Comm Ad 2020-LDC Haringhata Meet

একমাসের স্বস্তি ছত্রধরের, ব্যাঙ্কশাল কোর্টে হাজিরার নির্দেশ ১৮ ডিসেম্বরে

Share Link:

একমাসের স্বস্তি ছত্রধরের, ব্যাঙ্কশাল কোর্টে হাজিরার নির্দেশ ১৮ ডিসেম্বরে

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাময়িক স্বস্তি বাড়লো জনসাধারনের কমিটির নেতা ছত্রধর মাহাতোর। ব্যাঙ্কশাল কোর্টে এদিন তাঁর হাজির হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি হাজিরা দেননি বা দিতে পারেননি। তাঁর আইনজীবিরা জানিয়েছেন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় ছত্রধর মাহাতো আদালতে হাজিরা দিতে পারেননি। তার জেরেই আদালত একমাস বাদে আবারও নতুন করে দিন ধার্য করে দিয়েছে আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য। এই একমাস আপাতত স্বস্তি ফিরে পেলেন এই নেতা। তবে একমাস বাদে হাজিরা দিলে এনআইএ’র তরফে যে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হবে সেই তৎপরতা এদিনই চোখে পড়েছে।
 
বাম জমানার শেষ দিকে মাওবাদী হানায় খুন হয়েছিলেন সিপিআই(এম) নেতা প্রবীর মাহাতো। সেই খুনের ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল তাঁদের মধ্যে অন্যতম জনসাধারনের কমিটির মাথা ছত্রধর মাহাতো। এই ছত্রধরের দাদা শশধর মাহাতোই ছিলেন মাওবাদী নেতা যার ভুল পরিকল্পনাতেই ঘটে গিয়েছিল জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সেই শশধর বাম জমানাতেই যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মারা যান। যদিও বলা হয় সেই ঘটনার পিছনে মাওবাদীদের তথা অন্যতম মাও নেতা কিষাণজীর হাত ছিল। সেই কিষাণজীর মৃত্যুর ঘটনায় মাওবাদীদের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে শশধর মাহাতোর স্ত্রী সুচিত্রা মাহাতোই পুলিশের কাছে কিষাণজীর গতিবিধির খবর দিয়ে দিয়েছিল। পরে অবশ্য সুচিত্রা মাহাতো পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে। জঙ্গলমহলের বাসিন্দারা বিশেষত আদিবাসীদের কাছে মাহাতো পরিবার তাই বিশেষ সম্মাণ ও শ্রদ্ধা পেয়ে থাকে। এহেন পরিবারের বর্তমান মাথা ছত্রধর মাহাতো জঙ্গলমহলের বুকে আদাজল খেয়ে নেমে পড়েছেন তৃণমূলের হয়ে প্রচারে। মূল লক্ষ্য বিজেপিকে আগামী রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে পরাস্ত করা।
 
এরপরে পরে পরেই প্রায় এক দশক আগেকার প্রবীর মাহাতো খুনের মামলা নতুন করে শুরু করেছে এনএআই। শুধু তাই নয়, এই মামলার সঙ্গে তাঁরা ইউএপিএ ধারায়ও যুক্ত করেছে ও ছত্রধর মাহাতোর জামিন নাকচ করে তাঁকে গ্রেফতারির দাবি তুলেছে। এনআইএ’র দাবি, ছত্রধর মাহাতো জামিনে ছাড়া পেয়ে বাইরে ঘুরলে মামলার সাক্ষীরা ভয় পাবে ও মামলা গতপ্রকৃতি পাল্টে যাবে। যদিও আদালত তাঁদের সেই দাবি যেমন মানেনি তেমনি রাজ্যের শাসল দল তৃণমূলের তরফেও অভিযোগ তোলা হয়েছে, ছত্রধর মাহাতো তৃণমূলের হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচার করছে বলেই কেন্দ্র সরকার এনআইএ-কে দিয়ে এই মামলায় ছত্রধরকে গারদে পুরতে চাইছে। কারন ছত্রধর মাহাতো জঙ্গলমহলে ঘুরে ঘুরে প্রচার করার সুযোগ পেলে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের বিধানসভাকেন্দ্রগুলিতে বিজেপির হার কার্যত নিশ্চিত। কারন এখনও জঙ্গলমহলের বুকে ছত্রধর মাহাতোর প্রভাব প্রশ্নাতীত। ২০১৯ সালেই এই জেলাগুলিতেই জঙ্গলমহলের বিকে ছড়িয়ে থাকা ৫টি লোকসভা কেন্দ্রের সবকটিতেই জয়ের মুখ দেখেছিল বিজেপি। এখন ছত্রধর মাহাতো প্রভাব কাজ করলে বিধানসভা নির্বাচনে সেই জয়ের ধারা আর ধরে রাখতে পারবে না বিজেপি। সেই কারনেই ছত্রধর মাহাতোকে গারদে ঢোকাতে শুধু প্রবীর মাহাতো খুনের মামলাই নতুন করে খোলা হয়নি, রাজধানী এক্সপ্রেসের অপহরণের মামলাটিকেও কার্যত নতুন করে খোলা হয়েছে। আর এই দুই মামলাতেই মূল অভিযুক্ত হিসাবে দেখানো হয়েছে ছত্রধর মাহাতোকে। দুটি মামলার সঙ্গেই আবার যোগ করা হয়েছে ইউএপিএ ধারা।
 
এদিন প্রবীর মাহাতো খুমের মামলাতেই ছত্রধর মাহাতো সহ আরও বেশ কয়েকজনের ব্যাঙ্কশাল কোর্টে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁদের মধ্যে অনেকেই এদিন হাজিরা দিতে পারেননি ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায়। তাঁদের আইনজীবিরা জানান, খড়গপুর আদ্রা ও খড়গপুর টাটানগর শাখায় লোকাল ট্রেনের পরিষেবা এখনও চালু না হওয়ায় যাদের হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল তাঁরা হাজিরা দিতে পারেননি। সেই কথা শুনেই আদালত জানিয়ে দেয় আগামী ১৮ ডিসেম্বর তাঁদের আদালতে হাজিরা দিতেই হবে। রাজধানী এক্সপ্রেসের মামলায় ৩০ জন অভিযুক্তের মধ্যে ১৭ জন এদিন আদালতে হাজিরা দিতে সক্ষম হলেও বাকি ৯ জন আদালতে আসতে পারেনি। তাঁদের আগামী ১৫ ডিসেম্বর হাজিরা দিতে বলেছে আদালত।

corona 01

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 008 Myra

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Comm Ad 2020-himalaya RC

খিদিরপুর থেকে শুরু করে বেহালা, হরিদেবপুর,

খিদিরপুর থেকে শুরু করে বেহালা, হরিদেবপুর,

মুদিয়ালী ছুঁয়ে সোধপুর পার্ক

মুদিয়ালী ছুঁয়ে সোধপুর পার্ক

বাবুবাগান হয়ে উদ্বোধনের যাত্রা শেষ হল একডালিয়া,

বাবুবাগান হয়ে উদ্বোধনের যাত্রা শেষ হল একডালিয়া,

হিন্দুস্থান পার্ক, ত্রিধারার চত্বরে এসে।

হিন্দুস্থান পার্ক, ত্রিধারার চত্বরে এসে।

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 2020-Valentine RC

Editors Choice

Comm Ad 2020-LDC Momo