Comm Ad 2020-LDC Haringhata Meet

অপসারিত শিশির, এলেন সৌমেন! গিরি কো-অর্ডিনেটর

Share Link:

অপসারিত শিশির, এলেন সৌমেন! গিরি কো-অর্ডিনেটর

নিজস্ব প্রতিনিধি: ২৪ ঘন্টার মধ্যে আবারও ধাক্কা অধিকারী পরিবারে। গতকালই দীঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল শিশির অধিকারীকে। এদিন তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল দলের জেলা সভাপতির পদ থেকেও। পরিবর্তে তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ দলের জেলা চেয়ারম্যান পদ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। শিশিরবাবুর জায়গায় দলের জেলা সভাপতি করে আনা হয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্রকে। অথচ প্রায় এক মাস ধরে জল্পনা ছড়িয়েছিল এই পদে আনা হতে পারে অধিকারীদের বিরোধী বলে পরিচিত রামনগরের তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরিকে। কিন্তু এদিন পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় তৃণমূলের সংগঠনে যে রদবদল করা হয়েছে সেখানে অখিল গিরিকে রাখা হয়েছে কো-অর্ডিনেটর করে। দলের জেলা সভাপতি তাঁকে করা হয়নি।
 
মনে করা হচ্ছে অধিকারীদের সঙ্গে দলের কিছুটা হলেও যোগাযোগ ধরে রাখার জন্যই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। গিরি জেলা সভাপতি হলে অধিকারীদের কাছে বার্তা যেতে পারতো দলের সঙ্গে সম্পর্ক সম্পূর্ণ ভাবে ছেদ হওয়ার। যেহেতু শিশিরবাবু নিজে এখনও পর্যন্ত দলের সাংসদ, তাঁর ছেলে দিব্যেন্দু এখনও দলের সাংসদ তাই এই পদক্ষেপ। এখনও পর্যন্ত এরা কেউই কিন্তু তৃণমূল বিরোধী কোনও পদক্ষেপ যেমন নেননি তেমনি দলবিরোধী কোনও কথাও বলেননি। তাই এই ব্যবস্থা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে একটি বিষয় নিয়ে সন্দেহ নেই যে দলে ও জেলায় অধিকারীদের দাপট ও গুরুত্ব ক্রমশই খর্ব করা হচ্ছে। আগামীদিনেও হয়তো এই প্রক্রিয়া যেমন অব্যাহত থাকবে তেমনি গুরুত্ব ও কদর বাড়বে অখিল গিরির। এখন তাঁকে দলের জেলা সভাপতি করা না হলেও দলের জেলার সাংগঠিক ভাবে সব কাজকর্ম যে তিনিই করবেন তা মোটামুটি সবাই বুঝে গিয়েছে কারন সৌমেনবাবু অসুস্থ হওয়ায় সেই চাপ নিতে পারবেন না।
 
তৃণমূল ছেড়ে শুভেন্দু অধিকারী চলে গিয়েছেন বিজেপিতে। আর তার পর থেকেই একের পর এক ঘটনায় কার্যত বেকায়দায় পড়েছে অধিকারী পরিবার। ক্রমেই শাসক শিবিরের ক্ষমতা কাঁথি থেকে হস্তান্তরিত হচ্ছে রামনগরে। সাংগঠনিক ক্ষেত্রে বারবার নাম উঠে আসছে রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরির। মঙ্গলবারই দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হয়েছে শিশির অধিকারীকে। এরপর এদিন শিশিরবাবুর কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হল দলের জেলা সভাপতির পদ। পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতিতে এত কাল তৃণমূলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেন শিশির অধিকারী। এবার নতুন জেলা সভাপতির পদে বসলেন সোমেন মহাপাত্র। শুভেন্দুর দলত্যাগের পর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে সভা করতে যাওয়ার কথা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই সভারও মূল আয়োজক ছিলেন অখিল গিরি, যিনি জেলায় ‘অধিকারী বিরোধী’ বলেই পরিচিত। শিশির অধিকারীর খাসতালুক কাঁথিতে তৃণমূলের সভা হলেও এর মধ্যে দেখা মেলেনি শিশিরের। বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু বিজেপিতে যাওয়ায় ক্রমেই দলে কোণঠাসা হচ্ছে অধিকারী পরিবার। শুভেন্দুর ভাই সৌমেন্দুও বিজেপির পতাকা ধরেছেন। এদিন শিশিরবাবুর তৃণমূলের জেলা সভাপতি পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পর শুভেন্দু বলেছেন, ‘দেড় জনের কোম্পানিতে যাঁরা কর্মচারী হিসাবে কাজ করতে চাইছেন না তাঁরা বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। আমার রাজনৈতিক চলার পথ পরিবার ঠিক করে দেয় না। আমার বাবা-মাকে শ্রদ্ধা করি, ভালবাসি।’
 
