পুলিশের অপরাধ দমন শাখা। জলিকে জেরা করতে গিয়ে অবাক হয়ে দিয়েছেন রাজ্যের দুঁদে পুলিশ কর্তারা। পুলিশি জেরায় একের পর এক খুনের ঘটনার বিস্তৃত বিবরণ দিয়েছেন জলি।
 
জেরার সঙ্গে যুক্ত এক পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, অসম্ভব শান্ত মেজাজ এই মহিলার। চোখ দু’টি কেমন যেন মায়াবী। খুনের ঘটনাগুলি বলতে গিয়ে একবারও তাঁর গলা কাঁপেনি। একবার তাঁকে জল খেতে হয়নি। কেরলের কোঝিকোড়ের বাসিন্দা গৃহবধূই জলিই বোধহয এখন দেশের অন্যতম ভয়ঙ্কর মহিলা সিরিয়াল কিলার। ২০০২ সাল থেকে ২০১৬।  ১৪ বছরে একের পর এক খুন করেছেন জলি। জেরায় জানা গিয়েছে, আরও কয়েকজন জলির নিশানায় ছিল। তবে ধরা পড়ায় বেশ কয়েকজনের প্রাণ বেঁচে গেল। কোঝিকোড়ের এসপি কেজি সিমন জানিয়েছেন, অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিকল্পনা করেই প্রতিটা খুন করেছে এই মহিলা। খুন করার পর মৃতদেহগুলি এমন ভাবে রাখা হত যাতে দেহগুলি দেখে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলেই মনে হত। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে নিজের অপরাধ লুকিয়ে রেখেছিল জলি। তার হাবভাব বা চালচলনেও প্রতিবেশী বা তার আত্মীয়স্বজনেরা কোনওদিন কোনও অস্বাভাবিকতা দেখতে পায়নি। অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গেই জলি একের পর এক খুন করে গিয়েছে।
 
৪৭ বছরের জলি জেরায় জানিয়েছেন, ২০০২ সালে তিনি প্রথম খুনটা করেছিলেন। তাঁর প্রথম শিকার ছিলেন নিজের শাশুড়ি আন্নাম্মা টমাস। এক রাতে ৫৭ বছর বয়সী আন্নাম্মার আচমকাই মৃত্যু হয়। পুরো বিষযটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যে, দেখে মনে হয়েছিল আন্নাম্মার স্বাভাবিক মৃত্যুই হয়েছে। যে কারণে তদন্ত শুরু হলেও সেটা পরে বন্ধ করে দেয় পুলিশ। শাশুড়ির মৃত্যুর ঠিক ছ’বছর পর ২০০৮ সালে মারা যান আন্নাম্মার স্বামী টম। এক্ষেত্রে জলি বলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই টমের মৃত্যু হয়েছে। এবারও কোনও সন্দেহ হয়নি পুলিশের। এই মুহূর্তে পুলিশ মনে করছে, তদন্তে যাতে কোনও যোগসূত্র না মেলে তার জন্য দু’টি খুনের মাঝে বেশ কিছুটা ব্যবধান বজায় রাখতেন জলি। তবে এত কিছু করেও শেষরক্ষা করতে পারেনি জলি। তৃতীয় খুন ২০১১ সালে। একই ভাবে মৃত্যু হয় তাঁর ছেলে টমাসের। ছেলের মৃত্যুর কিছুদিন পর মারা যান জলির শ্বশুর রয় টমাস। একই বাড়িতে পর পর চারটি মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহ জাগে পুলিশের মনে। মৃত্যুর কারণ জানতে মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায় বিষক্রিয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছে। তবে এই ঘটনা নিয়ে তদন্ত সেভাবে এগোয়নি। কোঝিকোড়ের এক সম্ভ্রান্ত ক্যাথলিক পরিবারের মেয়ে জলি। তাই সাইরো-মালাবার গির্জার অধীনস্থ সমাধিক্ষেত্রে মৃতদের সকলকেই কবর দেওয়া হয়। টমাসের মৃত্যুর দু’বছর পর, ২০১৬ সালে টমাসের খুড়তুতো ভাই শাজু-র স্ত্রী এবং তাঁর দু’বছরের মেয়ে অ্যালফনসার মৃত্যু হয়। এভাবে একের পর এক সদস্যের মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়ে সংশ্লিষ্ট পরিবারটি। উপায় না দেখে তারা এবার পুলিশের স্মরণাপন্ন হয়। শুরু হয় তদন্ত।
 
