Brand Ad - Poll 2021-01

বঙ্গভঙ্গ নিয়ে নাটকের পর নাটক বঙ্গ বিজেপিতে

Share Link:

বঙ্গভঙ্গ নিয়ে নাটকের পর নাটক বঙ্গ বিজেপিতে

নিজস্ব প্রতিনিধি: দলটার নাম ভারতীয় জনতা পার্টি নাকি সার্কাস পার্টি তা নিয়েই এবার প্রশ্ন উঠে গেল। কেননা একদিকে দলের সাংসদদের পর যেমন একের পর এক বিধায়ক বঙ্গভঙ্গের সমর্থনে মুখ খুলছেন তেমনি সেই দাবিকে সমর্থন করতে শুরু করেছেন দলের বেশ কিছু আদি নেতারাও। অথচ রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব যখন দুই সাংসদকে কড়া বার্তা দিচ্ছে বঙ্গভঙ্গ নিয়ে মুখে কুলুপ আঁটতে, ঠিক তখনই দলের বিধায়ক বা আদি নেতাদের ক্ষেত্রে কোনও বার্তা তাঁরা দিচ্ছেন না। ফলে এই সব বিধায়ক বা নেতারা প্রকাশ্যেই মুখ খুলে চলেছেন বাংলা ভাঙার স্বপক্ষে। সব দেখে শুনে মনে হচ্ছে দিলীপ শাসন এখন আর কার্যকর হচ্ছে না খোদ বঙ্গ বিজেপিতে। দিলীপ কড়া বার্তা দিচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু তা আর কেই গ্রাহ্য করছেন না।
 
বঙ্গভঙ্গ নিয়ে মুখ খোলায় রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে দলের আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বার্লা ও বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁকে। প্রথমজন সরব হয়েছিলেন পৃথক উত্তরবঙ্গ রাজ্য গঠন নিয়ে, আর দ্বিতীয়জন সরব হয়েছেন পৃথক জঙ্গলমহল রাজ্য গঠন নিয়ে। তৃতীয় আরও একজন আছেন, দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা। তিনিও পৃথক গোর্খাল্যান্ড নিয়ে সরব হয়েছেন, কিন্তু দল থেকে তাঁকে কোনও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। একই ঘটনা, একই দাবিতে এক এক জনের জন্য কেন এক এক রকম নীতি নেবে দল সেই প্রশ্ন তো উঠেইছে, সেই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে দলের তরফে সতর্ক করা হলেও এরা কী সেই নিষেধ মানবেন? এদিন রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে জন বার্লা ও সৌমিত্র খাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, নিজ নিজ সংসদীয় এলাকার অনুন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে পারেন। তবে আলাদা রাজ্যের দাবি থেকে বিরত থাকুন। এই বিষয়ে এদিন দিলীপ ঘোষ নিজে এক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন ও অগ্রগতিই বিজেপির লক্ষ্য। এনিয়ে কেউ কী বলল তার সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। রাজ্যজুড়ে এখন অশান্তির বাতাবরণ। তাই হয়ত হতাশা থেকে অনেকে এমন মন্তব্য করেছেন। তবে দলে থাকতে গেলে দলের সিদ্ধান্ত মেনেই কাজ করতে হবে। রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন না হলে মানুষের বলার অধিকার আছে। সুযোগ এসেছে বলে আজ সবাই নিজের নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা অত্যাচারিত, বঞ্চিত, শোষিত। তৃণমূল বা সিপিএম যারা এতদিন বাংলাকে শাসন করেছে, তাঁদের অপদার্থতার জন্য আজ বাংলার মানুষের মনে এই হতাশা এসেছে। আমরা কারোর ব্যক্তিগত ইচ্ছাকে অস্বীকার করি না। গোর্খাল্যান্ডের সময়ও তো অনেক চুক্তি হয়েছিল। আন্দোলন চলেছে ৩০-৪০ বছর। অনেক দল তাতে সমর্থনও করেছে। তখন যদি ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এখন হবে কেন।’   
 
তবে দিলীপের এই বার্তার পরে সৌমিত্র কিছুটা হলেও তাঁর সুর নরম করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘রাঢ়বঙ্গের বা জঙ্গলমহলের দাবি আমার ব্যক্তিগত। দলের সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই। এটা দলের মত নয়। জঙ্গলমহলের জেলাগুলি শোষিত, নির্যাতিত। এটা মানুষের ন্যায্য দাবি। আমাদের ওপরেও চাপ দিচ্ছে মানুষ। শুধু নির্দিষ্ট এলাকার উন্নয়ন হবে, বাকি অঞ্চলগুলিকে দেখবে না! এটা তো হয় না। দলকে জানাব এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত। এলাকার মানুষের দাবি। জঙ্গলমহল বঞ্চনার শিকার।’ সৌমিত্র এই কথা বললেও জন বার্লা কিন্তু এনিয়ে কিছুই জানাননি এখনও পর্যন্ত। বরঞ্চ বিজেপিরই ৩জন বিধায়ক যারা উত্তরবঙ্গ থেকেই নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা বার্লার দাবিকে সমর্থন করে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে গিয়েছেন। গতকালই এই বিষয়ে বার্লার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিজেপি বিধায়ক আনন্দময় বর্মণ। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বার্লার দাবির সঙ্গে সহমত। দল যাই বলুক, দলের কর্মসূচি আমরা দলে আলোচনা করব। কিন্তু বার্লা যে দাবি তুলেছেন তা মানুষের দাবি। আমিও ওই দাবির সঙ্গে সহমত। বাকি সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকার নেবে।’  
 
