2020 New Ad HDFC 04

অমিতকে বিঁধেই সভা শুরু মমতার! নতুন কর্মসূচি দুয়ারে দুয়ারে সরকার

Share Link:

অমিতকে বিঁধেই সভা শুরু মমতার! নতুন কর্মসূচি দুয়ারে দুয়ারে সরকার

নিজস্ব প্রতিনিধি: কানায় কানায় পরিপূর্ণ খাতড়ার সিধু-কানহু স্টেডিয়াম। এখানেই বসেছে মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি পরিষেবা প্রদানকারী সভা। আর এই সভা থেকেই অমিত শাহকে আক্রমণ করেই সভা শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে এদিন বক্তব্য রাখার আগেই মুখ্যমন্ত্রী জেলার ৩৫৩ কোটি টাকা মূল্যের প্রকল্পের শিলান্যাস সাধন ও উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে জেলার ১২০০ উপভোক্তার হাতে এদিন সরকারি পরিষেবা তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন সভামঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে রাজ্যের মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুরু হবে ‘দুয়ারে দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচি। 

মুখ্যমন্ত্রী এদিন সভার শুরু থেকেই অমিত শাহকে নিশানা বানিয়ে ফেলেন। প্রথম দিকে তাঁর নাম না নিয়ে আক্রমণ করলেও পরে নাম নিয়েই আক্রমণ শানেন তিনি। চলতি মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাঁকুড়া জেলার সফরে এসে বিভীষণ হাঁসদার বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজন সেরে ছিলেন। সেই কর্মসূচী ঘিরে বাংলা জুড়ে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু ঘটনাচক্রে সেদিন মধ্যাহ্নভোজন খেতে এসে বিভীষণ হাঁসদার বাড়ির লোকেদের সঙ্গে একটাও কথা বলেননি অমিত। আলাপ করেননি ওই পরিবারের কারোর সঙ্গে বা গ্রামের কারোর সঙ্গে। তা নিয়ে আগেই ক্ষোভ ছড়িয়েছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন ব্যবহারের আশা ওই পরিবারের বা গ্রামের লোকেরা আশা করেননি। এদিন মুখ্যমন্ত্রী কার্যত হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়ে আরও জানান যে, বিভীষণ হাঁসদার বাড়িতে সেদিন যে সব রান্না হয়েছিল সে সব ছুঁয়েও দেখননি বিজেপির কেউ। ফাইভ স্টার হোটেল থেকে রান্না করা খাবার এসেছিল সেখানে। বাবুমশাইরা সে সব খেয়েই ফিরে গিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবির পরে জঙ্গলমহলে আরও বেশি মুখ পুড়ল বিজেপির। এই প্রসঙ্গে এদিন সভামঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘ফাইভ স্টার হোটেল থেকে বাসমতি চালের ভাত নিয়ে এসে দলিতদের ঘরে বসে খায় ওরা। মানুষ ওদের ভাঁওতাবাজি ধরে ফেলেছে।’

এর পাশাপাশি অমিত শাহের সফরের সময়তেই বিরসা মুন্ডার মূর্তি নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়েছিল। তার জেরে বিজেপির ওপর চূড়ান্ত ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে আদিবাসী সমাজ। এদিন সেই প্রসঙ্গও টেনে এনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখানকার মানুষ বলছে ওটা বিরসা মুন্ডার মূর্তি নয়। ওটা শিকারির মূর্তি ৷ সে যাক শিকারিকেও আমরা সম্মান করি। বিরসা মুণ্ডা বলে অন্য মূর্তির গলায় মালা দিয়েছেন। আর কত কী দেখতে হবে৷’ এরপরেই মুখ্যমন্ত্রী মাস্টারস্ট্রোক দিয়ে ঘোষণা করে দেন আগামী বছর থেকে রাজ্য সরকার বিরসা মুন্ডার জন্মদিবসেও সরকারি ছুটির ঘোষণা করবে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে রাজ্যে ছুটি রয়েছে, নেতাজীর জন্মদিনে ছুটি রয়েছে, আম্বেদকরের জন্মদিনে রয়েছে, গুরু নানকের জন্মদিনে ছুটি হয়, ইদের ছুটি হয়, করণ পুজোর ছুটি হয়, দুর্গা পুজোয় ছুটি থাকে, এবার থেকে বিরসা মুন্ডার জন্মদিনেও রাজ্যে থাকবে সরকারি ছুটি৷’ মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা এদিন হাততালি দিয়ে ধামসা মাদল বাজিয়ে স্বাগত জানান আদিবাসী সমাজের মানুষেরা। কার্যত বিরসা মূর্তি কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের ঘোষণার পরে জঙ্গলমহলের বুকে আরও কোনঠাসা হয়ে গেল বিজেপি।