সাজুর স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে জলির স্বামী আগেই মারা গিয়েছেন। তাই জলি এবার শাজুর সঙ্গে দ্বিতীয় বার বিয়ে সেরে ফেলেন। এর পরই শ্বশুর রয় টমাসের উইল মোতাবেক সমস্ত সম্পত্তির উপর নিজের মালিকানা দাবি করেন জলি।  কিন্তু জলির এই কাজে আপত্তি জানায় তাঁর মেজো দেওর। পথের কাঁটা সরাতে মেজো দেওরকেও খুন করেন জলি। একই পরিবারে পর পর ছ’টি মৃত্যুর রহস্য সমাধান করতে আসরে নামে পুলিশ। কবর খুঁড়ে নিহতদের দেহের ফরেন্সিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়। ফরেন্সিক পরীক্ষায় জানা যায়, মৃত্যুর আগে প্রত্যেকেই কিছু না কিছু খেয়েছিলেন। প্রত্যেকের শরীরেই মেলে সায়ানাইডের অস্তিত্ব।  ফরেন্সিক রিপোর্টে জানানো হয়, ছ’টি খুনই সায়ানাইড খাইয়ে করেছিলেন জলি এবং প্রতিটি খুনের সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। জলি ছাড়াও এই খুনের ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যার মধ্যে জলির বর্তমান স্বামী শাজুও রয়েছেন। জলিকে সায়ানাইড পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগে এমএস ম্যাথু এবং প্রাজিকুমারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ম্যাথু একটি গয়নার দোকানের কর্মী এবং প্রাজিকুমার গয়না তৈরির কারিগর। এই দু’জন খুনের কাজে জলিকে কীভাবে সাহায্য করত সেটা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Brand-Promo-09

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 029 val

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Comm Ad 029 val

ক্রিকেটারদের করওয়াচৌথ

বিয়ের পর প্রথম করওয়াচৌথ পালন করলেন জাতীয় দলের পেস ব্যাটারি ভুবনেশ্বর কুমারও। স্ত্রী নূপূরের সঙ্গে ছবিও পোস্ট করলেন সোশাল মিডিয়ায়।

বিয়ের পর প্রথম করওয়াচৌথ পালন করলেন জাতীয় দলের পেস ব্যাটারি ভুবনেশ্বর কুমারও। স্ত্রী নূপূরের সঙ্গে ছবিও পোস্ট করলেন সোশাল মিডিয়ায়।

বরবরই একটু হটকে তিনি। স্ত্রী এবং চাঁদ দুটোরই ছবি পাশাপাশি রেখে বীরেন্দ্র সহবাগের টুইট,'বহুত গজব। প্রেম আর শ্রদ্ধা দুটোই রইল।'

বরবরই একটু হটকে তিনি। স্ত্রী এবং চাঁদ দুটোরই ছবি পাশাপাশি রেখে বীরেন্দ্র সহবাগের টুইট,'বহুত গজব। প্রেম আর শ্রদ্ধা দুটোই রইল।'

ব্যাট হাতে ময়দানে ব্রিটেনের রাজ-বধূ

সোমবারই পাকিস্তান সফরে গিয়েছেন ব্রিটেনের যুবরাজ উইলিয়াম ও কেট মিডলটন।

সোমবারই পাকিস্তান সফরে গিয়েছেন ব্রিটেনের যুবরাজ উইলিয়াম ও কেট মিডলটন।

পাকিস্তানে পা ফেলা ইস্তক লাইম লাইটে কেট।

পাকিস্তানে পা ফেলা ইস্তক লাইম লাইটে কেট।

যেমন মিষ্টি তাঁর হাসি, তেমন মিষ্টি স্বভাব। মন ছুঁয়েছেন সে দেশের মানুষের।

যেমন মিষ্টি তাঁর হাসি, তেমন মিষ্টি স্বভাব। মন ছুঁয়েছেন সে দেশের মানুষের।

পাকিস্তানে গিয়ে একেবারে অন্য মুডে ধরা দিলেন ব্রিটেনের রাজ পরিবারের বধূ।

পাকিস্তানে গিয়ে একেবারে অন্য মুডে ধরা দিলেন ব্রিটেনের রাজ পরিবারের বধূ।

সাদা সালোয়ার কামিজে ব্যাট হাতে ময়দানে কেট।

সাদা সালোয়ার কামিজে ব্যাট হাতে ময়দানে কেট।

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 029 val
Sera Mukh Ad 02