Comm Ad 2020-LDC epic

অন্তিম দফার ভোটের 'হট সিট', লড়াই হাড্ডাহাড্ডি

Share Link:

অন্তিম দফার ভোটের 'হট সিট', লড়াই হাড্ডাহাড্ডি

নিজস্ব প্রতিনিধি: অষ্টম দফায় বৃহস্পতিবার রাজ্যের ৪ জেলার মোট ৩৫ আসনে ভোটগ্রহণ। তারমধ্যে কলকাতার ৭টি, মুর্শিদাবাদের ১১টি, বীরভূমের ১১টি এবং মালদার ৬টি আসনে ভোট। প্রত্যেক বুথে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ভোটকর্মীরা পৌঁছে গিয়েছেন। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।  ভাগ্য নির্ধারণ একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর। কোন কেন্দ্রে কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে, কোন কেন্দ্রটি বেশি স্পর্শকাতর আর কোন কেন্দ্রে হতে চলেছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। অষ্টম তথা শেষ দফার সেরকমই কিছু কেন্দ্রের বিবরণ থাকল।

চৌরঙ্গি: দল তৈরির পর থেকে এই কেন্দ্রে জিতে আসছে তৃণমূল। এই কেন্দ্রে প্রায় ৩৫ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার। আবার প্রায় ৩০ শতাংশ অবাঙালি ভোট। লোকসভায়ও বিরাট ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁর স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এই কেন্দ্র থেকে প্রথমবারের জন্য বিধানসভা নির্বাচনে লড়ছেন। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। বিজেপির তরফে লড়ছেন দেবদত্ত মাজি। এদিকে এই কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী করেছে সন্তোষ পাঠককে। তিনি অবাঙালি হওয়ায় বিজেপির ভোটব্যাংকে থাবা বসাতে পারেন তিনি। 

এন্টালি: এই কেন্দ্রেও বিরাট সংখ্যক সংখ্যালঘু ভোটার। রয়েছেন কলোনির বাসিন্দাও। মূলত তাঁদের ভোটই টার্গেট করেছেন তৃণমূল প্রার্থা স্বর্ণকমল সাহা। তবে এই কেন্দ্রের বিভিন্ন ওয়ার্ডে তোলাবাজি, দুর্নীতি, অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। যা চিন্তা বাড়িয়েছে ঘাসফুল শিবিরের। বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। এলাকায় পরিচিত মুখ, লড়াকু নেত্রী। লড়াইয়ে রয়েছেন আইএসএফ প্রার্থী ড. মহম্মদ ইকবাল আলমও। তিনি যদি সংখ্যালঘু ভোটে থাবা বসাতে পারে তাহলে নিঃসন্দেহে সুবিধা পাবে বিজেপি।

বেলেঘাটা: এলাকার বিধায়ক পরেশ পাল সারা বছর আমজনতার পাশে থাকেন। তবে তাঁর চিন্তা বাড়িয়েছে কাউন্সিলরদের প্রতি আমজনতার ক্ষোভ। কাউন্সিলরদের দুর্ব্যবহার, দুর্নীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। এই এলাকায় প্রচুর পূর্ববঙ্গীয় ভোটার রয়েছে। তাঁদের মধ্যে মেরুকরণের রাজনীতি করছে বিজেপি। আবার ভোটারদের একাংশের উপর মতুয়াদের প্রভাব রয়েছে। এই ফ্যাক্টরগুলিকে কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি। তবে দলীয় প্রার্থী কাশীনাথ বিশ্বাস। এলাকায় তেমন পরিচিত মুখ নন। ফ্যাক্টর হবেন না সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী রাজীব বিশ্বাসও। তবে সরকারি পরিষেবা, ভাবমূর্তির উপর ভরসা করে সহজ জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী পরেশ পাল।

জোড়াসাঁকো: এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী মীনাদেবী পুরোহিত ২৫ বছরের কাউন্সিলর। কলকাতার প্রাক্তন ডেপুটি মেয়রও। নিজের ওয়ার্ডে যথেষ্ঠ কাজ করেছেন তিনি, পরিচিত মুখ। বিধায়ক স্মিতা বক্সীকে নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে এলাকায়। গত লোকসভা নির্বাচনেও এই কেন্দ্রে বেগ পেতে হয়েছিল তৃণমূলকে। এবার তাই প্রার্থী করা হয়েছে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রতীক রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ বিবেক গুপ্তকে। তিনি অবাঙালি হওয়ায় বিজেপির ভরসাস্থল অবাঙালি ভোটব্যাংকে থাবা বসাতে পারেন বলে আশা ঘাসফুল শিবিরের। সংযুক্ত মোর্চার তরফে তাজমল খানকে প্রার্থী করেছে কংগ্রেস। 

