এই মুহূর্তে

‘দক্ষিণী মেয়েরা শিক্ষিত, উত্তরের মেয়েরা দাসী’, বিতর্কিত মন্তব্য ডিএমকে নেতা দয়ানিধি মারানের

নিজস্ব প্রতিনিধি: হিন্দি ও ইংরেজি শিক্ষা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কে ইন্ধন জুগিয়েছেন ডিএমকে সাংসদ দয়ানিধি মারান। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সেই রাজ্যগুলির কড়া সমালোচনা করেন, যেখানে শিক্ষার্থীদের কেবল হিন্দি পড়তে উৎসাহ দেওয়া হয় এবং ইংরেজি শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখা হয়। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের শিক্ষা নীতি ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎকে সংকুচিত করছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এর ফলেই উত্তর ভারতের একাধিক রাজ্য থেকে মানুষ কাজের সন্ধানে দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে পাড়ি জমাতে বাধ্য হচ্ছেন।

দয়ানিধি মারান বলেন, কিছু রাজ্যে শিক্ষার্থীদের বলা হচ্ছে ইংরেজি পড়লে তাদের সর্বনাশ হবে এবং তারা সমাজে পিছিয়ে পড়বে। তাঁর ভাষায়, “তোমাদের বোঝানো হচ্ছে ইংরেজি পড়ো না। যদি পড়ো, তাহলে ধ্বংস হয়ে যাবে। তোমাদের কেবল দাস হিসেবেই ব্যবহার করা হবে।” এই মন্তব্য ঘিরে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া নিয়ে চলা বিতর্ক আবারও নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুন: ফল ভেবে বোমা গিলে মর্মান্তিক মৃত্যু হস্তিশাবকের, জঙ্গল থেকে উদ্ধার রক্তাক্ত দেহ

সাংসদের মতে, তামিলনাড়ুর আর্থিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান কারণ হল শিক্ষা ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া। তিনি বলেন, “আজ শিক্ষিত জনশক্তির জন্যই বিশ্বের নামী-দামি সংস্থাগুলি তামিলনাড়ুতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।” তাঁর দাবি, কেবল হিন্দি-নির্ভর শিক্ষা চালু থাকলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সংকুচিত হয় এবং বেকারত্ব বাড়ে। এর বিপরীতে তামিলনাড়ুর দ্রাবিড় মডেল ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করেছে।

দয়ানিধি মারান আরও বলেন, এর ফলে রাজ্যে সাক্ষরতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর মতে, ইংরেজি শিক্ষাকে নিরুৎসাহিত করলে শিক্ষার্থীরা বিশ্বব্যাপী সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় এবং ভাষাভিত্তিক বিধিনিষেধ সামগ্রিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে বাধা সৃষ্টি করে।

তবে দয়ানিধি মারানের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেছে বিজেপি। দলের দাবি, সাংসদের বক্তব্যে “সাধারণ জ্ঞানের অভাব” প্রকাশ পেয়েছে। বিজেপি নেতা তিরুপতি নারায়ণন এক সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “আমি মনে করি না দয়ানিধি মারানের সাধারণ জ্ঞান রয়েছে। তাঁর মন্তব্য অত্যন্ত আপত্তিকর। ভারতের জনগণের কাছে, বিশেষ করে হিন্দিভাষী মানুষের কাছে তাঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত।”

এদিকে ডিএমকের পক্ষ থেকে পাল্টা যুক্তি তুলে ধরেছেন দলের নেতা টি কে এস এলানগোভান। তিনি বলেন, উত্তর ভারতে নারীদের অধিকারের জন্য লড়াই করার মতো শক্তিশালী উদ্যোগ দেখা যায় না। তাঁর দাবি, কোন রাজ্যে কোন দল ক্ষমতায় রয়েছে, তার উপরেই নারী শিক্ষার অগ্রগতি নির্ভর করে। এলানগোভানের কথায়, কংগ্রেস ও ডিএমকে শাসিত রাজ্যগুলিতে নারী শিক্ষার প্রসারে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হয়েছে। তামিলনাড়ুতে নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণের মাধ্যমে ক্ষমতায়নের পথ প্রশস্ত করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

 

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

ইলেকট্রিক স্কুটারে বারবার আগুন , OLA- র সিইওর বিরুদ্ধে জারি গ্রেফতারি পরোয়ানা

প্রেমদিবসে ডিনারের পরেই স্ত্রীর গলা কেটে খুন, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের কীর্তি শুনলে শিউড়ে উঠবেন

৭০ বছরের বৃদ্ধ বাবাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন নেশাগ্রস্ত কুপুত্রের

ভালবাসা দিবসে খাবারের খরচ ১.৩০ লক্ষ, মুম্বইয়ের যুবকের সুইগি বিল দেখে চক্ষু চড়কগাছ

‘চেক বাউন্স’ মামলায় আমিশার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারি, কী বললেন অভিনেত্রী?

নাগাড়ে একের পর এক কোপ মহিলাকে, ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা অভিযুক্তের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