corona 01

জঙ্গলমহলে ক্রমশ কোনঠাসা হচ্ছে বিজেপি! ক্ষোভ চড়ছে আদিবাসীদের

Share Link:

জঙ্গলমহলে ক্রমশ কোনঠাসা হচ্ছে বিজেপি! ক্ষোভ চড়ছে আদিবাসীদের

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলায় একটা কথা আছে, ‘অতি চালাকের গলায় দড়ি’। জঙ্গলমহলের বুকে বিজেপির এখন সেই দশাই চলছে। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলের বুকে ছড়িয়ে থাকা ৫টি লোকসভা আসনেই জয়লাভ করেছিল বিজেপি। আর সেই জয়ের পিছনে বড়সড় ভূমিকা নিয়েছিল আদিবাসীরা। কিন্তু এখন সেই ছবিটাই চূড়ান্ত ভাবে বদলে গিয়েছে রাতারাতি। বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে জঙ্গলমহলের আদিবাসী জনসমাজ। পরিস্থিতি এমনই যে গত লোকসভা নির্বাচনের আগে জঙ্গলমহলের যে আদিবাসী সংগঠনগুলি তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল তাঁরাই এখন তৃণমূলের পাশে এসে দাঁড়িয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। একই সঙ্গে অমিত শাহ প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে তাঁরা বড়সড় আন্দোলন করার হুমকিও দিয়েছে।
 
কার্যত বিজেপির বিরুদ্ধে আদিবাসী সমাজের ফুঁসে ওঠার পিছনে মূলত বেশ কিছু ঘটনা অনুঘটকের মতো কাজ করে চলেছে। এক তো নাগরিকত্ব বিল বা সিএএ, দুই লকডাউনে আদিবাসী পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে না দাঁড়ানো, তিন ছত্রধর মাহাতোকে হেনস্থা করা এবং চার বিরসা মুন্ডার মূর্তি নিয়ে নোংরা রাজনীতি করা। এর কোনওটাই আদিবাসী জনসমাজ মেনে নিতে চাইছে না। প্রথমেই আসা যাক নাগরিকত্ব বিল নিয়ে। আদিবাসী জনসমাজে কাগজপত্র গুছিয়ে রাখার চল কোনও কালেই ছিল না আর সব থেকে বড় কথা তাঁদের হাতে কাগজপত্র তুলে দেওয়ার পথে কোনকালেই কেউ হাঁটেনি। যার জেরে এখন রাজ্যের কয়েক লক্ষ আদিবাসী পরিবার কার্যত বাড়ির দলিল পাননি বা জমির দলিল চোখেও দেখেননি। এমনকি নেই জন্ম বা মৃত্যুর প্রশংসাপত্র। ফলে নাগরিকত্ব প্রমাণে তাঁদের সিংহভাগই অক্ষম। তাই সিএএ বিল নিয়ে তা৬দের তীব্র আপত্তি ও আতঙ্ক রয়েছে যা গেরুয়া শুবির বুঝতে চাইছে না। দ্বিতীয়ত লকডাউনের সময়ে এ রাজ্যের আদিবাসী শ্রমিকদের দিকে বিজেপি নেতৃত্ব কোনও রকম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি। দীর্ঘ রাস্তা পায়ে হেঁটে বা নিজেদের গাঁটের কড়ি গুণে লরি ভাড়া করে এই সব আদিবাসী পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফিরতে হয়েছে। সেই কষ্ট তাঁরা ভুলে যায়নি।
 