এদিন আবার এই একই ইস্যুতে আরও ২জন বিধায়ক মুখ খুলেছেন। প্রথমজন নাটাবাড়ির বিজেপি বিধায়ক মিহির গোস্বামী ও দ্বিতীয়জন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়। মিহিরবাব্য জানিয়েছেন, ‘মানুষের দাবিদাওয়া তুললে কি বিচ্ছিন্নতাবাদী আখ্যা পেতে হবে? উত্তরবঙ্গ যে বঞ্চিত, অনুন্নত এব্যাপারে জন বার্লার সঙ্গে আমি একমত। আমরা বিধানসভায় এই বিষয়ে কথা বলব। পার্টির স্ট্যান্ড ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে। উন্নয়ন নিয়ে উত্তরবঙ্গ অবহেলিত। উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ দরকার। গ্রেটার কোচবিহারের নায়ক বংশিবদনের জন্য ১০০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। তারপরও রাজ্য সরকার কোনও মন্তব্য করছে না। সেটা নিয়ে কেন মুখ খোলা হচ্ছে না?’ শিখাদেবী আবার জানিয়েছেন, ‘আলাদা রাজ্য হলে ক্ষতি কী? মানুষ চাইছে তাই আমরা সেই কথাই বলছি। উন্নয়ন হয়নি বলেই পৃথক রাজ্যের দাবি উঠছে। হোক আলাদা রাজ্য, সমস্যা কোথায়? সব ধর্মের মানুষই থাকবেন ওই আলাদা রাজ্য বা ইউনিয়ন টেরিটরিতে। তাই আমরাও কেন্দ্রীয় শাসন চাই।’ বিতর্ক এখানেই থেমে যায়নি। বরঞ্চ সেই আগুনে এদিন আরও ঘি ঢেলেছেন তথাগত রায়। তিনি এদিন সোশ্যাল মিডিয়াতে লিখেছেন, ‘পশ্চিমবাংলার সাংসদরা কেউ চাইছেন উত্তরবঙ্গ, রাঢ়বঙ্গ আলাদা হোক। এগুলোকে গুরুত্ব দেবার এখনই কোনও দরকার নেই। কিন্তু বাংলার মত হিন্দু-শিখের স্বার্থে পাঞ্জাবও বিভাজন হয়েছিল, তারপর কি পাঞ্জাব ভেঙে হরিয়ানা হয়নি?’ কাজেই দিলীপ শাসন যে কাজ করছে না আর দলটাও যে ক্রমশ সার্কাস পার্টি হয়ে উঠছে সেটা এখন তামাম বঙ্গবাসী দেখতে পাচ্ছেন। বুঝতে পারছেন।

Comm Ad 2020-Valentine body

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 008 Myra

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

corona 02

কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা 
জানালেন ফিরহাদ হাকিম

কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা জানালেন ফিরহাদ হাকিম

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আবক্ষ মূর্তীতে মাল্যদান করে বিশেষ শ্রদ্ধা জানালেন পুরপ্রশাসক ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আবক্ষ মূর্তীতে মাল্যদান করে বিশেষ শ্রদ্ধা জানালেন পুরপ্রশাসক ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম

দায়িত্ব নেওয়ার পরেই আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে নতুন মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব

দায়িত্ব নেওয়ার পরেই আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে নতুন মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব

দায়িত্ব নেওয়ার পরেই আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে নতুন মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব

দায়িত্ব নেওয়ার পরেই আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে নতুন মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব

কোভিড হাসপাতালে পরিণত হল ইসলামিয়া হাসপাতাল, উদ্বোধন করলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম

কোভিড হাসপাতালে পরিণত হল ইসলামিয়া হাসপাতাল, উদ্বোধন করলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম

জামিনে মুক্ত হয়েই শুক্রবার রাত থেকেই কাজে নামেন ববি হাকিম, আজ এক হাসপাতালের উদ্বোধনে হাজির রাজ্যের মন্ত্রী ও পুরপ্রশাসক

জামিনে মুক্ত হয়েই শুক্রবার রাত থেকেই কাজে নামেন ববি হাকিম, আজ এক হাসপাতালের উদ্বোধনে হাজির রাজ্যের মন্ত্রী ও পুরপ্রশাসক

করোনার সময় এই অতিরিক্ত করোনা হাসপাতাল সাধারণ মানুষের উপকারে লাগবে বলে জানিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম

করোনার সময় এই অতিরিক্ত করোনা হাসপাতাল সাধারণ মানুষের উপকারে লাগবে বলে জানিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 2020-LDC Egg
Comm Ad 2020-LDC Momo