Comm Ad 018 Kalna

​একই পরিবারের ৬ জন খুন, ধৃত সিরিয়াল কিলার মহিলা

Share Link:

​একই পরিবারের ৬ জন খুন, ধৃত সিরিয়াল কিলার মহিলা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কোঝিকোড় : যদি প্রশ্ন ওঠে এই মুহূর্তে দেশের অন্যতম ভয়ঙ্কর মহিলা সিরিয়াল কিলার কে? সম্ভবত উত্তরটা হবে জলি জোসেফ। স্বামী-সহ নিজের পরিবারের ছ’জনকে খুনের অভিযোগে জলিকে গ্রেফতার করেছে কেরল পুলিশের অপরাধ দমন শাখা। জলিকে জেরা করতে গিয়ে অবাক হয়ে দিয়েছেন রাজ্যের দুঁদে পুলিশ কর্তারা। পুলিশি জেরায় একের পর এক খুনের ঘটনার বিস্তৃত বিবরণ দিয়েছেন জলি।
 
জেরার সঙ্গে যুক্ত এক পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, অসম্ভব শান্ত মেজাজ এই মহিলার। চোখ দু’টি কেমন যেন মায়াবী। খুনের ঘটনাগুলি বলতে গিয়ে একবারও তাঁর গলা কাঁপেনি। একবার তাঁকে জল খেতে হয়নি। কেরলের কোঝিকোড়ের বাসিন্দা গৃহবধূই জলিই বোধহয এখন দেশের অন্যতম ভয়ঙ্কর মহিলা সিরিয়াল কিলার। ২০০২ সাল থেকে ২০১৬।  ১৪ বছরে একের পর এক খুন করেছেন জলি। জেরায় জানা গিয়েছে, আরও কয়েকজন জলির নিশানায় ছিল। তবে ধরা পড়ায় বেশ কয়েকজনের প্রাণ বেঁচে গেল। কোঝিকোড়ের এসপি কেজি সিমন জানিয়েছেন, অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিকল্পনা করেই প্রতিটা খুন করেছে এই মহিলা। খুন করার পর মৃতদেহগুলি এমন ভাবে রাখা হত যাতে দেহগুলি দেখে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলেই মনে হত। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে নিজের অপরাধ লুকিয়ে রেখেছিল জলি। তার হাবভাব বা চালচলনেও প্রতিবেশী বা তার আত্মীয়স্বজনেরা কোনওদিন কোনও অস্বাভাবিকতা দেখতে পায়নি। অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গেই জলি একের পর এক খুন করে গিয়েছে।
 
৪৭ বছরের জলি জেরায় জানিয়েছেন, ২০০২ সালে তিনি প্রথম খুনটা করেছিলেন। তাঁর প্রথম শিকার ছিলেন নিজের শাশুড়ি আন্নাম্মা টমাস। এক রাতে ৫৭ বছর বয়সী আন্নাম্মার আচমকাই মৃত্যু হয়। পুরো বিষযটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যে, দেখে মনে হয়েছিল আন্নাম্মার স্বাভাবিক মৃত্যুই হয়েছে। যে কারণে তদন্ত শুরু হলেও সেটা পরে বন্ধ করে দেয় পুলিশ। শাশুড়ির মৃত্যুর ঠিক ছ’বছর পর ২০০৮ সালে মারা যান আন্নাম্মার স্বামী টম। এক্ষেত্রে জলি বলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই টমের মৃত্যু হয়েছে। এবারও কোনও সন্দেহ হয়নি পুলিশের। এই মুহূর্তে পুলিশ মনে করছে, তদন্তে যাতে কোনও যোগসূত্র না মেলে তার জন্য দু’টি খুনের মাঝে বেশ কিছুটা ব্যবধান বজায় রাখতেন জলি। তবে এত কিছু করেও শেষরক্ষা করতে পারেনি জলি। তৃতীয় খুন ২০১১ সালে। একই ভাবে মৃত্যু হয় তাঁর ছেলে টমাসের। ছেলের মৃত্যুর কিছুদিন পর মারা যান জলির শ্বশুর রয় টমাস। একই বাড়িতে পর পর চারটি মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহ জাগে পুলিশের মনে। মৃত্যুর কারণ জানতে মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায় বিষক্রিয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছে। তবে এই ঘটনা নিয়ে তদন্ত সেভাবে এগোয়নি। কোঝিকোড়ের এক সম্ভ্রান্ত ক্যাথলিক পরিবারের মেয়ে জলি। তাই সাইরো-মালাবার গির্জার অধীনস্থ সমাধিক্ষেত্রে মৃতদের সকলকেই কবর দেওয়া হয়। টমাসের মৃত্যুর দু’বছর পর, ২০১৬ সালে টমাসের খুড়তুতো ভাই শাজু-র স্ত্রী এবং তাঁর দু’বছরের মেয়ে অ্যালফনসার মৃত্যু হয়। এভাবে একের পর এক সদস্যের মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়ে সংশ্লিষ্ট পরিবারটি। উপায় না দেখে তারা এবার পুলিশের স্মরণাপন্ন হয়। শুরু হয় তদন্ত।
 
