2020 New Ad HDFC 04

বিবেকানন্দের ছোটবেলা, তখন বাসি রুটি আর কুমড়োর ছক্কাই ব্রেকফাস্টে লা-জবাব

Share Link:

বিবেকানন্দের ছোটবেলা, তখন বাসি রুটি আর কুমড়োর ছক্কাই ব্রেকফাস্টে লা-জবাব

সবুজ মুখোপাধ্যায়: এখন যেমন ব্রেকফাস্টে ওটস বা কর্নফ্লেকসের চল হয়েছে, তখন ছিল বাসিরুটির দিন৷  এখনও কেউকেউ বাসি রুটি খান বটে, তবে তা নেহাতই ব্যতিক্রম৷ তখন বলতে উনিশ শতকের কলকাতার কথা বলছি৷ যে সময়ে বিবেকানন্দর ছোটবেলা কেটেছিল৷ নরেন্দ্রনাথরা ছিলেন তিনভাই৷ একভাই ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত কিংবদন্তি কমিউনিস্ট নেতা আর অন্যভাই মহেন্দ্রনাথ দত্ত আক্ষরিক অর্থেই এক বিদ্বজ্জন৷  বিবেকানন্দের অনুজ, মহেন্দ্রনাথ ১৮৯৬তে আইন পড়তে বিলেতে পাড়ি দেন৷ কিন্তু সেখানে গিয়ে আইন ছেড়ে তিনি ইতিহাস, দর্শন, ধর্ম, সাহিত্য, বিজ্ঞান এমনকি শিল্প-স্থাপত্য নিয়ে পড়তে শুরু করেন৷ দেশ-বিদেশের বহু জায়গা তিনি পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়িয়েছেন৷ তাঁর লেখা গবেষণামূলক বইয়ের সংখ্যা কমপক্ষে ৯০! আর, তাঁর লেখা বইয়ের তালিকায় কম গুরুত্বপূর্ণ নয় ১৯২৯ সালে প্রকাশিত কলিকাতার পুরাতন কাহিনী ও প্রথা ৷ যা তাঁর ছোটবেলার দেখা উনিশ শতকের কলকাতা৷

তাঁর এই বইয়ে ভূপেন্দ্রনাথ এক জায়গায় লিখছেন, সকালে আমরা বাসি রুটি ও কুমড়ার ছক্কা খাইতাম৷ কুমড়ার ছক্কা বাসি হইলে খাইতে বড় ভাল লাগিত৷ বিবেকানন্দর ছোটবেলায়, তাঁদের বাড়িতে  ব্রেকফাস্টের এমন ছিরি দেখলে আজকের উন্নততর কলকাতার মধ্যবিত্তরা একটু বিস্মিত হবেনই৷ আর চেয়ে বেশি বিস্মিত হবে পিৎজা-বার্গার অধ্যুষিত জেনারেশন ওয়াইয়ের ছেলেমেয়েরা৷ আসলে, এই কয়েকদশক আগেও কিন্তু কুমরোর ছক্কার টিআরপি ছিল হাই৷ ছোটবেলায় বাবার মুখে শুনেছি, পিসিদের বিয়েতে নাকি লুচি আর কুমরোর ছক্কা ছিল মাস্ট৷ কিন্তু পরের দিকে মধ্যবিত্ত যখন ধীরে-ধীরে বেবি-নানের দিকে মোড় নিল, তার কিছুদিন আগে থেকেই বন্ধ হয়ে গেল লুচি, কুমরোর ছক্কার ছোলা-দেওয়া কম্বিনেশন৷

শুধু কুমরোর ছক্কাই নয়, ভূপেন্দ্রনাথের লেখায় সেকালে খাওয়াদাওয়ার অদ্ভুতরকম ধরনধারণের  চমৎকার এক ছবি ফুটে উঠেছে৷ যেমন, ঘি তখন টাকায় পাঁচ পো বা দেড় সের ছিল, তাই তরকারিতে একটু ঘি পড়িত এবং গিন্নিরাও ভাল রাঁধিত৷ রুটি না-থাকিলে মুড়ি-মুড়কি-জল খাইতাম৷ এক পয়সার মুড়ি একগাদা ছিল৷ কিছু আমরা খাইতাম আর কিছু কাককে দিতাম৷ এক পয়সার মুড়ি ছোট ছেলে খাইতে পারিত না৷ তখন এত খাবারের দোকান ছিল না, সিমলা বাজারে একখানি দোকান ও বলরাম দে স্ট্রিটে একখানি৷ জিভে গজা, ছাতুর গুটকে গজা, কুচো গজা, চৌকা গজা, গুটকে কচুরি ও জিলাপি ছিল তখনকার খাবার৷

ভাবলে কীরমকম অবাক লাগে না? কত সামান্য আয়োজন তখনকার শৈশবের স্মৃতিতে৷ বলে রাখা ভাল, তখনও কিন্তু কলকাতায় সেভাবে মিষ্টির চল শুরু হয়নি৷ হয়তো ভোলা ময়রার হাত ধরে রসগোল্লা আবিষ্কার হয়ে গিয়েছে৷ হয়তো-বা ভীমচন্দ্র নাগের বাবাও হুগলি থেকে দোকান গুটিয়ে কলকাতায় বউবাজারে আসার কথা ভাবছেন৷ কিন্তু, আজকের মতো পাড়ায় পাড়ায় একটা করে অন্নপূর্ণা  বা জগদ্ধাত্রী  মিষ্টান্ন ভাণ্ডার তৈরি হয়নি৷ আর বেকড রসগোল্লা বা মেশিনে তৈরি বলরাম মল্লিকের সন্দেশ তো তখন চাঁদে যাওয়ার চেয়েও কষ্টকল্পনা ছিল৷

