এই মুহূর্তে

পাওনাদারদের হেনস্থা, চাকরি খুইয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা ইতিহাসের ‘দিদিমণি’-র

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ চাকরি হারানোর খবর শুনেই বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে হাইস্কুলের শিক্ষিকার বাড়িতে চড়াও হচ্ছেন পাওনাদাররা। টাকা ফেরতের কিছুটা সময় চাইলেও জুটছে অভব্য আচরণ চাকরি! একদিকে চাকরি হারানোর কষ্ট, অন্যদিকে পাওনাদারদের চাপ সহ্য করতে না পেরে বৃহস্পতিবার রাতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন ক্যানিংয়ের রায়বাঘিনী হাইস্কুলের ইতিহাসের শিক্ষিকা রুমা সিং। আশঙ্কা জনক অবস্থায় ওই শিক্ষিকাকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে ভর্তি। সূত্রের খবর, পাড়ার সিভিক ভলিন্টিয়ার থেকে শুরু করে আরও একাধিক মানুষের কাছ থেকে তিনি টাকা ধার নিয়েছিলেন। কিন্তু কেন তা স্পষ্ট নয়!

রুমার হবু স্বামী অনিমেষ জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কাজের জন্যে ব্যাংক থেকে মোটা টাকা লোন নিয়েছিলেন রুমা। পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকেও তিনি টাকা ধার করেছিলেন। ২০২৬ সালের প্যানেলে সরকারি চাকরি পেয়েছিলেন রুমা। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের চাকরি গিয়েছে রুমার। তা শোনা মাত্রই রুমার বাড়িতে গিয়ে কয়েকজন পাওনাদার অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একে চাকরি হারানো, তারপর পাওনাদারদের দেওয়া চাপ সহ্য করতে না পেরে বৃহস্পতিবার বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন রুমা। বিষয়টি পরিবারের নজরে আসতেই তাঁকে তড়িঘড়ি ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রুমা একটি সুইসাইড নোটও লিখেছেন, যেখানে তিনি পাওনাদারদের মানসিক ভাবে হেনস্থার কথা উল্লেখ করেছেন। ইতিমধ্যেই বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছেন ক্যানিং থানার পুলিশ। এবং শিক্ষিকার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের কাছে বড় ধাক্কা খেয়েছে রাজ্য। ২০১৬ সালে সরকারি শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্যানেল বাতিল করেছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে চাকরি হারালেন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক। গোটা রাজ্যজুড়ে রীতিমতো কান্নার ধুম উঠেছে। অনেকেই বিষয়টিতে মোটেও আগ্রহ দেখায় নি, আবার অনেকরই চাকরি হারাদের কথা ভেবে প্রাণ কেঁদে উঠেছে। দুর্নীতিকদের ভিড়ে হারিয়ে গেল কয়েকশো যোগ্য প্রার্থী। হ্যাঁ, এটাই বাস্তব। কারণ সকলের একটাই লক্ষ্য ছিল, মানুষ গড়া। যে ছাত্র-ছাত্রীরাই বিগত কয়েক বছরে সন্তান সমতুল্য হয়ে উঠেছিলেম, তাঁদেরকে ছেড়েই বিদায় নিতে হবে চাকরিহারা শিক্ষকদের। এ যেন মরণসম যন্ত্রণা। ইতিমধ্যেই উত্তর-দক্ষিণ দিনাজপুর মিলে ৫৮১ জনের চাকরি হারানোর খবর প্রকাশ্যে এসেছে, এছাড়াও মালদা, ফারাক্কা, উত্তর ২৪ পরগনা, বর্ধমান নদিয়া জেলা থেকেও চাকরিহারা শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ্যে এসেছে।

বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, কারচুপির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্যানেল বাতিল করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুরও নির্দেশ দিয়েছে। যাদের চাকরি বাতিল হয়েছে তাদের মধ্যে যারা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ হতে পারবেন না তারা এতদিন যে বেতন পেয়েছেন তা ফেরত দিতে হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন বিচারপতিরা। পাশাপাশি জানিয়েছেন, ‘কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করার কোনও প্রয়োজনীয়তা আমরা বোধ করছি না। যে সমস্ত প্রার্থীরা অযোগ্য নয়, তাঁরা যে ডিপার্টমেন্টে কাজ করতেন সেখানে কাজ করবেন। নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। ২০১৬ সালের বাতিল হওয়া প্যানেলে নাম থাকা শিক্ষকরা নতুন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন।’

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

আউশগ্রামে ভোটার তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’ কলিতা মাজিকে প্রার্থী করল বিজেপি, প্রশ্ন তুলল তৃণমূল    

‘একতরফা সিদ্ধান্ত নেবেন না’, নন্দিনীদের অপসারণ নিয়ে জ্ঞানেশকে চিঠি মমতার

কলকাতায় শুরু তুমুল ঝড়-শিলাবৃষ্টি, বাড়িমুখো অফিস যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ

কিছুক্ষণের মধ্যে ধেয়ে আসছে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি, কলকাতা-সহ চার জেলায় জারি লাল সতর্কতা

সাহিত্যসম্রাটের পরিবারের সদস্যকে প্রার্থী করল বিজেপি, ‘‌বঙ্কিম দা’‌ ড্যামেজ কন্ট্রোলে কৌশল

আবার মমতা বনাম শুভেন্দু, পরাজয়ের ভয়ে দুই আসনে প্রার্থী করল বিজেপি

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