সাজুর স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে জলির স্বামী আগেই মারা গিয়েছেন। তাই জলি এবার শাজুর সঙ্গে দ্বিতীয় বার বিয়ে সেরে ফেলেন। এর পরই শ্বশুর রয় টমাসের উইল মোতাবেক সমস্ত সম্পত্তির উপর নিজের মালিকানা দাবি করেন জলি।  কিন্তু জলির এই কাজে আপত্তি জানায় তাঁর মেজো দেওর। পথের কাঁটা সরাতে মেজো দেওরকেও খুন করেন জলি। একই পরিবারে পর পর ছ’টি মৃত্যুর রহস্য সমাধান করতে আসরে নামে পুলিশ। কবর খুঁড়ে নিহতদের দেহের ফরেন্সিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়। ফরেন্সিক পরীক্ষায় জানা যায়, মৃত্যুর আগে প্রত্যেকেই কিছু না কিছু খেয়েছিলেন। প্রত্যেকের শরীরেই মেলে সায়ানাইডের অস্তিত্ব।  ফরেন্সিক রিপোর্টে জানানো হয়, ছ’টি খুনই সায়ানাইড খাইয়ে করেছিলেন জলি এবং প্রতিটি খুনের সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। জলি ছাড়াও এই খুনের ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যার মধ্যে জলির বর্তমান স্বামী শাজুও রয়েছেন। জলিকে সায়ানাইড পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগে এমএস ম্যাথু এবং প্রাজিকুমারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ম্যাথু একটি গয়নার দোকানের কর্মী এবং প্রাজিকুমার গয়না তৈরির কারিগর। এই দু’জন খুনের কাজে জলিকে কীভাবে সাহায্য করত সেটা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

2020 New Ad HDFC 04

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 026 BM

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Comm Ad 008 Myra

নবান্নের কন্ট্রোলরুমে মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী।

নবান্নের কন্ট্রোলরুমে মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার সারারাত নবান্নে থেকেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার সারারাত নবান্নে থেকেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব, ডিজি-সহ অন্য কর্তারা।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব, ডিজি-সহ অন্য কর্তারা।

মঙ্গলবারের পর বুধবার বিকেলেও শহরের বিভিন্ন জায়গায় যান মুখ্যমন্ত্রী।

মঙ্গলবারের পর বুধবার বিকেলেও শহরের বিভিন্ন জায়গায় যান মুখ্যমন্ত্রী।

তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা ও মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা ও মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

এদিন খিদিরপুর, পার্ক সার্কাস, বালিগঞ্জ ফাঁড়ির মতো দক্ষিণ কলকাতার একাধিক জায়গায় যান।

এদিন খিদিরপুর, পার্ক সার্কাস, বালিগঞ্জ ফাঁড়ির মতো দক্ষিণ কলকাতার একাধিক জায়গায় যান।

এদিনও স্থানীয়দের লকডাউন মেনে চলার অনুরোধ করেন তিনি।

এদিনও স্থানীয়দের লকডাউন মেনে চলার অনুরোধ করেন তিনি।

এই নিয়ে পরপর দু'দিন শহরের বিভিন্ন জায়গায় গেলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই নিয়ে পরপর দু'দিন শহরের বিভিন্ন জায়গায় গেলেন মুখ্যমন্ত্রী।

তাঁর এই কাজকে তীব্র ভাষায় বিঁধেছেন বিরোধীরা।

তাঁর এই কাজকে তীব্র ভাষায় বিঁধেছেন বিরোধীরা।

পূবস্হলি দক্ষিণ বিধানসভার কালনা ১নং ব্লকের শাখাটি আদিবাসী পাড়ার বাহা পুজোর উৎসব

পূবস্হলি দক্ষিণ বিধানসভার কালনা ১নং ব্লকের শাখাটি আদিবাসী পাড়ার বাহা পুজোর উৎসব

সেখানেই যান মাননীয় মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ

সেখানেই যান মাননীয় মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ

গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। জানতে চান সুবিধা-অসুবিধার কথা

গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। জানতে চান সুবিধা-অসুবিধার কথা

পরে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধনও করেন মন্ত্রী

পরে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধনও করেন মন্ত্রী

জনগণের সঙ্গে বসে অনুষ্ঠানও দেখেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ

জনগণের সঙ্গে বসে অনুষ্ঠানও দেখেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ

প্রায় ঘণ্টাখানেক এই অনুষ্ঠানেই ছিলেন তিনি

প্রায় ঘণ্টাখানেক এই অনুষ্ঠানেই ছিলেন তিনি

#

#

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 006 TBS

Editors Choice

corona 02