Comm Ad 018 Kalna

বিবেকানন্দের ছোটবেলা, তখন বাসি রুটি আর কুমড়োর ছক্কাই ব্রেকফাস্টে লা-জবাব

Share Link:

বিবেকানন্দের ছোটবেলা, তখন বাসি রুটি আর কুমড়োর ছক্কাই ব্রেকফাস্টে লা-জবাব

সবুজ মুখোপাধ্যায়: এখন যেমন ব্রেকফাস্টে ওটস বা কর্নফ্লেকসের চল হয়েছে, তখন ছিল বাসিরুটির দিন৷  এখনও কেউকেউ বাসি রুটি খান বটে, তবে তা নেহাতই ব্যতিক্রম৷ তখন বলতে উনিশ শতকের কলকাতার কথা বলছি৷ যে সময়ে বিবেকানন্দর ছোটবেলা কেটেছিল৷ নরেন্দ্রনাথরা ছিলেন তিনভাই৷ একভাই ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত কিংবদন্তি কমিউনিস্ট নেতা আর অন্যভাই মহেন্দ্রনাথ দত্ত আক্ষরিক অর্থেই এক বিদ্বজ্জন৷  বিবেকানন্দের অনুজ, মহেন্দ্রনাথ ১৮৯৬তে আইন পড়তে বিলেতে পাড়ি দেন৷ কিন্তু সেখানে গিয়ে আইন ছেড়ে তিনি ইতিহাস, দর্শন, ধর্ম, সাহিত্য, বিজ্ঞান এমনকি শিল্প-স্থাপত্য নিয়ে পড়তে শুরু করেন৷ দেশ-বিদেশের বহু জায়গা তিনি পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়িয়েছেন৷ তাঁর লেখা গবেষণামূলক বইয়ের সংখ্যা কমপক্ষে ৯০! আর, তাঁর লেখা বইয়ের তালিকায় কম গুরুত্বপূর্ণ নয় ১৯২৯ সালে প্রকাশিত কলিকাতার পুরাতন কাহিনী ও প্রথা ৷ যা তাঁর ছোটবেলার দেখা উনিশ শতকের কলকাতা৷

তাঁর এই বইয়ে ভূপেন্দ্রনাথ এক জায়গায় লিখছেন, সকালে আমরা বাসি রুটি ও কুমড়ার ছক্কা খাইতাম৷ কুমড়ার ছক্কা বাসি হইলে খাইতে বড় ভাল লাগিত৷ বিবেকানন্দর ছোটবেলায়, তাঁদের বাড়িতে  ব্রেকফাস্টের এমন ছিরি দেখলে আজকের উন্নততর কলকাতার মধ্যবিত্তরা একটু বিস্মিত হবেনই৷ আর চেয়ে বেশি বিস্মিত হবে পিৎজা-বার্গার অধ্যুষিত জেনারেশন ওয়াইয়ের ছেলেমেয়েরা৷ আসলে, এই কয়েকদশক আগেও কিন্তু কুমরোর ছক্কার টিআরপি ছিল হাই৷ ছোটবেলায় বাবার মুখে শুনেছি, পিসিদের বিয়েতে নাকি লুচি আর কুমরোর ছক্কা ছিল মাস্ট৷ কিন্তু পরের দিকে মধ্যবিত্ত যখন ধীরে-ধীরে বেবি-নানের দিকে মোড় নিল, তার কিছুদিন আগে থেকেই বন্ধ হয়ে গেল লুচি, কুমরোর ছক্কার ছোলা-দেওয়া কম্বিনেশন৷

শুধু কুমরোর ছক্কাই নয়, ভূপেন্দ্রনাথের লেখায় সেকালে খাওয়াদাওয়ার অদ্ভুতরকম ধরনধারণের  চমৎকার এক ছবি ফুটে উঠেছে৷ যেমন, ঘি তখন টাকায় পাঁচ পো বা দেড় সের ছিল, তাই তরকারিতে একটু ঘি পড়িত এবং গিন্নিরাও ভাল রাঁধিত৷ রুটি না-থাকিলে মুড়ি-মুড়কি-জল খাইতাম৷ এক পয়সার মুড়ি একগাদা ছিল৷ কিছু আমরা খাইতাম আর কিছু কাককে দিতাম৷ এক পয়সার মুড়ি ছোট ছেলে খাইতে পারিত না৷ তখন এত খাবারের দোকান ছিল না, সিমলা বাজারে একখানি দোকান ও বলরাম দে স্ট্রিটে একখানি৷ জিভে গজা, ছাতুর গুটকে গজা, কুচো গজা, চৌকা গজা, গুটকে কচুরি ও জিলাপি ছিল তখনকার খাবার৷

