Comm Ad 020 Tantuja

যৌথ পরিবার আর যূথবদ্ধতার মধ্যেই ফিরে যেতে হবে আবার

Share Link:

যৌথ পরিবার আর যূথবদ্ধতার মধ্যেই ফিরে যেতে হবে আবার

নিজস্ব প্রতিনিধি:  আজ ১০ অক্টোবর। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবার জোর দিয়েছে আত্মহত্যা প্রতিরোধের ওপর।... গোটা বিশ্বেই বেড়ে চলেছে আত্মহত্যা৷ কিন্তু আমাদের বেঁধে-বেঁধে থাকা বাঙালি সমাজে আজ কেন এত বিচ্ছিন্নতা, কেন এত হতাশা, কেন এত অবসাদ?    তাত্ত্বিক আলোচনায় না-গিয়ে ভেঙে পড়া বাঙালি সমাজকে উদ্দেশ করে খোলা চিঠি লিখলেন মনোবিদ আঁখি গুপ্তা৷

সে এক সময় ছিল, যখন স্কুল থেকে বকুনি খেয়ে এসেই আমরা তা উগরে দিতে পারতাম কাকিমা-জেঠিমার কাছে৷ সে এক সময় ছিল, যখন বুকের ভেতর অনেক কষ্ট নিয়েও তা শেয়ার করতে পারতাম ঠাকুমা-দিদিমাদের কাছে৷ কিন্তু বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারের সেই ভাল-মন্দে মেশানো যৌথ পরিবারে কাঠামোটাই ভেঙে পড়ল হুড়মুড়িয়ে৷ তৈরি হল নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি৷ আর সেইসঙ্গে সোশাল মিডিয়ার সৌজন্যে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় বুঁদ হয়ে বেঁচে থাকা৷

একদিকে সুখ-দুঃখ বহন করার মতো মানুষগুলো সরে-সরে গেল, আর সেইসঙ্গে ফেসবুকের সৌজন্যে কতশত অ-দৃশ্য বন্ধু-বান্ধব তৈরি হয়ে গেল৷ বিশ্বায়ন-পরবর্তী বাঙালি সমাজের এই পরিবর্তন কিন্তু আমাদের কোথাও নিঃসঙ্গ করে তুলল৷ আগে অফিসে হাজার অশান্তি সত্ত্বেও পাড়ার রোয়াকে বসে একজন তাঁর আইডেনটিটি খুঁজে পেতেন৷ কিন্তু এখন তো আর রোয়াক নেই৷ আবাসনের কমিউনিটি হল তার জায়গায় কত আর প্রক্সি দেবে?

 এমতাবস্থায়, একদিকে আমাদের ভেনটিলেশনের জায়গাগুলো কমে যেতে লাগল৷ আর অন্যদিকে, একার মিছিলে হেঁটে-হেঁটে  ক্রমাগত বেড়ে চলল আমাদের প্রত্যাশা৷ আর কী অদ্ভুত, আমাদের প্রাচ্য যেখানে আধ্যাত্মিকতা বা দর্শনের জন্য গোটা বিশ্বে জায়গা করে নিল, তাকে ছেড়ে এবার আমরা ছুটলাম মেটেরিয়াল ওয়ার্ল্ডের দিকে৷  আকণ্ঠ ধারে নিমজ্জিত হয়ে কেনাকাটা করতে লাগলাম৷ পকেটে ক্রেডিট কার্ড নিয়ে রেস্তোরাঁয় গেলাম সুক্তুনি আর পোস্তর বড়া খেতে৷ আর কোন ফাঁকে সেই ধার-করা কার্ড সর্বনাশী হয়ে জানিয়ে দিল, এই ধার এবার শোধ করতে হবে৷ নইলে বাড়ি বয়ে এসে যারা ধার দিয়ে গিয়েছিল, তারাই অতটা পথ উজিয়ে এসে অপমান করে যাবে৷