শ্যামপুকুর:  গত লোকসভায় এই বিধানসভাতেও ফাইট দিয়েছিল বিজেপি। তবে বিধানসভায় বিজেপি কোনও ছাপ ফেলতে পারবে বলে দাবি করছেন তৃণমূল প্রার্থী ডা. শশী পাঁজা। এই কেন্দ্রে এখনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজিত পাঁজার প্রভাব বর্তমান। তাঁর আমলেই তৈরি হয়েছিল সংগঠন। শশী পাঁজাও জনসংযোগে কখনও ভাটা পড়তে দেননি। মন্ত্রী থাকাকালীন এই কেন্দ্রের উন্নয়ন করেছেন সর্বত্র।  সেই উন্নয়নকে মন্ত্র করেই ভোটের ময়দানে লড়াই করছেন তৃণমূল প্রার্থী। যদিও তিনি বর্তমানে করোনা আক্রান্ত। সংযুক্ত মোর্চার তরফে লড়াই দিতে প্রস্তুত এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী জীবনপ্রকাশ সাহা। 

মানিকতলা: আটবারের বিধায়ক সাধন পাণ্ডে বনাম বিজেপির তারকা প্রার্থী ভারতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন গোলকিপার কল্যাণ চৌবের। সাধন পাণ্ডে জিতলে মানিকতলা কেন্দ্রে জয়ের হ্যাটট্রিক করবেন তিনি। অন্যদিকে কল্যাণ গত লোকসভা ভোটে কৃষ্ণনগর কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়ে হেরে গিয়েছিলেন। এই কেন্দ্রে প্রচুর বনেদি, ফুটবলপ্রেমী ভোটারের বাস। কল্যাণ চৌবে ময়দানের সেই আবেগকে কাজে লাগাতে চাইছেন। তিনি ময়দানের প্রাক্তন ফুটবলার। অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তৃণমূল প্রার্থী। বাবার হয়ে প্রচার সারছেন মেয়ে শ্রেয়া পাণ্ডে। সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী রূপা বাগচী লড়াই দিতে পারেন।

কাশীপুর-বেলগাছিয়া: প্রাক্তন এমআইসি অতীন ঘোষকে প্রার্থী করতেই তৃণমূল কর্মীরা চাঙ্গা হয়ে ওঠে। তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা, স্বচ্ছ  ভাবমূর্তি, জনসংযোগই বিরোধিদের টেক্কা দিয়েছেন। গতবারের বিধায়ক মালা সাহাকে নিয়ে ক্ষোভ ছিল এলাকায়। তা বুঝেই প্রার্থী বদল।  উলটোদিকে বিজেপির প্রার্থী শিবাজী সিংহরায় প্রবীণ ব্যক্তি। সংগঠন নেই তেমন। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাও শূন্য। সংযুক্ত মোর্চার নতুন মুখ প্রতীপ দাশগুপ্ত ভোটে তেমন প্রভাব ফেলতে পারবেন না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মানিকচক: আসনটি বরাবরই বামেদের দখলে থাকত। তবে ২০১১ সালে সিপিএমকে পরাজিত করে তৃণমূলের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পান সাবিত্রী মিত্র। তবে ২০১৬ সালে কংগ্রেসের মোত্তাকিন আলমের কাছে পরাজিত হন তৃণমূলের সাবিত্রী। একুশেও ফের মুখোমুখি সাবিত্রী-মোত্তাকিন। তবে এবার লড়াইয়ে রয়েছে বিজেপি প্রার্থী  মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল।

মালদহ: বিধায়ক ভূপেন্দ্রনাথ হালদার (অর্জুন) এবারও কংগ্রেসের প্রার্থী। গতবার তিনি তৃণমূলের বাবলা (দুলাল) সরকারকে পরাজিত করেন। এবার প্রার্থী বদল করে নতুন মুখ এনেছে তৃণমূল। জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি উজ্জ্বল চৌধুরীকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তবে তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দিনকয়েক আগে তিনি দুষ্কৃতীদের গুলিতে জখম হন। এর ফল ইভিএমে মিলবে বলবে আশা বিজেপির। 

