Comm Ad 018 Kalna

বেলা বোসের বয়স বাড়ল আরও পঁচিশ, কিন্তু কোথায় গেলেন সেই প্রেমিক?

Share Link:

বেলা বোসের বয়স বাড়ল আরও পঁচিশ, কিন্তু কোথায় গেলেন সেই প্রেমিক?

সবুজ মুখোপাধ্যায়: তখনও ঘরে-ঘরে ল্যান্ড ফোন আসেনি৷ মোবাইল তো দূরঅস্ত৷ ফোন করতে গেলে ভরসা সেই মান্ধাতা আমলের কয়েন-ফেলা ফোনের বুথ৷ আর সেইসঙ্গে কিছু এসটিডি বুথ৷ সেখানে অবশ্য খরচ একটু বেশি ছিল৷  তা, প্রেমিকাই বলুন বা বান্ধবী, ফোনে দীর্ঘক্ষণ প্রেমালাপের ব্যাপার তখন মধ্যবিত্ত পরিবারে ছিল না বললেই চলে৷ তবে হ্যাঁ, আজ কোথায় আসবে, এটুকু বলার জন্য তখন বড় ভরসা ছিল ওই সেই পাবলিক বুথ৷ নব্বই দশকের মাঝামাঝি ওই পাবলিক টেলিফোনে গিয়েই বেলা বোসকে ফোন করেন তাঁর প্রেমিক৷ জানাতে চান, শেষ অবধি একটা চাকরি তিনি জোটাতে পেরেছেন৷ আর তাই সম্বন্ধটা যেন ভেস্তে দেন বেলা নিজেই৷ কিন্তু সেই রং-নাম্বারের যুগে বারবার সেই লাইন কেটে যায়৷ প্রশ্ন থেকে যায়, বেকার  প্রেমিকের চাকরি পাওয়ার খবর কি শেষ অবধি পৌঁছোয় বেলা বোসের কানে?

ভাইরাল শব্দটি তখন মিডিয়াতে ব্যবহার করা হত না বললেই চলে৷  রোগের বেলাতেই কেবল ব্যবহার করা হত শব্দটা৷ যদি তখন সোশাল মিডিয়া থাকত, তা তাহলে নির্ঘাত ওই  ভাইরাল  শব্দটিই ব্যবহার করা হত বেলা বোসের গান নিয়ে৷  টু ফোর ফোর ওয়ান ওয়ান থ্রি নাইন, পুরো নম্বরটাই তখন আজকের পরিভাষায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল৷ মনে আছে, ওই নম্বরটি ছিল কলকাতার একটি হিন্দি দৈনিকের৷ সেই দৈনিকের কার্যালয়ে এত ফোন আসে যে খোদ সম্পাদক মশাইয়ের একেবারে পাগল-পাগল অবস্থা হয়ে গিয়েছিল৷  নেহাত নির্বিবাদী মানুষ ছিলেন তিনি৷ তাই কোর্ট কাছারি অবধি গড়ায়নি বিষয়টা৷

আজ থেকে ঠিক পঁচিশ বছর আগের কথা৷  বেশ মনে আছে, দূরদর্শনের একটি অনুষ্ঠানে অঞ্জন দত্ত আর তাঁর ছোট্ট ছেলে নীল দত্ত একটি অনুষ্ঠান করেন৷ অক্টোবরের দু-তারিখ ছিল খুব সম্ভবত৷ ঠিক তার পরেই বেরোয় অঞ্জনের  প্রথম বেসিক অ্যালবাম শুনতে কি চাও তুমি...৷ কী নস্টালজিক গান ছিল!

দু-বছর আগে সুমনের তোমাকে চাই প্রকাশিত হয়েছে৷ নচিকেতার প্রথম বেসিক অ্যালবামও প্রকাশিত হয়েছে তার আগের বছর৷ এরপরই অঞ্জন দত্ত-র ডেবিউ৷  ক্যাসেটে তখন দুটো করে পিঠ থাকত৷ আমরা বলতাম, এ-পিঠ আর ও-পিঠ৷ ও-পিঠের সবচেয়ে শেষে ছিল বেলা বোসের গান৷ কী জনপ্রিয়ই-না হয়েছিল সেই গান৷ তবে অন্য গানগুলোও কিছু কম জনপ্রিয় হয়নি৷ তোমার কথা শুনতে ভাল লাগে, আকাশভরা সূর্যতারা, বাপি আর মা গেছে সিনেমা... একের-পর-এক গান তখন লোকের মুখে মুখে৷

১৯৯৪ সালের এমনই এক শরতে চাকরি না-পাওয়া এক বেকার যুবকের আর্তি শোনা গিয়েছিল অঞ্জন দত্তের গলায়৷ সামনে পুজো৷ সদ্য চাকরি পেয়ে এক যুবক তাঁর প্রেমিকাকে বলছেন, সম্বন্ধটা এইবারে তুমি ভেস্তে দিতে পার, মাকে বলে দাও বিয়ে তুমি করছো না

এখনও মনে আছে, কীভাবে এগারোশো টাকা মাস-মাইনের চাকরি পেয়ে প্রেমিকার সঙ্গে কসবায় (তখন অত পশ হয়ে ওঠেনি, বরং একেবারে ছা-পোষা মধ্যবিত্তের জায়গা ছিল) নীল দেওযালের ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছিলেন এক যুবক৷ আজকের প্রজন্ম কুড়ি হাজার স্মার্ট ফোন নিয়েও এই সাহস দেখাতে পারবে কিনা সন্দেহ!