এদিন খাতড়া থেকে মুখ্যমন্ত্রী নতুন যে সরকারি কর্মসূচিটি ঘোষণা করেন তা হল, ‘দুয়ারে দুয়ারে সরকার’। এই প্রকল্পটি আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলবে আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে বেলা ৩টে পর্যন্ত রাজ্যের ব্লকে ব্লকে প্রশাসনের তরফে ক্যাম্প করা হবে। সেই সব ক্যাম্পে গ্রামের বা শহরের মানুষেরা গিয়ে প্রশাসনের কাছে যে তাঁদের অভাব, অভিযোগ, সুবিধা-অসুবিধার কথা তুলে ধরবেন। মুখ্যমন্ত্রী এদিন নির্দেশ দিয়েছেন ওই সব ক্যাম থেকে আমজনতার সমস্যাগুলি যতটা সম্ভব সঙ্গে সঙ্গে সমাধান করে দিতে হবে। জনপরিষেবা সংক্রান্ত প্রকল্পগুলির সুযোগ-সুবিধা আরও বেশি করে মানুষকে পাইয়ে দিতে হবে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী সভামঞ্চ থেকেই জানিয়ে দেন, ‘১২০০ লোকের কাছে আজ পরিষেবা দেওয়া হল। জুন মাস অবধি আপনারা বিনা পয়সায় চাল পাবেন। পরে আমরা সময় আরও বাড়িয়ে দেব। একদম চিন্তা করবেন না। আমরাই সরকার গড়ব। বাঁকুড়ার উন্নয়নের জন্য আমরা অনেক কিছু করেছি। মুকুটমণিপুর, খাতড়া কী ছিল? এখন দেখুন কী হয়েছে! স্টেডিয়াম, হাসপাতাল, সব করেছি। ‘মাটি সৃষ্টি’ পরিকল্পনায় বাঁকুড়ার শুষ্ক জমিতে মাটি তৈরি করে বিভিন্ন কাজ করা হবে। বর্তমানে প্রায় ৮০০০ বিঘা জমি তৈরির কাজ চলছে। এখানে বহু ছেলেমেয়ের কর্মসংস্থান হবে ভবিষ্যতে। হাতির হানায় মৃত্যু হলে পরিবারের একজনকে হোমগার্ডের চাকরি আর ৪ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে সরকার। মাওবাদী হামলায় যাঁরা নিখোঁজ, ১০ বছরেও যাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি, যাঁরা ফিরে আসেননি, তাঁদের পরিবাররাও পুলিসের কাছে দরখাস্ত করবেন। চাকরি-ক্ষতিপূরণ দুটোই পাবেন। যারা শুধু পুরোহিতবৃত্তি করে সংসার চালান, তাঁদের 'পুরোহিত কল্যাণ' ভাতা হিসেবে বর্তমানে ১০০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে এটাকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করা হবে।’ অমিত শাহ বাঁকুড়ায় এসে বলেছিলেন তৃণমূলকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে। এদিন সে প্রসঙ্গে না গিয়েই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, ‘বিজেপি শুধু মামলা আর হামলা টাই করতে পারে। এখন করছে মামলা পরে হবে গামলা। তাতে আবর্জনার মত পুরে ছুঁড়ে ফেলা হবে ওদের।’

Comm Ad 2020-WB Tourism body

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 006 TBS

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

corona 02

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের  সমাপ্তি অনুষ্ঠান

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠান

#

#

#

#

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 2020-Valentine RC
corona 02