এই মুহূর্তে

‘‌হুমায়ুনের ফোনে শুভেন্দুর ফোন আসত’‌, বিস্ফোরক দাবি দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির

নিজস্ব প্রতিনিধি:‌ হুমায়ুন কবীরের একটি ভিডিও ফাঁস হয়ে গিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্য–রাজনীতি তোলপাড় হয়ে গিয়েছে ওই ভিডিও’‌র‌ জেরে। স্টিং অপারেশনে ফাঁস হওয়া ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, ভিডিও’‌টি এআই দ্বারা নির্মিত। তৃণমূল কংগ্রেস তা নিয়ে চাপ বাড়াতে শুরু করলে ডিগবাজি খান খোদ আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। শুধু তাই নয়, ওই ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি বলে সওয়াল করেন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। কার্যত এভাবেই হুমায়ুনের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। অথচ শুভেন্দুর ফোন আসতে দেখেছেন হুমায়ুন কবীরের ফোনে বলে দাবি করলেন দলত্যাগ করা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি পীরজাদা খোবায়েব আমিন।

এদিকে হুমায়ুনের ওই ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তাতে চাপ আরও বাড়তে শুরু করেছে। বাধ্য হয়ে আজ নির্বাচনী সভা থেকে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন, ওইরকম ভিডিও এআই দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বানাতেই পারে। আর এই মন্তব্য করেই খোদ প্রধানমন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। কারণ এই নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বলার দরকার ছিল না। আগ বাড়িয়ে কার্যত হুমায়ুনকেই সমর্থন করলেন মোদি। তাহলে কি সত্যিই প্রধানমন্ত্রী জড়িত?‌ উঠছে প্রশ্ন। এই আবহে শুক্রবার আমজনতা উন্নয়ন পার্টি ত্যাগ করেন পীরজাদা খোবায়েব আমিন। রাজ্য সভাপতির পদ থেকে তিনি ইস্তফা দিয়ে জানিয়ে দেন, আমজনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে তার আর কোনও যোগ রইল না।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের তোপ, আত্মরক্ষার জন্যই আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরকে ‘সমর্থন’ করছেন প্রধানমন্ত্রী। আজ, শনিরার সাংবাদিক বৈঠক করে কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‌ডিলের ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর যেখানে হুমায়ুনের দল থেকে একের পর এক নেতৃত্ব ইস্তফা দিচ্ছেন, সেখানে তাঁর দলে মুখপাত্র পদে যোগ দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। যেভাবে তিনি হুমায়ুনকে ডিফেন্ড করতে নেমেছেন, তাঁর থেকে প্রমাণিত যে ১০০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারির অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে। এটার তদন্ত দরকার।’‌

আবার আজই বিস্ফোরক দাবি করলেন পীরজাদা খোবায়েত আমিন। বসিরহাট মাওলানাবাগ দরবার শরীফে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আমিন দাবি করেন, ‘‌আমি দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে জড়িত। একটি সমাজসেবী সংগঠনের সেক্রেটারিও আমি। জনতা উন্নয়ন পার্টিতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছিলাম না। আমজনতা উন্নয়ন পার্টি যেভাবে এগোচ্ছিল তা আমরা মেনে নিতে পারছিলাম না। পরোক্ষভাবে হুমায়ুন কবীর মুসলিমদের ধোঁকা দিচ্ছিলেন। তাই জনতা উন্নয়ন পার্টি আমি ছেড়ে দিলাম। বিরোধী দলনেতার ফোন হুমায়ুন কবীরের ফোনে আসত। সেটা আমি দেখেছি। যে বিরোধী দলনেতা মুসলিমদেরকে চ্যাঙদোলা করে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার কথা বলে তার ফোন যখন আসত তখন আমি জিজ্ঞেস করতাম। হুমায়ুন বলতেন এটা সৌজন্যের ফোন। আদতে এসবের মধ্যে বিজেপির সঙ্গে যে একটি অভিসন্ধি তৈরি হয়েছিল বলে আমি মনে করছি।’‌

Published by:

Share Link:

More Releted News:

নন্দীগ্রামের ৪৩ তৃণমূল নেতাকে NIA র নোটিশ, ১৭ এপ্রিল হাজিরার নির্দেশ

অভিষেকের হাত ধরে রেজিনগরে বাবরি মসজিদ ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ মইনুল যোগ দিলেন তৃণমূলে

বৈশাখ শুরুর আগেই বঙ্গে তাপমাত্রার পারদ চড় চড়িয়ে বাড়বে, কলকাতায় ৩৭ ও জেলায় ৪০ডিগ্রী

ভোট প্রচারে আসছেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা, একাধিক সভা মুর্শিদাবাদ-মালদা-পুরুলিয়ায়

শিলিগুড়িতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়ে মোদির রোড শো

দৃষ্টি ঘোরাতে নয়া তত্ত্ব হুমায়ুনের, পাল্টা কড়া আক্রমণে ওয়াইসির দল

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