Comm Ad 2020-LDC Haringhata Meet

টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার ভাবনা কেন্দ্রের, সংক্রমণের প্রকোপ ঠেকাতে

Share Link:

টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার ভাবনা কেন্দ্রের, সংক্রমণের প্রকোপ ঠেকাতে

নিজস্ব প্রতিনিধি: করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ রীতিমত কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে দেশের স্বাস্থ ও সামাজিক ব্যবস্থায়। এই সংক্রমণ থেকে রেহাই পেতে ভ্যাকসিনেশন বা টিকাকরণ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। বারবার একথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিনের ক্ষেত্রে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজেও নাকি রেহাই নেই। করোনাভাইরাস তার চরিত্র বদলে এতটাই মিউট্যান্ট (জিনের গঠন বিন্যাস বদল বা মিউটেশন) হয়ে গেছে যে এই ভাইরাল স্ট্রেন থেকে রক্ষা পেতে প্রতিষেধকের দ্বিতীয় ডোজের পরে তৃতীয় ডোজও নিতে হতে পারে। এমনটাই পরামর্শ দিলেন মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট ফাইজারের ভাইরোলজিস্টরা।

এবার তার উপর ভিত্তি করে করোনা ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ চালু করার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অরগানাইজেশন সাবজেক্ট এক্সপার্ট কমিটি ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিনের তৃতীয় ডোজ নিয়ে পরীক্ষার জন্য ইতিমধ্য়েই অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে।

বুস্টার ডোজটি দ্বিতীয় ডোজের ৬ মাস পরে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সাবজেক্ট এক্সপার্ট কমিটি ভারত বায়োটেককে জানিয়েছে তাদের তাদের কোভ্যাক্সিনের বুস্টার ডোজের পরীক্ষা শুরু করতে পারে। ভাইরাল ইনফেকশন যেভাবে দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে তা আটকাতে বুস্টার ডোজ কতটা কার্যকরী তা জানতেই এই পরীক্ষা। দ্বিতীয় ফেজের ট্রায়ালেই এই পরীক্ষা শুরু করার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজের ৬ মাস পর ৬ মাইক্রোগ্রাম মাত্রার বুস্টার ডোজের কথা বলা হয়েছে। এবং তার পর যাদের উপর পরীক্ষা চালানো হবে তাদের যেন ক্রমাগত পর্যবেক্ষণে রাখা হয় সেই কথাও বলা হয়েছে। এই মাত্রার ডোজ বেছে নেওয়া হয়েছে কারণ এতে অনাক্রম্যতার ক্ষেত্রে ভালো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে। এই সংস্থাকে পরে প্রাথমিক ও সেকেন্ডারি পর্যায়ের রিপোর্ট সাবমিট করতে হবে।

ভ্যাকসিনের তৃতীয় ডোজ কেন দরকার?
করোনাভাইরাস শুরু তে যেমনটা ছিল এখন তার রূপ অনেকটাই পরিবর্তিত। বিশ্বজুড়েই ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনে মিউটেশন বা জিনের গঠন বিন্যাস খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। মানে মিউটেশন হচ্ছে পর পর, র‍্যাপিড। একবারে ২০০ বার জিনের গঠন বদলাতেও দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। স্পাইক প্রোটিনে অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোডও বদলে যাচ্ছে। তাই ভাইরাল স্ট্রেন দিনে দিনে আরও ছোঁয়াচে, অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। ফাইজারের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্স করে বা জিনের বিন্যাস সাজিয়ে যেমনটা দেখে ভ্যাকসিনের ফর্মুলা তৈরি হয়েছিল, সেই জিনের বিন্যাসই এখন বদলে গেছে। যদিও ভ্যাকসিনে কাজ হবে ঠিকই, কিন্তু সারা বছর সংক্রামক ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে শরীরের ইমিউনিটি সেই পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। এর জন্যই দরকার এই তৃতীয় ডোজ।

