corona 01

এ গ্রামে দুর্গার নাম নেওয়াও বারণ, পুজো পান সরস্বতী

Share Link:

এ গ্রামে দুর্গার নাম নেওয়াও বারণ, পুজো পান সরস্বতী

নিজস্ব প্রতিনিধি: 'হে বঙ্গ ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন, তা সবে অবোধ আমি অবহেলা করি। পরধন লোভে মত্ত করিনু ভ্রমণ, পরদেশে ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।' বিখ্যাত কবিতা। এই পংক্তি গুলি যত না কবিতা তার থেকেও বেশি মাইকেল মধূসুধন দত্তের স্বীকারোক্তি। বাংলার বুকে যে মণিরত্ন শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি-ঐতিহ্যের জমিতে ছড়িয়ে রয়েছে তা না চিনে জেনেই তিনি বিলেতে পাড়ি জমিয়েছিলেন কবি হিসাবে নামডাক কিনতে।  

কিন্তু জুটেছিল খালি উপহাস আর চূড়ান্ত দারিদ্র্যতা। সত্যি বলতে কি মাইকেলের মতোই কিন্তু আমাদের অনেকেরই দশা। নিজ সভ্যতা-সংস্কৃতিকে ভালো করে না জেনে, না চিনে, ছুটি পশ্চিমি সংস্কৃতিকে আপন করতে। আমরা কয়জনই বা জানি যে, বাঁকুড়ার এক গ্রামে মা দুর্গার নাম নেওয়াটাও বারণ। যে বাংলায় বাড়ি থেকে বার হতেই মা-মাসি কপালে হাত ঠেকিয়ে নমস্কার করে বলে 'দুগ্গা দুগ্গা', সেই বাংলার বুকেই এক গ্রামে 'দুগ্গা' বা 'দুর্গা' কোনও নাম নেওয়াটাই বারণ। বলতে হয় 'ভগবতী ভগবতী'। গ্রামের নাম রতনপুর। অবস্থান বাঁকুড়া জেলার ওন্দা ব্লকে।
 
রতনপুরে প্রতি বছর ৮ দিন ধরে হয় সরস্বতী পুজো। এই পুজো কিন্তু বাংলার বুকে প্রচলিত সরস্বতী পুজোর থেকে একদমই আলাদা। গ্রামে রয়েছেন দেবী অম্বিকা। পাথরের কয়েকশো বছরের মূর্তিতে পুজো পান তিনি। তাঁরই স্বপ্নাদেশে গ্রামে নিষিদ্ধ শারদীয়া দুর্গাপুজোর। শুধু পুজোই নয়, এই গ্রামে দুর্গা নাম নেওয়াটাও কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। মা-মাসিরা কপালে হাত ঠেকিয়ে বলতে পারেন না 'দুগ্গা দুগ্গা'। বলতে হয় 'ভগবতী ভগবতী'। এই নামে আছে ছাড়। নেই কোনও মানা। আসলে ভগবতী তো শুধু দূর্গারই নাম নয়, সরস্বতীরও নাম। তাই এই নামে নেই কোনও ভয়। গ্রামে প্রায় ৪০০ বছর ধরে পুজো পান দেবী সরস্বতী।
 
জানা গিয়েছে, গ্রামে দুর্গাপুজো হয় না বলে গ্রামবাসীদের মন খারাপের জায়গা থেকে বলাই চন্দ্র বিশ্বাস সরস্বতী পুজোর সময় দুর্গাপুজোর ধাঁচে সরস্বতী পুজো চালু করেন। এখনও সেই পুজো হয়ে আসছে। এই পুজোর প্রধান বৈশিষ্ট্য কিন্তু প্রতিমার কাঠামো। একচালার দুর্গামূর্তিতে যেমন দুর্গার সঙ্গে তাঁর চার ছেলেমেয়ে থাকে এখানেও ঠিক তাই। খালি মাঝখানে দুর্গার জায়গায় থাকেন দেবী সরস্বতী। তাঁর বাঁদিকে অবস্থান করেন দুর্গা আর কার্তিক। ডান দিকে থাকেন লক্ষ্মী আর গণেশ। থাকে না মহিষাসুর। থাকে না সিংহও। তবে বাকিদের বাহন থাকে। সরস্বতী দ্বি-ভূজা বলে এখানে দুর্গাও দ্বি-ভূজা, লক্ষ্মীও তাই। বলতে পারেন সরস্বতী পুজোর সময়েই এখানে সরস্বতীর হাত ধরে মা দুর্গা আসেন সপরিবারে তাঁর পুজো নিতে। তাও এক আধ দিন নয়, পুরো আটদিন ধরে চলে সেই পুজো।
 
পুজোর মধ্যেও আছে অনেক আচার। যেমন, পূজার্চনায় দেবী দুর্গার নাম নেওয়া নিষিদ্ধ। সেকারণে দুর্গাকে ভগবতী রূপে সরস্বতীর সঙ্গে পুজো দেওয়া হয়। সরস্বতীর নাম দিয়ে দুর্গার সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান করা হয়। সেই সঙ্গে দেওয়া হয় পাকা কাঁঠাল ভোগ। গ্রামের বিশ্বাস পাড়াতেই তৈরি হয়েছে পাকা ভগবতী দালান। সেখানেই প্রতিবছর মূর্তি নির্মাণ করে চলে পুজো। বলতে গেলে ওন্দার রতনপুর গ্রামে সরস্বতী পুজোই প্রধান উৎসব।

দুর্গাপুজোয় খাঁ খাঁ। এই সময় গ্রামে যেমন মেলা বসে ঠিক তেমনি চলে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গ্রামবাসীদের বাড়ি গমগম করে আত্মীয় বন্ধুবান্ধবদের সমাগমে। গ্রামের বিয়ে হয়ে যাওয়া মেয়েরাও এ সময় ফেরে বাপের বাড়িতে। এই গ্রামের দাসপাড়াতে আরও একটি পুজো হয়, কিন্তু তা পরবর্তীকালে চালু হয়েছে। যদিও সেই পাড়ার মানুষদের দাবি তাঁদের পুজোও শতাধিক বছরের পুরানো। কে ঠিক কে ভুল সেই তর্কে না গিয়ে বাংলার বুকে এই বিবিধ উৎসবের সমাহারকে উপভোগ করা চাক্ষুষ করাই তো বেশি ভাল।

Comm AD 12 Myra

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 2020-himalaya RC

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

2020 New Ad HDFC 05

খিদিরপুর থেকে শুরু করে বেহালা, হরিদেবপুর,

খিদিরপুর থেকে শুরু করে বেহালা, হরিদেবপুর,

মুদিয়ালী ছুঁয়ে সোধপুর পার্ক

মুদিয়ালী ছুঁয়ে সোধপুর পার্ক

বাবুবাগান হয়ে উদ্বোধনের যাত্রা শেষ হল একডালিয়া,

বাবুবাগান হয়ে উদ্বোধনের যাত্রা শেষ হল একডালিয়া,

হিন্দুস্থান পার্ক, ত্রিধারার চত্বরে এসে।

হিন্দুস্থান পার্ক, ত্রিধারার চত্বরে এসে।

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 2020-Valentine RC

Editors Choice

Comm Ad 026 BM