এই মুহূর্তে

Omicron: আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা সাধারণ মানুষের কাছে দুঃস্বপ্ন বয়ে আনতে পারে

ফের নতুন আতঙ্ক। বিশে যে মারণ ভাইরাসের বিষে জর্জরিত হয়েছিল গোটা দেশবাসী, বাইশের শুরুতেও তা থেকে মুক্তি মিলল না। ওমিক্রনের আতঙ্কে আবার সারা দেশে কড়া বিধিনিষেধ চালু হতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ বেশ কিছু রাজ্য পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে শুরু করেছে। শুরু হয়েছে পর্যালোচনাও। কেউ কেউ বিধি-নিষেধ আরোপ করতেও শুরু করেছে। এই অবস্থায় ফের যদি ইংরেজি নতুন বছরের শুরু থেকে স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় ও আর্থিক কর্মকাণ্ডে ধাক্কা নেমে আসে, তার প্রভাব দেশের অর্থনীতির উপর পড়বে বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

চলতি আর্থিক বছরে ভারতের অভ্যন্তরীণ জাতীয় উৎপাদন ( জিডিপি ) দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারবে না বলে মূল্যায়ন সংস্থাগুলি আগেই জানিয়ে দিয়েছে। ডিসেম্বরেই মূল্যায়ন সংস্থা ‘ফিচ’ -এর পূর্বাভাসকে উল্লেখ করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে লেখা হয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার ৮.৪ শতাংশের ঘরে গিয়ে দাঁড়াবে। কেউ কেউ বড়জোর ৯ শতাংশের পূর্বাভাস দিয়েছে। অর্থাৎ  ‘ডবল ডিজিট গ্রোথ’ বা দুই অঙ্কের বৃদ্ধির হার এ বছরও ভারত দেখতে পারবে না বলেই বিভিন্ন মহলের আশঙ্কা। কোভিডের কারণে গত প্রায় দু-বছর ধরেই দেশের অর্থনীতি চূড়ান্ত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। কারখানায় উৎপাদন মার খাওয়া থেকে জীবিকা হারিয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। একদিকে মূল্যবৃদ্ধির দাপট অন্যদিকে অসংগঠিত ক্ষেত্রের কয়েক কোটি শ্রমজীবী মানুষের উপর করোনার কামড় মানুষকে দিশাহীন করে ছেড়ে দিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে সবে সারা দেশে ধীরে ধীরে আর্থিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছিল। আর্থিক বৃদ্ধি হারের সূচকও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল। কিন্তু তার মধ্যেই ফের নতুন করে ওমিক্রন সংক্রমণ অর্থনীতিতে  ‘ভয়’ দেখতে শুরু করেছে।