দেখতে –দেখতে পঁচিশ বছর কেটে গেল৷ বেলা বোসের আরও পঁচিশ বছর বয়স বাড়ল৷ দেখতে-দেখতে তরুণ অঞ্জন দত্তও প্রৌঢ় হয়ে উঠলেন৷ ছোট্ট নীল বেশ প্রাপ্তবয়স্ত হয়ে উঠল৷

এই দু-দশকে এক-আলোকবর্ষ সমান পরিবর্তন এল বাঙালি সমাজে৷ প্রথমে ঘরে-ঘরে এল ল্যান্ডফোন৷ তারপর মোবাইল ফোন৷ আর তারও পরে একে-একে ইন্টারনেট, স্মার্ট ফোন, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, স্কাইপ...৷

পাবলিক টেলিফোনে গিয়ে ফোন করা সেই ঝক্কি আর আর কারোকে পোহাতে হয় না৷ স্মার্ট ফোন আর সোশাল মিডিয়ার যুগে প্রেম এখন অনেক বেশি অ্যাকসেসবল হয়ে গিয়েছে৷

তবে, স্টার্টিংয়েই ওরা এগারোশো দেবে তিনমাস পরে কনফার্ম, এমন দুঃসাহস বুকে নিয়ে প্রেমকে বাঁচিয়ে রাখতে দুঃসাহস আর কেউ দেখাতে পারবে কি?

corona 01

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 023 MZP

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Comm Ad 008 Myra

নবান্নের কন্ট্রোলরুমে মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী।

নবান্নের কন্ট্রোলরুমে মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার সারারাত নবান্নে থেকেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার সারারাত নবান্নে থেকেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব, ডিজি-সহ অন্য কর্তারা।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব, ডিজি-সহ অন্য কর্তারা।

মঙ্গলবারের পর বুধবার বিকেলেও শহরের বিভিন্ন জায়গায় যান মুখ্যমন্ত্রী।

মঙ্গলবারের পর বুধবার বিকেলেও শহরের বিভিন্ন জায়গায় যান মুখ্যমন্ত্রী।

তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা ও মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা ও মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

এদিন খিদিরপুর, পার্ক সার্কাস, বালিগঞ্জ ফাঁড়ির মতো দক্ষিণ কলকাতার একাধিক জায়গায় যান।

এদিন খিদিরপুর, পার্ক সার্কাস, বালিগঞ্জ ফাঁড়ির মতো দক্ষিণ কলকাতার একাধিক জায়গায় যান।

এদিনও স্থানীয়দের লকডাউন মেনে চলার অনুরোধ করেন তিনি।

এদিনও স্থানীয়দের লকডাউন মেনে চলার অনুরোধ করেন তিনি।

এই নিয়ে পরপর দু'দিন শহরের বিভিন্ন জায়গায় গেলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই নিয়ে পরপর দু'দিন শহরের বিভিন্ন জায়গায় গেলেন মুখ্যমন্ত্রী।

তাঁর এই কাজকে তীব্র ভাষায় বিঁধেছেন বিরোধীরা।

তাঁর এই কাজকে তীব্র ভাষায় বিঁধেছেন বিরোধীরা।

পূবস্হলি দক্ষিণ বিধানসভার কালনা ১নং ব্লকের শাখাটি আদিবাসী পাড়ার বাহা পুজোর উৎসব

পূবস্হলি দক্ষিণ বিধানসভার কালনা ১নং ব্লকের শাখাটি আদিবাসী পাড়ার বাহা পুজোর উৎসব

সেখানেই যান মাননীয় মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ

সেখানেই যান মাননীয় মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ

গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। জানতে চান সুবিধা-অসুবিধার কথা

গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। জানতে চান সুবিধা-অসুবিধার কথা

পরে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধনও করেন মন্ত্রী

পরে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধনও করেন মন্ত্রী

জনগণের সঙ্গে বসে অনুষ্ঠানও দেখেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ

জনগণের সঙ্গে বসে অনুষ্ঠানও দেখেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ

প্রায় ঘণ্টাখানেক এই অনুষ্ঠানেই ছিলেন তিনি

প্রায় ঘণ্টাখানেক এই অনুষ্ঠানেই ছিলেন তিনি

#

#

Voting Poll (Ratio)

corona 02

Editors Choice

2020 New Ad HDFC 05