Comm Ad 2020-WB Tourism body

মাত্র ১৪ বছর বয়সেই ইলেকট্রিক চেয়ারে বসিয়ে মারা হয়েছিল ‘নির্দোষ’ এই কিশোরকে

Share Link:

মাত্র ১৪ বছর বয়সেই ইলেকট্রিক চেয়ারে বসিয়ে মারা হয়েছিল ‘নির্দোষ’ এই কিশোরকে

 

নিজস্ব প্রতিনিধি:  আমাদের এখানে ধনঞ্জয়ের ফাঁসি নিয়ে যেমন এখনও প্রশ্ন রয়েছে, ঠিক তেমনই ওদের দেশে তেমনি জর্জ স্টেনে জুনিয়রকে নিয়ে৷ ১৪ বছর বয়সি আফ্রিকান-আমেরিকান এই কৃষ্ণাঙ্গ  কিশোরের বিরুদ্ধে একদিন খুনের অভিযোগ উঠল আচমকাই৷ কীরকম খুন? তারই দুই শ্বেতাঙ্গ প্রতিবেশী শিশুকে সে নাকি নৃশংসভাবে খুন করেছে!

ব্যস৷ একে কৃষ্ণাঙ্গ, তার ওপর আবার শ্বেতাঙ্গকে খুনের অভিযোগ৷ অতএব, বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হল মাত্র দু-ঘণ্টায়! দোষী সাব্যস্ত হল জর্জ৷ ১৪ বছরের এই কিশোরের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হল৷ তারপর, শহর থেকে আশি কিলোমিটার  দূরের এক নিঃসঙ্গ কুঠুরিতে নিয়ে গিয়ে রাখা হল তাকে৷ সেখানে দেখা করতে দেওয়া হল না তার মা-বাবাকে৷ একাশি দিন প্রায় অন্ধকূপে রাখার পর তাকে নিয়ে যাওয়া হল বধ্যভূমিতে৷ ইলেকট্রিক চেয়ার নিয়ে গিয়ে, মাথায় ৫৩৮০ ভোল্ট শক দিয়ে মেরে ফেলা হল জর্জকে!

এরপর?

মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে যাঁরা কথা বলেন, তাঁদের বেশকিছু যুক্তি আছে৷ যেমন, যদি কেউ কারোকে খুন করে থাকে আর সেই খুন করা যদি সত্যিই আইনের চোখে অপরাধ হয়, তাহলে তাকেও ঠান্ডমাথায় যখন রাষ্ট্র ফাঁসিতে ঝুলিয়ে  বা ইলেকট্রিক চেয়ারে বসিয়ে মেরে ফেলে, তখনও সেটাও কিন্তু খুনেরই নামান্তর৷ এছাডা়ও অনেক যুক্তি রয়েছে৷ তবে সবকিছুর ওপরে রয়েছে যে যুক্তি তা কিন্তু সত্যিই খণ্ডন করা অসম্ভব৷ আর তা হল, আমাদের বিচারব্যবস্থায় এত গলদ, এত ফাঁক-ফোকর সর্বোপরি এত শ্রেণি বৈষম্য যে, কোনও বড়সড় অপরাধের যখন বিচার চলে, তখন অভিযুক্ত নিম্নবিত্ত হলে,  সেভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য লড়তে পারে না৷ সেক্ষেত্রে দোষ না-করেও ফাঁসিকাঠে ঝুলতে হয় তাকে৷ আর, তখনই প্রশ্ন ওঠে, আইনের চোখ কি সত্যিই কালো কাপড় দিয়ে বাঁধা থাকে? থাকে হয়তো-বা৷ কিন্তু প্রশ্ন ওঠে অনেক৷ এই যেমন ধরুন না, এতদিন রহস্যজনকভাবে আত্মগোপন করে থাকার পর কী অনায়াসেই-না জামিন পেয়ে গেলেন কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার৷ অথবা ভাবুন না, সোহরাবর্দি ভুয়ো সংঘর্ষ মামলায় অমিত শাহের বিচার চলছিল যে কোর্টে, সেই কোর্টের বিচারক লোয়া কেমন রহস্যজনকভাবে মারা গেলেন৷ আবার ধরুন, চিদম্বরককে জেলে পাঠানোর পরই কীরকম বড়সড় সরকারি পদ বাগিয়ে বসলেন অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারপতি৷ এক কথায়, আমাদের বিচারব্যবস্থা কতটা নিরপেক্ষ, তা কিন্তু প্রশ্নাতীত নয়৷ শুধু তাই নয়, এই ব্যবস্থা যে রীতিমতো ক্লাস-বায়াসড, তা-ও কিন্তু কেউ অস্বীকার করতে পারে না৷ 

 সেই সময়ের আমেরিকাও কিন্তু ছিল ভীষণভাবে কালার-বায়াসড৷ ভয়ানকরকম বর্ণবিদ্বেষী৷ তাই জর্জের বিচারের সময়ে, বিচারক থেকে শুরু করে জুরি, সব্বাই যখন সাদা চামড়ার ছিলেন, তখন এতবড় একটা ঘটনার বিচার করে মাত্র চোদ্দ বছরের এক কিশোরকে মৃত্যুদণ্ড দিতে সময় লেগেছিল দু-ঘণ্টা দশ মিনিট মাত্র (দশমিনিট যোগ করা হল এই কারণে যে, বিচারের পর সেনটেনস বা দণ্ডাজ্ঞা লিখতে সেদিন লেগেছিল পাক্কা দশমিনিট)! তাই স্বভাবতই, গরিব বা প্রান্তিক মানুষরাই কেবল ফাঁসিকাঠে ঝোলে বলে যদি মনে করা হয়, তাহলে তা কিন্তু খুব একটা অবান্তর নয়৷

