2020 New Ad HDFC 04

অপরাধ, দুই মেয়ের জন্মধাত্রী! আগুনে খুন গৃহবধূ

Share Link:

অপরাধ, দুই মেয়ের জন্মধাত্রী! আগুনে খুন গৃহবধূ

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা। রাজ্যে রয়েছে কন্যাশ্রী, আছে রূপশ্রী। যে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ঘিরে বাংলায় এখন বিপ্লব চলছে সেই কার্ডও একজন মহিলার নামেই রেজিস্ট্রি হচ্ছে। স্কুলের মেয়েরা পাচ্ছে সবুজসাথী, পাচ্ছে সবুজশ্রী। তারপরও এই রাজ্যের বুকেই মেয়ের জন্ম দেওয়া অপরাধ হয়ে থেকে গিয়েছে একশ্রেনীর মানুষের কাছে। আর তার থেকেও ভয়ঙ্কর যে সেই মেয়ে জন্ম দেওয়ার অপরাধে জন্মধাত্রীকেও আগুনে পুড়িয়ে নেরে ফেলতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করছেন না সেই সব অপরাধমনস্কতার অমানুষগুলি। এমনই এক ঘটনা সামনে এল এ রাজ্যেরই বুকে। বীরভূম জেলার রামপুরহাট মহকুমার ময়ূরেশ্বর থানার বেজা গ্রামে এক গৃহবধূকে আগুনে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে তাঁরই শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। কারন এই মহিলা পর পর দুই কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। চরম নৃশংশ ও পাশবিক এই আচরণের জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে বীরভূম জেলার পাশাপাশি সারা রাজ্য জুড়েই। আরও লজ্জার বিষয় এই ঘটনায় জড়িত গৃহবধূর স্কুলশিক্ষক স্বামীও।
 
জানা গিয়েছে, বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার বাসিন্দা সমাপ্তি সাধুর সঙ্গে ১১ বছর আগে বিয়ে হয় ময়ূরেশ্বর থানার বেজা গ্রামের হাইস্কুলের শিক্ষক শিবনশংকর প্রামাণিকের। বিয়ের পরে পর পর দু'বার কন্যাসন্তান হওয়ার কারণে সমাপ্তির ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। গত  ২৬ ডিসেম্বর ওই গৃহবধূর শরীরে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। রীতিমত দগ্ধ অবস্থায় প্রথমে সিউড়ি পরে বর্ধমানের একটি নার্সিদহোমে নিয়ে যাওয়ার পর ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয় ২ জানুয়ারি। এখন সমাপ্তির শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁর বাপের বাড়ির লোকেরা। যদিও অভিযুক্তরা সকলে গ্রামছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে। মূলত সমাপ্তির মৃত্যুকালীন জবানবন্দীর ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
 
সমাপ্তির বাবার অভিযোগ, পরপর দুটি কন্যা সন্তান হাওয়ায় তাঁর মেয়েকে মেরে ফেলেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। সমাপ্তির বড় মেয়ের বয়স ৯ ও ছোট মেয়ের বয়স ৩ বছর। মারা যাওয়ার আগে ভিডিও জবানবন্দিতে স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের কথা জানিয়ে গিয়েছে সমাপ্তি। দ্বিতীয় কন্যা সন্তান হওয়ার পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর ওপর ব্যাপক অত্যাচার শুরু করে বলে জানিয়েছে সমাপ্তি। পুত্র সন্তান না হওয়ায় নিয়মিত তাঁকে মারধর করা হতো বলেও তথ্য সামনে এসেছে। গত ৬ জানুয়ারি ময়ূরেশ্বর থানায় সমাপ্তির দাদা পল্লব কুমার সাধু লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সমাপ্তির স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ননদ ও ননদের স্বামীর বিরুদ্ধে। ওই গৃহবধূ মারা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে সব থেকে বড় প্রশ্ন, একজন স্কুল শিক্ষক কীভাবে এই নারকীয় অপরাধে সামিল থাকেন! কেমনতর মানসিকতার বাহক তিনি!

Comm Ad 005 TBS

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 006 TBS

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Comm Ad 2020-Valentine RC

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের  সমাপ্তি অনুষ্ঠান

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠান

#

#

#

#

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 008 Myra

Editors Choice

Comm Ad 2020-WB Tourism RC