ইংলিশবাজার: গত লোকসভা নিরিখে এই বিধানসভায় প্রায় লাখখানেক ভোটে পিছিয়ে তৃণমূল। এর জন্য প্রাক্তন বিধায়ক তথা মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর খারাপ ব্যবহার ও শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকেই কারণ হিসাবে তুলে ধরছেন তৃণমূলেরই একাংশ। এবারও তাঁর ওপর ভরসা রেখেছে দল। তুলনায় সহজ লড়াই বিজেপি প্রার্থী শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরীর কাছে। ‘নির্ভয়া দিদি’ হিসাবে তিনি পরিচিত। ২০১৯-এর লোকসভা তিনিই ছিলেন মালদা দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী। তবে বিনা লড়াইয়ে হাল ছাড়তে রাজি নন সংযুক্ত মোর্চার সিপিএম প্রার্থী কৌশিক মিশ্র। 

সুজাপুর: কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। এই কেন্দ্র থেকে জিতেই প্রথম বিধায়ক হয়েছিলেন আবু বরকত আতাউল গনি খান চৌধুরী। এই এলাকার মানুষের ভোটেই একদা দিল্লির মসনদে পৌঁছে গিয়েছিলেন প্রয়াত গনি খান। ২০১৬ সালে কংগ্রেস প্রার্থী ইশা খান চৌধুরী প্রায় ৪৬ হাজার ভোটে তৃণমূল প্রার্থী আবু নাসের খান চৌধুরীকে পরাজিত করেন। ইশা খান সাংসদ ডালুর একমাত্র ছেলে। এবারও কংগ্রেস প্রার্থী ইশা। তৃণমূলের প্রার্থী আবদুল গণি। একজন ‘ভূমিপুত্র’কে প্রার্থী করে গনির গড়ে পরিবর্তন আনতে মরিয়া তৃণমূল।

বৈষ্ণবনগর: মালদার এই কেন্দ্রেই প্রথম থাবা বসায় বিজেপি। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী স্বাধীন সরকার প্রায় পাঁচ হাজার ভোটের ব‍্যবধানে কংগ্রেস প্রার্থী আজিজুল হককে পরাজিত করেন। এবারও দুই দল থেকে এই দু’জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তৃণমূলের প্রার্থী জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি চন্দনা সরকার। এই কেন্দ্রটি নিয়ে এবার আশাবাদী তৃণমূল। 

খড়গ্রাম: এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করেছে গতবার কংগ্রেসের টিকিটে জেতা বিধায়ক আশিস মার্জিতকে। কংগ্রেস প্রার্থী করেছে বিপদতরণ বাগদীকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এখানে তেমন কোনও প্রভাব ফেলতে পারবেন না গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী আদিত্য মৌলিক।

বড়ঞা: লড়াই তৃণমূল বনাম সংযুক্ত মোর্চা। তবে গতবারের বিধায়ক প্রতিমা রজককে আর প্রার্থী করেনি কংগ্রেস। বদলে সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন অধীর চৌধুরী ঘনিষ্ঠ শিলাদিত্য হালদার। ফলে কংগ্রেসের অন্দরে ক্ষোভ-বিক্ষোভ রয়েছে। 

কান্দি: ২০১৬ সালে এই কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের টিকিটে জিতেছিলেন অপূর্ব সরকার। লোকসভা নির্বাচনের মুখে তৃণমূল যোগ দিয়ে বহরমপুর থেকে প্রার্থী হন। তিনি তো হেরেছিলেন, এমনকী এই কেন্দেও পিছিয়ে ছিলেন। এবার তিনিই তৃণমূল প্রার্থী। তাঁকে হেলা হারাবেন বলে দাবি সংযুক্ত মোর্চা প্রার্থী কংগ্রেসের সইফুল আলম খানকে। প্রচারে ঝড় তুলেছেন বিজেপি প্রার্থী গৌতম রায়ও।

রেজিনগর: ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের টিকিটে জিতেছিলেন রবিউল আলম চৌধুরী। এবার তিনি শাসকদল তৃণমূলের প্রার্থী। তাঁর মূল লড়াই সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী কাফিরুদ্দিন শেখের সঙ্গে। এলাকার প্রভাবশালী নেতা হুমায়ুন কবীরও বদলে নিয়েছেন শিবির। ফলে পালে হাওয়া রয়েছে শাসকদলের। 