দুই ছেলে বিজেপি-তে গিয়েছেন৷ এটাই যেন তাঁর অপরাধ৷ ছয় দশকেরও বেশি রাজনৈতিক জীবন পেরিয়ে এসে এখন তাই নিজের দলের কাছে শুনতে হচ্ছে উপসর্গহীন বেইমানের মতো কটাক্ষ৷ সে সবও মুখ বুজে সয়েছেন কাঁথির শান্তিকুঞ্জের প্রবীণতম সদস্য৷ কড়া বার্তা দিতে মঙ্গলবার দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকেও তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ তবে শিশির অধিকারীর ঘনিষ্ঠরা বলছেন, কাঁথির সাংসদ এর পরেও দলবদল করবেন, এমন সম্ভাবনা শুধু ক্ষীণই নয়, নেই বললেই চলে৷ শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেও কেন প্রকাশ্যে তার বিরোধিতায় কিছু বললেন না শিশিরবাবু, এটাই তৃণমূল নেতাদের রাগের অন্যতম কারণ৷ ছোট ছেলে সৌমেন্দু বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর এই রাগ আরও বেড়েছে৷ শিশির ঘনিষ্ঠরা পাল্টা প্রশ্ন তুলছেন, ছেলেদের বিরুদ্ধে যেমন শিশিরবাবু মুখ খোলেননি, সেরকমই তৃণমূল নেতারা অধিকারী পরিবারের সদস্যদের লাগাতার ব্যক্তিগত আক্রমণ করে গেলেও মুখ বুজে তা সয়েছেন শিশির অধিকারী৷ দলের নেতাদের আক্রমণে যন্ত্রণা পেয়ে ঘনিষ্ঠ মহলে দুঃখ করলেও প্রকাশ্যে একটা শব্দও উচ্চারণ করেননি তিনি৷
 
তবে শিশিরকে নিয়ে তাঁর অনুগামীরা নিশ্চিত হলেও দিব্যেন্দুকে অধিকারীকে নিয়ে এতটা নিশ্চিত হতে পারছেন না অধিকারী পরিবারের ঘনিষ্ঠরা৷ শুভেন্দু ইস্যুতে শিশিরের মতোই অবস্থান নিলেও কাঁথি পুরসভার প্রশাসক পদ থেকে সৌমেন্দুর হঠাৎ অপসারণ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছুটা উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন তমলুকের সাংসদ৷ কিন্তু যেভাবে শিশিরের মতোই তাঁকেও ক্রমাগত নাম না করে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে, দলের মধ্যে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে, তাতে দিব্যেন্দুও শিশিরের মতো ধৈর্য দেখাবেন, সেই সম্ভাবনা কম৷ কারণ দিব্যেন্দুর বয়স কম, রাজনৈতিক ভবিষ্যতও পড়ে রয়েছে৷ তাছাড়া দলের দাবি মেনে শুভেন্দু বা নিজের ভাই সৌমেন্দুর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা তাঁর পক্ষেও সম্ভব হবে কি না, সেই প্রশ্নও থাকছে৷ ফলে কাঁথির শান্তিকুঞ্জের বাসিন্দা পিতা-পুত্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য৷

Comm Ad 2020-LDC epic

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

2020 New Ad HDFC 05

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

corona 02

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের  সমাপ্তি অনুষ্ঠান

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠান

#

#

#

#

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 008 Myra
2020 New Ad HDFC 05