Comm AD 12 Myra

সাত সকালেই পাহাড়ে পা রাজনাথের! বিকালে মিছিল বিনয়ের

Share Link:

সাত সকালেই পাহাড়ে পা রাজনাথের! বিকালে মিছিল বিনয়ের

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজনীতির জল কখনই এক জায়গায় থেমে থাকে না। সময়ের ঢাল বেয়ে তা বয়ে যায় নানা দিকে। সেই বহমান স্রোতের কারনেই রাজনীতির জগতে যেমন চিরশত্রু বলে কিছু হয় না তেমনি চিরমিত্র বলেও কিছু হয় না। আজ যে বন্ধু কাল সে শত্রু হতে যেমন রাজনীতির জগতে বেশি সময় লাগে না তেমনি শত্রুকে বন্ধু বলে বুকে জড়িয়ে ধরতেও বেশি সময় লাগে না। পাহাড়ের রাজনীতিতেও এবার সেই স্রোতের খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। বিমল গুরুং ও রোশন গিরিদের সঙ্গে রাজ্যের শাসক দলের বোঝাপড়া এখন এক ঘোষিত অবস্থান। তার জেরে পাহাড়ের বুকে কিছুটা হলেও অস্বস্তি ছড়িয়েছে, উঠেছে হরেক প্রশ্ন। সেই সব প্রশ্ন ও জল্পনা কল্পনাকে আরও উস্কে দিতে কাকতালীয় ভাবে এদিন সাত সকালেই যেমন পাহাড়ে পা রেখেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং তেমনি এদিন বিকালেই গুরুং-গিরিদের পাহাড়ে ফেরা রুখে দিতে মিছিল বার করতে চলেছেন বিনয় তামাং। স্বাভাবিক ভাবেই একিদিনে এই দুই কর্মসূচী ঘিরে এখন প্রশ্নের জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে পাহাড়ে।
 
এদিন সকালে দিল্লি থেকে বিশেষ বিমানে বাগডোগরা আসেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সেখান থেকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে তিনি আসেন দার্জিলিংয়ে। তাঁর এই দুই দিনের সফরে ভারত-চিন সীমান্ত সংলগ্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়ার বিষয়টি জড়িয়ে রয়েছে। সীমান্তে জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের মনোবল বাড়াবেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। করবেন সীমান্ত এলাকায় বর্ডার রোড অর্গানাইজেশনের তৈরি রাস্তার উদ্বোধনও। এদিন সকালে দার্জিলিংয়ের সুকনায় ‘শাস্ত্র পুজো’তে যোগ দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ঘটনাচক্রে এদিনই আবার বিকালে রয়েছে বিনয় তামাংয়ের মিছিল। যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পাহাড়ে বিমল গুরুং আর রোশন গিরির আসাকে ঠেকিয়ে দেওয়া। আর এই দুই ঘটনার পিছনে কোনও নতুন রাজনীতির মঞ্চ তৈরি হয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন ঘুরতে শুরু করেছে পাহাড়ের বুকে। শোনা যাচ্ছে গুরুং-গিরি হাতছাড়া হতেই গেরুয়া শিবিরের নজর পড়েছে বিনয় তামাংয়ের দিকে। তাই গেরুয়া শিবির এখন তাঁকে সমর্থন করার কথাও ভাবতে শুরু করে দিয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।
 
