এই মুহূর্তে

দৃষ্টি ঘোরাতে নয়া তত্ত্ব হুমায়ুনের, পাল্টা কড়া আক্রমণে ওয়াইসির দল

নিজস্ব প্রতিনিধি:‌ হুমায়ুন কবীরের একটি ভিডিও ফাঁস হয়ে গিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্য–রাজনীতি তোলপাড় হয়ে গিয়েছে ওই ভিডিও’‌র‌ জেরে। স্টিং অপারেশনে ফাঁস হওয়া ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, ভিডিও’‌টি এআই দ্বারা নির্মিত। তৃণমূল কংগ্রেস তা নিয়ে চাপ বাড়াতে শুরু করলে ডিগবাজি খান খোদ আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। এই আবহে মিমের বিরুদ্ধে নয়া তত্ত্ব আনলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সুপ্রিমো। জোট ভাঙার জন্য মিমকে কাঠগড়ায় তুলে হুমায়ুনের পাল্টা দাবি, তৃণমূলের সঙ্গে মিমের বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে। বিতর্ক থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই এমন তত্ত্ব হুমায়ুন নিয়ে এলেন বলে মনে করা হচ্ছে। এমনকী তিনি আদালতে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এদিকে হুমায়ুনের ওই ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তাতে চাপ আরও বাড়তে শুরু করেছে। বাধ্য হয়ে আজ নির্বাচনী সভা থেকে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন, ওইরকম ভিডিও এআই দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বানাতেই পারে। আর এই মন্তব্য করেই খোদ প্রধানমন্ত্রী কার্যত হুমায়ুনকেই সমর্থন করলেন। এই আবহে শনিবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় সাংবাদিক বৈঠক করে হুমায়ুন বলেন, ‘মিমের ইমরান সোলাঙ্কি এবং আসাদুল শেখের সঙ্গে জঙ্গিপুরের তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান এবং তৃণমূলের প্রতিনিধির ২০ কোটি টাকার ডিল হয়েছে। ইতিমধ্যেই তারা ২ কোটি টাকা ‘অ্যাডভান্স’ পেয়েছেন।’‌ যদিও এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কোনও প্রমাণ দিতে পারেননি হুমায়ুন কবীর।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের তোপ, আত্মরক্ষার জন্যই আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরকে ‘সমর্থন’ করছেন প্রধানমন্ত্রী। আজ সাংবাদিক বৈঠক করে কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‌ডিলের ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর যেখানে হুমায়ুনের দল থেকে একের পর এক নেতৃত্ব ইস্তফা দিচ্ছেন, সেখানে তাঁর দলে মুখপাত্র পদে যোগ দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। যেভাবে তিনি হুমায়ুনকে ডিফেন্ড করতে নেমেছেন, তাঁর থেকে প্রমাণিত যে ১০০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারির অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে। এটার তদন্ত দরকার।’‌ হুমায়ুনের এই ‘এআই’ ভিডিওর তত্ত্বকে শুক্রবার কলকাতায় দাঁড়িয়ে সমর্থন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

আবার আজই বিস্ফোরক দাবি করলেন পীরজাদা খোবায়েত আমিন। বসিরহাট মাওলানাবাগ দরবার শরীফে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আমিন দাবি করেন, ‘‌পরোক্ষভাবে হুমায়ুন কবীর মুসলিমদের ধোঁকা দিচ্ছিলেন। তাই জনতা উন্নয়ন পার্টি আমি ছেড়ে দিলাম। বিরোধী দলনেতার ফোন হুমায়ুন কবীরের ফোনে আসত। সেটা আমি দেখেছি। আদতে এসবের মধ্যে বিজেপির সঙ্গে যে একটি অভিসন্ধি তৈরি হয়েছিল বলে আমি মনে করছি।’‌ আর মিমের মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি আসাদুল শেখ পাল্টা তোপ দেগে বলেন, ‘‌হুমায়ুন কবীরের মাথার ঠিক নেই। ভিডিওটি যে ভুয়ো, তা আগে তাঁকে প্রমাণ করতে হবে। যত দিন না তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করছেন, মিম তাঁর পাশে দাঁড়াবে না। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর আমরা আসাদউদ্দিন সাহেবকে একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছিলাম। তার ভিত্তিতেই আমাদের দল জোট ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’‌

Published by:

Share Link:

More Releted News:

নন্দীগ্রামের ৪৩ তৃণমূল নেতাকে NIA র নোটিশ, ১৭ এপ্রিল হাজিরার নির্দেশ

অভিষেকের হাত ধরে রেজিনগরে বাবরি মসজিদ ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ মইনুল যোগ দিলেন তৃণমূলে

বৈশাখ শুরুর আগেই বঙ্গে তাপমাত্রার পারদ চড় চড়িয়ে বাড়বে, কলকাতায় ৩৭ ও জেলায় ৪০ডিগ্রী

ভোট প্রচারে আসছেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা, একাধিক সভা মুর্শিদাবাদ-মালদা-পুরুলিয়ায়

শিলিগুড়িতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়ে মোদির রোড শো

বালির ভোট রাজনীতিতে এবার ‘আবাসন’ বিতর্ক

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