পশলা গ্রামে রায়চৌধুরী জমিদার বাড়িতে ৩ চতুর্ভূজা উমার আরাধনা

পশলা গ্রামের রায়চৌধুরী জমিদার বাড়িতে ৩ উমা পূজিত হন একসঙ্গে সপরিবারে। তবে এই উমাদের কেউই কিন্তু দশভূজা নন, তাঁরা চতুর্ভূজা।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলা হল মা দুর্গার বাপের বাড়ি। প্রতিবছর তাই ৪ দিনের জন্য ২ ছেলে আর ২ মেয়েকে নিয়ে চলে আসেন বাপের বাড়িতে। তাঁর সেই আগমনই বাঙালির সর্বকালীন সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। মা শুধু পাড়ায় পাড়ায় পুজিত হন না, মা পুজিত হন গ্রাম বাংলার অনেক জমিদার বাড়িতেও। সেই রকমই এক জমিদার বাড়ি হল মুর্শিদাবাদ জেলার(Murshidabad District) লালবাগ মহকুমার(Lalbag Sub Division) নবগ্রাম(Nabagram) থানার পশলা গ্রামের(Pashla Village) রায়চৌধুরী জমিদার বাড়ি(Roychowdhury Family Durga Puja)। এখানে মা কিন্তু একা পূজিত হন না, ৩ উমা পূজিত হন একসঙ্গে সপরিবারে। তবে এই উমাদের কেউই কিন্তু দশভূজা নন, তাঁরা চতুর্ভূজা। একই মণ্ডপের ছাদের নীচে তিনটি বেদিতে ত্রয়ী দুর্গার এই আরাধনা পশলা গ্রামের রায়চৌধুরী বাড়ির পুজোকে বাংলার বুকে এক অভিনব পরিচিতি দিয়েছে। প্রতি বছর এই পুজোকে কেন্দ্র করে শুধু এই পরিবারের মানুষজন বা গ্রামের মানুষজনই নন, আনন্দে মেতে ওঠেন মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত-সহ মালদা, নদিয়া ও বীরভূম জেলা থেকে আগত বহু মানুষ।

পশলা গ্রামের এই পুজো, রায়চৌধুরী জমিদার বাড়ির পুজো হিসাবে পরিচিত হলেও, এই পুজো রায়চৌধুরী পরিবারের কোন পূর্বপুরুষ কিন্তু শুরু করেননি। গ্রামের প্রবীণ সদস্য ও রায়চৌধুরী পরিবারের সদস্যদের থেকে পুজোর সূচনা সম্পর্কে যে তথ্য পাওয়া যায় তা হল, এখন যেখানে মণ্ডপ রয়েছে আগে সেটি জঙ্গলে ঘেরা উঁচু ভূমি বা ঢিবি ছিল। প্রায় সাড়ে তিনশ বছর আগে এক সন্ন্যাসিনী গ্রামে আসেন এবং জঙ্গলে ঘেরা উঁচু ঢিবিতে পঞ্চমুন্ডি আসন স্থাপন করে সাধনায় রত হন এবং সিদ্ধিলাভ করেন। এরপর সিদ্ধা সন্ন্যাসিনী পঞ্চমুন্ডি আসনে ঘট স্থাপন করে দশভূজার আরাধনা শুরু করেন। বৃদ্ধা সন্ন্যাসিনীকে গ্রামবাসীরা বুড়িমা বলে ডাকত। তাই সন্ন্যাসিনীর প্রতিষ্ঠিত এবং পূজিত দুর্গা তখন থেকেই বুড়িমা নামে পরিচিতি লাভ করে। ইতিহাসের পাতায় চোখ দিলে দেখা যাবে, ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুবেদার নিযুক্ত হন নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ। তিনি প্রায়শই পশলার একটি পান্থশালায় এসে অবসরে বিশ্রাম নিতেন নবাব। স্থানীয়রা বলেন, এই পান্থশালা থেকেই গ্রামের নাম হয়েছে পাশালা। নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ-র এই পান্থশালার পাশেই থাকতেন কাত্যায়নী নামের এক বিধবা বৃদ্ধা। সেই বিধবাই আদতে বৃদ্ধা সন্ন্যাসিনী।