শুরু হল আরও বেশি রোজগারের পেছনে ছোটা৷ ছুটতে-ছুটতে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়লাম৷ টার্গেট ওরিয়েন্টেড পড়লাম৷ সবাই যেন কীরকম সেলসম্যান হয়ে উঠলাম৷ এমনকি ক্লাস সেভেনের বাচ্চাটাকেও টার্গেট ওরিয়েন্টেড বানিয়ে তুললাম৷ বেঁধে দিলাম, কত নম্বর পেতে হবে৷ আর তবেই পাওয়া যাবে গেম খেলার ট্যাব৷ সেই মেয়েটাও ছুটতে শুরু করল৷ কিন্তু ছুটতে-ছুটতে যখন সে ক্লান্ত হয়ে পড়ল, তখন সে দেখল তার পাশে কেউ নেই৷ বাবা নেই৷ মা নেই৷ কারণ তারা তো আগেই বলে দিয়েছে, এত নম্বর পেলে তবেই তোমাকে দেওয়া হবে...

আগেকার দিন হলে, হয়তো সে খুঁজে পেত তার ঠাকুমাকে৷ বড়বেশি মন খারাপের সময়ে ঠাকুমার পাশে শুয়ে শুনত সেই ছোটবেলার গল্প৷ আর সেই গল্পই তাকে রূপকথার দুনিয়ায় নিয়ে গিয়ে হতাশাকে মোকাবিলা করতে শেখাত৷

রূপকথা এখনও আছে৷ ভার্চুয়াল রূপকথা৷ কমপিউটারে বসে যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা, অ্যাকসিডেন্ট-অ্যাকসিডেন্ট খেলা৷ আর খেলতে-খেলতে খেলার ছলেই অন্যকে পিষে ফেলে মারা৷ এবং অন্যকে মেরে নিজের বাঁচার পথ প্রশস্ত করা৷
আগেকার দিনের সেইসব রাক্ষস-খোক্কসের দিন গিয়েছে৷ পাড়ায় গিয়ে পাঁচজনের সঙ্গে মিশে খেলতে যাওয়ার দিনও গিয়েছে৷  যদিও নিউক্লিয়ার ফ্যামিলিতে সঙ্গ দেওয়ার জন্য রয়েছে একজন পোষ্য৷ সে খুবই ভাল৷ কিন্তু তাকে কি আর সব কথা শেয়ার করা যায়?

এরপর?

বিশ্বায়নের হাত ধরে ভেঙে পড়ল আমাদের পাড়া-কাঠামো৷ বিকল্প কোনও কাঠামো গড়ে উঠল না৷ তাই ছোট্ট স্কুলপড়ুয়া আর তার পাড়ার বন্ধুর সঙ্গে ঘুড়ি ওড়াতে যেতে পারল না৷ তাই মনের দুঃখগুলোও আর আকাশে উড়ে গেল না৷ মন ভারাক্রান্ত হয়ে উঠল৷ বাবার সামান্য বকুনিতে সে ছাদে গিয়ে মরণঝাঁপ মারল৷

স্কুলে দিদিমণি বা মাস্টারমশাইরাও একটু বকলে রেহাই নেই৷ একটু অপমানও যে নেওয়ার ক্ষমতা নেই৷ বাড়িতে এসে বাবাকে বললাম৷ বাবা প্রিন্সিপাল ম্যামকে চিঠি লিখে অভিযোগ জানাল৷ প্রিন্সিপাল ম্যাম ডেকে নিয়ে কড়কে দিলেন সেই ম্যামকে৷ ম্যাম জব্দ হল বেশ৷

কিন্তু তারপর?

