Comm AD 12 Myra

এবার মিশন চ্যাম্পিয়ন আই লিগ

Share Link:

এবার মিশন চ্যাম্পিয়ন আই লিগ

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাফল্য পেলে অনেক ভিড় হয়। তখন হাত বাড়ালে সবাইকে কাছে পাওয়া যায়। কিন্তু সাফল্য পাওয়ার রাস্তাটা সহজে তৈরি হয় না। অনেক ঘাম ঝরাতে হয়। সাত বছর বাদে মহমেডানের আই লিগের মূলপর্বে ওঠার পিছনেও তেমনই অনেক অজানা কাহিনি রয়েছে। এই লেখায় তা ফুটিয়ে তুলতে চাই।

দ্বিতীয় ডিভিশন আই লিগ কলকাতায় হবে কিনা তখনও চূড়ান্ত নয়। ক্লাবের তরফে চিঠি লিখলাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে। কলকাতায় দ্বিতীয় ডিভিশন আই লিগ করতে দেওয়া হোক। একদিন ভোরবেলা সচিব ওয়াসিম আক্রামকে সঙ্গী করে ববিদার (ফিরহাদ হাকিম) বাড়িতে পৌঁছে গিয়ে তাঁর হাতে সেই চিঠি তুলে দিলাম। সরকার অনুমতি দিল কলকাতায় খেলা করার। এতে আমাদের জন্য অনেকটা অ্যাডভান্টেজ। কল্যাণী, যুবভারতী—দুটোই ফুটবলারদের ঘরের মাঠ। যা টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই মহমেডানকে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছিল। এরজন্য মুখ্যমন্ত্রী, ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে ধন্যবাদ। পাশাপাশি আইএএফএ সচিব জয়দীপ মুখার্জির কাছেও কৃতজ্ঞ, উনি দারুণভাবে আমাদের পাশে থেকেছেন। সাহায্য করেছেন।

দ্বিতীয় ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পিছনে টার্নিং পয়েন্ট বলতে গেলে প্রথম ম্যাচে শেষ মুহূর্তে মুনমুন লাগুনের করা গোল। ওইদিন ম্যাচটা জিততে না পারলে বিপদ হয়ে যেত। প্রথমে ঠিক করেছিলাম, জৈব বলয়ে থাকব। কিন্তু একজন বিধায়ক হিসেবে সামাজিক দায়–দায়িত্ব পালন করতে হয়। শেষপর্যন্ত জৈব বলয়ে থেকে দলকে সাহায্য করতে পারিনি। এরজন্য আমি দুঃখিত। দ্বিতীয় ম্যাচের আগেরদিন রাত এগারোটা পর্যন্ত ফুটবলারদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছি। ওয়াসিমও ছিলেন ভিডিও কলে। প্লেয়ারদের অনুপ্রাণিত করেছি। কোচ ইয়ান ল–কে বরখাস্ত করার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।

ডুরান্ডে পরপর দুটো ম্যাচ হারের পর দল আমাকে দায়িত্ব দেয়। টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হই। ওই দল নিয়েই কলকাতা লিগ শুরু করে প্রথম ম্যাচ ড্র হয়। তারপর ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরে দল। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। ময়দানের মাঠে কলকাতা লিগ হওয়ায় অনেক সমর্থক আসতে পেরেছিলেন। দর্শকদের মাঝে বাঙালি ব্রিগেড জ্বলে উঠেছিল।

সদ্য শেষ হওয়া টুর্নামেন্টে গোলকিপার প্রিয়ন্ত সিং দারুণ ফর্মে ছিলেন। এই প্রিয়ন্তকে কলকাতা লিগের পর বাবলুদা (সুব্রত ভট্টাচার্য) বাদ দিয়েছিলেন। প্রিয়ন্ত ভেঙে পড়েন। ওর সঙ্গে আলাদা করে কথা বলি। ওকে বলেছিলাম, তুই–ই দলের এক নম্বর কিপার। ভেঙে পড়ার কিছু হয়নি। সেই প্রিয়ন্তই দ্বিতীয় ডিভিশনে নিজেকে প্রমাণ করে দিল। ফিরোজ আলির কথাও বলতে হয়। মোহনবাগান ম্যাচের আগের কয়েকটা ম্যাচ ও খেলেনি। ওকে বলেছিলাম, মোহনবাগান ম্যাচে তুই খেলবি। ফিরোজকে বলেছিলাম, শেখ সাহিলের থেকে বেইতিয়া যেন বল না পায়। সাপ্লাই লাইন কাটার দায়িত্বে ছিল। সেই ফিরোজ দ্বিতীয় ডিভিশন লিগেও দারুণ খেলে। অর্থাৎ কলকাতা লিগের সময় থেকেই দলটার মধ্যে বঁাধন তৈরি হয়। প্রায় একই দল ধরে রেখেছিলাম। কয়েকজন নতুন ফুটবলারকে সই করানো হয়।

কলকাতা লিগের পর আমরাও প্রতিজ্ঞাবব্ধ হই, আরও ভাল করতে হবে। সিকিম গভর্নস গোল্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হল দল। করোনা পরিস্থিতিতে বায়ো–বাবলে থেকে ম্যাচ খেলা, ফুটবলারদের কাছে একেবারে নতুন চ্যালেঞ্জ ছিল। ম্যানেজার বেলাল আহমেদ বায়ো বাবলে থেকে অনবরত ফুটবলারদের তাতিয়ে গিয়েছেন। সহকারি কোচ শাহিদ রমন নিঃশব্দে নিজের কাজটা করে গিয়েছেন। আই লিগের মূ‍লপর্বে ওঠার পিছনে গোটাটাই টিমওয়ার্ক।

ইনভেস্টার আসার খবরে ফুটবলাররাও চাঙ্গা। এই ইনভেস্টার আনার পিছনে সচিব ওয়াসিমের অক্লান্ত পরিশ্রম। মহমেডানের এত বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ইনভেস্টার এল। পাশাপাশি শারিক আহমেদ, হাসনাইন, তাহা আহমেদ সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় সমর্থকদের মুখে হাসি ফুটেছে। আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়ল। এতদিন আমাদের মিশন ছিল আই লিগ। সেটা হয়েছে। এবার মিশন ‘চ্যাম্পিয়ন আই লিগ’।

কলমে : দীপেন্দু বিশ্বাস
 

Comm Ad 2020-Valentine body

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 2020-WB Tourism RC

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Comm Ad 006 TBS

খিদিরপুর থেকে শুরু করে বেহালা, হরিদেবপুর,

খিদিরপুর থেকে শুরু করে বেহালা, হরিদেবপুর,

মুদিয়ালী ছুঁয়ে সোধপুর পার্ক

মুদিয়ালী ছুঁয়ে সোধপুর পার্ক

বাবুবাগান হয়ে উদ্বোধনের যাত্রা শেষ হল একডালিয়া,

বাবুবাগান হয়ে উদ্বোধনের যাত্রা শেষ হল একডালিয়া,

হিন্দুস্থান পার্ক, ত্রিধারার চত্বরে এসে।

হিন্দুস্থান পার্ক, ত্রিধারার চত্বরে এসে।

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 2020-LDC Momo
Comm Ad 2020-LDC Momo