​ভূস্বর্গ এখন ‘বিষাদবৃক্ষ’, বলছেন মনোবিদরা

Brand-Promo-09

​ভূস্বর্গ এখন ‘বিষাদবৃক্ষ’, বলছেন মনোবিদরা

Share Link:

​ভূস্বর্গ এখন ‘বিষাদবৃক্ষ’, বলছেন মনোবিদরা

সবুজ মুখোপাধ্যায়: ‘সবাই মিলে কাশ্মীরকে স্বর্গ বানাতে হবে’৷ বলে দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি৷  ব্যস৷

শুনেছি স্বর্গে নাকি কোনও দুশ্চিন্তা নেই, কোনও বিষণ্ণতা নেই৷ সেখানে  সুখ যেন সর্বজনীন৷ সেখানে বেকারি নেই, অনাহার নেই, মারদাঙ্গা নেই, গণপিটুনি নেই৷  আমাদের এখানকার মতো পুলিশ নেই, একে-৪৭ হাতে সেনাবাহিনী বা নিরাপত্তাবাহিনী নেই, এমনকি থানাগারদ বা জেল বলেও কিছু নেই৷ অতএব লকআপে টর্চারও নেই৷

নরেন্দ্র মোদি কি এমনই এক স্বর্গ বানাতে চাইছেন কাশ্মীরকে?

যদি তা-ই হয়, তার চেয়ে তো ভাল আর  কিছুই হয় না৷ যে পন্থায় বিশ্বাস করি না কেন, দু-হাত তুলে সমর্থন জানাবো নরেন্দ্র মোদিকে৷ আগে থেকেই বলে দিলাম৷

তবে প্রশ্ন একটাই৷ এমনতেই যা ভূ-স্বর্গ বলে পরিচিত ছিল, তাকে নতুন করে স্বর্গ বানাতে চাইছেন কেন নরেন্দ্র মোদি? তাহলে কি  ৩৭০ ধারা রদের পর নরকে পরিণত হয়েছে উপত্যকা? নাকি তা নেহাতই মর্ত্যের স্তরে নেমে এসেছে?

যে যাই বলুন না কেন, ধান ভাঙতে গেলে শিবের গীত কিছুটা গাইতেই হয়৷ তাই কাশ্মীর নিয়ে এই স্বর্গ-নরকের তুলনামূলক আলোচনায় যেতে হল একটু৷

আসলে  উপত্যকায় ৩৭০ ধারা রদ করার সময় থেকেই কাশ্মীর যে আক্ষরিক অর্থেই নরকে পরিণত হয়েছে তা আর কেউ জানুক-না-জানুক, বিলক্ষণ জানেন নরেন্দ্র মোদি নিজে৷ সেইসঙ্গে অবশ্যই অমিত শাহ আর অজিত ডোভাল৷ আর  তাই বোধহয়, ভোটকে সামনে রেখে মোদি সেখানে স্বর্গীয় তত্ত্ব দিতে চাইছেন ৷ যেমনটা তিনি দিয়ে থাকেন আর কী৷

এখন মুর্শিদাবাদের ডোমকলে যেমন এনআরসি-র ভয়ে মনোরোগ কার্যত মহামারীর আকার নিয়েছে, কাশ্মীরেও ঠিক তেমনই অবস্থা৷  উপত্যকা থেকে ৩৭০ ধারা রদ করার পর থেকে যে-আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেখানে, তাতে করে রীতিমতো  অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারে ভুগছেন উপত্যকার মানুষ৷ অ্যান্টি ডিপ্রেসান্টের চাহিদা সেখানে তুঙ্গে!

