ছেলেবেলাতেই পিতৃহারা, মা পরিচারিকার কাজ করতেন, অভাবের মধ্যেও জয়েন্টে ৯৯% রূপায়ণের

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি:‌ লড়াইটা ছিল অভাবের বিরুদ্ধে। একেবারে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে। কিন্তু হার না মানা লড়াই নিয়ে এল জীবনে সাফল্য। দিন আনি দিন খাই দশা থেকে বের হতে মা এবং ছেলের যেন ধনুক ভাঙা পণ ছিল। কারণ মাথার উপর ছাদ নেই। দেড় বছর বয়সেই বাবাকে হারিয়ে লড়াইটা শুরু হয়েছিল কঠিন পরিস্থিতিতে। তখন সংসার চালাতে অসহায় মা লোকের বাড়িতে রান্নার কাজ বেছে নিয়েছিলেন। এভাবেই ছেলেকে মানুষ করছিলেন। আর সেই ছেলে রূপায়ণ এবার সদ্য প্রকাশিত পরীক্ষা জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামিনেশন (জেইই) মেইন্সে ৯৯.০০১৯ শতাংশ নম্বর পেয়ে মায়ের কষ্টের প্রতিদান দিলেন ছেলে রূপায়ণ। চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এই সফলতা অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে সকলকেই।

কেমন জীবনযুদ্ধ ছিল মা–ছেলের?‌ ডুয়ার্সের মালবাজার। এখানের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সরু গলিতে ছোট্ট ভাড়াবাড়ি। ওই বাড়িতেই বাস চন্দ পরিবারের। রূপায়ণ চন্দ মাল আদর্শ বিদ্যাভবনের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র। ডাক নাম ঋজু। পড়াশোনায় বরাবরই ভাল ছেলে। ক্রিকেটের মাঠেও ভাল খেলোয়াড়। সঙ্গী বলতে জীবন যুদ্ধে জয়ী হওয়ার মন্ত্র। যে ঘরে রূপায়ণরা থাকে সেটা অত্যন্ত ছোট। তার মধ্যেই এক কোণে একটি টেবিল। সেখানে সাজানো আছে বই। আর নিজের স্কলারশিপের টাকায় কেনা একটি ল্যাপটপ। এই বই আর ল্যাপটপ ব্যবহার করেই স্বপ্ন দেখেছিল রূপায়ণ অবস্থা বদলের। দু’‌চোখে স্বপ্ন আইআইটি’‌তে পড়ে গবেষক হওয়ার। নিজের মেধা ও পরিশ্রমকে প্রমাণ করে সেই লক্ষ্যে পা বাড়িয়েছে রূপায়ণ।

মায়ের চোখে কেমন রূপায়ণ?‌ রূপায়ণের যখন দেড় বছর বয়স তখন সে তার বাবা নিমাই চন্দকে হারিয়েছিল। মা শুক্লা চন্দ ওই কঠিন পরিস্থিতিতে ছেলেকে মানুষ করার ধনুক ভাঙা পণ করেছিলেন। প্রথমে এই চন্দ পরিবার চালসায় ছিল। পরে মালবাজারে চলে আসে। ভাড়াবাড়ি থেকেই চলছিল সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লড়াই। মা শুক্লা অন্যের বাড়িতে সকালে রান্নার কাজ করে আবার রাতে রোগীদের দেখাশোনার কাজ করতেন। মেয়ে নীলাঞ্জনার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। এবার ছেলের সাফল্য জেনে মায়ের প্রতিক্রিয়া, ‘‌আমার ছেলে মেয়েরা খুব কষ্ট করেই পড়াশোনা করেছে। ছেলে খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনা করতেও ভালবাসে। ও নিজের প্রচেষ্টায় এতদূর এগিয়ে এসেছে। সকলের সহযোগিতা পেলে ও আরও এগিয়ে যাবে।’‌

আর কী জানা যাচ্ছে?‌ রূপায়ণ চন্দ মাধ্যমিকে ৫৮৭ নম্বর পেয়েছিল। তারপর উচ্চমাধ্যমিক মাল আদর্শ বিদ্যাভবনে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করে। দ্বাদশ শ্রেণীর শেষ দিকে শুধুমাত্র একজনই গৃহশিক্ষক ছিল তার। রূপায়ণের কথায়, ‘‌আমি অনেক আগেই লক্ষ্য স্থির করেছিলাম। সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছি। জেইই মেইন্সের প্রথম প্রচেষ্টায় ৯৮% বেশি নম্বর পেয়েছিলাম। এবার দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ৯৯ শতাংশের বেশি নম্বর পেলাম। সামনেই জেইই অ্যাডভান্স পরীক্ষা আছে। তারই প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি এই পরীক্ষাগুলির জন্য কোন বিশেষ কোচিং নিইনি। বই, ইউটিউব এবং ইন্টারনেটের নানা ভিডিও দেখেই প্রশিক্ষণ নিয়েছি। আমি এগিয়ে যেতে চাই। মায়ের আশীর্বাদই সম্বল।’‌

বিশ্ব বাজারে লঞ্চ হতে চলেছে নতুন স্মার্টফোন Vivo X500 FE!

বাইকপ্রেমীদের জন্য বড় চমক! লঞ্চ হল নতুন TVS RTR 125

ধনতেরাসে লক্ষ্মী নারায়ণ রাজযোগ, দীপাবলিতে ৩ রাশির ভাগ্যবদল! উপচে পড়বে টাকা

বৃহস্পতিতেও সঙ্গে রাখুন ছাতা, শহরে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল হাওয়া অফিস

৯ নভেম্বরের মধ্যে রিচার্জ না করলে বন্ধ হচ্ছে BSNL-এর ১ টাকার প্ল্যান!

ভারতীয় জাহাজের জন্য খুলল হরমুজ প্রণালির ‘দরজা’, তেলের আমদানিতে মিলল স্বস্তি

স্কুল সিলেবাস থেকে OUT সিঙ্গুর, IN শ্যামাপ্রসাদ, ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

চুল পড়ছে? ত্বক খসখসে? এক চিমটে কালো তিলেই হবে সমস্যার সমাধান

শুক্রবারের আগে পুরভোটের নির্ঘন্ট নয়, কড়া নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

জ্ঞানেশ কুমারদের রক্ষাকবচ সংক্রান্ত মামলায় নোটিস জারি সুপ্রিম কোর্টের

অগ্নিবীরদের জন্য বড় ঘোষণা মোদি সরকারের, চাকরির মেয়াদ বাড়ল দু’বছর

জাল নথি দেখিয়ে খানাকুলে ভাড়া বাড়িতে বসবাস, গ্রেফতার বাংলাদেশি নাগরিক

গ্রেফতার হতেই লুকিয়ে রাখা টাকার সন্ধান দিলেন অভিষেকের PA, উদ্ধার প্রায় ১ কোটি নগদ

আয়ুষ্মান-তুষারকে হুমকি ফোন, বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী