ডাকাতরা নেই, তবু আজও ডাকাতের নামেই উৎসর্গ করা হয় এই কালীপুজো, জানেন কোথায়?

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ডাকাতি করে ফিরে এসে মা কালীর পুজো করতেন ডাকাতরা। শুধু পুজোই নয়, ডাকাতি করে পাওয়া সম্পদ বিলিয়ে দিতেন গ্রামের অভাবী মানুষের মধ্যে। সেই ডাকাতদের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল এক প্রাচীন কালীপুজো। সময়ের সঙ্গে বদলেছে অনেক কিছু, হারিয়ে গিয়েছেন সেই ডাকাতরাও। কিন্তু আজও তাঁদের স্মৃতি বুকে নিয়ে পুজো পান মা কালী। নদিয়ার মাজদিয়ার ঘোষপাড়ার এই পুজোই পরিচিত ‘ডাকাত কালী’ নামে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১১১ বছর আগে মাজদিয়ার এই গ্রামে অভাব-অনটন ছিল নিত্যসঙ্গী। অনেক পরিবারেই দু’বেলা খাবার জুটত না। গ্রামবাসীদের সেই দুরবস্থা দেখে কয়েকজন যুবক সিদ্ধান্ত নেন, ডাকাতি করে অর্থ ও খাবার সংগ্রহ করবেন এবং তা গ্রামের দরিদ্র মানুষদের মধ্যে বিলিয়ে দেবেন। ব্রিটিশ শাসনকালে একদিন তাঁরা খবর পান, ব্রিটিশদের মালবাহী একটি ট্রেন ঢাকার দিকে যাচ্ছে। পরিকল্পনা করে মাজদিয়ার ইছামতি সেতুর উপর লাল আলো দেখিয়ে ট্রেন থামান তাঁরা। ট্রেন থেকে কাপড়ের বান্ডিল এবং চাল-ডালের মতো খাদ্যসামগ্রী লুট করে নদীতে ফেলে দেন। পরে সেগুলি উদ্ধার করে গ্রামের মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ব্রিটিশ পুলিশের নজরে পড়ে ওই যুবকেরা। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হলে তাঁরা আশ্রয় নেন জঙ্গলে। সেই বিপদের সময় মা কালীর কাছে নিজেদের রক্ষার প্রার্থনা করেন তাঁরা। মানত করেন, বিপদ থেকে মুক্তি পেলে মায়ের পুজো দেবেন। কথিত আছে, শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ পুলিশ তাঁদের খুঁজে পায়নি। পরদিনই ছিল অমাবস্যা। জঙ্গল থেকে বেরিয়ে একটি বেল ও নিমগাছের পাশে বেদি তৈরি করে শুরু হয় মায়ের পুজো। জোর করে ভূদেব মালাকার নামে এক প্রতিমাশিল্পীকে দিয়ে প্রতিমা তৈরি করানো হয়। স্থানীয় চক্রবর্তী পরিবারের সদস্যদের দিয়েই পুজোর আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুনঃ কালীপুজোর সকাল থেকেই দক্ষিণেশ্বরে জনজোয়ার, মা ভবতারিণীর দর্শনে ভক্তদের ঢল

স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়, ওই ডাকাতদলে ছিলেন দুলাল প্রামাণিক, হেমন্ত বিশ্বাস, ভরত সর্দার, কৃত্তিবাস মিত্র, অবিনাশ ক্যারিয়া এবং গিরীন্দ্রনাথ ঘোষের মতো যুবকেরা। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও এই পুজোর নানা কাহিনি জানা যায়। ডাকাতি করলেও তাঁরা কখনও মানুষ খুন করতেন না বলে দাবি স্থানীয়দের। বরং লুটের সামগ্রী গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন। কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি এবং ট্রেজারিতেও ডাকাতির গল্প প্রচলিত রয়েছে। রণপা ব্যবহার করে ডাকাতি করতে যাওয়ার কথাও শোনা যায়। পরবর্তীকালে ঘোষপাড়ার বাসিন্দাদের উদ্যোগে গড়ে ওঠে মায়ের মন্দির। বর্তমানে ডাকাতে কালী সর্বজনীন পুজো হিসেবে পরিচিত। পুজোর দিন পাঁঠাবলির রীতিও রয়েছে।

গ্রামের গৃহবধূ নমিতা শর্মা জানান, যেখানে প্রথম পুজো হয়েছিল, সেই নিমগাছের থানেও আজও মহিলারা সকাল-সন্ধ্যা ভক্তিভরে পুজো দেন। পুজো কমিটির সম্পাদক সুমন ঘোষের কথায়, দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ মায়ের দর্শনে আসেন।প্রথা মেনে ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার দিন ডাকাতে কালীর বিসর্জন হয়। আগে কাঁধে করে গোটা মাজদিয়া বাজার ঘোরানো হলেও বর্তমানে টানা গাড়িতে করে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় মাথাভাঙা নদীর উদ্দেশে। শোভাযাত্রায় অংশ নেন হাজার হাজার মানুষ। বাজারের প্রতিটি দোকানের সামনে প্রতিমা পৌঁছলে দোকানিরা জল, বাতাসা ও মিষ্টি দিয়ে মাকে বরণ করেন। আজ আর সেই ডাকাতদল নেই, নেই তাঁদের ডাকাতির দিনগুলিও। কিন্তু তাঁদের রেখে যাওয়া ঐতিহ্য, বিশ্বাস এবং মায়ের প্রতি ভক্তি আজও অমলিন। তাই ডাকাত কালী শুধু একটি পুজো নয়, মাজদিয়ার মানুষের কাছে ইতিহাস, আবেগ এবং বিশ্বাসের এক অনন্য মেলবন্ধন।

দীপাবলিতে মিষ্টিমুখ হোক একটু স্পেশাল, সহজেই বাড়িতে বানান ক্ষীরের চপ

বক্স অফিসে নতুন রেকর্ডের পথে ‘রামায়ণ’, তিন দিনের মোট আয় শুনলে চমকে যাবেন

দীপাবলির আগের রাতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! স্কুটার আরোহীকে পিষে দিল থার, পলাতক মহিলা চালক 

কালীপুজোর সকাল থেকেই দক্ষিণেশ্বরে জনজোয়ার, মা ভবতারিণীর দর্শনে ভক্তদের ঢল

কালীপুজোয় আজ হিঙ্গলগঞ্জে BSF জওয়ানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন মুখ্যমন্ত্রী 

মধ্য জাপানে ফের ভূমিকম্প, আহত একাধিক

কালীপুজোর পরেই আবহাওয়ার ভোলবদল! কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস

আজকের রাশিফল: আজ ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হতে পারে! কর্মক্ষেত্রে উন্নতির সম্ভাবনা

গোবর্ধন পুজো উপলক্ষ্যে সোমবারে কমবে মেট্রো পরিষেবা

কালীপুজোর আগে স্কুলে মিড ডে মিল নিয়ে বড় ঘোষণা রাজ্যের

বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে DLS নিয়মে জয়ী গিলরা, সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত

ভরা বাজারে বন্দুকবাজের গুলিতে মৃত্যু হল তিনজনের, আহত ১২

‘জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে,’ বললেন অভিজিৎ দীপক

আতশবাজির ধোঁয়া থেকে চোখ বাঁচাবেন কীভাবে? সুরক্ষিত থাকতে মানুন এই ৫ নিয়ম