বহরমপুর: স্বয়ং অধীর চৌধুরীর গড়। গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই যে লিড পেয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী অধীররঞ্জন চৌধুরী, তাতেইকার্যত জয় পেয়ে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে তৃণমূলকে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বিজেপি। ফলে বিধানসভায় এই কেন্দ্রে কংগ্রেস বনাম বিজেপির লড়াই হওয়ার কথা।

ডোমকল: গত ন'বারের বিধায়ক আনিসুর রহমান এবারও এই কেন্দ্রে সংযুক্ত মোর্চার তরফে সিপিএম প্রার্থী। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী জাফিকুল ইসলাম।রাজ্যে শাসকদলের উন্নয়নকে হাতিয়ার করে লড়াই করছেন তিনি। ময়দানে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী রুবিয়া খাতুনও।

জলঙ্গি: গত বিধানসভা ভোটে জয় পেয়েছিলেন বাম প্রার্থী। আবার উনিশের লোকসভায় এগিয়ে ছিল তৃণমূল। এবার সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী হয়েছেন সাইফুল ইসলাম মোল্লা। তৃণমূল প্রার্থী করেছে আবদুর রজ্জাককে। জোটের ভোট অঙ্কের নিরিখে তৃণমূলের চেয়ে এগিয়ে সংযুক্ত মোর্চা। আবার এই কেন্দ্রে ৩৩ হাজারের কিছু বেশি ভোটার হিন্দু। সেটাই বড় ফ্যাক্টর।

দুবরাজপুর: লড়াই তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির। গত লোকসভায় এগিয়ে ছিল বিজেপি।  সেই ধারা বজায় রেখে একুশের ভোটে জয় পেতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। প্রার্থী করেছে অনুপ সাহাকে। ‘বহিরাগত’ বিজেপি প্রার্থীকে ঘিরে দলে ক্ষোভ ছিল। প্রথমে ঘাসফুল শিবির এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছিলেন অসীমা ধীবরকে। পরে তাঁকে বদলে দেবব্রত সাহাকে প্রার্থী করা হয়। তাঁকে ঘিরেও দলের অন্দরেই ক্ষোভ রয়েছে। কারণ তিনি বাম ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা। তাঁকে ঘিরে দলের অন্দরে উদাসীনতা রয়েছে। বাম প্রার্থী বিজয় বাগদি গত ছ’বার জয়ী হয়েছে। তবে প্রবীণ প্রার্থী বর্তমানে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছেন।

সিউড়ি: এখানেও গত লোকসভায় এগিয়ে গিয়েছিল বিজেপি। এবার সেই ধারা ধরে রাখতে এই কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি ভূমিপুত্র। ভূমিপুত্র চঞ্চল চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছে কংগ্রেস। তৃণমূল প্রার্থী করেছে জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরীকে। তিনি ভূমিপুত্র নন, বোলপুরের বাসিন্দা। 

বোলপুর: প্রবল বিজেপি হাওয়ার মধ্যেও উনিশের লোকসভা ভোটে অনুব্রতর গড়ে এগিয়ে ছিল তৃণমূল। বোলপুর শহরে প্রায় ১০ হাজার ভোটে লিড পেয়েছিল বিজেপি। কিন্তু ইলামবাজার এবং পাড়ুই সংখ্যালঘু হওয়ার জন্য ওই এলাকায় এগিয়ে ছিল তৃণমূল। এবার নিজেদের জয়ের ধারা অক্ষুণ্ণ রাখতে ঘাসফুল শিবির প্রার্থী করেছে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাকে। এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তা আছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী করেছে চিকিৎসক অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়কে। তবে এই কেন্দ্রে ভোটে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে বিশ্বভারতীর ভিসি বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। 

নানুর: গতবারের সিপিএম বিধায়ক শ্যামলী প্রধানকে এবারও প্রার্থী করেছে সংযুক্ত মোর্চা। যদিও উনিশের লোকসভা ভোটে এগিয়ে ছিল তৃণমূল। এবারও সেই জয়ের ধারা বজায় রাখতে মরিয়া ঘাসফুল শিবির। প্রার্থী করেছে বিধানচন্দ্র মাঝিকে। এই কেন্দ্রে সংখ্যালঘু ভোট প্রায় ৪০ শতাংশ। সেটাই ব় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।

