Comm AD 12 Myra

জল মাপছেন মুকুলপুত্র, জল্পনা বাড়াচ্ছেন রাহুল! অস্বস্তিতে বিজেপি

Share Link:

জল মাপছেন মুকুলপুত্র, জল্পনা বাড়াচ্ছেন রাহুল! অস্বস্তিতে বিজেপি

নিজস্ব প্রতিনিধি: নাহ সব কিছু ঠিক চলছে না রাজ্য বিজেপিতে। মুখে গেরুয়া ব্রিগেড যতই ‘নো প্রবলেম’ ভাব দেখাক না কেন ‘প্রবলেম’ কিন্তু বেড়েই চলেছে পদ্মশিবিরে। ক্রমশ প্রকট হচ্ছে বঙ্গ বিজেপিতে ভাঙনের সম্ভাবনা। আর তার লাভের ফসল ঘরে তোলার তাল ঠুকছে রাজ্যের শাসক দল। আপাতত ঘটনার নেপথ্যে দুই বিধায়ক ও এক নেতা যিনি কিনা আবার রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি। দুই বিধায়কের একজন মুকুলপুত্র শুভ্রাংশু রায়, অন্যজন আলিপুরদুয়ার জেলার দুই বিজেপি বিধায়ক উইলসন চম্প্রামারি অথবা মনোজ টিগগার মধ্যে যে কোনও একজন। আর যে নেতা রয়েছেন এই তালিকায়, তিনি আর কেউ নন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি রাহুল সিনহা। এদেরকে ঘিরেই এখন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব কার্যত চূড়ান্তভাবে দিশাহারা।

প্রথমেই আসা যাক শুভ্রাংশু রায়ের প্রসঙ্গে। দুই দিন আগেই নিজের ফেসবুকে শুভ্রাংশু পোস্ট করেছিলেন যে রাজনীতি থেকে অবসর নিলে কেমন হয়। সেই পোস্টের জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। অনেকেই ভেবেছিলেন শুভ্রাংশুর এই পোস্ট আদতে বিজেপি ছাড়ার পূর্ব লক্ষ্মণ। বাস্তবে সত্যিই বিজেপির রাজনীতিতে এখন রীতিমত কোনঠাসা দশা শুভ্রাংশুর। তাঁকে দলের কোনও সভা-সমিতি-মিছিলে বা কর্মসূচীতে ডাকা হয় না। তাঁকে রাজ্য কমিটির সদস্য করা হলেও জেলায় বা স্থানীয় স্তরে তাঁকে কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এমনকি স্থানীয় স্তরের বিজেপির ঘরোয়া সভাতেও তাঁকে ডাকা হয়নি। এমনকি এ কথাও শোনা যাচ্ছে যে এবারে রাজ্য বিধানসবা নির্বাচনে বীজপুর থেকে আর শুভ্রাংশুকে টিকিট দেবে না বিজেপি। আর এইসব কিছু নিয়েই ক্ষোভ বাড়ছিল মুকুলপুত্রের মধ্যে। তার জেরেই ওই পোস্ট। গতকাল কাঁচড়াপাড়ায় নিজেদের বাড়িতে একটি সাংবাদিক বৈঠক ডেকেও শেষপর্যন্ত তা আর করেননি মুকুলপুত্র। কিন্তু টিটাগড়ে বিজেপির মিলিছে তাঁর নাম ঘোষিত হলেও সেখানে যাননি শুভ্রাংশু। পরিবর্তে ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়েছেন বার্তা মানুষের পাশে থাকার। রাজনীতি না ছাড়ার। কারন মানুষই নারায়ণ, মানুষই রাম। আর সব থেকে লক্ষ্যণীয় বিষয়ে সেই পোস্টে থাকা নীল রঙ যা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রিয় রঙ ও যা এখন রাজ্য সরকারের প্রায় সব কিছুতেই দেখা যায়। এসব দেখে অনেকেরই ধারনা জক মাপছেন মুকুলপুত্র। বিজেপিতে দর না পেলে ফের তৃণমূলের ফিরে যেতে পারেন তিনি। এমনিতেই দলবদল করলেও খাতায় কলমে তৃণমূল বিধায়ক হিসাবেই রয়ে গিয়েছেন তিনি।

