Comm AD 12 Myra

সুচিত্রা যোগে মিথ দেবী চৌধুরানী! আজও পূজো পান রাজবংশীদের কাছে

Share Link:

সুচিত্রা যোগে মিথ দেবী চৌধুরানী! আজও পূজো পান রাজবংশীদের কাছে

নিজস্ব প্রতিনিধি: ইতিহাস তাঁকে স্বীকার করেছে রক্তমাংসের মানুষ হিসাবে। পরবর্তী কালে দুই বাংলারই নানা প্রান্তে মিলেছে তাঁর স্মৃতিবিজড়ীত নানা জিনিস। মিলেছে প্রাকৃতিক নিদর্শনও। পরবর্তীকালে নানা গবেষণার মাধ্যমে এটাও বোঝা গিয়েছে যে তাঁর বিচরণ ছিল দুই বাংলার বিস্তীর্ন প্রান্তর জুড়ে। সেই সঙ্গে তাঁর লড়াইটা ছিল ব্রিটিশদের সঙ্গেই। কিন্তু তাঁর শেষ জীবন সম্পর্কে প্রায় কোথাও কিছুই জানা যায় না। কেউ বলেন তিনি সংসারে ফিরে গিয়েছেন, কেউ বলেই তিনি দেশান্তরী হয়েছেন, আবার কেউ বলেন তিনি ব্রিটিশদের সঙ্গে যুদ্ধে মারা গিয়েছেন। যদিও কোনও মতের সত্যতা আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কিন্তু এই রহস্যই তাঁকে দেবীত্বে উত্তরণ ঘটিয়েছে উত্তরবঙ্গের বুকে। তাই তাঁর পুজো বিনা আজও বাড়ির কোনও শুভ কাজ হয় না, ধান কাটা হয় না। সেই সঙ্গে দেবী হয়ে গিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়িকা সুচিত্রা সেন। কারন তার মধ্যে দিয়েই তো বাংলাই চিনেছে, জেনেছে দেবী চৌধুরানীকে।
 
জলপাইগুড়ি জেলার বৈকুণ্ঠপুরের জঙ্গল এখন খুবই ছোট হয়ে গিয়েছে। কার্যত তিস্তার বন্যা আর মানুষের আগ্রাসনে এই জঙ্গল এখন সীমাবদ্ধ তিস্তার পশ্চিম পাড়েই। কিন্তু দেড়শো বছর আগে এই বৈকুন্ঠপুর জঙ্গলের অন্দর দিয়েই বয়ে যেত তিস্তা। আর ফালাকাটা এলাকার তুলাকাটা-ঢেনাকাটা মন্দির ছিল সেই বৈকুন্ঠপুর জঙ্গলের মধ্যেই। আজ সেই পুরাতন মন্দিরের ছিঁটেফোঁটা কিছু অবশিষ্ট নেই, কিন্তু রয়েছে গিয়েছে একগুচ্ছ স্মৃতি। যার অন্যতম হল এই মন্দিরের সঙ্গে দেবী চৌধুরানীর যোগাযোগ। এখন মন্দির বলতে যা রয়েছে তা হল টিনের চালা দেওয়া একটা ঘর মাত্র। আশেপাশে ভর্তি জনবসতি। জঙ্গলের লেশমাত্র নেই। মন্দিরের ভিতরে রয়েছে দুই পুরুষের মূর্তি। তাঁরাই এলাকার বাসিন্দা বিশেষ করে রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে তুলাকাটা ও ঢেনাকাটা হিসাবেই পরিচিত। ক্ষেত্র সমীক্ষকদের হিসাবে তা শিবেরই এক লৌকিক রূপান্তর। 
 