ভাবলে কীরমকম অবাক লাগে না? কত সামান্য আয়োজন তখনকার শৈশবের স্মৃতিতে৷ বলে রাখা ভাল, তখনও কিন্তু কলকাতায় সেভাবে মিষ্টির চল শুরু হয়নি৷ হয়তো ভোলা ময়রার হাত ধরে রসগোল্লা আবিষ্কার হয়ে গিয়েছে৷ হয়তো-বা ভীমচন্দ্র নাগের বাবাও হুগলি থেকে দোকান গুটিয়ে কলকাতায় বউবাজারে আসার কথা ভাবছেন৷ কিন্তু, আজকের মতো পাড়ায় পাড়ায় একটা করে অন্নপূর্ণা  বা জগদ্ধাত্রী  মিষ্টান্ন ভাণ্ডার তৈরি হয়নি৷ আর বেকড রসগোল্লা বা মেশিনে তৈরি বলরাম মল্লিকের সন্দেশ তো তখন চাঁদে যাওয়ার চেয়েও কষ্টকল্পনা ছিল৷

শুধু মিষ্টিই নয়৷ বলাই বাহুল্য, তখন কিন্তু ফাস্টফুড নামক ভয়ানক জিনিসটির চলও শুরু হয়নি কলকাতায়৷  পেস্ট্রি-প্যাটিসের কথা তখন ছেলেমেয়েরা বইয়ের পাতাতেও পড়েছে কিনা সন্দেহ৷ যদিও, এই সময়ের আশেপাশেই, সাহেবরা কিন্তু বাঙালি ময়রার তৈরি মিষ্টি খেয়ে ফিদা হতে শুরু করেছে৷ শোনা গিয়েছে, লর্ড ক্যানিংয়ের অনুরোধে বিশেষ এক ধরনের মিষ্টি বানানো হয়েছে তাঁর স্ত্রীর জন্য৷ যার নাম দেওয়া হয়েছে লেডিকেনি৷ ভীমনাগের সন্দেশ খেয়ে বিদেশি ঘড়ি কোম্পানির মালিক ফিদা হয়ে গিয়ে লন্ডন থেকে বাংলায় লেখা দেওয়াল ঘড়ি উপহার দিয়েছেন ভীমকে(যে-ঘড়ি আজও রয়ে গিয়েছে সেখানে)৷

তা এমতাবস্থায়, খাওয়াদাওয়ার ধরনধারণ ছিল বেশ অদ্ভুত৷ ভূপেন্দ্রনাথের  শৈশবচারণায় তাই দেখতে পাই, পরে একজন সাধু সিমলা বাজারে আসেন, বেশ স্থূলকায় ব্যক্তি, গেরুয়া পরা৷ তিনি কাঁসারিপাড়া এবং আরও দু-এক জায়গায় খাবারের দোকান করেন৷ তিনি হিন্দুস্থানিভাবে নানা খাবার তৈয়ারি করিতেন এবং অপরকে বিক্রয় করিতে দিয়া রাস্তায় ফুটপাথে মৃগচর্ম পাতিয়া একতারা লইয়া ভজন করিতেন৷ এইজন্য সকলে তাঁহার দোকানকে ‘পরমহংসের দোকান’ বলিত৷ তিনি সিমলাতে নানাপ্রকার মিষ্টান্নের প্রচলন করিলেন৷

এ যেন এক অ-লৌকিক কলকাতা৷ তাই না?

 

Comm Ad 005 TBS

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 004 LDC

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Comm Ad 006 TBS

৩১তম জন্মদিনটা ভুটানে প্রকৃতির কোলে কাটিয়েছেন বিরাট কোহলি। সঙ্গে অবশ্যই ছিলেন স্ত্রী অনুষ্কা শর্মা।

৩১তম জন্মদিনটা ভুটানে প্রকৃতির কোলে কাটিয়েছেন বিরাট কোহলি। সঙ্গে অবশ্যই ছিলেন স্ত্রী অনুষ্কা শর্মা।

ভুটানে ট্রেকিংয়ে গিয়ে গরু-বাছুরদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা গেল বিরুষ্কাকে।

ভুটানে ট্রেকিংয়ে গিয়ে গরু-বাছুরদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা গেল বিরুষ্কাকে।

ভেগান বিরাটের পশুপ্রেম নিয়ে আলাদা করে বলার কিছু নেই। প্রাণীজাত কোনও খাবার খান না তিনি। পথ কুকুরকে কোলে তুলে পোজও দিলেন।