পাহাড়ে গুরুং-গিরি একটা সময় কার্যত শেষ কথা হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু ২০১৭ সালের হাঙ্গামার পরে পাহাড় ছাড়া হওয়ার পর থেকে তাঁদের হাত থেকে ধীরে ধীরে বেড়িয়ে গিয়েছে সব ক্ষমতা, প্রভাব, অর্থ, প্রতিপত্তি। কার্যত নিজেরাই চরম দুরাবস্থা ও কোনঠাসা অবস্থার মধ্যে পড়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত রাজ্যের শাসক দলের সঙ্গে সমঝোতা করে বাংলায় তো ফিরেছেনই, এবার পাহাড়েও পা রাখার তোড়জোড় করছেন। তবে এটা ঠিক যে গুরুং-গিরি পাহাড়ে প্রকাশ্যে এলে মোর্চার সব নেতাকে আবারও একজায়গায় আনতে তাঁদের বেশি সময় লাগবে না। আর এখানেই ক্ষমতা হারাবার ভয় বিনয় তামাং ও অনিত থাপা গোষ্ঠীর। কারন এমনিতেই পাহাড়ে তাঁদের বিশাল কিছু প্রভাব কোনও কালেই ছিল না। কার্যত পিছনে রাজ্য সরকারের তাঁদের প্রতি সমর্থন ছিল তাই তাঁরা ক্ষমতায় রয়ে গিয়েছেন। কিন্তু এখন গুরুং-গিরি পাহাড়ে ফিরলে সেই সমর্থন ও ক্ষমতা আদৌ বজায় থাকবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। তবে জিটিএ ও তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, গুরুং-গিরি পাহাড়ে ফিরলেও এখনই তাঁরা ক্ষমতা দখলের দৌড়ে নামছেন না। অনিল থাপা যেমন জিটিএ চালাচ্ছেন তেমনই চালাবেন। রাজ্য সরকারই তাঁর প্রতি সমর্থন বজায় রাখবে। গুরুং-গিরি রাজ্যের শাসক দলকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পাহাড়ে তাঁরা নতুন করে কোনও বিক্ষোভ আন্দোলন যেমন শুরু করবেন না তেমনি জিটিএ বা যে কোনও রকমের উন্নয়নমূলক কাজের বিরোধীতা তাঁরা করবেন না। সেই হিসাবে অনিল থাপার কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
 
কিন্তু বিনয় তামাং কোনও পদেই নেই। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এখন গেরুয়া শিবির চাইছে তাঁকে পিছন থেকে সমর্থন দিয়ে পাহাড়ের রাজনীতিতে নিজেদের অস্তিত্ব জাহিরের রাস্তাটি খোলা রাখতে। সেই সঙ্গে গুরুং-গিরির বিকল্প নেতা হিসাবে বিনয় তামাংকে তুলে ধরতে। যদিও সেই প্রয়াস কতখানি সফল হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। কারন পাহাড়ের অনেকেই বিনয়কে ‘কাগজের বাঘ’ ছাড়া আর কিছুই মনে করেন না। এদিনের মিছিলে বিজেপি সমর্থকেরা যোগ দিতে পারেন বলেই জানা গিয়েছে। তবে এখনই বিজেপির তরফে বিনয়কে সমর্থন দেওয়ার প্রশ্নে কিছু ঘোষণা করা হবে না বলেই জানা গিয়েছে। কারন গুরুংয়ের পাল্টিবাজি গেরুয়া শিবিরকে কিছুটা হলেও সবখ শিখিয়েছে। তাই এবার ধীরে সুস্থেই পা ফেলতে চাইছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

2020 New Ad HDFC 04

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 2020-Valentine RC

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Comm Ad 2020-WB Tourism RC

খিদিরপুর থেকে শুরু করে বেহালা, হরিদেবপুর,

খিদিরপুর থেকে শুরু করে বেহালা, হরিদেবপুর,

মুদিয়ালী ছুঁয়ে সোধপুর পার্ক

মুদিয়ালী ছুঁয়ে সোধপুর পার্ক

বাবুবাগান হয়ে উদ্বোধনের যাত্রা শেষ হল একডালিয়া,

বাবুবাগান হয়ে উদ্বোধনের যাত্রা শেষ হল একডালিয়া,

হিন্দুস্থান পার্ক, ত্রিধারার চত্বরে এসে।

হিন্দুস্থান পার্ক, ত্রিধারার চত্বরে এসে।

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 026 BM

Editors Choice

Comm Ad 2020-WBSEDCL RC