ফাইজার সিইও অ্যালবার্ট বোরলা বলছেন, ভ্যাকসিনের তৃতীয় ডোজ হবে ‘বুস্টার’, অর্থাৎ শরীরের ইমিউন পাওয়ার বা রোগ প্রতিরোধ শক্তিকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে। সাধারণত, ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ শরীরে ঢুকে ইমিউন কোষগুলোকে (বি-কোষ ও টি-কোষ) সক্রিয় করার চেষ্টা করে। দেহকোষে ভাইরাস প্রতিরোধী সুরক্ষা বলয় তৈরি করার জন্য ইমিউন কোষগুলোকে অ্যাকটিভ করা শুরু করে। দ্বিতীয় ডোজে এই কাজটাই সম্পূর্ণ হয়। বি-কোষ সক্রিয় হয়ে প্লাজমায় অ্যান্টিবডি তৈরি করে। অন্যদিকে, টি-কোষ বা টি-লিম্ফোসাইট কোষ সক্রিয় সংক্রামক কোষগুলিকে নষ্ট করতে শুরু করে। দুই ডোজের পরে যে অ্যান্টিবডি শরীরে তৈরি হয় তাই ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু এই অ্যান্টিবডি কতদিন শরীরে টিকে থাকছে সেটাই হল আসল প্রশ্ন। বিজ্ঞানীরা কখনও বলছেন, করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তিন মাসের বেশি থাকছে না, ঝপ করে কমে যাচ্ছে। আবার কখনও দাবি করা হচ্ছে, অ্যান্টিবডি কম করেও সাত মাস টিকে থাকছে।

ফাইজারের বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, অ্যান্টিবডির স্থায়িত্বকাল যেহেতু কম তাই দুই ডোজে ভরসা না করে বুস্টার ডোজ দরকার। ভ্যাকসিনেশনের প্রায় এক বছর পরে যদি এই বুস্টার দেওয়া হয়, তাহলে আবারও শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে, আরও কয়েকমাস ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কোভিড রেসপন্স টিমের প্রধান ডেভিড কেসলার বলেছেন, আমেরিকাতে করোনা যেভাবে বাড়ছে তাতে তৃতীয় বুস্টার ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে পারে আমেরিকা।

গত বছর এই সময় থেকে ভারতে দাপট দেখতে শুরু করেছিল করোনা। আর এখন এই মারণ ভাইরাস আবার তার দ্বিতীয় ইনিংস খেলছে। করোনার জেরে দেশে টিকাকরণ শুরু হয়েছে গত ১৬ জানুয়ারি থেকে। তার ফলে দেখা যাচ্ছে এখন পর্যন্ত ৭ কোটি ৫৯ লক্ষ ৭৯ হাজার ৬৫১ জনের টিকাকরণ হয়েছে। তা সত্ত্বেও বাগ মানছে না সংক্রমণ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে ২৪ ঘণ্টায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯৩ হাজার ২৪৯ জন।যা আগের দিনের থেকে কয়েক হাজার বেশি।ফলে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ২৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫০৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতের সংখ্যা ৫১৩ জন। যা গত বছর ডিসেম্বর মাসের রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনামুক্ত হয়েছেন ৬০ হাজার ৪৮ জন। যা দৈনিক আক্রান্তের থেকে অনেকটাই কম। যার ফলে দেশের মোট অ্যাকটিভ কেস একধাক্কায় বেড়ে দাঁড়াল ৬ লক্ষ ৯১ হাজার ৫৯৭ জন। দেশে এখনও পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ১৬ লক্ষ ২৯ হাজার ২৮৯ জন।

Comm AD 12 Myra

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

corona 02

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Comm Ad 2020-WBSEDCL RC

পূর্বস্থলী ১ নং ব্লকের দক্ষিণ শ্রীরামপুর বাজার স্যানিটাইজেশনে নামলেন বিধায়ক স্বপন দেবনাথ

পূর্বস্থলী ১ নং ব্লকের দক্ষিণ শ্রীরামপুর বাজার স্যানিটাইজেশনে নামলেন বিধায়ক স্বপন দেবনাথ

নির্বাচনের সময় থেকেই করোনা সচেতনতা প্রচারে জোর দিয়েছেন বিদায়ী মন্ত্রী

নির্বাচনের সময় থেকেই করোনা সচেতনতা প্রচারে জোর দিয়েছেন বিদায়ী মন্ত্রী

করোনা নিয়ে নিজের বিধানসভার একাধিক এলাকায় সচেতনতা প্রচার চালিয়েছেন স্বপন দেবনাথ

করোনা নিয়ে নিজের বিধানসভার একাধিক এলাকায় সচেতনতা প্রচার চালিয়েছেন স্বপন দেবনাথ

কোভিড বিধি মেনেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬০ তম জন্মবার্ষিকী পালন করলেন স্বপন দেবনাথ

কোভিড বিধি মেনেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬০ তম জন্মবার্ষিকী পালন করলেন স্বপন দেবনাথ