তৃতীয়ত জঙ্গলমহলের বুকে মাওবাদী কার্যকলাপ এখন অনেকটাই স্থিমিত হয়ে গেলেও ছত্রধর মাহাতোর প্তভাব রয়ে গিয়েছে। সেই ছত্রধর মাহাতর পিছেন এখন পড়েছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ। পুরাতন মামলা নতুন করে খুলে তাতে ইউএপিএ ধারা যোগ করে ছত্রধর মাহাতোকে গ্রেফতার করতে চাইছে এনআইএ। কারন ছত্রধর মাহাতো বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের হয়ে প্রচার করে চলেছেন। এই প্রচার আটকাতে না পারলে বিজেপির কপালে দুঃখ আছে। ছত্রধরের পিছনে তাই পড়ে রয়েছে এনআইএ। কিন্তু ছত্রধরকে এভাবে হেনস্থা করা মেনে নইতে পারছে না আদিবাসী পরিবারগুলি। বিশেষত মাহাতো সম্প্রদায়ের মানুষ। এ রাজ্যে এই মাহাতো সম্প্রদায়ের আদিবাসী মানুষই সংখ্যায় বেশি ও কার্যত আদিবাসী সমাজে তাঁরাই প্রভাবশালো ভূমিকা নেন। চতুর্থত, বাঁকুড়ায় অমিত শাহের হাত ধরে বিরসা মূর্তির বিতর্কের ঘটনা। গত ৫ নভেম্বর বাঁকুড়া শহরের পুয়াবাগানে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে এক আদিবাসী যোদ্ধার মূর্তিকে বিরসা মুন্ডার মূর্তি বলে তাতে মাল্যদানের কর্মসূচো রেখেছিল বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। যদিও সেই কর্মসূচীর সামান্য আগেই জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় ওই মূর্তি নিছক এক আদিবাসী শিকারীর যা এলাকার সৌন্দর্যায়নের জন্য বসানো হয়েছে। তাই অমিত শাহের মান রক্ষার্থে তড়িঘড়ি করে বিরসা মুন্ডার একটি ছবি এনে তাতেই মাল্যদানের কর্মসূচী করা হয়। কিন্তু বিবাদ শুরু হয় দিলীপ ঘোষের জন্য। দিলীপ ঘোষ কলকাতায় বসে জানিয়ে দেন, ওখানে অমিত শাহ যেহেতু মাল্যদান করেছে তাই ওটাই বিরসা মুন্ডার মূর্তি। দিলীপের এই দাবি ক্ষেপিয়ে তুলেছে আদিবাসীদের। তাঁরা বিরসা মুন্ডাকে কার্যত ভগবানের মতো শ্রদ্ধা করে। যে কোনও মূর্তিকে তাঁরা বিরসা মুন্ডার মূর্তি বলে কেন মেনে নেবে!
 
এখন এই ঘটনাকে ঘিরেই আদিবাসী সমাজ কার্যত ফুটছে বিজেপির বিরুদ্ধে। বাঁকুড়া শহর জুড়ে তো বটেই জঙ্গলমহল জুড়ে পোস্টারের পর পোস্টার পড়ে চলেছে মূর্তিকাণ্ডে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে অমিত শাহকে। ইতিমধ্যেই বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়ে দিয়েছে পুয়াবাগানেই তৈরি করা হবে বিরসা মুন্ডার মূর্তি যা জেলার মধ্যে সব থেকে বড় মূর্তি হবে। তৃণমূলের এই দাবিকে আবার সমর্থন করেছে ‘ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল’, ‘পশ্চিমবঙ্গ ভূমিজ ভাষা কমিটি’র মতো আদিবাসীদের বৃহৎ সংগঠনগুলি। এক বছ্র আগে এরাই লোকসভা নির্বাচণে দাঁড়িয়েছিল বিজেপির পাশে। আজ ছবিটা পুরো ঘুরে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, এরা রীতিমত হুমকি দিয়েছে যে, বিরসা মুণ্ডাকে নিয়ে নোংরা রাজনীতি বন্ধ না হলে আগামী দিনে তাঁরা বড়সড় আন্দোলনের পথে নামবেন। সবমিলিয়ে জঙ্গলমহলের দখল নেওয়ার পথে নামা বিজেপি শিবিরের বিরুদ্ধেই এখন ক্রমশ সুর চড়াচ্ছে জঙ্গলমহলেরই আদিবাসী জনসমাজ।

Comm Ad 2020-tantuja-body

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 2020-Valentine RC

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

2020 New Ad HDFC 05

খিদিরপুর থেকে শুরু করে বেহালা, হরিদেবপুর,

খিদিরপুর থেকে শুরু করে বেহালা, হরিদেবপুর,

মুদিয়ালী ছুঁয়ে সোধপুর পার্ক

মুদিয়ালী ছুঁয়ে সোধপুর পার্ক

বাবুবাগান হয়ে উদ্বোধনের যাত্রা শেষ হল একডালিয়া,

বাবুবাগান হয়ে উদ্বোধনের যাত্রা শেষ হল একডালিয়া,

হিন্দুস্থান পার্ক, ত্রিধারার চত্বরে এসে।

হিন্দুস্থান পার্ক, ত্রিধারার চত্বরে এসে।

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

#

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 2020-himalaya RC

Editors Choice

Comm Ad 2020-WB Tourism RC