Comm Ad 005 TBS

শান্তনু ঠাকুর কি তৃণমূলের পথে, জোর জল্পনা বনগাঁয়! উস্কে দিলেন গোপাল

Share Link:

শান্তনু ঠাকুর কি তৃণমূলের পথে, জোর জল্পনা বনগাঁয়! উস্কে দিলেন গোপাল

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু নেই। আজ যে শত্রু কাল সে পরম মিত্র হয়ে উঠতেই পারে। আবার পরম মিত্রও রূপান্তরিত হতে পারে শত্রুতে। বাংলার রাজনীতিতে এখন সেই টানাপোড়েনই চলছে। একদিকে রাজ্য রাজনীতি যেমন শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে তীব্র ভাবে আলোড়িত হচ্ছে ঠিক তেমনি বেশ কিছু নেতা-বিধায়কের দলবদলের কথাও শোনা যাচ্ছে দেওয়ালে কান পাতলে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল এক বিজেপি সাংসদের নামও।

তিনি বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। বনগাঁ এলাকায় এখন জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে বিজেপির সঙ্গে শান্তনুর বিরোধ ও দূরত্ব ক্রমশই বেড়ে চলেছে। সেই সঙ্গে তলে তলে তৃণমূলের সঙ্গেও তাঁর আলোচনা অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। কার্যত রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগেই সেক্ষেত্রে জার্সি বদলে নিতে পারেন মতুয়া সাম্রাজ্যের বড়মা বীণাপানি দেবীর এই নাতি।
 
ঠাকুরনগর মানেই মতুয়া ধর্মসমাজ। বাম জমানায় এই ভোটব্যাঙ্কটিকে আবিষ্কার করেছিলেন স্বয়ং তৃণমূলনেত্রী। বিরোধী দলনেত্রী থাকাকালীন সময়েই তাঁর সঙ্গে বীণাপানি দেবীর সম্পর্ক তৈরি হয়। মমতা যেমন তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন তেমনি বীণাপানি দেবীও তৃণমূলনেত্রীকে খুবই স্নেহ করতেন। তাঁর ছোট ছেলে মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর সেই সময় থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। হয়েছিলেন দলের বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রীও। কিন্তু পরে নিজ দোষে সেই জায়গা তিনি হারিয়ে ফেলেন। যোগ দেন বিজেপিতে। তাঁর ছেলে সুব্রত ঠাকুর বিজেপির টিকিটে বিধানসভার উপনির্বাচনে দাঁড়িয়েও হেরে যান ২০১৫ সালে। বড়মার বড় ছেলে কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর ২০১৪ সালে তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে জয়ী হয়েছিলেন বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্র থেকে। কিন্তু তাঁর অকালমৃত্যুর পরে তাঁর স্ত্রী মমতাবালা ঠাকুর সেই কেন্দ্র থেকে দলের প্রার্থী হয়ে জয়ী হয়েছিলেন।

যদিও ২০১৯ সালে মমতাবালা পরাজিত হন। সেই ভোটেই বিজেপির প্রার্থী হিসাবে জিতেছিলেন মঞ্জুলকৃষ্ণের অপর ছেলে শান্তনু ঠাকুর। অনেকেই মনে করেন মতুয়া ধর্মসমাজের প্রাণকেন্দ্র ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়ির ছেলে হওয়ার সুবাদে শান্তনু ঠাকুরই মতুয়া ধর্মসমাজের প্রধান। তাই গত লোকসভা ভোটে মতুয়ারা ঢেলে তাঁকেই ভোট দেন।  
 
মতুয়ারা দীর্ঘদিন ধরেই এদেশে বসবাস করার জন্য প্রয়োজনীয় ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বিজেপির তরফে তাঁদের আস্বাস দেওয়া হয়েছিল সিএএ লাগু হলে তাঁরা সেই নাগরিকত্বের অধিকার পেয়ে যাবেন। কিন্তু নানা কারনে আজও সেই আইন লাগু হয়নি। এই নিয়ে মতুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়াচ্ছিল। সেই ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছিল শান্তনু ঠাকুরকে। বলা হচ্ছিল বিজেপি মতুয়াদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। সেই ক্ষোভের জায়গা থেকেও গত ৪-৫ ধরেই বিজেপির সঙ্গে শান্তনুর দূরত্ব বাড়ছিল ক্রমশ। একই সঙ্গে লকডাউনের সময়ে আমজনতার জন্য কেন্দ্রের সরকার সরাসরি কিছু ঘোষণা না করায় মতুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছিল।