নিজের এলাকাতেই ২৫ শে বৈশাখ উদযাপন করেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী

নিজের এলাকাতেই ২৫ শে বৈশাখ উদযাপন করেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী

স্বামী করণ সিং গ্রুভারের সঙ্গে ছুটি কাটানোর ছবি পোস্ট করেছেন বিপাশা

স্বামী করণ সিং গ্রুভারের সঙ্গে ছুটি কাটানোর ছবি পোস্ট করেছেন বিপাশা

বিকিনিতে নিজের অনুরাগীদের মনে উষ্ণতা ছড়াচ্ছেন বিপাশা বসু

বিকিনিতে নিজের অনুরাগীদের মনে উষ্ণতা ছড়াচ্ছেন বিপাশা বসু

মলদ্বীপে খোশমেজাজে রয়েছেন বিপাশা

মলদ্বীপে খোশমেজাজে রয়েছেন বিপাশা

বিপাশার বিকিনি পরা ছবি দেখে বলাই যায় বয়স সংখ্যামাত্র

বিপাশার বিকিনি পরা ছবি দেখে বলাই যায় বয়স সংখ্যামাত্র

হাতে কাজ না থাকায় দাম্পত্য জীবন উপভোগ করছেন বঙ্গতনয়া

হাতে কাজ না থাকায় দাম্পত্য জীবন উপভোগ করছেন বঙ্গতনয়া

সরকারের হাত ধরে সল্টলেকের বুকে চালু হয়েছে প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্র। যেখানে মিলবে পোষ্যদের চিকিৎসা পরিষেবা।

সরকারের হাত ধরে সল্টলেকের বুকে চালু হয়েছে প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্র। যেখানে মিলবে পোষ্যদের চিকিৎসা পরিষেবা।

সল্টলেকের প্রাণী সম্পদ বিকাশ ভবন প্রাঙ্গণেই এই নতুন প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এদিন উদ্বোধন করেছেন রাজ্যের প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ।

সল্টলেকের প্রাণী সম্পদ বিকাশ ভবন প্রাঙ্গণেই এই নতুন প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এদিন উদ্বোধন করেছেন রাজ্যের প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ ও স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ ও স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু।

এই পশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মিলবে ইসিজি, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, রক্ত সিরামের বিভিন্ন পরীক্ষা, পরজীবী সংক্রমণ সংক্রান্ত খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ, আধুনিক শল্য চিকিৎসার যাবতীয় সুযোগসুবিধা।

এই পশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মিলবে ইসিজি, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, রক্ত সিরামের বিভিন্ন পরীক্ষা, পরজীবী সংক্রমণ সংক্রান্ত খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ, আধুনিক শল্য চিকিৎসার যাবতীয় সুযোগসুবিধা।

 আগামী দিনে এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মিলবে পোষ্যদের চোখ, কান ও দাঁতের পরীক্ষা পরিষেবাও।

আগামী দিনে এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মিলবে পোষ্যদের চোখ, কান ও দাঁতের পরীক্ষা পরিষেবাও।

প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যায়ে এই নবনির্মিত পশু চিকিৎসালয় তৈরি করা হয়েছে।

প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যায়ে এই নবনির্মিত পশু চিকিৎসালয় তৈরি করা হয়েছে।

সারা রাজ্যে প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের অধীনে ১০৪টি রাজ্য প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ৮টি পলিক্লিনিক, ৩৪২টি ব্লক প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ২৭২টি অতিরিক্ত ব্লক প্রাণী স্বাস্থ্য কেন্দ্র চালু থাকলো বাংলার বুকে।

সারা রাজ্যে প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের অধীনে ১০৪টি রাজ্য প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ৮টি পলিক্লিনিক, ৩৪২টি ব্লক প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ২৭২টি অতিরিক্ত ব্লক প্রাণী স্বাস্থ্য কেন্দ্র চালু থাকলো বাংলার বুকে।

সল্টলেক ও আশেপাশের এলাকার বাসিন্দাদের কাছে বিশেষ করে যাদের বাড়িতে ছোট পোষ্য থাকে তাঁদের ক্ষেত্রে অনেকটাই সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে চলেছে এই নবনির্মীত প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি।

সল্টলেক ও আশেপাশের এলাকার বাসিন্দাদের কাছে বিশেষ করে যাদের বাড়িতে ছোট পোষ্য থাকে তাঁদের ক্ষেত্রে অনেকটাই সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে চলেছে এই নবনির্মীত প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি।

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 008 Myra
Comm Ad 006 TBS