এই মুহূর্তে

বাতিল ইন্ডিগো ফ্লাইট, রাতভর ৮০০ কিমি গাড়ি চালিয়ে ছেলেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিলেন বাবা

নিজস্ব প্রতিনিধি: দিন কয়েক ধরেই বিমান বিভ্রাটে ধু়কছেন যাত্রীরা। বিপুল সংখ্যক ইন্ডিগো বিমান বাতিল ও বিলম্ব হওয়ার কারণে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। টাকা তো আছেই, যাঁরা হয়তো কোনও গুরুত্বপূর্ণ কাজে যাওয়ার জন্যে ফ্লাইট বুক করে ছিলেন, তাঁরাও সমস্যায় পড়েছেন। যে কারণে স্বাভাবিকভাবে বিমান বন্দরগুলিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন যাত্রীরা। যদিও এই মূহুর্তে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। ইন্ডিগো বিমান এখন নির্ধারিত সময়ে চলছে। ইন্ডিগো বিমান বাতিল হওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন হরিয়ানার রোহতক জেলার ময়না গ্রামের পাঙ্ঘাল পরিবারও। তাঁদের অনেক বড় সমস্যা হতে পারত, কিন্তু সেটা হয়নি, তাঁদের নিজস্ব বুদ্ধিবলে। কারণ ফ্লাইট বাতিলের পর তাঁরা যে সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন, তা দায়িত্ব, নিষ্ঠা এবং পিতা-পুত্রের সম্পর্কে একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ময়না গ্রামের ওই পরিবারের একজন সদস্য হলেন আশীষ চৌধুরী পাঙ্ঘাল। যিনি একজন তরুণ আন্তর্জাতিক শ্যুটার, পাশাপাশি তিনি ইন্দোরের বিখ্যাত ডালি স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। ৮ ডিসেম্বর থেকে তাঁর প্রাক-বোর্ড পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষার আগে কয়েক দিনের জন্যে তিনি ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় স্কুলে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আশীষকে সম্মানিত করার কথা ছিল। তাছাড়া, তার ৮ ডিসেম্বর থেকে তাঁর পরীক্ষাও শুরু হওয়ার কথা ছিল। তাই উভয় ইভেন্টের জন্য আশীষ যাতে সময়মতো তাঁর স্কুলে পৌঁছতে পারেন, সেজন্য তিনি দিল্লি থেকে ইন্দোরের একটি ইন্ডিগো ফ্লাইট বুক করেছিলেন। এরপর ৬ ডিসেম্বর, আশীষের বাবা, ক্রীড়া প্রবর্তক, আইনজীবী রাজনারায়ণ পাঙ্ঘাল, তাঁকে নিয়ে দিল্লি বিমানবন্দরে আসেন। কিন্তু দিল্লি বিমানবন্দরে এসে জানতে পারেন, তাঁদের ফ্লাইট ক্যান্সেল।

এদিকে আশীষের পরীক্ষা সামনে, তাঁকে যে ভাবেই হোক স্কুলে পৌঁছতে হবে! এমন পরিস্থিতিতে আশীষের বাবা রাজনারায়ণ পাঙ্ঘাল আর বিলম্ব না করে একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, ফ্লাইট বা ট্রেন না পেয়েও তিনি তাঁর ছেলেকে সময়মতো ইন্দোরে পৌঁছে দেবেন। কিন্তু কীভাবে? কারণ দিল্লি থেকে ইন্দোরের দূরত্ব প্রায় ৮০০ কিলোমিটার। এই যাত্রায় সাধারণত ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা সময় লাগে। তবে মনে সাহস নিয়ে আশীষের বাবা তাঁকে নিয়ে গাড়িতেই ছুটলেন। সেই সন্ধ্যায় গাড়ি চালানো শুরু করেন, এবং সারা রাত একটানা গাড়ি চালিয়ে পরের দিন সকালে, তিনি আশীষকে নিয়ে সময়মতো ইন্দোরে পৌঁছে দেন। এই ঘটনা আরও একবার পিতা-পুত্রের ভালবাসার উদাহরণ হয়ে উঠল।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

বুলেট ট্রেনের প্লেট পড়ে বাবা–মেয়ের মৃত্যু, ডবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যে আলোড়ন তুঙ্গে

উইকেন্ডে ঘোরার দারুণ সুযোগ করে দিল ভারতীয় রেল! যাত্রা শুরু শিয়ালদহ-বারাণসী অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের

ভিআইপি ট্রেনে ‘অখাদ্য’ খাবার, বন্দে ভারতের পরিষেবা নিয়ে যাত্রীদের হুলুস্থূল কাণ্ড, ভাইরাল ভিডিও

বাজারে দাঁড়িয়েই গুলিবিদ্ধ! কানাডায় খুন ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবক

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত প্রখ্যাত ওড়িয়া সুরকার অভিজিৎ মজুমদার

হিন্দু নিধন যজ্ঞের হোতাদের জামাই আপ্যায়ন ঢাকার ভারতীয় দূতের, ক্ষোভে ফুঁসছেন মুক্তিযোদ্ধারা

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