Comm Ad 018 Kalna

জোট জটিলতা বাড়িয়ে বামেদের মিছিল এড়ালেন অধীর

Share Link:

জোট জটিলতা বাড়িয়ে বামেদের মিছিল এড়ালেন অধীর

নিজস্ব প্রতিনিধি: শুধু ভোটের সময়ে আসন ভাগাভাগি বা আসন রফা নয়। দুই শিবিরে রাখতে হবে নিরন্তর সংযোগ। তবেই এই জোটকে ঘিরে আগ্রহ দেখাবে রাজ্যের মানুষ। নিরন্তর যোগাযোগ ও বছরভর যৌথ আন্দোলন থাকলে তবে মানুষের সমর্থন আবারও ফিরে পাওয়া যাবে। জোটের বিশ্বাসযোগ্যতা পৌঁছে যাবে মানুষের কাছে। এটাই এরাজ্যে বাম-কংগ্রেস জোট নিয়ে লাল পার্টির নেতাদের বক্তব্য। এই বক্তব্য তাঁরা অনেক আগেই পৌঁছে দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস থেকে জাতীয় কংগ্রেসের অন্দরে। তবুও সেই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন বা যৌথ কর্মসূচিত পালন আর কোথাও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। অন্তত এই ভোটমুখী বাংলায়। সবটাই যেন কোথাও থমকে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। আগামী ২৬ নভেম্বর মানে আগামী বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় শ্রমিক ও কৃষক ইউনিয়ন সমূহের ডাকে দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়েছে রাজ্যের বাম-কংগ্রেস জোট। সেই ধর্মঘটের সমর্থনে সোমবার কলকাতায় মহামিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল। মিছিলে অংশ নিতে বলা হয়েছিল প্রদেশ কংগ্রেসের নেতাদেরও। সেই আমন্ত্রণ রক্ষা করেছেন প্রদীপ ভট্টাচার্য্য, কৃষ্ণা দেবনাথ, মায়া ঘোষরা। কিন্তু মিছিলে চোখে পড়েনি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী বা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানকে। ছিলেন না জেলাস্তরের হেভিওয়েট কোনও নেতাও। স্বাভাবিক ভাবেই বামেদের তা ভালো লাগেনি।
 
সোমবার সন্ধ্যায় ধর্মঘটের সমর্থনে ধর্মতলার লেনিন মূর্তি থেকে শুরু হয়ে মল্লিকবাজারে গিয়ে শেষ হয় বামেদের ডাকা মিছিল। তাতে অংশগ্রহণ করেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র-সহ বাম নেতৃত্ব। কংগ্রেসের তরফে প্রদীপ ভট্টাচার্য্য, কৃষ্ণা দেবনাথ, মায়া ঘোষরা মিছিলে হাঁটলেও তাঁরা কেউই সামনের সারিতে থাকেননি। পিছনের দিকে ছিলেন। কিন্তু এত বড় আয়োজন যেখানে সেখানে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নিজে উপস্থিত নেই, স্বাভাবিকভাবে এই বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়েছে। সোম সন্ধ্যায় মিছিলের শুরুতেই ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু জানান, ‘২৬ তারিখের ধর্মঘটে দেশের অধিকাংশ শ্রমিক, কৃষক ও কর্মচারি ইউনিয়ন সমর্থন জানালেও বিজেপি ও তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন অংশ নেয়নি। কেন্দ্রের নয়া শ্রমিক ও কৃষি আইনের বিরুদ্ধে এই ধর্মঘট। ওইদিন রাজ্য সরকারের ভূমিকা আরও একবার প্রমাণ করবে তৃণমূল ও বিজেপি তলায়-তলায় আঁতাঁত করে আছে। ধর্মঘট ভাঙতে এলে বামপন্থীদের সঙ্গে লড়াই হবে।’
 
তবে ২৬ তারিখের ধর্মঘট সমর্থন জানালেন রাজ্যের বাম বুদ্ধিজীবিরা। শ্রম ও কৃষি আইন বাতিল-সহ কয়েকদফা দাবিতে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন এবং জাতীয় ফেডারেশনগুলি আগামী ২৬ নভেম্বর সারা ভারত জুড়ে যে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে তাকে সমর্থন জানিয়ে সোমবার প্রসার ভারতীর প্রাক্তন সিইও জহর সরকার, শিক্ষক নেতা বিশ্বজিৎ মিত্র, মানবাধিকার কর্মী সুজাত ভদ্র, অধ্যাপক তরুণকান্তি নস্কর-সহ বাম বুধিজীবিরা বিবৃতি দিয়ে তাঁদের বক্তব্য জানিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, ‘কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে আলোচনা না করে, একতরফা ভাবে জাতীয় শিক্ষানীতি দেশের মানুষের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে সর্বস্তরের মানুষের নিরলস প্রচেষ্টা ও শ্রমের বিনিময়ে যে প্রাকৃতিক সম্পদ সৃষ্টি হয়েছিল এবং তার ফলে যে রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্পসংস্থাগুলি গড়ে উঠেছিল কেন্দ্রীয় সরকার এক কথায় দেশের ধনকুবের গোষ্ঠীর হাতে তুলে দিয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সারা ভারত সেভ এডুকেশন কমিটির ডাকে আমরা আগামী ২৬ নভেম্বর সাধারণ ধর্মঘটকে সমর্থন করার জন্য সর্বস্তরের মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছি।’ কিন্তু মিছিল শেষে প্রশ্ন থেকে গেল কংগ্রেসের গা ছাড়া মনোভাবের বিষয়টি। প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি মিছিলে যায়নি কারণ তিনি এখন দিল্লিতে আর আব্দুল মান্নান যেতে পারেননি কারণ তিনি দার্জিলিংয়ে। তবে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে বামেরা অধীররঞ্জন চৌধুরীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প বা জোটের মুখ তথা ভাবী মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে মেনে নেননি বলে অধীর গোষ্ঠী মিছিল বয়কট করেছে। সম্ভবত রাহুল গান্ধির সঙ্গে বৈঠকে তাঁরা জোট না হওয়ার পক্ষেই সাওয়াল করবেন।  

Comm Ad 2020-WB Tourism body

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 026 BM

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

corona 02

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের  সমাপ্তি অনুষ্ঠান

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠান

#

#

#

#

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 2020-himalaya RC
Comm Ad 2020-LDC Egg