ভেগান বিরাটের পশুপ্রেম নিয়ে আলাদা করে বলার কিছু নেই। প্রাণীজাত কোনও খাবার খান না তিনি। পথ কুকুরকে কোলে তুলে পোজও দিলেন।

পাহাড়ি পশুকে কোলে তুলে নিলেন অনুষ্কাও। ফ্রেমবন্দি করলেন করলেন বিরাট।

পাহাড়ি পশুকে কোলে তুলে নিলেন অনুষ্কাও। ফ্রেমবন্দি করলেন করলেন বিরাট।

ভুটানের নৈসর্গিক দৃশ্যের সঙ্গে পশুদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটিয়েছেন বিরুষ্কা।

ভুটানের নৈসর্গিক দৃশ্যের সঙ্গে পশুদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটিয়েছেন বিরুষ্কা।

বুধবার চন্দননগরে একগুচ্ছ জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বুধবার চন্দননগরে একগুচ্ছ জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, 'চন্দনগরের কার্নিভ্যাল দেখেই রাজ্যের পুজো কার্নিভ্যাল শুরুর চিন্তাভাবনা।'

তিনি বলেন, 'চন্দনগরের কার্নিভ্যাল দেখেই রাজ্যের পুজো কার্নিভ্যাল শুরুর চিন্তাভাবনা।'

প্রতি বছরই নিয়ম করে চন্দননগরের বেশ কিছু পুজোতে যান মুখ্যমন্ত্রী। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

প্রতি বছরই নিয়ম করে চন্দননগরের বেশ কিছু পুজোতে যান মুখ্যমন্ত্রী। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

ইন্দ্রনীল সেন, অসীমা পাত্রের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী চন্দননগর কার্নিভ্যালে আরও বেশি সময় দেওয়ার নির্দেশ দেন।

ইন্দ্রনীল সেন, অসীমা পাত্রের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী চন্দননগর কার্নিভ্যালে আরও বেশি সময় দেওয়ার নির্দেশ দেন।

বুধবার চন্দননগরের মানুষ মুখ্যমন্ত্রীকে হাতের কাছে পেয়ে আপ্লুত। উজাড় করে দেন অন্তরের ভালবাসা।

বুধবার চন্দননগরের মানুষ মুখ্যমন্ত্রীকে হাতের কাছে পেয়ে আপ্লুত। উজাড় করে দেন অন্তরের ভালবাসা।

একাধিক মন্ডপে গিয়ে দেবী জগদ্ধাত্রীর উদ্দেশ্যে ফুল নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী।

একাধিক মন্ডপে গিয়ে দেবী জগদ্ধাত্রীর উদ্দেশ্যে ফুল নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী।

১৯৮৮ সালের ৫ নভেম্বর দিল্লির ল ইয়ার প্রেম কোহলি ও সরোজ কোহলির কোল আলো করে আসে বিরাট।

১৯৮৮ সালের ৫ নভেম্বর দিল্লির ল ইয়ার প্রেম কোহলি ও সরোজ কোহলির কোল আলো করে আসে বিরাট।

৩১ বছরে পা দেওয়া বিরাট তাঁর ১১ বছরের ক্রিকেট কেরিয়ারে অনেক মণিমাণিক্য কুড়িয়েছেন।

৩১ বছরে পা দেওয়া বিরাট তাঁর ১১ বছরের ক্রিকেট কেরিয়ারে অনেক মণিমাণিক্য কুড়িয়েছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি শতরানকারীর তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছেন ভারত অধিনায়ক।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি শতরানকারীর তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছেন ভারত অধিনায়ক।

৬৯টি শতরানের মধ্যে ৪৩টি ওয়ান ডে এবং ২৬টি টেস্ট শতরান রয়েছে তাঁর।

৬৯টি শতরানের মধ্যে ৪৩টি ওয়ান ডে এবং ২৬টি টেস্ট শতরান রয়েছে তাঁর।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুত ৮০০০, ৯০০০, ১০,০০০ এবং ১১,০০০-এর ক্লাবে প্রবেশ করা বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটার কোহলি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুত ৮০০০, ৯০০০, ১০,০০০ এবং ১১,০০০-এর ক্লাবে প্রবেশ করা বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটার কোহলি।

একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে দ্রুত শতরান হাঁকানো ভারতীয় ব্যাটসম্যান।

একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে দ্রুত শতরান হাঁকানো ভারতীয় ব্যাটসম্যান।

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 006 TBS
Comm Ad 023 MZP