ডুয়ার্সের বুকে প্রচলিত কথা, সেখানকার অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে থ্রিটি’র ওপরে। থ্রিটি মানে তিনটি ‘T’। এই তিনটি ‘T’ আবার হল Tea’, ‘Teamber’ ও ‘Tourism’। সেই টিম্বার বা কাঠচেরাই ও ব্যবসার বেতাজ বাদশা হলেন আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনির বিধায়ক উইলসন চম্প্রমারি। এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি সেখানকার বিধায়ক। ২০০৯ সালে কালচিনি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বামফ্রন্ট প্রার্থীকে পরাস্ত করে প্রথমবার জয়ী হয়েছিলেন উইলসন। তাঁর সঙ্গে বরাবরই বিমল গুরুং ও রোশন গিরির ভালো সম্পর্ক রয়েছে। কার্যত সেই সময় তো বটেই ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও মোর্চা সমর্থিত নির্দল প্রার্থী হিসাবে জয়ী হন উইলসন। পরে যোগ দেন তৃণমূলে। কিন্তু পুলিশের কাছে খবর ছিল ডুয়ার্স জুড়ে চোরাই কাঠের কারবার চালাচ্ছেন এই বিধায়ক। তার জেরে তাঁর বাড়ি ও কাঠচেরাই কলে হানা দেন বনদফতরের আধিকারিকেরা। উদ্ধার হয় প্রচুর বেআইনি কাঠ যা মজুত করে রাখা হয়েছিল। সেই মামলা এখনও চলছে। ২০১৯ সালে উইলসন দিল্লি গিয়ে যোগ দেন বিজেপিতে। এদিকে সেই মামলার জেরে আর মোর্চার শক্তিক্ষয়ে কালচিনিতে ক্রমশ ফিকে হতে থাকে উইলসনের প্রভাব। শোনা যাচ্ছে তিনি আবার তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন দলে ফিরতে চেয়ে। আবার মাদারিহাটের বিজেপি বিধায়ক মনোজ টিগগা খুব অল্প ভোটের ব্যবধানে ২০১৬ সালে জয়ী হন। কিন্তু কোনওদিনই তাঁকে বিজেপির কোনও কর্মসূচীতে দেখা যায় না। কার্যত একঘরেই করে রাখা হয়েছে তাঁকে। সেই ক্ষোভে এবার দলবদলের কথা শোনা যাচ্ছে এই বিধায়কের জন্য। আগামী দিনে এই দুই বিধাযয়কে রাজ্যের শাসক দলের শিবিরে দেখা গেলে খুব একটা অবাক হওয়ার মতো কিছু থাকবে না।