সব জায়গায় তো আর বাবা গিয়ে বলে দিতে পারবে না? তখন? এবার কলেজের বন্ধুর সঙ্গে সামান্য ঝগড়া বা তার সামান্য প্রত্যাখানেই বাড়ি এসে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়লাম৷ কারণ, ছোটবেলা থেকে এমনভাবে মানুষ করা হয়েছে যে, আমাদের ফ্রাসট্রেশন টলারেন্স লেবেলটাই একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে৷ যা শেষ অবধি আত্মঘাতী হয়ে উঠছে৷

আত্মহত্যার সমস্যা গোটা বিশ্বেই৷ কিন্তু আমাদের বেঁধে-বেঁধে থাকা বাঙালি সমাজে কেন তা মহামারীর আকার নিল গত দু-দশকে, তার খোঁজ করতে গেলে কোথাও আমাদের সেই শিকড়ের সন্ধানে বেরোতে হবে৷ খুঁজতে হবে সেই যূথবদ্ধতাকে৷ যৌথ পরিবারের খারাপগুলোকে বাদ দিয়ে ভালগুলো নিয়ে বাঁচতে শিখতে হবে৷ আর দাও ফিরে অরণ্য-র মতো করেই বলতে হবে, দাও ফিরে সেই পাড়া৷ দাও ফিরে সেই আকাশ৷ দাও ফিরে সেই মাঠ৷  আর, দাও ফিরে সেই রক্তমাংসের বন্ধু৷

 

2020 New Ad HDFC 04

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 006 TBS

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Comm Ad 026 BM

নবান্নের কন্ট্রোলরুমে মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী।

নবান্নের কন্ট্রোলরুমে মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার সারারাত নবান্নে থেকেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার সারারাত নবান্নে থেকেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব, ডিজি-সহ অন্য কর্তারা।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব, ডিজি-সহ অন্য কর্তারা।

মঙ্গলবারের পর বুধবার বিকেলেও শহরের বিভিন্ন জায়গায় যান মুখ্যমন্ত্রী।

মঙ্গলবারের পর বুধবার বিকেলেও শহরের বিভিন্ন জায়গায় যান মুখ্যমন্ত্রী।

তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা ও মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা ও মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

এদিন খিদিরপুর, পার্ক সার্কাস, বালিগঞ্জ ফাঁড়ির মতো দক্ষিণ কলকাতার একাধিক জায়গায় যান।

এদিন খিদিরপুর, পার্ক সার্কাস, বালিগঞ্জ ফাঁড়ির মতো দক্ষিণ কলকাতার একাধিক জায়গায় যান।

এদিনও স্থানীয়দের লকডাউন মেনে চলার অনুরোধ করেন তিনি।

এদিনও স্থানীয়দের লকডাউন মেনে চলার অনুরোধ করেন তিনি।

এই নিয়ে পরপর দু'দিন শহরের বিভিন্ন জায়গায় গেলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই নিয়ে পরপর দু'দিন শহরের বিভিন্ন জায়গায় গেলেন মুখ্যমন্ত্রী।

তাঁর এই কাজকে তীব্র ভাষায় বিঁধেছেন বিরোধীরা।

তাঁর এই কাজকে তীব্র ভাষায় বিঁধেছেন বিরোধীরা।

পূবস্হলি দক্ষিণ বিধানসভার কালনা ১নং ব্লকের শাখাটি আদিবাসী পাড়ার বাহা পুজোর উৎসব

পূবস্হলি দক্ষিণ বিধানসভার কালনা ১নং ব্লকের শাখাটি আদিবাসী পাড়ার বাহা পুজোর উৎসব

সেখানেই যান মাননীয় মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ

সেখানেই যান মাননীয় মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ

গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। জানতে চান সুবিধা-অসুবিধার কথা

গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। জানতে চান সুবিধা-অসুবিধার কথা

পরে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধনও করেন মন্ত্রী

পরে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধনও করেন মন্ত্রী

জনগণের সঙ্গে বসে অনুষ্ঠানও দেখেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ

জনগণের সঙ্গে বসে অনুষ্ঠানও দেখেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ

প্রায় ঘণ্টাখানেক এই অনুষ্ঠানেই ছিলেন তিনি

প্রায় ঘণ্টাখানেক এই অনুষ্ঠানেই ছিলেন তিনি

#

#

Voting Poll (Ratio)

corona 02

Editors Choice

Comm Ad 026 BM