এই মুহূর্তে

চাকরি বহালের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে লড়তে চান বিকাশ, পাশে দাঁড়াল সিপিএম

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি:‌ সিপিএম ভাঙবে তবু মচকাবে না। তাদের সিদ্ধান্তে এবার এমনই মনে করছেন চাকরিপ্রার্থীরা। কারণ সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী ও রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভটাচার্য এখন কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা লড়তে চান। তবে এখানে তিনি একটা শর্ত রেখেছেন। সেটি হল, কেউ যদি বিষয়টি নিয়ে মামলা করেন তাহলে বিকাশবাবু সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করবেন। এভাবে তিনি মামলা করার জন্য উস্কানি দিচ্ছেন বলে মনে করছেন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। আসলে কলকাতা হাইকোর্টের এই রায় মানতে পারছেন না আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য।

এখন দেখার বিষয় কে বা কারা কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান। গতকাল প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ খারিজ করে প্রাথমিকের ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রর ডিভিশন বেঞ্চ। রায়ে বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, উদ্দেশ্যহীন তদন্ত ও তার থেকে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে আদালত কখনও চাকরি বাতিলের মতো নির্দেশ দিতে পারে না। যদিও এই রায়কেই ‘‌দুর্ভাগ্যজনক’‌ বলে বুধবারই মন্তব্য করেছিলেন সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। এবার একধাপ এগিয়ে কেউ মামলা করলে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করবেন বিকাশবাবু। এই কথা বলে চাকরিপ্রার্থীদের আবার ভয় দেখানো হচ্ছে এমন অভিযোগও উঠেছে। তবে বিকাশরঞ্জনের বক্তব্য, ‘‌যদি মামলাকারীরা সুপ্রিম কোর্টে যান, তা হলে নিশ্চয়ই লড়ব।’‌

এদিকে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতিরা রায় দেওয়ার সময় পর্যবেক্ষণ ছিল, ন্যায়বিচারের সময় আদালতকে একটি সীমার মধ্যে থেকেই কাজ করতে হয়। আদালত নিজের পছন্দ–অপছন্দ অনুযায়ী, নতুন নীতি তৈরি করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বদল আনতে পারে না। সব নিয়োগ বাতিল করার জন্য আদালতের সামনে প্রমাণ এবং সুস্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। এই মামলার তথ্য থেকে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে সেটা বলা যাচ্ছে না। তবে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সেসব মানতে নারাজ। তাঁর মতে, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এতে প্রশ্রয় পাবে। যদিও বিকাশরঞ্জনের এমন কথা আদালত অবমাননার সামিল বলে দাবি করেছেন ত্ণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। সুতরাং এই চাকরি বহাল থাকা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে।

অন্যদিকে বিকাশরঞ্জনের উপর কোনও নির্দেশ জারি করতে চাইছে না সিপিএম। সুতরাং এখন বিকাশবাবু কী করবেন সেটা তাঁর ‘ব্যক্তিগত বোধে’র উপরেই ছাড়তে চেয়েছেন দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। এই বিষয়ে মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘আমরা পার্টির পক্ষ থেকে কোনও নির্দেশ তাঁকে আগেও দিইনি। এখনও দেব না। কারণ, পেশাগতভাবে তিনি কী করবেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। সবটাই নির্ভর করে তাঁর বোধের উপর। কোনও ডাক্তারকে তো আমরা বলি না যে, এই রোগীর অস্ত্রোপচার করবেন না।’‌ সুতরাং এভাবে কার্যত সিপিএম বিকাশরঞ্জনের পাশেই দাঁড়াল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এমন সিদ্ধান্ত সিপিএমের কাছে ব্যুমেরাং হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

ধামসা-মাদলের তালে ঝাড়গ্রামে জঙ্গলমহল উৎসবের উদ্বোধনে বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা

দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তমান্না খুনে গ্রেপ্তার সাবির, ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১

কাশ্মীরের টিউলিপ ফুল ফুটছে এবার ফুলিয়ার মাটিতে,চটকাতলায় অভিনব উদ্যোগ

অপরাজিতার পাপড়ি থেকে তৈরি ‘ব্লু টি’, রোজগারের নয়া দিশা দেখাচ্ছে কৃষকদের

ফের চলন্ত মেট্রোর সামনে যাত্রীর মরণঝাঁপ, ব্লু -লাইনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত

বিধানসভা ভোটে ‘মোদি-শাহ-জ্ঞানেশের’ বিরুদ্ধে বাঙালির লড়াই, জানিয়ে দিল তৃণমূলপন্থী বিদ্ধজনরা

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