শুধু মিষ্টিই নয়৷ বলাই বাহুল্য, তখন কিন্তু ফাস্টফুড নামক ভয়ানক জিনিসটির চলও শুরু হয়নি কলকাতায়৷  পেস্ট্রি-প্যাটিসের কথা তখন ছেলেমেয়েরা বইয়ের পাতাতেও পড়েছে কিনা সন্দেহ৷ যদিও, এই সময়ের আশেপাশেই, সাহেবরা কিন্তু বাঙালি ময়রার তৈরি মিষ্টি খেয়ে ফিদা হতে শুরু করেছে৷ শোনা গিয়েছে, লর্ড ক্যানিংয়ের অনুরোধে বিশেষ এক ধরনের মিষ্টি বানানো হয়েছে তাঁর স্ত্রীর জন্য৷ যার নাম দেওয়া হয়েছে লেডিকেনি৷ ভীমনাগের সন্দেশ খেয়ে বিদেশি ঘড়ি কোম্পানির মালিক ফিদা হয়ে গিয়ে লন্ডন থেকে বাংলায় লেখা দেওয়াল ঘড়ি উপহার দিয়েছেন ভীমকে(যে-ঘড়ি আজও রয়ে গিয়েছে সেখানে)৷

তা এমতাবস্থায়, খাওয়াদাওয়ার ধরনধারণ ছিল বেশ অদ্ভুত৷ ভূপেন্দ্রনাথের  শৈশবচারণায় তাই দেখতে পাই, পরে একজন সাধু সিমলা বাজারে আসেন, বেশ স্থূলকায় ব্যক্তি, গেরুয়া পরা৷ তিনি কাঁসারিপাড়া এবং আরও দু-এক জায়গায় খাবারের দোকান করেন৷ তিনি হিন্দুস্থানিভাবে নানা খাবার তৈয়ারি করিতেন এবং অপরকে বিক্রয় করিতে দিয়া রাস্তায় ফুটপাথে মৃগচর্ম পাতিয়া একতারা লইয়া ভজন করিতেন৷ এইজন্য সকলে তাঁহার দোকানকে ‘পরমহংসের দোকান’ বলিত৷ তিনি সিমলাতে নানাপ্রকার মিষ্টান্নের প্রচলন করিলেন৷

এ যেন এক অ-লৌকিক কলকাতা৷ তাই না?

 

Comm AD 12 Myra

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 006 TBS

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Comm Ad 006 TBS

নবান্নের কন্ট্রোলরুমে মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী।

নবান্নের কন্ট্রোলরুমে মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার সারারাত নবান্নে থেকেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার সারারাত নবান্নে থেকেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব, ডিজি-সহ অন্য কর্তারা।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব, ডিজি-সহ অন্য কর্তারা।

মঙ্গলবারের পর বুধবার বিকেলেও শহরের বিভিন্ন জায়গায় যান মুখ্যমন্ত্রী।

মঙ্গলবারের পর বুধবার বিকেলেও শহরের বিভিন্ন জায়গায় যান মুখ্যমন্ত্রী।

তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা ও মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা ও মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

এদিন খিদিরপুর, পার্ক সার্কাস, বালিগঞ্জ ফাঁড়ির মতো দক্ষিণ কলকাতার একাধিক জায়গায় যান।

এদিন খিদিরপুর, পার্ক সার্কাস, বালিগঞ্জ ফাঁড়ির মতো দক্ষিণ কলকাতার একাধিক জায়গায় যান।

এদিনও স্থানীয়দের লকডাউন মেনে চলার অনুরোধ করেন তিনি।

এদিনও স্থানীয়দের লকডাউন মেনে চলার অনুরোধ করেন তিনি।

এই নিয়ে পরপর দু'দিন শহরের বিভিন্ন জায়গায় গেলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই নিয়ে পরপর দু'দিন শহরের বিভিন্ন জায়গায় গেলেন মুখ্যমন্ত্রী।

তাঁর এই কাজকে তীব্র ভাষায় বিঁধেছেন বিরোধীরা।

তাঁর এই কাজকে তীব্র ভাষায় বিঁধেছেন বিরোধীরা।

পূবস্হলি দক্ষিণ বিধানসভার কালনা ১নং ব্লকের শাখাটি আদিবাসী পাড়ার বাহা পুজোর উৎসব

পূবস্হলি দক্ষিণ বিধানসভার কালনা ১নং ব্লকের শাখাটি আদিবাসী পাড়ার বাহা পুজোর উৎসব

সেখানেই যান মাননীয় মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ

সেখানেই যান মাননীয় মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ

গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। জানতে চান সুবিধা-অসুবিধার কথা

গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। জানতে চান সুবিধা-অসুবিধার কথা

পরে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধনও করেন মন্ত্রী

পরে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধনও করেন মন্ত্রী

জনগণের সঙ্গে বসে অনুষ্ঠানও দেখেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ

জনগণের সঙ্গে বসে অনুষ্ঠানও দেখেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ

প্রায় ঘণ্টাখানেক এই অনুষ্ঠানেই ছিলেন তিনি

প্রায় ঘণ্টাখানেক এই অনুষ্ঠানেই ছিলেন তিনি

#

#

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 008 Myra

Editors Choice

Comm Ad 023 MZP