লাভপুর: গত দু'বারের বিধায়ক মণিরুল ইসলাম বিজেপি ঘুরে এখন প্রায় সব দল থেকেই ব্রাত্য। এবার তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ সিংহ। এই এলাকায় ৩৫ শতাংশ মুসলিম। আর তাই এই আসনে তৃণমূলের জেতার সম্ভাবনা প্রবল। উনিশের লোকসভাতেও এগিয়ে ছিল তৃণমূল। তৃণমূল প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ মণ্ডল। লড়াইয়ে রয়েছেন সংযুক্ত মোর্চার সাইফুল ইসলাম মোল্লা।

সাঁইথিয়া: উনিশের লোকসভা ভোটে অল্প ব্যবধানে হলেও এগিয়ে ছিল তৃণমূল। এবারও সেই জয়ের ধারা বজায় রাখতে ২০১৬ সালের বিধায়ক নিলাবতী সাহাকেই প্রার্থী করেছে শাসকদল। এলাকার উন্নয়নকে হাতিয়ার করে নিজের জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল প্রার্থী।  বিজেপির প্রিয়া সাহার প্রার্থী পদ নিয়ে দলের অন্দরে অসন্তোষ রয়েছে। সংযুক্ত মোর্চার তরফে আরএসপির তপন হোড়কে প্রার্থী করা হলেও তা খুব একটা প্রভাব ফেলবে না বলেই দাবি রাজনৈতিক মহলের।

ময়ূরেশ্বর: গতবারের বিধায়ক অভিজিৎ রায়কেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপির হয়ে লড়াই করছেন প্রাক্তন জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল। শেষ মুহূর্তে এই কেন্দ্রে সংযুক্ত মোর্চা প্রার্থী করেছে সিপিএমের শিবনাথ পালকে। 

রামপুরহাট: তৃণমূল প্রার্থী গত পাঁচবারের বিধায়ক ডা. আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ই। যদিও লোকসভা নির্বাচনে শহরাঞ্চলে বিপুল ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। আশিসবাবুর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন বিজেপির শুভাশিস চৌধুরী। তিনি পাঁচবারের কাউন্সিলর। লড়াই দিতে প্রস্তুত সংযুক্ত মোর্চার সিপিএম প্রার্থী সঞ্জীব বর্মণ। 

হাসন: গতবারের কংগ্রেস বিধায়ক মিলটন রশিদকেই প্রার্থী করেছে সংযুক্ত মোর্চা। রাজ্যের অন্যতম সক্রিয় বিধায়ক। তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী সিউড়ির বিধায়ক অশোককুমার চট্টোপাধ্যায়। তিনি পেশায় চিকিৎসক। এই এলাকায় তাঁর কর্মজীবনের শুরু। ফলে এলাকাবাসীর সঙ্গে তাঁর ভাল যোগাযোগ রয়েছে। লোকসভায় এগিয়েছিল তৃণমূল। লড়াইটা দ্বিমুখী। বিজেপি প্রার্থী নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় তেমন কোনও প্রভাব ফেলতে পারবেন না বলেই মত ওয়াকিবহল মহলের। 

নলহাটি: জোড়াফুল শিবিরের টিকিটে লড়ছেন নলহাটির প্রাক্তন পুরপ্রধান রাজেন্দ্র প্রসাদ সিং। এলাকায় পরিচিত মুখ। প্রাক্তন বিধায়ক মইনউদ্দিন সামশকে তৃণমূল প্রার্থী না করায় তিনি এবার নির্দল হয়ে লড়ছেন। সংযুক্ত মোর্চা প্রার্থী করেছে ফরোয়ার্ড ব্লকের জেলা সম্পাদক দীপক চট্টোপাধ্যায়কে। তিনিও এই এলাকায় তিনবারের বিধায়ক। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিজেপির তাপসকুমার যাদব। 