মনোবিদরা সমীক্ষা করে দেখেছেন, সমগ্র কাশ্মীর এখন এক মানসিক স্বাস্থ্য সঙ্কটে ভুগছে৷ গত চার-পাঁচ বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে কাজ করে চলেছেন সেখানকার মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত কিছু মানুষ, গত চার-পাঁচ ধরে একটি সমীক্ষা চালিয়ে আসছেন৷  তাঁরা দেখেছেন এবং সেইসঙ্গে দেখিয়েছেন, ২০১৫ সালে উপত্যকার  ১৮ লাখ মানুষের মধ্যে মানসিক সমস্যার লক্ষণ দেখা গিয়েছিল৷ যা ছিল সমগ্র জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ৷ এদের মধ্যে ৪১ শতাংশের মধ্যে দেখা অবসাদ  বা ডিপ্রেশনের লক্ষণ দেখা গিয়েছিল৷ ২৬ শতাংশ অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারে ভুগছিলেন৷ ১৯ শতাংশের মধ্যে দেখা গিয়েছিল পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার৷ হাসপাতালের ডাক্তাররা দেখেছেন,২০১৬-র আন্দোলনের পর  সেখানে ৩৮০ জন ছররা-গুলির শিকার হয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে ৮৫ শতাংশের মধ্যেই পরবর্তীকালে বিভিন্ন মানসিক সমস্যা দেখা গিয়েছিল৷ এই ছররা গুলি বা পেলেট ভিকটিমদের মধ্যে রীতিমতো মানসিক রোগ মেন্টাল ডিসঅর্ডার মানসিক রোগ দেখা দিয়েছিল৷ ৯২ শতাংশের চোখ আঘাতগ্রস্ত হয়েছিল৷
আর এই ৫ অগস্টের পর থেকে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়৷  উপত্যকার মানুষ প্রয়োজনীয় ওষুধটুকু পর্যন্ত কিনতে যেতে পারেননি৷ যদিও এই দেড়মাসে বেশিরভাগ মানুষ আউটডোরে গিয়ে ডাক্তারদের কাছে তাঁদের উদ্বেগ আর বুক ধড়ফড়ানির কথা জানিয়েছে৷ যা অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার বা প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষণ বলে মনে করা হয়েছে৷ কেমিস্টরা জানিয়েছেন, এই ক-দিনে সেখানে অ-স্বাভাবিক হারে বেড়েছে অ্যান্টি ডিপ্রেসান্টের চাহিদা৷ সেইসঙ্গে অ্যান্টি অ্যাংজাইটির ওষুধ নেওয়াও বেড়েছে হু-হু করে৷ বিশেষ করে যুবক-যুবতীরা বেশি করে এই ধরনের ওষুধ খাচ্ছেন৷

উপত্যকায় নিরাপত্তাবাহিনী এমনই এক সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ, মানুষ সেখানে রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে মানসিক রোগের শিকার হচ্ছে এক-এক করে৷ এই যেমন ১৭ অগস্ট, শেলা রশিদ নামে এক যুবতী টুইট করে সেনাবাহিনীর অত্যাচার বা টর্চারকে সামনে এনেছিলেন৷  টুইটে তিনি লিখেছিলেন, সেনা শিবিরে সোপিয়ানের চারজনকে ডাকা হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য৷ তাদের রীতিমতো টর্চার করা হয়৷ আর সেই চারজনের ভয়ানক অনুভূতি এলাকার মানুষকে শোনানোর জন্য একটি মাইক ব্যবহার করা হয়৷ যাতে করে গোটা এলাকা সন্ত্রস্ত্র হয়ে পড়ে৷

এই টুইটের জন্য অবশ্য শেলার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা করা হয়৷ তারপর ওই মহিলাকে নৃশংসভাবে টর্চার করা হয় বলে অভিযোগ৷ যা আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমেও উঠে আসে৷ খুব সম্প্রতি বিবিসি আর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসএকটি  প্রতিবেদন প্রকাশ করে৷ উপত্যকার যে বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর নৃশংস টর্চারের শিকার হয়েছেন, তাঁদের নিয়ে৷  আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সেই সব নির্যাতিতদের ছবি আর ভিডিও দেখে শিউরে ওঠেন বিশ্বের নানা প্রান্তের লোকজন৷ শরীরের নানা জায়গায় ভয়ানক সব কালশিটের দাগ দেখে বোঝা কী ভয়ানক টর্চার চালানো হয়েছে ৩৭০ ধারা রদের পর থেকে৷  শুধু তাই নয়, মাঝরাতে ঘরে ঢুকে ছোট-ছোট ছেলেদের পর্যন্ত তুলে নিযে যাওযার অভিযোগও উঠেছে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে৷ উদ্দেশ্য একটাই, সন্ত্রস্ত্র করা৷ যদিও এর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাননি মা-বাবারা৷ কারণ ওইসব বেআইনি আটকের কোনও প্রমাণই ছিল না খাতায়-কলমে৷ তাই প্রতিবাদ করলে যদি গুমখুন করে দেওয়া হয়!  কাশ্মীরে তো এমন ঘটনা তো নতুন কিছু নয়৷

