এই মুহূর্তে

বিধানসভা ভোটে ‘মোদি-শাহ-জ্ঞানেশের’ বিরুদ্ধে বাঙালির লড়াই, জানিয়ে দিল তৃণমূলপন্থী বিদ্ধজনরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: এসআইআরের অত্যাচার নিয়ে লন্ডভন্ড বাংলা। তথ্য থাকা সত্ত্বেও এসআইআরের শুনানিতে ডাক পেয়েছেন বাংলার একাধিক গুণীজনেরা। ‘ভারতীয় নাগরিক’ যাচাইয়ের জন্যে সব কাজ ফেলে দিয়ে শুনানি কেন্দ্রে হাজির দিতে হয়েছে তাঁদের। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিভিন্ন সভায় গিয়ে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে বিঁধছেন। বাংলা এবং বাঙালির পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সুর চড়াচ্ছেন। বিজেপি ঘেঁষা কমিশন ইচ্ছে করেই বাংলাকে আক্রমণ করছে। এটাই বারবার বিভিন্ন বক্তব্য বলছে তৃণমূল সরকার। বাংলা দখল করতেই বিরোধী দলের এমন প্রয়াস। এবার বিধানসভা ভোটে মোদি-শাহ-জ্ঞানে কুমারের বিরুদ্ধে বাঙালির লড়াইয়ের ডাক দিল তৃণমূলপন্থী বিদ্ধজনরা। SIR নিয়ে বিজেপির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে এক বন্ধনীতে ফেলে আক্রমণ করছে তৃণমূল।

এবার তৃণমূলপন্থী বিদ্ধজ্জনেদের সংগঠন ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’ সুনির্দিষ্ট করে প্রতিপক্ষ চিহ্নিত করল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে এই ত্রয়ীর বিরুদ্ধে বাঙালির লড়াই হিসাবে অভিহিত করল বিদ্ধজনেদের সংগঠন ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট থেকেই বাঙালি গরিমাকে গুরুত্ব দিচ্ছে তৃণমূল। বাঙালি অস্মিতাকে সাক্ষী রেখেই প্রচার চালাচ্ছে। ২০২১ সালে তৃণমূলের স্লোগান ছিল ‘বাংলা নিজের মেয়েকে চায়’। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের স্লোগান ছিল, ‘জনগণের গর্জন, বাংলা বিরোধীদের বিসর্জন’। আর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে আসতেই তৃণমূলের নতুন স্লোগান, ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’।

তবে মঙ্গলবারের সাংবাদিক বৈঠকে ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’ দলীয় কোনও স্লোগানের কথা উল্লেখ করেনি। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে তাঁদের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করেছে। সেখানেই মোদি, শাহের সঙ্গে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশের নাম জুড়ে দিয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইকে বাঙালির অস্তিত্বের লড়াই হিসাবে অভিহিত করেছে। সাংবাদিকদের সামনে মঞ্চের অন্যতম ‘মুখ’ রন্তিদেব সেনগুপ্ত বিজেপির ত্রয়ীর কথা উল্লেখ করেছেন। যিনি গত বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। এবার তিনিই সুর পাল্টে বিজেপির বিরোধিতা করে জানালেন, বাঙালির লাশের উপর দিয়ে বিজেপি বাংলা দখল করতে চাইছে। তাই প্রতিরোধ গড়তে না-পারলে, বাঙালির অস্তিত্ব হারাবে। এদিন বৈঠকে হাজির ছিলেন রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু, সঙ্গীতশিল্পী সৈকত মিত্র, অভিনেতা বিবস্বান ঘোষ, পানিহাটির বাসিন্দা ‘SIR আতঙ্কে’ মৃত প্রদীপ করের ভাগ্নি শিল্পী ওঝা, ‘কাজের চাপে’ মৃত মুকুন্দপুরের বিএলও অশোক দাসের স্ত্রী সুদীপ্তা দাস, মতুয়া মহাসঙ্ঘ ও গোসাঁই পরিষদের প্রতিনিধিরাও।

এদিন SIR-এর বিরোধীতা করে সুদীপ্তা বলেন, তাঁর স্বামী যাদবপুর বিধানসভার ১১০ নম্বর অংশের BLO ছিলেন। চাপের কারণে বুথে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন। তা জানানো সত্ত্বেও তাঁকে কাজ যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। বর্তমানে ১৩ বছরের পুত্রকে নিয়ে কী ভাবে সংসার সামলাবেন জানেননা। সরকার যদি বাড়ির কাছে একটা কাজের বন্দোবস্ত করে তা হলে খুব ভাল হয়। তাঁর প্রস্তাব গ্রহণ করেছে তৃণমূলপন্থী এই মঞ্চটি। এদিন মতুয়া সমাজের প্রতিনিধিরাও এসআইআর নিয়ে সরব হয়েছেন। বিজেপি এবং আরএসএস মিলে প্রান্তিক অংশের মানুষকে রাষ্ট্রহীন করতে চাইছে দাবি তুলেছেন। এছাড়া SIR শুনানিতে ডাক পাওয়া জয় গোস্বামী, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের সচিব গীতিকণ্ঠ মজুমদারও ভিডিওর মাধ্যমে তাঁদের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

লাল পলাশে ঢাকা রাঙামাটির পথ, বসন্তের ছুটিতে গন্তব্য হোক বাঁকুড়ার এই লুকোনো স্বর্গ

৩৩ হাজার গরিব মহিলার মাথার উপর পাকা ছাদের বন্দোবস্ত করছে নবান্ন

ভয়ঙ্কর কাণ্ড! রিল বানাতে বানাতে শিব ঠাকুরের মাথায় উঠে পড়লেন যুবতী, তারপর..

অভিষেকের প্রস্তাবে মান্যতা দিল কলকাতা হাইকোর্ট, কীসে পড়ল সম্মতি?‌

‘‌বনধ নাগরিক স্বাধীনতার পরিপন্থী’‌, মমতার নীতির সঙ্গে সহমত শশী থারুর

বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনায় ধৃতদের জেল হেফাজতের মেয়াদ বাড়ল

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