এরই মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলোনি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা পরিবারগুলিকে জমির পাট্টা ও দলিল তুলে দেওয়ার কাজ শুরু করায় মতুয়াদের মধ্যে খুশি ছড়িয়ে পড়ে। কারন তাতে তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়ে গিয়েছিল। জমি ও বাড়ির দলিল হাতে চলে আসায় তাঁদের পক্ষে আর নাগরিকত্ব নিয়ে ভয় থাকছিল না। এরই সঙ্গে সঙ্গে সাম্প্রতিক কালে মতুয়া সমাজের উন্নয়নের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মতুয়া উন্নয়ন পর্ষদ তৈরির কথা ঘোষণা করেন ও সেই পর্ষদ যাতে কাজ করতে পারে তার জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দও করেন। সেই পর্ষদের মাথা করে বসানো হয় মমতাবালা ঠাকুরকেই। কার্যত এরপর থেকেই হাওয়া ঘুরতে শুরু করে।
 
ঠাকুরবাড়ির সূত্রে জানা গিয়েছে, সাংসদ হওয়ার পরে শান্তনু দলের রাজ্য নেতৃত্ব ও কেন্দ্র সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন মতুয়াদের জন্য কিছু ঘোষণা করতে। কিন্তু অভিযোগ, সে পথে হাঁটা দেয়নি নরেন্দ্র মোদির সরকার। এমনকি বেশ কিছু বিষয়ে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব শান্তনু ঠাকুরের মতামত না নিয়েই বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়। এইসব নিয়েই বিবাদ, তিক্ততা আর দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছিল শান্তনু ও রাজ্য বিজেপির মধ্যে। সম্প্রতি বনগাঁতে দলের কর্মসূচি পালনে গিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। সেই সময় তাঁর সঙ্গে শান্তনুর একটি বৈঠক হওয়ার কথাও ছিল। বস্তুত দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চাপেই সেই বৈঠক করতে নিমরাজি হন দিলীপ। কিন্তু সেই বৈঠক শেষ পর্যন্ত আর হয়নি শান্তনু নিজে তাতে যোগ না দেওয়ায়। এমনকি গত ২-৩ মাস ধরে বিজেপির কোনও কর্মসূচি, সভা বা মিছিলে শান্তনুকে দেখাই যাচ্ছিল না। এরপরেই এখন বনগাঁ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে সাংসদের তৃণমূল যাত্রার কথা। যদিও সরকারি ভাবে কেউই এই ধরনের সম্ভাবনার কথা স্বীকার করেননি। তবে বিজেপির নেতারা এখন আর একে নিছক জল্পনা বলে উড়িয়ে দিতে নারাজ।
 
এই বিষয়ে বিজেপির বারাসত সাংসদীয় জেলার সভাপতি শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, কেউ যদি তৃণমূলের তামাক খেয়ে থাকে তাতে তাদের কিছু করার নেই। একই রকম ভাবে জল্পনাকে আরও গতি দিয়ে বনগাঁর তৃণমূল নেতা গোপাল শেঠের দাবি, সম্মান নিয়ে কাজ করতে হলে বিজেপির নেতা কর্মীরা তৃণমূলে আসুন। এখন ঠাকুরবাড়ি ও তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূলের সঙ্গে শান্তনু ঠাকুরের আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগেই সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করতে পারেন শান্তনু। সেক্ষেত্রে তৃণমূল তাঁকে গাইঘাটা থেকেই টিকিট দিতে পারে। জিতলে মন্ত্রীত্ব ও মতুয়া উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ। সেক্ষেত্রে মমতাবালা ঠাকুরকে আবার বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী করা হবে। এই সূত্র ধরেই এগোচ্ছে আলোচনা। গোটা প্রক্রিয়ায় পিকে’র ভূমিকাই উঠে আসছে। তবে সরকারি ভাবে এই ঘটনার সত্যতা কোনও পক্ষই স্বীকার করেনি। তবুও বনগাঁ তো বটেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলা রাজনীতিতেও এই জল্পনা বেশ ছড়িয়েছে মানুষের মুখে মুখে।

Comm Ad 2020-Valentine body

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 008 Myra

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Comm Ad 026 BM

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের  সমাপ্তি অনুষ্ঠান

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠান

#

#

#

#

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 006 TBS
Comm Ad 2020-himalaya RC