বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পাশে থাকতে কানাডার বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে বেঙ্গালুরু ফিরলেন যুবক

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি:  অনেকেই সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরি নিয়ে নিজের দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি দেন। নতুন শহর, নতুন দেশ, নতুন জীবন সবকিছুই যেন স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু সেই স্বপ্নের দাম হিসেবে অনেক সময় ছেড়ে যেতে হয় বাবা-মা, পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং শৈশবের স্মৃতিতে ভরা জন্মভূমিকে। প্রথমদিকে নিয়মিত ফোন, ভিডিও কল, খোঁজখবর চললেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ততা বাড়ে তৈরি হয় দুরত্ব।  উৎসব আসে, বাড়ির মানুষ অপেক্ষা করে, কিন্তু ঘরে ফেরা হয় না। একসময় শিকড়ের টানও যেন অনেকটাই ফিকে হয়ে যায়। তবে জীবনে সাফল্য মানেই কি বিদেশে বড় চাকরি, মোটা বেতন আর আরামদায়ক জীবন? নাকি সত্যিকারের সাফল্য লুকিয়ে থাকে বাবা-মায়ের  পাশে থাকার মধ্যে? এই প্রশ্নই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে বেঙ্গালুরুর প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ রমেশ এনএনকে। সেই উপলব্ধি তাঁকে সুদূর কানাডা থেকে ভারতে ফিরতে বাধ্য করেছে। জীবনের সেই উপলব্ধি তিনি ভাগ করে নিয়েছেন। 

প্রায় ছয় বছর আগে কানাডায় প্রতিষ্ঠিত জীবন ছেড়ে তিনি ভারতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ একটাই বয়সের ভারে নুয়ে পড়া বাবা-মায়ের পাশে থাকা। সম্প্রতি লিঙ্কডইনে নিজের সেই সিদ্ধান্তের কথা ভাগ করে নিতেই তাঁর আবেগঘন পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। রমেশ লিখেছেন, জীবনের এমন একটা সময় আসে যখন বুঝতে হয়, পরিবারের সঙ্গে কাটানোর সময়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া যায় না। বিদেশে থেকে কর্মজীবনে সাফল্য পাওয়া সম্ভব হলেও বাবা-মায়ের জীবনের মূল্যবান মুহূর্তগুলো আর ফিরে আসে না। তাই তিনি স্বাচ্ছন্দ্য, স্থায়ি চাকরি এবং বিদেশের সুখের জীবন ছেড়ে নিজের জন্মভূমিতে ফেরার পথ বেছে নেন। এই সিদ্ধান্ত মোটেই সহজ ছিল না। জানিয়েছেন বিদেশের নিরাপদ জীবন, পেশাগত সুযোগ এবং পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে দেশে ফিরে নতুন করে সবকিছু শুরু করতে হয়েছে তাঁকে। তবুও তাঁর কথায়, এই সিদ্ধান্ত ছিল জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত। কারণ এখন তিনি প্রতিদিন বাবা-মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন, পরিবারের সুখ-দুঃখের অংশ হতে পারেন এবং নিজের সন্তানদেরও বড় পরিবারের ভালোবাসার মধ্যে বড় করে তুলতে পারছেন।

তিনি আরও স্বীকার করেছেন যে ভারতে ফিরে আসার পর কিছু পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁকে মানিয়ে নিতে হয়েছে, যার মধ্যে ছিল পরিকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং নতুন করে বিভিন্ন ব্যবস্থার সাথে পরিচিত হওয়া। তবে তিনি বলেছেন, অসুবিধার চেয়ে সুবিধাগুলোই বেশি ছিল। নিজের পোস্টের শেষে রমেশ লিখেছেন, ‘সাফল্য শুধু পৃথিবীর কোথায় আছেন, তার উপর নির্ভর করে না। সাফল্য হল সেই জায়গায় থাকা, যেখানে আপনাকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এবং যেখানে আপনার মন সবচেয়ে বেশি শান্তি খুঁজে পায়।’ তাঁর এই পোস্ট দেখে অনেকেই বলছেন, জীবনের প্রতিটি সাফল্য, পদোন্নতি কিংবা মোটা বেতনের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সেই আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার জন্য প্রিয় মানুষগুলো পাশে থাকে। কেউ কেউ বলছেন, অর্থ জীবনের প্রয়োজন মেটাতে পারে, কিন্তু ভালোবাসা, মমতা আর আপনজনের উপস্থিতির অভাব কখনও পূরণ করতে পারে না। সময়ের সঙ্গে বাবা-মায়ের বয়স হয়, তাঁদের প্রয়োজন বাড়ে। সেই সময় পাশে থাকার সৌভাগ্য সবাই পান না। পরে অনেকেই বুঝতে পারেন, জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ আসলে ব্যাংক ব্যালেন্স নয়, পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়। তাই ক্যারিয়ার গড়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই নিজের শিকড়কে ভুলে না যাওয়াও সমান জরুরি।

পুরভোটকে মাথায় রেখে বিজেপি বিধায়কদের বাড়তি দায়িত্ব, গুরুত্ব বাড়ল সজলের

রানাঘাটে দোকানে হামলা! শূন্যে গুলি চালিয়ে খুনের হুমকি, উদ্ধার তাজা গুলির খোল

সুগন্ধি চাল নয়, লুচি দিয়েই বানিয়ে ফেলুন ভিন্ন স্বাদের পায়েস

৫ লক্ষ টাকা তোলা না দেওয়ায় ডাক্তারকে বাসনপত্র দিয়ে বেধড়ক মার, কাঠগড়ায় ‘বিগ বস’ প্রতিযোগী

মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্য়ুকামনা করলেন হুমায়ুন কবীর, নওদার বিধায়কের মন্তব্যে শোরগোল

বাড়িতে সবজি শেষ? মাত্র ১০ মিনিটে বানান রাজস্থানি ‘বেসনের ঘেসেলা’

নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার ৫২ বছরের ঝাড়ুদার, চাঞ্চল্য পুনেতে

ঘরের ভিতর রক্তের হোলি! স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানকে খুনের পর আত্মহত্যার চেষ্টা অভিযুক্তের

‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কড়া জবাব ছিল সার্জিক্যাল স্ট্রাইক,’ ‘মন কি বাতে’ বললেন মোদি

পানশালায় ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি! দক্ষিণ আফ্রিকায় নিহত ১৭

নেপালের হিমলুং বেস ক্যাম্পে বিশাল তুষার ধস, নিখোঁজ প্রায় ১০ পর্বতারোহী

ফুটবল খেলতে খেলতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন খেলোয়াড়, তার পরেই ঘটল মর্মান্তিক ঘটনা

ফের আক্রান্ত কুণাল, হাতুড়ি দিয়ে মমতাপন্থী বিধায়কের উপর হামলা দুষ্কৃতীদের

‘সিপিএম এখন তৃণমূলের বন্ধু,’ খোঁচা শুভেন্দুর