যদিও মূল্যায়ন সংস্থাগুলির অনেকেই মনে করছে, আগামী অর্থবছরে দেশের অর্থনীতি ১০ শতাংশের অঙ্ক ছাড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, তৃতীয় পর্বের অতিমারির প্রতাপ যদি আগের দুটি পর্বকেও ছাপিয়ে যায়, সেক্ষেত্রে দেশের অর্থনীতির উপর ফের চূড়ান্ত আঘাত নেমে আসবে। কারণ বিশেজ্ঞরা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, তৃতীয় পর্বে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছতে পারে ৩০ থেকে ৩৫ হাজারের ঘরে। কারণ স্বাস্থ্য বিশেজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ডেল্টার থেকে পাঁচ গুণ বেশি সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে ওমিক্রন ভেরিয়েন্টের। আসলে চিন্তাটা হচ্ছে, এই সংক্রমণের কারণে ফের অর্থনীতির চাকা রুদ্ধ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষের অবস্থাটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। কারণ বর্তমান দেশের অর্থনীতির উপর অসাম্যের খাঁড়ার ঘা প্রতিনিয়ত রক্তক্ষরণ করে চলেছে। ভারতের ক্রমবর্ধমান এই অসাম্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাঙ্ক তাদের একটি রিপোর্টে। কারণ গত প্রায় আড়াই দশকে দেশের ধনী পরিবারগুলির ধন-সম্পদ বহুগুণে বেড়েছে। দেশের জাতীয় আয়ের প্রায় ৫৭ শতাংশ এখন তাদের দখলে। অন্যদিকে দেশের দরিদ্রতম প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের আয় দেশের জাতীয় আয়ের থেকে কমতে কমতে এখন ১৩ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। একদিকে করোনার দাপট অন্যদিকে জ্বালানি – সহ দৈনন্দিন জিনিসপত্র ও আনাজের দাম বাড়ার কারণে পাইকারি মূল্যবৃদ্ধি সাধারণের নাগাল ছাড়া হয়ে গিয়েছে। মানুষের আয় কমছে, জীবিকা খুইয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষ, অসংখ্য কল – কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ব্যাঙ্কে, পোস্ট অফিসে সুদের হার তলানিতে। চিকিৎসা খরচ বেড়েছে। বেড়েছে শিক্ষা থেকে শুরু করে সাধারণ জীবন-যাপনের অন্যান্য খরচও। নতুন কর্মসংস্থানের দরজা কার্যত বন্ধ। এই রকম একটা যন্ত্রনাদায়ক পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার দেশের অর্থনীতিকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এমন কোনও দিশা দেখাতে পারছে না, যাতে সাধারণ মানুষ এই যাঁতাকলের জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। একটু মুক্তির স্বাদ পেতে পারে। বরং প্রতিদিন যেন দরিদ্র্য থেকে দরিদ্রতম হওয়ার দিকে খুঁজছে অসংখ্য মানুষ। খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়লে ধনীদের কিছু যায় আসে না। আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষগুলোকে পেটে গামছা বেঁধে পড়ে থাকতে হয়। দু-বেলা, দু-মুঠো ভাতের সংস্থান করতেই তাদের রাতের ঘুম উবে যায়। অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা ও সমীক্ষা চালিয়ে বিভিন্ন রিপোর্ট তৈরি করে এমন মূল্যায়ন সংস্থাগুলি বারবার অভিযোগ করেছে, অর্থনীতি নিয়ে বিশেষ করে অসাম্য নিয়ে সঠিক তথ্য তারা পাচ্ছে না। আর সেটা কেন্দ্রীয় সরকারই চাইছে না বলেই সেই তথ্য মিলছে না। কারণ সরকার চাইছে না সেই তথ্য জনসমক্ষে আসুক। ফলে ভারতের বর্তমান অর্থনীতি নিয়ে সঠিক মূল্যায়ন করা ভয়ঙ্কর কঠিন হয়ে পড়ছে ওই সংস্থাগুলির কাছে। তার মধ্যে নতুন করে ওমিক্রন সংক্রমণ আতঙ্ক ছড়াতে শুরু করেছে। আতিমারির কারণে  ২০১৯-র তুলনায় ২০২০-তে ভারতের জাতীয় আয় ৮ শতাংশ কমে গিয়েছে। সমাজের ধনী পরিবারগুলির পাশাপাশি সংগঠিত ক্ষেত্রের কিছু মানুষের আয় যে কমেনি তা শেয়ার বাজারের সূচকের ঊর্ধ্বগতি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ছবিটাই পরিষ্কার করে দেয়। কিন্তু ভিতরে ভিতরে পরিস্থিতিটা এতোটাই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে যে যাদের আয় কমেছে, তা এতটাই কমেছে যে দেশের গড় আয়ের অঙ্কটাকেও তাদের আর্থিক অবস্থান টেনে নামিয়েছে। ২০২০, ২০২১ তো উন্নয়নের কোনও বার্তাই নিয়ে আসতে পারেনি। অনলাইনে কেনাকাটার পসার বাড়ার পাশাপাশি হোম ডেলিভারি ক্ষেত্রে কয়েক লক্ষ তরুণ তরুণী গ্রাসাচ্ছাদনের পথ খুঁজে পেয়েছে। এখন নতুন করে ওমিক্রন সংক্রমণের  আতঙ্ক নিয়ে অতিমারির এই তৃতীয় পর্বের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ২০২২ সালে দেশের অর্থনীতি কোন দিকে ছোটে সেটাই এখন দেখার।

Published by:

Sundeep

Share Link:

More Releted News:

প্রধানমন্ত্রীকে হারিয়ে ‘গ্র্যামি’ জিতল শঙ্কর মহাদেবন ও জাকির হুসেনের ‘শক্তি’

ইতিহাসে প্রথম মহিলা প্রধান পেতে চলেছে মার্কিন নৌবাহিনী

অসাধ্য সাধন! ‘মিস নেদারল্যান্ড’ হলেন রূপান্তরকামী মডেল রিকি ভ্যালেরি কোলে

ব্রিটেনে শুরু নয়া যুগ, রাজা হিসেবে শপথ নিলেন চার্লস

আজ বিদ্রোহী কবির প্রয়াণ দিবস, তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর ‘অপরাধে’ মৃত্যু হয়েছিল যুবতীর

কথা বলো না, কেউ শব্দ করোনা, উনি গোলযোগ সইতে পারেন না

Advertisement

এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ

দার্জিলিং

কালিম্পং

জলপাইগুড়ি

আলিপুরদুয়ার

কোচবিহার

উত্তর দিনাজপুর

দক্ষিণ দিনাজপুর

মালদা

মুর্শিদাবাদ

নদিয়া

পূর্ব বর্ধমান

বীরভূম

পশ্চিম বর্ধমান

বাঁকুড়া

পুরুলিয়া

ঝাড়গ্রাম

পশ্চিম মেদিনীপুর

হুগলি

উত্তর চব্বিশ পরগনা

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা

হাওড়া

পূর্ব মেদিনীপুর