তাই, এখন বিশ্বের বেশিরভাগ সভ্য দেশেই মৃত্যুদণ্ড উঠে গিয়েছে, আমেরিকা ছাড়া৷ যদিও আমাদের ভারত-পাকিস্তানে  রমরমিয়ে চলছে মৃত্যুদণ্ড আর তাকে নিয়ে রাজনীতি৷ যেমন, ধনঞ্জয়কে ফাঁসিতে ঝোলাতে পারা ছিল যেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর কাছে একটা চ্যালেঞ্জ৷  অথচ, মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে অন্যতম একটি যুক্তি হল, এই দণ্ড কিন্তু অপরাধ কমাতে কাজে লাগে না বা ডেটারেন্ট হিসেবে কাজ করে না৷ আর তা যদি করত, তাহলে ইন্দিরা গান্দির হত্যাকারীদের ফাঁসিতে ঝোলানোর পরও, রাজীব গান্ধিকে আত্মঘাতী বোমারুদের হাতে মরতে হত না৷  শুনলে অবাক হতে হয়, কানাডায় ১৯৭৬ সালে মৃত্যুদণ্ড তুলে দেওয়ার পর দেখা গিয়েছিল, সেদেশে খুনের সংখ্যা বাড়ার বদলে বিস্ময়জনকভাবে কমে গেল! আজ আর অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই, মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে অপরাধ বাড়া-কমার তাই সেভাবে কোনও সম্পর্ক নেই৷

শুধু তা-ই নয়৷ বহুবছর জেল খাটার পর নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে ঘরে ফিরে আসার ঘটনাতো প্রায়দিনই আমাদের চোখে পড়ে৷ দশ থেকে শুরু করে বিশবছর পর্যন্ত জেল খেটে আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন, এমন মানুষের সংখ্যা শুধু দেশে কেন, এ-রাজ্যেই কিছু কম নয়৷ তা-ও যাঁরা ঘটিবাটি বেচে উকিল দিয়ে দিনের-পর-দিন লড়তে পারেন, তাঁরাই শেষ অবধি নির্দোষ প্রমাণিত হতে পারেন৷ আর যাঁরা তা পারেন না, তাঁদের সংখ্যা এর মধ্যে ধরাই হয় না৷ এমতাবস্থায়, একবার মৃত্যুদণ্ড হয়ে গেলে কিন্তু পরে নির্দোষ হয়ে ফিরে আসার কোনও সম্ভাবনাই থাকে না৷ তখন শুধু রাষ্ট্রকর্তৃক নিহতের বেরিয়ালে ফুলের তোড়া নিয়ে যেতে হয় বিচারকদের৷ জানেন তো, ১৯৪৪ সালে,  মৃত্যুদণ্ডের ৬০ বছর পর, আবার শুরু হয় মৃত জর্জের বিচার৷ দশবছর ধরে সেই বিচার চলার পরে নির্দোষ প্রমাণিত হন নিহত জর্জ, ওই আমেরিকাতেই!

পুনশ্চ৷ ধনঞ্জয়ের ফাঁসির পর, তা নিয়ে এক বেসরকারি তদন্ত হয়েছিল৷ যেখানে পুঙ্ক্ষানুপুঙ্ক্ষভাবে তদন্তকারীরা প্রমাণ করে দিয়েছিলেন, ধনঞ্জয় কিন্তু সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন৷ কারোকে বাঁচাবার জন্যই ওঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল৷ ঠিক যেমনটা হয়েছিল সম্প্রতি, আরুষি তলোয়ার হত্যাকাণ্ডে৷ খুনিদের ধরতে না-পেরে আরুষির মা-বাবাকেই দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত, সিবিআইয়ের তদন্তের ভিত্তিতে৷ তবে ভাগ্যিস সেক্ষেত্রে ফাঁসির হুকুম হয়ে যায়নি!

Comm Ad 018 Kalna

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 2020-Valentine RC

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Comm Ad 2020-Valentine RC

খিদিরপুর থেকে শুরু করে বেহালা, হরিদেবপুর,

খিদিরপুর থেকে শুরু করে বেহালা, হরিদেবপুর,

মুদিয়ালী ছুঁয়ে সোধপুর পার্ক

মুদিয়ালী ছুঁয়ে সোধপুর পার্ক

বাবুবাগান হয়ে উদ্বোধনের যাত্রা শেষ হল একডালিয়া,

বাবুবাগান হয়ে উদ্বোধনের যাত্রা শেষ হল একডালিয়া,

হিন্দুস্থান পার্ক, ত্রিধারার চত্বরে এসে।

হিন্দুস্থান পার্ক, ত্রিধারার চত্বরে এসে।

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 2020-himalaya RC

Editors Choice

Comm Ad 2020-WB Tourism RC