মুরারই: শুভেন্দু অধিকারী গুজব রটিয়েছিলেন না কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কেন্দ্রে থেকে আবার লড়বেন। তা যদিও সত্যি হয়নি। কিন্তু বিজেপির সেই প্রচারে এলাকার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় প্রভাব ফেলেছে। কংগ্রেসের প্রাক্তন মন্ত্রী মোতাফার হোসেনের ছেলে মোশারফ হোসেন তৃণমূলের টিকিটে লড়াই করছেন এই এলাকায়।  তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছেন বিজেপির দেবাশিস রায় এবং কংগ্রেসের হয়ে লড়ছেন মহম্মদ আসিফ ইকবাল। গত লোকসভা ভোটের নিরিখে তৃণমূল এই কেন্দ্রে অনেক ভোটেই এগিয়ে রয়েছে।

Comm Ad 005 TBS

More News:

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Comm Ad 2020-LDC Egg

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Comm Ad 2020-himalaya RC

নিউ ইয়র্কে শুরু হল মেট গালা ২০২১। নিউইয়র্কে এই অনুষ্ঠানে ছিল তারকাদের ভিড়। ফ্যাশন, স্টাইল ও দুর্দান্ত ডিজাউনে সব তারকারা হাজির হয়েছিলেন বিচিত্র সব পোশাক পরে। মেট গালার রেড কার্পেটে হাঁটার জন্য কী পরবেন সেলেবরা, তার প্রস্তুতি চলতে থাকে বছরের পর বছর ধরে। করোনার কারণে গত বছর আসরটি বসেনি। তাই এবার যেন তারার মেলা বসে গিয়েছিল।

নিউ ইয়র্কে শুরু হল মেট গালা ২০২১। নিউইয়র্কে এই অনুষ্ঠানে ছিল তারকাদের ভিড়। ফ্যাশন, স্টাইল ও দুর্দান্ত ডিজাউনে সব তারকারা হাজির হয়েছিলেন বিচিত্র সব পোশাক পরে। মেট গালার রেড কার্পেটে হাঁটার জন্য কী পরবেন সেলেবরা, তার প্রস্তুতি চলতে থাকে বছরের পর বছর ধরে। করোনার কারণে গত বছর আসরটি বসেনি। তাই এবার যেন তারার মেলা বসে গিয়েছিল।

দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন লিল নাসকের রাজকীয় পোশাক। সোনালি সুপারহিরোর পোশাকে হাজির ছিলেন তিনি।

দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন লিল নাসকের রাজকীয় পোশাক। সোনালি সুপারহিরোর পোশাকে হাজির ছিলেন তিনি।

সম্পূর্ণ কালো পোশাক নজর কাড়লেন কিম কারদাশিয়ান।

সম্পূর্ণ কালো পোশাক নজর কাড়লেন কিম কারদাশিয়ান।

রালফ লরেনের তৈরি পশমের পোশাকে ধরা দিয়েছেন জেনিফার লোপেজ। সঙ্গে ছিলেন বেন অ্যাফ্লেক। এ বার সামাজিক অনুষ্ঠানেও দেখা দিলেন যুগলে। মেট গালা ২০২১-এর হোয়াইট কার্পেটে অবশ্য আলাদাই হাঁটলেন জেনিফার ও বেন। ভিতরে গিয়ে মাস্ক পরেই চুম্বনে মগ্ন হলেন দুই তারকা।

রালফ লরেনের তৈরি পশমের পোশাকে ধরা দিয়েছেন জেনিফার লোপেজ। সঙ্গে ছিলেন বেন অ্যাফ্লেক। এ বার সামাজিক অনুষ্ঠানেও দেখা দিলেন যুগলে। মেট গালা ২০২১-এর হোয়াইট কার্পেটে অবশ্য আলাদাই হাঁটলেন জেনিফার ও বেন। ভিতরে গিয়ে মাস্ক পরেই চুম্বনে মগ্ন হলেন দুই তারকা।

সুপার মডেল ইমন চমত্কার পালকযুক্ত স্বর্ণ এবং বেইজ হেডড্রেস এবং স্কার্ট বেছে নিয়েছিল। মাথার পিছনে বসানো সাদা আর সোনালি হেড পিস দেখাল চক্রের মতো।

সুপার মডেল ইমন চমত্কার পালকযুক্ত স্বর্ণ এবং বেইজ হেডড্রেস এবং স্কার্ট বেছে নিয়েছিল। মাথার পিছনে বসানো সাদা আর সোনালি হেড পিস দেখাল চক্রের মতো।

Voting Poll (Ratio)

Comm Ad 2020-Valentine RC
2020 New Ad HDFC 05