2020 New Ad HDFC 04

সুজাপুরে বিস্ফোরণের তীব্রতা ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের! মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৬

Share Link:

সুজাপুরে বিস্ফোরণের তীব্রতা ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের! মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৬

নিজস্ব প্রতিনিধি: ইংরেজবাজারে চলন্ত টোটোতে যে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল তাতে সেই টোটো যে শুধু ধ্বংসই হয়ে গিয়েছিল তাই নয়, টোটো চালকের দেহও ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে আশেপাশে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ঘটনা দেখে শিউরে উঠেছিলেন এলাকার মানুষেরা। বৃহস্পতিবার সুজাপুরে প্লাস্টিক কারখানায় বিস্ফোরণের পরেও দেই একই দৃশ্য দেখতে পেয়ে আঁতকে ওঠেন এলাকার মানুষজন। এখানেও দেখা যায় বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে নিহত ও আহত শ্রমিকদের দেহাংশ বহু দূরে ছিটকে পড়ে। যে ৫জন শ্রমিক ঘটনাস্থলেই মারা যান তাঁদের দেহ কার্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে ছড়িয়ে পড়ে চতুর্দিকে যার যারা আহত হয়েছেন তাঁরা যেমন ঝলসে গিয়েছেন তেমনি তাঁদের দেহ থেকে কারও হাত কারও বা পা উড়ে গিয়েছে। যার জন্য মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেই বার বার জানিয়ে আসছিলেন চিকিৎসকেরা। আর বিস্ফোরণের এই তীব্রতার বহরই এখন ভাবাচ্ছে পুলিশ থেকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের। যদিও এই ঘটনাকে এখনও দুর্ঘটনা হিসাবেই দেখছে পুলিশ।
 
সুজাপুরে যে কারখানায় বৃহস্পতিবার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে সেটি ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকায়। সেখানে প্রতিবেশী বিভিন্ন রাজ্য থেকে অব্যবহৃত প্লাষ্টিক সামগ্রী এসে পৌঁছানোর পরে সেগুলি বাছাই হয় ও তারপরে তা কাটিং মেশিনে ফেলে ছোট ছোট টুকরোর আকার দেওয়া হয়। এরপর ওইসব প্লাষ্টিক টুকরো জলে ধুয়ে, রোদে শুকিয়ে পাঠানো হয় কলকাতা-সহ উত্তর ভারতের কিছু রাজ্যে। এইসব প্লাষ্টিক কুঁচি দিয়ে তৈরি হয় রকমারি নতুন প্লাষ্টিক সামগ্রী। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছে, যান্ত্রিক গোলযোগের জন্যই এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণ হয়েছে ওই কারখানায় থাকা কাটিং মেশিনে যা ৪০ থেকে ৪৫ অশ্বশক্তির ক্ষমতা সম্পন্ন। বিদ্যুৎ চালিত এই মেশিনে মোটর ছাড়াও, চর্তুদিকে লোহার মোটা পাত আর ধারালো ব্লেড থাকে। ওই কারখানার আশেপাশে এলাকায় এই ধরনের প্রঅ্যায় ২০-২৫টি কারখানা আছে যা প্তায় ১৫-১৬ বছরের পুরাতন। ওই সব কারখানায় এলাকার মানুষেরাই শ্রমিক হিসাবে কাজ করেন যাদের সংখ্যা প্রায় কয়েক হাজার। তাঁদের মধ্যে নাবালক থেকে মহিলারাও থাকেন। বছরের পর বছর কারখানাগুলি চললেও অতীতে এমন কোনও বিস্ফোরনের নজির নেই ওই এলাকায়। তাই যান্ত্রিক গোলযোগের ওপরেই আস্থা রেখেছেন তদন্তকারীরা। কিন্তু দিন শেষে তাঁদেরও ভাবাচ্ছে বিস্ফোরণের তীব্রতা।
 
ঘটনার বেশ কয়েক ঘন্টা পরেও ওই কারখানা চত্বরে পা রাখলেই চোখে পড়ে ধ্বসে পড়া দেওয়াল, ভেঙে পড়া ছাদ, মৃত শ্রমিকদের দেহাংশ, লোহার কিছু টুকরো, প্লাস্টিকের টুকরো। আর বিস্ফোরণের অভিঘাতে তৈরি হয়েছে এক আড়াই ফুটের গর্ত। কোথাও চিহ্ন মাত্র নেই যে মেশিনের জন্য বিস্ফোরণ ঘটেছে সেটির। এলাকাবাসীর দাবি বিস্ফোরণের জেরে সেই মেশিনটিই কার্যত টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। যেভাবে মেশিনের অংশ টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে তাতে তদন্তকারীদের অনুমান, মেশিন চালু থাকা অবস্থাতেই বিস্ফোরণ হয়েছি। ঘটনাস্থলে তেমন গন্ধ জাতীয় কিছু না মেলায় রাসায়নিক কোনও কারণ নেই বলেই প্রাথমিক অনুমান তদন্তকারীদের। এদিকে ঘটনার পরেই সুজাপুরে অন্যান্য প্লাস্টিক কারখানাগুলিতে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বেশিরভাগ কারখানাই বন্ধ করে উধাও হয়ে যান মালিক ও কর্মীরা।
 
বৃহস্পতিবার বিকালেই মালদা পৌঁছে যান রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন ও তাঁদের হাতে রাজ্য সরকারের দেওয়া ২ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাতেই বিস্ফোরণকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬। শেষ যিনি মারা গিয়েছেন তাঁর নাম আব্দুল সাহেদ। তাঁর বয়স ৫১ বছর। ইনিই ছিলেন ওই কারখানার মালিক। সন্ধ্যার পরে তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতায় রেফার করা হয়েছিল। কিন্তু পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

Comm Ad 2020-LDC epic

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 008 Myra

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Comm Ad 006 TBS

খিদিরপুর থেকে শুরু করে বেহালা, হরিদেবপুর,

খিদিরপুর থেকে শুরু করে বেহালা, হরিদেবপুর,

মুদিয়ালী ছুঁয়ে সোধপুর পার্ক

মুদিয়ালী ছুঁয়ে সোধপুর পার্ক

বাবুবাগান হয়ে উদ্বোধনের যাত্রা শেষ হল একডালিয়া,

বাবুবাগান হয়ে উদ্বোধনের যাত্রা শেষ হল একডালিয়া,

হিন্দুস্থান পার্ক, ত্রিধারার চত্বরে এসে।

হিন্দুস্থান পার্ক, ত্রিধারার চত্বরে এসে।

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 026 BM

Editors Choice

Comm Ad 2020-LDC Egg