2020 New Ad HDFC 04

ডিএসডিএ’র নয়া চেয়ারম্যান অখিল, প্রশাসক বদল এগরা ও তমলুকেও

Share Link:

ডিএসডিএ’র নয়া চেয়ারম্যান অখিল, প্রশাসক বদল এগরা ও তমলুকেও

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজনীতির ময়দানে প্রচলিত সত্য এটাই শত্রুর শত্রু আমার মিত্র। অনেকে তা মেনেও চলেন। আর এই নিয়ম অনুযায়ীই কখনও কখনও অতিবড় দুই শত্রুকেও হাত মেলাতে হয় তৃতীয় কাউকে জব্দ করার জন্য। বাংকার রাজনীতিতেও এই নীতির প্রয়োগ ঘটাতে বহুবার দেখা গিয়েছে। এবার আবারও সেই নীতির রূপায়ণ দেখা যাচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রামনগরের তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরির ক্ষেত্রে। তথাকথিত ভাবে অধিকারী পরিবারের বিরোধী অখিলের গুরুত্ব এখন ক্রমশই বেড়ে চলেছে দল ও প্রশাসনের অন্দরে। সবটাই যে অধিকারীদের দাপট খর্ব করতে করা হচ্ছে তাও কার্যত বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না। তবে এবার বড়সড় রাজ্য সরকারের তরফেই ধাক্কা খেতে হল অধিকারীদের। দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের(ডিএসডিএ) চেয়ারম্যান করা হল অখিল গিরিকে। আর সেটাও কাঁথির তৃণমূল সাংসদ তথা জেলা তৃণমূলের সভাপতি শিশির অধিকারীকে সরিয়ে দিয়ে। স্বাভাবিক ভাবেই ঘটনার জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।  
 
অধিকারীদের সঙ্গে অখিলের বিবাদ নতুন কিছু নয়। এই বিবাদ দীর্ঘকাল ধরেই চলে আসছে। যদিও শোনা যায় দুই পরিবার নাকি একে অপরের আত্মীয়। কিন্তু তাঁরা চট করে প্রকাশ্যে সে কথা স্বীকার করেন না। কার্যত বাম জমানা থেকেই এই বিবাদ চলে আসছে। তবে সেই বিবাদে এখনও পর্যন্ত রক্তারক্তির দিকে গড়ায়নি। যদিও অধিকারীদের তরফে বার বার অভিযোগ তোলা হয়েছে অখিলের বিরুদ্ধে নানা সময়ে নানা ভাবে। এমনকি বামেদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অধিকারীদের বা তৃণমূলকে বিপদে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে নানা সময়ে। যদিও তৃণমূলের তরফে কোনওদিনই অখিলকে যেমন খুব গুরুত্ব দেওয়া হয়নি তেমনি তাঁকে কোনও ধাক্কা দেওয়াও হয়নি। আর অখিলের এই থেকে যাওয়া অধিকারীদের কাছেও অস্বস্তি হয়ে থেকে গিয়েছিল। এখন সেই অস্বস্তি কার্যত তাঁদের গলার কাঁটা হয়ে উঠছে ক্রমশ। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব তৈরি হওয়ার পর থেকেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় দলের অন্দরে একাধিকাবার বদল ঘটিয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। কার্যত জেলায় দলের সব পদ থেকেই ধাপে ধাপে অধিকারী ঘনিষ্ঠদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তথাকথিত ভাবে অধিকারী বিরোধীদের দিয়েই শূন্যস্থান পূরণ করা হয়েছে।
 
দলের অন্দরে যে অখিল গিরির কদর ক্রমশ বাড়ছে সেটা কার্যত সামনে চলে আসে মুখ্যমন্ত্রীর নন্দীগ্রাম সফর পিছিয়ে যাওয়ায়। গত ৭ জানুয়ারি নন্দীগ্রামের তেখালিতে সভা করার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু অখিলবাবু কোভিডে আক্রান্ত হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী সেই সভা পিছিয়ে ১৮ জানুয়ারি করে দেন। স্মরণাতীত কালে তৃণমূলের কেউ মনে পারছেন না যে দলের কোনও বিধায়ক অসুস্থ হওয়ায় তৃণমূলনেত্রী এর আগে কবে কোথায় তাঁর ঘোষিত সভা পিছিয়ে দিয়েছেন। কার্যত এই এক ঘোষণাতেই পরিষ্কার দলে কদর বাড়ছে অখিল গিরির। ইতিমধ্যেই তাঁর ছেলে সুপ্রকাশ গিরিকে যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি পদে বসানো হয়েছে। আর এদিন তো বেশ কয়েক কদম এগিয়ে শিশির অধিকারীকে সরিয়ে ডিএসডিএ’র চেয়ারম্যান করে দেওয়া হল গিরিকে। অখিলবাবু আগে থেকেই রামনগরের বিধায়ক হওয়ার সুবাদে ডিএসডিএ-ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। কিন্তু এবার তাঁর হাতেই চলে গেল ডিএসডিএ। অখিলবাবুকে চেয়ারম্যান করার পাশাপাশি ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে দেশপ্রাণ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তরুন জানাকে। অখিলবাবুর ছেলেকেও কাঁথি পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের সদস্য করা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে এবার পূর্ব মেদিনীপ্যর জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে শিশির অধিকারীকে। সেই দায়িত্ব কার্যত পেতে পারেন অখিল গিরি। এই নিয়ে দলীয় স্তরে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী নন্দীগ্রামের সভামঞ্চ থেকেই করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
 
একই সঙ্গে এদিন এগরা ও তমলুক পুরসভার প্রশাসক পদেও বদল করা হয়েছে। তমলুকে শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ রবীন্দ্রনাথ সেনকে প্রধান প্রশাসকের পদ থেকে সরিয়ে সেই পদে নিয়ে আসা হয়েছে দীপেন্দ্র নারায়ণ রায়কে। একই সঙ্গে বোর্ডে আনা হচ্ছে চন্দন প্রধান, চিত্ত মাইতি, সুব্রত রায়, শক্তিপদ ভট্টাচার্য, পৃথীশ নন্দী ও স্নিগ্ধা মিশ্রকে। বদল ঘটেছে এগ্রার ক্ষেত্রেও। সেখানে প্রধান প্রশাসক পদে আনা হচ্ছে স্বপন নায়েককে। আগে এই পদে ছিলেন শঙ্কর বেরা। প্রশাসক বোর্ড থেকে পারুল মাইতিকে সরিয়ে সেখানে আনা হচ্ছে তপনকান্তি কর, পার্থসারথী দাস, পুলিন দাস, বাদল অশ্রু ঘাটা, শিল্পা দাস ও তপন হাতিকে। উল্লেখ্য কাঁথি পুরসভার প্রশাসক পদ থেকে গত বছরের একদম শেষ দিকে সরিয়ে সেওয়া হয় শিশিরপুত্র সৌমেন্দু অধিকারীকে। তা নিয়ে সৌমেন্দু আবার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে। সেই মামলার রায় এখনও দেননি বিচারপতি। তবে সেই মামলা ঠুকেও বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি অধিকারীপুত্র। এখনও ফেরত পাননি কাঁথি পুরসভার প্রশাসক পদ। আর চট করে যে তা ফেরতও পাবেন এমন আশাও কেউ দেখছেন না।

Comm Ad 2020-Valentine body

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 2020-himalaya RC

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Comm Ad 2020-himalaya RC

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের  সমাপ্তি অনুষ্ঠান

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠান

#

#

#

#

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 2020-WBSEDCL RC
Comm Ad 008 Myra