জানা যায়, সন্ন্যাসিনীর মৃত্যুর পরে পাশলার জমিদার মথুরানাথ রায়চৌধুরী সন্ন্যাসিনীর নির্দেশে পুজো চালিয়ে যেতে থাকেন। তবে সেই সময়ে ঘট পুজো হত, মূর্তি পুজো হত না। পরবর্তী কালে জমিদার পরিবারের এক সদস্যকে মূর্তি গড়ে পুজো করার নির্দেশ দেন বুড়িমা। সেই থেকে মূর্তি পুজো শুরু হয়। মূর্তি পুজো শুরুর বেশ কয়েক বছর পরে পুজোর স্বত্বাধিকার নিয়ে জমিদার পরিবারের দুই শরিক গিরিশ রায়চৌধুরী ও শ্রীশ চন্দ্র রায়চৌধুরীর মধ্যে দ্বন্দ্ব হওয়ায় দুজনে একই মণ্ডপের ছাদের নিচে মূল বেদীর ডান দিকে আরও দুটি বেদী নির্মাণ করে দুর্গা পুজো শুরু করেন। ৩ দুর্গার মধ্যে মূল দুর্গার সাজ সোনালি জরির। বাকি দুইয়ের সাজ শোলার। তবে ৩ দুর্গাই থাকেন পৃথক পৃথক কাঠামোতে, ছেলেমেয়েদের নিয়ে। এখানে আবার ব্যাঘ্ররুপী সিংহের উপর অধিষ্ঠিতা দেবী। মায়ের বাঁদিকে থাকেন গণেশ এবং লক্ষ্মী। আর ডানদিকে থাকেন কার্তিক এবং সরস্বতী। রথের দিন দেবীর কাঠামোয় মাটির প্রলেপ দিয়ে পুজোর সূচনা হয়।

ষষ্ঠীর দিন সকালে তিনটি প্রতিমাকে তিনটি বেদীতে স্থাপন করা হয়। তিনটি প্রতিমাই একসঙ্গে দোলায় করে মন্দিরে নিয়ে আসা হয়। আটজন ব্রাক্ষণ সন্তান কাঁধে করে বয়ে নিয়ে আসেন দোলা। তবে আদি দুর্গা স্থাপিত হন পঞ্চমুণ্ডি আসনের ওপরে। এরপর গ্রামের পুকুর থেকে তিনজন পুরোহিত তিনটি ঢাক সহযোগে তিনটি ঘট ভরে তিন দেবীকে প্রতিষ্ঠা করেন। রায়চৌধুরী জমিদার বাড়ির পুজোয় অন্নভোগ হয় না। লুচি, ফল ও মিষ্টান্ন সহযোগে তিন দেবীকে ভোগ নিবেদন করা হয়। ষষ্ঠী, সপ্তমী, সন্ধিপুজো এবং নবমীতে ছাগ বলি দেওয়া হয়। নির্ঘণ্ট মেনে তিনটি প্রতিমার একসঙ্গেই পুজো হয়। আরতি থেকে পুজোর বাকি আচার-অনুষ্ঠান, তিনটি প্রতিমার ক্ষেত্রে একই সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করা হয়। ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে এই পুজো। দশমীর সকালে সিঁদুর খেলা হয়। জমিদার পরিবারের মহিলাদের সঙ্গে গ্রামের মহিলারা সিঁদুর খেলায় যোগ দেন। ওইদিন বিকেলে গ্রামে জমিদার পরিবারের দিঘীতে তিনটি দুর্গাকে একইসঙ্গে বিসর্জন দেওয়া হয়। ঢাকঢোল সহযোগে বিদায় জানানো হয় মাকে।  

‘মায়ের দিকে নজর রেখো’, মৃত্যুর আগে মর্মস্পর্শী ভিডিও বার্তা বিশাখাপত্তনমের স্টিল প্ল্যান্টের কর্মীর

রাজ্যসভা থেকে ইস্তফার গুজব খারিজ করলেন কোয়েল

কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ

চুরি করতে গিয়ে কুলারের ঠাণ্ডা হাওয়ায় গভীর ঘুমে ডুব দিল চোর, তারপর যা ঘটল…

সন্তান জন্মের পরেই কিডনি বিকল, কী ঘটেছিল ৬ প্রসূতির সঙ্গে?

মাত্র ১৫ মিনিটেই সুস্বাদু ব্রেকফাস্ট! পাউরুটি দিয়ে সহজেই বানিয়ে নিন লোভনীয় ৭টি পদ

জল্পনার অবসান, পপ গায়িকা কেটি পেরির সঙ্গে সম্পর্কে সিলমোহর জাস্টিন ট্রুডো-র

বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃতি পেল বাংলার চিংড়ি মালাইকারি, ঘরেই বানান ঐতিহ্যবাহী পদ

কোলাঘাটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির তৃণমূলের সাংসদ-বিধায়করা

মোবাইল ফোন আর ১১০ টাকার লোভে পাথর দিয়ে নৃশংস খুন, ধৃত ২ ডেলিভারি বয়ের

শতাব্দীর বাড়িতে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের বৈঠক, আচমকা হাজির শুভেন্দুও

বিশ্বকাপ খেলেতে গিয়ে হলেন কন্যা সন্তানের বাবা, মন খারাপ কোরিয়ার তারকা গোলরক্ষকের

আবাসনে ঢুকে হুমকি-মারধর, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ মহিলা পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে

গরমে অতিথি আপ্যায়নের পারফেক্ট ডেজার্ট, বাড়িতে বানান ভিন্ন স্বাদের তালশাঁসের পায়েস