এই মুহূর্তে

আমেরিকা-ইজরায়েলের হামলায় গুরুতর আহত মোজতবা, শারীরিক অবস্থা নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন অনিশ্চয়তা, গোপনীয়তা এবং জল্পনার ঘূর্ণাবর্ত। যুদ্ধের আগুনে জর্জরিত পরিস্থিতিতে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা জনসমক্ষে অনুপস্থিত। যা ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন, উদ্বেগ এবং রহস্য। তাঁর শারীরিক অবস্থা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা-সবকিছুই এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির নজরে।

সংবাদ সংস্থা Reuters-এর একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই এখনও গুরুতর আঘাত থেকে সেরে উঠছেন। যুদ্ধের শুরুর দিকে বিমান হামলায় তাঁর পিতা আলী খামেনেই নিহত হওয়ার সময় তিনি নিজেও মারাত্মকভাবে আহত হন। সূত্রের খবর, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে সর্বোচ্চ নেতার বাসভবনে হওয়া ওই হামলায় মোজতবার মুখমণ্ডল গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তাঁর এক বা উভয় পায়ে বড় ধরনের আঘাত লাগে। তবে তিনি বর্তমানে সুস্থতার পথে এবং মানসিকভাবে সচেতন রয়েছেন।

আরও পড়ুন: আমেরিকা-ইরান সংঘাতের মাঝেই গাজা পরিকল্পনা স্থগিত করল ট্রাম্পের বোর্ড

ঘনিষ্ঠ মহলের দুইজন জানিয়েছেন, তিনি সরাসরি উপস্থিত না হলেও অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অংশ নিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, বর্তমান সংকটময় সময়ে তিনি আদৌ কার্যকরভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারছেন কি না। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর কোনো ছবি, ভিডিও বা বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি, যা তাঁর অবস্থান ও সক্ষমতা নিয়ে ধোঁয়াশা আরও বাড়িয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁকে ‘জানবাজ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা গুরুতর আহত যোদ্ধাদের বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে তিনি গুরুতরভাবে আহত এবং সম্ভবত বিকৃত হয়েছেন। এমনকি একটি গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, তিনি একটি পা হারিয়ে থাকতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সরকারি তথ্য নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই নেতার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। Middle East Institute-এর বিশ্লেষকরা মনে করেন, তাঁর পিতা যেমন দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতা সুসংহত করেছিলেন, সেই জায়গায় পৌঁছাতে মোজতবার সময় লাগবে। ইরানের ধর্মতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতাই মূল ক্ষমতার কেন্দ্র। তিনি শুধু রাষ্ট্রপতিকে তদারকি করেন না, বরং সামরিক ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোকেও সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করেন।

তবে মোজতবার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। সূত্র বলছে, ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী বর্তমানে কৌশলগত সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা পালন করছে এবং নতুন নেতার ক্ষমতা প্রয়োগ অনেকটাই তাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। “মোজতবা কোথায়?” এই প্রশ্ন ঘিরে মিম ও জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তাকেই তুলে ধরে। তবে সরকারপন্থী মহল বলছে, নিরাপত্তাজনিত কারণেই তিনি জনসমক্ষে আসছেন না। সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পর দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে, তাই আপাতত আড়ালে থাকাই তাঁর জন্য নিরাপদ।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

‘রাশিয়া-সৌদির চেয়েও বেশি তেল আমাদের কাছে আছে’, হুঙ্কার ট্রাম্পের

স্কিপিংয়ে বিশ্বজয়! এক মিনিটে ১৮৮ বার ডাবল-আন্ডার করে রেকর্ড গড়লেন চিনা যুবক

হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের বাজেয়াপ্ত অর্থ ফেরাতে সম্মতি আমেরিকার

আমেরিকা-ইরান সংঘাতের মাঝেই গাজা পরিকল্পনা স্থগিত করল ট্রাম্পের বোর্ড

যুদ্ধই কি শেষ পরিণতি? ইরানে মারাত্মক অস্ত্র পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চিন

‘ইরান থাকুক বা না থাকুক, হরমুজ প্রণালী খুলবেই’, বৈঠকের আগে বড় মন্তব্য ট্রাম্পের!

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