এলাকার রাজবংশীরা প্রতিবছর অম্বুবাচীর পর এই মন্দিরে এসে পুজো দেন। তারপর শুরু করেন আমন ধান বোনার কাজ। আজ অবধি এই প্রথার ছেদ হয়নি। এবারও করোনার প্রকোপের মধ্যেও এই মন্দিরে এসে নিয়মিত পুজো দিয়ে যাচ্ছেন রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা। আর এই লৌকিক দেবতাদের পাশাপাশি এই মন্দিরে দেবী হিসাবে পুজো পান দেবী চৌধুরানী। কেন? এলাকার মিথ বলছে দেবী চৌধুরানী কোনও এক সময় রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষদের এক অত্যাচারী জমিদারের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। ব্রিটিশদের কাছে তিনি দস্যু হলেও সেদিন ওই অত্যাচারী জমিদারকে জব্দ করতে নিজে হাতে অস্ত্র তুলে নিতেও পিছুপা হননি। অস্ত্র হাতে তাঁর রণচন্ডিনী রূপ দেখেই এলাকার মানুষেরা মনে করেছিলেন সাক্ষাৎ দেবীর আবির্ভাব ঘটেছে তাঁদের রক্ষা করতে। সেই থেকেই রাজবংশীদের কাছে দেবী চৌধুরানী দেবতা হয়ে গিয়েছিলেন এবং আজও আছেন। তাই আজও তাঁর নামে তাঁকে স্মরণ করে পুজো দেন রাজবংশীরা। আর ঠিক সেই পথ ধরেই রাজবংশীদের কাছে দেবীসম মর্যাদা পান বাংলার মহানায়িকা সুচিত্রা সেন। কারন তাঁর অভিনীত ‘দেবী চৌধুরানী’ দেখেই বাঙালি এই সাহসী, দেশপ্রেমী, মহিলাকে চিনেছে। আজও দেবী চৌধুরানীর কথা বললে বাঙালির চোখের সামনে তাঁর মুখটাই ভেসে ওঠে। রাজবংশীদের কাছেও সেই একই আবেগ কাজ করে। তাই সুচিত্রাও তাঁদের কাছে দেবী ভিন্ন অন্য কিছু নন। অনেকেই মনে করেন সুচিত্রা সেনের সঙ্গে দেবী চৌধুরানীর ব্যক্তিত্ব এতটাই মিশে গিয়েছিল যে দুইয়ের প্রকারভেদ করা সম্ভব হয়নি আমজনতার পক্ষে। তাছাড়া পরবর্তী কালে জলপাইগুড়ি জেলার নানা প্রান্তে দেবী চৌধুরানীর স্মৃতি বিজড়িত বেশ কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন মেলায় আমজনতার কাছেও তিনি একরকম জীবন্ত মিথে রূপান্তরিত হয়েছেন। সুচিত্রা সেন সেই মিথের রূপক হয়ে উঠেছেন।

corona 01

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 008 Myra

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Comm Ad 023 MZP

নবান্নের কন্ট্রোলরুমে মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী।

নবান্নের কন্ট্রোলরুমে মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার সারারাত নবান্নে থেকেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার সারারাত নবান্নে থেকেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব, ডিজি-সহ অন্য কর্তারা।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব, ডিজি-সহ অন্য কর্তারা।

মঙ্গলবারের পর বুধবার বিকেলেও শহরের বিভিন্ন জায়গায় যান মুখ্যমন্ত্রী।

মঙ্গলবারের পর বুধবার বিকেলেও শহরের বিভিন্ন জায়গায় যান মুখ্যমন্ত্রী।

তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা ও মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা ও মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

এদিন খিদিরপুর, পার্ক সার্কাস, বালিগঞ্জ ফাঁড়ির মতো দক্ষিণ কলকাতার একাধিক জায়গায় যান।

এদিন খিদিরপুর, পার্ক সার্কাস, বালিগঞ্জ ফাঁড়ির মতো দক্ষিণ কলকাতার একাধিক জায়গায় যান।

এদিনও স্থানীয়দের লকডাউন মেনে চলার অনুরোধ করেন তিনি।

এদিনও স্থানীয়দের লকডাউন মেনে চলার অনুরোধ করেন তিনি।

এই নিয়ে পরপর দু'দিন শহরের বিভিন্ন জায়গায় গেলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই নিয়ে পরপর দু'দিন শহরের বিভিন্ন জায়গায় গেলেন মুখ্যমন্ত্রী।

তাঁর এই কাজকে তীব্র ভাষায় বিঁধেছেন বিরোধীরা।

তাঁর এই কাজকে তীব্র ভাষায় বিঁধেছেন বিরোধীরা।

পূবস্হলি দক্ষিণ বিধানসভার কালনা ১নং ব্লকের শাখাটি আদিবাসী পাড়ার বাহা পুজোর উৎসব

পূবস্হলি দক্ষিণ বিধানসভার কালনা ১নং ব্লকের শাখাটি আদিবাসী পাড়ার বাহা পুজোর উৎসব

সেখানেই যান মাননীয় মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ

সেখানেই যান মাননীয় মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ

গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। জানতে চান সুবিধা-অসুবিধার কথা

গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। জানতে চান সুবিধা-অসুবিধার কথা

পরে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধনও করেন মন্ত্রী

পরে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধনও করেন মন্ত্রী

জনগণের সঙ্গে বসে অনুষ্ঠানও দেখেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ

জনগণের সঙ্গে বসে অনুষ্ঠানও দেখেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ

প্রায় ঘণ্টাখানেক এই অনুষ্ঠানেই ছিলেন তিনি

প্রায় ঘণ্টাখানেক এই অনুষ্ঠানেই ছিলেন তিনি

#

#

Voting Poll (Ratio)

2020 New Ad HDFC 05

Editors Choice

Comm Ad 025 Confed