সবশেষে রাহুল সিনহা। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে রয়েছেন তিনি গেরুয়া শিবিরে। বেশ স্বচ্ছ ইমেজের রাজনীতিবিদ। এখনও অবধি কোনও নির্বাচনে যেমন জয়ী হতে পারেননি তেমনি তাঁকে ঘিরে কোনও দুর্নীতি বা বিতর্কও নেই। সাম্প্রতিকালে রাজ্য বিজেপির নেতাদের মতন তাঁকে ভুলভাল বলতে যেমন দেখা যায়নি তেমনি নারীঘটিত কেলেঙ্কারিতেও তাঁর নাম জড়ায়নি। অথচ তাঁকেই রাজ্য বিজেপিতে কার্যত কোনঠাসা করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বাতিলের খাতায় চলে গিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। তা নিয়ে রাহুল সিনহাকে ক্ষোভ উগরে দিতেও দেখা গিয়েছে। এখনও তিনি বিজেপিতেই রয়েছেন, কিন্তু আর কতদিন থাকবেন সেটাই সন্দেহ। জল্পনা আরও বেড়েছে গতকাল থেকে। রাহুল সিনহা নিজেই জানিয়েছেন তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তৃণমূল সূত্রে খবর রাহুল সিনহা তৃণমূলে যোগ দিতে চাইলে তাঁকে স্বাগত জানাবে জোড়াফুল। কারন এই মানুষটির ভোটব্যাংক ছড়িয়ে র‍্যেছে বাংলা জুড়ে। রয়েছে নিজস্ব নেটওয়ার্ক। রয়েছে নিজস্ব সংগঠন ও পরিচিতি। তাঁকে দলে নিলে সব দিক থেকেই লাভবান হবে তৃণমূল। সেক্ষেত্রে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হলে তাঁকে মন্ত্রীও করা হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। হয়তো খুব শীঘ্রই সেই দিন দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আর সেটাই কার্যত হতে চলেছে রাজ্য বিজেপির কাছে সব থেকে বড় অস্বস্তি।

Comm Ad 2020-tantuja-body

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 2020-LDC Egg

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Comm Ad 2020-LDC Momo

খিদিরপুর থেকে শুরু করে বেহালা, হরিদেবপুর,

খিদিরপুর থেকে শুরু করে বেহালা, হরিদেবপুর,

মুদিয়ালী ছুঁয়ে সোধপুর পার্ক

মুদিয়ালী ছুঁয়ে সোধপুর পার্ক

বাবুবাগান হয়ে উদ্বোধনের যাত্রা শেষ হল একডালিয়া,

বাবুবাগান হয়ে উদ্বোধনের যাত্রা শেষ হল একডালিয়া,

হিন্দুস্থান পার্ক, ত্রিধারার চত্বরে এসে।

হিন্দুস্থান পার্ক, ত্রিধারার চত্বরে এসে।

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

এক আধটা নয়, পুরো ১১০টি পুজোর উদ্বোধন একঘন্টার মধ্যেই সেরে ফেলে রেকর্ড গড়ে দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এক আধটা নয়, পুরো ১১০টি পুজোর উদ্বোধন একঘন্টার মধ্যেই সেরে ফেলে রেকর্ড গড়ে দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নবান্ন থেকে ভার্চুয়ালি ভাবে রাজ্যের ১২টি জেলার এই ১১০টি পুজোর উদ্বোধন এদিন করে দিলেন তিনি।

নবান্ন থেকে ভার্চুয়ালি ভাবে রাজ্যের ১২টি জেলার এই ১১০টি পুজোর উদ্বোধন এদিন করে দিলেন তিনি।

কখনও দূর্গাস্তোত্র পড়ে, কখনও শাঁখ বাজিয়ে, কখনও বা কাঁসর বাজিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে এদিন দেখা গেল একের পর এক জেলায় পুজোর উদ্বোধন করতে।

কখনও দূর্গাস্তোত্র পড়ে, কখনও শাঁখ বাজিয়ে, কখনও বা কাঁসর বাজিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে এদিন দেখা গেল একের পর এক জেলায় পুজোর উদ্বোধন করতে।

একই সঙ্গে নাম না করেই মাঝে মধ্যে গেরুয়া শিবিরকে খোঁচা দিয়ে তাঁকে মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করতে দেখা গেল যে মা যেন বাংলাকে দাঙ্গা থেকে বাঁচান

একই সঙ্গে নাম না করেই মাঝে মধ্যে গেরুয়া শিবিরকে খোঁচা দিয়ে তাঁকে মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করতে দেখা গেল যে মা যেন বাংলাকে দাঙ্গা থেকে বাঁচান

Voting Poll (Ratio)

2020 New Ad HDFC 05

Editors Choice

Comm Ad 2020-LDC Egg