চিনার গাছের কাশ্মীর কি তাহলে এখন বিষাদবৃক্ষে পরিণত হয়েছে? মনোবিদরা অন্তত তেমনটাই দাবি করছেন৷ তাঁরা বলছেন, স্বর্গের সুখ তো দূরের কথা, মর্ত্যের সামান্য নিশ্চিন্তিটুকুও সেকান থেকে উবে গিয়েছে গত দেড়মাসে৷ ‘স্বাভাবিক’ কাশ্মীরে৷
 

Comm AD 12 Myra

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 008 Myra

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Comm Ad 015 WBSETCL 02

ক্রিকেটারদের করওয়াচৌথ

বিয়ের পর প্রথম করওয়াচৌথ পালন করলেন জাতীয় দলের পেস ব্যাটারি ভুবনেশ্বর কুমারও। স্ত্রী নূপূরের সঙ্গে ছবিও পোস্ট করলেন সোশাল মিডিয়ায়।

বিয়ের পর প্রথম করওয়াচৌথ পালন করলেন জাতীয় দলের পেস ব্যাটারি ভুবনেশ্বর কুমারও। স্ত্রী নূপূরের সঙ্গে ছবিও পোস্ট করলেন সোশাল মিডিয়ায়।

বরবরই একটু হটকে তিনি। স্ত্রী এবং চাঁদ দুটোরই ছবি পাশাপাশি রেখে বীরেন্দ্র সহবাগের টুইট,'বহুত গজব। প্রেম আর শ্রদ্ধা দুটোই রইল।'

বরবরই একটু হটকে তিনি। স্ত্রী এবং চাঁদ দুটোরই ছবি পাশাপাশি রেখে বীরেন্দ্র সহবাগের টুইট,'বহুত গজব। প্রেম আর শ্রদ্ধা দুটোই রইল।'

ব্যাট হাতে ময়দানে ব্রিটেনের রাজ-বধূ

সোমবারই পাকিস্তান সফরে গিয়েছেন ব্রিটেনের যুবরাজ উইলিয়াম ও কেট মিডলটন।

সোমবারই পাকিস্তান সফরে গিয়েছেন ব্রিটেনের যুবরাজ উইলিয়াম ও কেট মিডলটন।

পাকিস্তানে পা ফেলা ইস্তক লাইম লাইটে কেট।

পাকিস্তানে পা ফেলা ইস্তক লাইম লাইটে কেট।

যেমন মিষ্টি তাঁর হাসি, তেমন মিষ্টি স্বভাব। মন ছুঁয়েছেন সে দেশের মানুষের।

যেমন মিষ্টি তাঁর হাসি, তেমন মিষ্টি স্বভাব। মন ছুঁয়েছেন সে দেশের মানুষের।

পাকিস্তানে গিয়ে একেবারে অন্য মুডে ধরা দিলেন ব্রিটেনের রাজ পরিবারের বধূ।

পাকিস্তানে গিয়ে একেবারে অন্য মুডে ধরা দিলেন ব্রিটেনের রাজ পরিবারের বধূ।

সাদা সালোয়ার কামিজে ব্যাট হাতে ময়দানে কেট।

সাদা সালোয়ার কামিজে ব্যাট হাতে ময়দানে কেট।

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 026 BM
Comm Ad 023 MZP